ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশান্তরি ঢাকা পোস্ট সম্পাদকের স্মৃতিচারণ: শফিক ও তার প্রেশারগ্রুপ থেকে সন্তানদের রক্ষায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন
সালমা আকতার: মানবিক শিক্ষক ও আত্মপ্রত্যয়ী প্রশাসক ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইউনূস সরকারের “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল করাটাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ
রাজনীতিতে সুবাতাস
যাই, ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে আরেকটি লাইক দিয়ে আসি…
নিয়ন্ত্রণের ছায়া, স্বাধীনতার প্রশ্ন
ঋণ করে আমলাদের ঘি খাওয়ানো বন্ধ হবে কবে?
ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতা চর্চা করা এক কথা নয়
বিএনপি সরকার অফিসে আছে, কিন্তু কি সত্যিকারের ক্ষমতা চর্চা করতে পারছে? নজরুল ইসলাম মিঠুর ঘটনা সেই প্রশ্নটিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
কয়েকদিন আগে ওভারসিজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওকাব)-এর সভাপতি ও জার্মান সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মিঠু চীনগামী একটি ফ্লাইটে বোর্ডিং পাস পেয়েও বিমানে উঠতে পারেননি। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানায় যে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই — কিন্তু “অন্য কর্তৃপক্ষের” ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত তিনি যেতে পারবেন না। সেই “অন্য কর্তৃপক্ষ” মানে গোয়েন্দা সংস্থা।
মিঠু ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন। ফলে বিব্রত হয় ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। পরবর্তীতে তথ্যমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন নিজে ফোন করে মিঠুকে জানান, বিদেশ
যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে জানা গেল, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইউনূসের অসাংবিধানিক সরকার। অর্থাৎ, একটি অবৈধ সরকারের রেখে যাওয়া কালো তালিকা এখনও কার্যকর — এবং বর্তমান সরকার তা এখনও বাতিল করেনি। এটি নিছক একজন সাংবাদিকের ভোগান্তির গল্প নয়। এটি একটি গভীরতর প্রশ্নের প্রতীক: বিএনপি সরকার কি শুধু অফিসে বসে আছে, নাকি সত্যিকার অর্থে দেশ পরিচালনা করছে? ইউনূস যুগের যে অন্ধকার কাঠামো দেশের গায়ে আঁটোসাঁটো হয়ে লেপ্টে আছে, তা সরানোর কাজ এখনও শুরুই হয়নি। আগস্ট ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ইউনূস সরকারের আমলে অনেককেই বিমানবন্দরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল — সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক। সেই তালিকাগুলো এখনও সরকারি নথিতে সক্রিয়। নতুন সরকার সেগুলো বাতিল করেনি,
বা করতে উদ্যোগী হয়নি — যতক্ষণ না একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পাশাপাশি আরও কিছু উদ্বেগজনক চিত্র আছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ — যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অপরিহার্য দলিল — সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হবে। ইউনূস আমলে নিষিদ্ধ করা “জয় বাংলা” স্লোগানের উপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনও বন্ধ। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র বিশ শতাংশের কাছাকাছি — অনেকে বলছেন আরও কম। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করে গেছে — যার শর্তগুলো অনেকের মতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত
— সে বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়নি। আরও লজ্জাজনক হলো, বিদেশমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে চুক্তির বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াত পূর্বেই অবহিত ছিল। ফলে সরকার এখন নিজেই একটি ফাঁদে আটকা। গণতন্ত্রের কথা বলা আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা কাজ। ইউনূস আমলে ১৯৭১-এর চেতনার পক্ষে যারা সোচ্চার ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও কারাগারে। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসের কথা বলে, কিন্তু সেই বন্দিদের মুক্তির কোনো উদ্যোগ নেই। তারিক রহমান এবং তার সরকারের সামনে পথ একটাই — ইউনূস আমলের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা। অতীতকে পুনর্লিখনের চেষ্টা নয়, ইতিহাসের সঙ্গে সৎ থাকা। আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে রাজনীতিকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে দেওয়া। সংসদকে তার সাংবিধানিক ভূমিকায়
সক্রিয় করা। একটি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় কথায় নয়, কাজে। নজরুল ইসলাম মিঠুর ঘটনায় মন্ত্রী ফোন করে সমস্যার সমাধান করেছেন — এটি ভালো। কিন্তু এই ধরনের সমস্যা যাতে আর না হয়, তার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। একটি ভাইরাল পোস্টের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর নিজেদের উদ্যোগে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা — এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্যটাই হলো অফিসে থাকা আর ক্ষমতায় থাকার পার্থক্য। বাংলাদেশের মানুষ একটি সরকার চায় যেটি শুধু চেয়ারে বসে নেই — যেটি সত্যিকারের দায়িত্ব নিয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের সময় এখনই।
যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে জানা গেল, এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইউনূসের অসাংবিধানিক সরকার। অর্থাৎ, একটি অবৈধ সরকারের রেখে যাওয়া কালো তালিকা এখনও কার্যকর — এবং বর্তমান সরকার তা এখনও বাতিল করেনি। এটি নিছক একজন সাংবাদিকের ভোগান্তির গল্প নয়। এটি একটি গভীরতর প্রশ্নের প্রতীক: বিএনপি সরকার কি শুধু অফিসে বসে আছে, নাকি সত্যিকার অর্থে দেশ পরিচালনা করছে? ইউনূস যুগের যে অন্ধকার কাঠামো দেশের গায়ে আঁটোসাঁটো হয়ে লেপ্টে আছে, তা সরানোর কাজ এখনও শুরুই হয়নি। আগস্ট ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ইউনূস সরকারের আমলে অনেককেই বিমানবন্দরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল — সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক। সেই তালিকাগুলো এখনও সরকারি নথিতে সক্রিয়। নতুন সরকার সেগুলো বাতিল করেনি,
বা করতে উদ্যোগী হয়নি — যতক্ষণ না একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পাশাপাশি আরও কিছু উদ্বেগজনক চিত্র আছে। নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ — যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অপরিহার্য দলিল — সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হবে। ইউনূস আমলে নিষিদ্ধ করা “জয় বাংলা” স্লোগানের উপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম এখনও বন্ধ। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র বিশ শতাংশের কাছাকাছি — অনেকে বলছেন আরও কম। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করে গেছে — যার শর্তগুলো অনেকের মতে জাতীয় সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত
— সে বিষয়ে সংসদে আলোচনা হয়নি। আরও লজ্জাজনক হলো, বিদেশমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে চুক্তির বিষয়ে বিএনপি ও জামায়াত পূর্বেই অবহিত ছিল। ফলে সরকার এখন নিজেই একটি ফাঁদে আটকা। গণতন্ত্রের কথা বলা আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা দুটো সম্পূর্ণ আলাদা কাজ। ইউনূস আমলে ১৯৭১-এর চেতনার পক্ষে যারা সোচ্চার ছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও কারাগারে। বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসের কথা বলে, কিন্তু সেই বন্দিদের মুক্তির কোনো উদ্যোগ নেই। তারিক রহমান এবং তার সরকারের সামনে পথ একটাই — ইউনূস আমলের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা। অতীতকে পুনর্লিখনের চেষ্টা নয়, ইতিহাসের সঙ্গে সৎ থাকা। আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে রাজনীতিকে তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে দেওয়া। সংসদকে তার সাংবিধানিক ভূমিকায়
সক্রিয় করা। একটি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয় কথায় নয়, কাজে। নজরুল ইসলাম মিঠুর ঘটনায় মন্ত্রী ফোন করে সমস্যার সমাধান করেছেন — এটি ভালো। কিন্তু এই ধরনের সমস্যা যাতে আর না হয়, তার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার। একটি ভাইরাল পোস্টের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া আর নিজেদের উদ্যোগে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা — এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্যটাই হলো অফিসে থাকা আর ক্ষমতায় থাকার পার্থক্য। বাংলাদেশের মানুষ একটি সরকার চায় যেটি শুধু চেয়ারে বসে নেই — যেটি সত্যিকারের দায়িত্ব নিয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের সময় এখনই।



