ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
রাজনীতিতে সুবাতাস
যাই, ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে আরেকটি লাইক দিয়ে আসি…
নিয়ন্ত্রণের ছায়া, স্বাধীনতার প্রশ্ন
ঋণ করে আমলাদের ঘি খাওয়ানো বন্ধ হবে কবে?
জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া কালচারাল হেজিমনি আসলে কোনটা?
১৭ এপ্রিল-বাংলাদেশের নূতন সূর্যোদয়
শেখ হাসিনা খাঁটি দেশপ্রেমিক, মানুষ ভুল বুঝতে পেরে তাঁকে ফেরত চাইবে’
ইউনূস সরকারের “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল করাটাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ
বাংলাদেশের বর্তমান চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পাদিত Reciprocal Trade Agreement (ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬) বাতিল করা উচিত বলে আমি মনে করি। এই চুক্তিটি সাংবিধানিক, আন্তর্জাতিক আইনি এবং জাতীয় স্বার্থের দিক থেকে গুরুতর প্রশ্নবিদ্ধ।
নীচে এর স্বপক্ষে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করছি।
১. অন্তর্বর্তী সরকারের কর্তৃত্বের অভাব (Lack of Legitimate Authority)
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত ছিল না; এটি ছিল একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে (ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬) এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। চুক্তিটি গোপনীয়তার সাথে (non-disclosure agreement-এর আওতায়) আলোচিত হয়েছে, যা জনগণের কাছে স্বচ্ছতার অভাব সৃষ্টি করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের
ম্যান্ডেট সাধারণত দৈনন্দিন প্রশাসন ও সংকট মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ থাকে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নয়। এটি অ-অধিকারী শাসক (usurper or caretaker without full sovereign authority) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা চুক্তির বৈধতাকে দুর্বল করে। ২. সাংবিধানিক লঙ্ঘন বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ক স্পষ্টভাবে বলে: সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে এবং সংসদে উপস্থাপন করতে হবে (জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হলে গোপন অধিবেশনে)। এই চুক্তি সংসদে পেশ করা হয়নি বা রাষ্ট্রপতির কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ নেই। এটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন। সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করে এই চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করা যেতে পারে। ৩. আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ভিয়েনা কনভেনশন অন দ্য
ল অফ ট্রিটিজ (১৯৬৯), অনুচ্ছেদ ৫৩: যদি কোনো চুক্তি jus cogens (অ-লঙ্ঘনযোগ্য বাধ্যতামূলক নিয়ম) লঙ্ঘন করে, তাহলে তা শুরু থেকেই অকার্যকর (void ab initio)। অর্থনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার (economic self-determination) ICCPR ও ICESCR-এর অনুচ্ছেদ ১-এ স্বীকৃত। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য বিস্তৃত বাজার অ্যাক্সেস, ডিজিটাল ট্রেড নিয়ম, সাইবার সিকিউরিটি সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে সীমিত করতে পারে। চুক্তিটি চাপ, গোপনীয়তা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ভিয়েনা কনভেনশনের প্রতারণা/জবরদস্তি-সংক্রান্ত বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ৪. অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষতি ও বাংলাদেশের চলমান সংকট বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে — উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের
চাপ এবং রপ্তানি-নির্ভরতা। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ৬,৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ১,৬৩৮টিতে সীমিত সুবিধা। মোট শুল্ক বোঝা (বেস + ১৯%) এখনও উল্লেখযোগ্য। এতে বাংলাদেশের বাজার মার্কিন পণ্য (কৃষি, শিল্প, যানবাহন ইত্যাদি) দিয়ে ভরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। চুক্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক শর্তও রয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে হরণ করতে পারে। ৫. আন্তর্জাতিক উদাহরণ: মালয়েশিয়া ও ভারতের অবস্থান মালয়েশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অনুরূপ Reciprocal Trade Agreement বাতিল ঘোষণা করেছে (মার্চ ২০২৬)। US Supreme Court-এর রায়ের পর (ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ) তারা চুক্তিকে “null and void” বলে ঘোষণা করে। এটি দেখায়
যে অন্য দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, ভারত এখনও চুক্তি স্বাক্ষর করেনি বা বিলম্বিত করছে। তারা US Supreme Court-এর রায়ের পর আলোচনা স্থগিত রেখেছে এবং জাতীয় স্বার্থ (সংবেদনশীল খাত রক্ষা) বিবেচনায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ভারতের মতো একটি শক্তিশালী অর্থনীতিও যখন তাড়াহুড়ো করছে না, তখন বাংলাদেশের মতো সংকটাপন্ন দেশের পক্ষে এই চুক্তি বজায় রাখা আরও অযৌক্তিক। জাতীয় স্বার্থে “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিলই উপযুক্ত পদক্ষেপ এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টে PIL দায়ের করে এটিকে বাতিল ঘোষণা করা উচিত। নতুন নির্বাচিত সরকারের উচিত সংসদে আলোচনা করে জাতীয় স্বার্থ অনুসারে পুনরায় আলোচনা করা। মালয়েশিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করে
এবং ভারতের সতর্কতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে এখনই এই অসম চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অর্থনৈতিক সংকটে দেশকে আরও পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে স্বাধীন ও স্বার্থরক্ষামূলক নীতি গ্রহণ করাই যুক্তিযুক্ত। এটি শুধু আইনি নয়, জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নও।
ম্যান্ডেট সাধারণত দৈনন্দিন প্রশাসন ও সংকট মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ থাকে, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নয়। এটি অ-অধিকারী শাসক (usurper or caretaker without full sovereign authority) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা চুক্তির বৈধতাকে দুর্বল করে। ২. সাংবিধানিক লঙ্ঘন বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৫ক স্পষ্টভাবে বলে: সকল আন্তর্জাতিক চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিতে হবে এবং সংসদে উপস্থাপন করতে হবে (জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হলে গোপন অধিবেশনে)। এই চুক্তি সংসদে পেশ করা হয়নি বা রাষ্ট্রপতির কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ নেই। এটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন। সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করে এই চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করা যেতে পারে। ৩. আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ভিয়েনা কনভেনশন অন দ্য
ল অফ ট্রিটিজ (১৯৬৯), অনুচ্ছেদ ৫৩: যদি কোনো চুক্তি jus cogens (অ-লঙ্ঘনযোগ্য বাধ্যতামূলক নিয়ম) লঙ্ঘন করে, তাহলে তা শুরু থেকেই অকার্যকর (void ab initio)। অর্থনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার (economic self-determination) ICCPR ও ICESCR-এর অনুচ্ছেদ ১-এ স্বীকৃত। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য বিস্তৃত বাজার অ্যাক্সেস, ডিজিটাল ট্রেড নিয়ম, সাইবার সিকিউরিটি সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে সীমিত করতে পারে। চুক্তিটি চাপ, গোপনীয়তা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সম্পাদিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা ভিয়েনা কনভেনশনের প্রতারণা/জবরদস্তি-সংক্রান্ত বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ৪. অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষতি ও বাংলাদেশের চলমান সংকট বাংলাদেশ বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে — উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের
চাপ এবং রপ্তানি-নির্ভরতা। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ৬,৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ পেয়েছে মাত্র ১,৬৩৮টিতে সীমিত সুবিধা। মোট শুল্ক বোঝা (বেস + ১৯%) এখনও উল্লেখযোগ্য। এতে বাংলাদেশের বাজার মার্কিন পণ্য (কৃষি, শিল্প, যানবাহন ইত্যাদি) দিয়ে ভরে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। চুক্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক শর্তও রয়েছে, যা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে হরণ করতে পারে। ৫. আন্তর্জাতিক উদাহরণ: মালয়েশিয়া ও ভারতের অবস্থান মালয়েশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অনুরূপ Reciprocal Trade Agreement বাতিল ঘোষণা করেছে (মার্চ ২০২৬)। US Supreme Court-এর রায়ের পর (ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ) তারা চুক্তিকে “null and void” বলে ঘোষণা করে। এটি দেখায়
যে অন্য দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, ভারত এখনও চুক্তি স্বাক্ষর করেনি বা বিলম্বিত করছে। তারা US Supreme Court-এর রায়ের পর আলোচনা স্থগিত রেখেছে এবং জাতীয় স্বার্থ (সংবেদনশীল খাত রক্ষা) বিবেচনায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ভারতের মতো একটি শক্তিশালী অর্থনীতিও যখন তাড়াহুড়ো করছে না, তখন বাংলাদেশের মতো সংকটাপন্ন দেশের পক্ষে এই চুক্তি বজায় রাখা আরও অযৌক্তিক। জাতীয় স্বার্থে “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিলই উপযুক্ত পদক্ষেপ এই চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আত্মনিয়ন্ত্রণ, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টে PIL দায়ের করে এটিকে বাতিল ঘোষণা করা উচিত। নতুন নির্বাচিত সরকারের উচিত সংসদে আলোচনা করে জাতীয় স্বার্থ অনুসারে পুনরায় আলোচনা করা। মালয়েশিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করে
এবং ভারতের সতর্কতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে এখনই এই অসম চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অর্থনৈতিক সংকটে দেশকে আরও পরাধীনতার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে স্বাধীন ও স্বার্থরক্ষামূলক নীতি গ্রহণ করাই যুক্তিযুক্ত। এটি শুধু আইনি নয়, জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নও।



