আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬

আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬ |
শুরু থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন নতুন এক আইনি জটিলতার মুখোমুখি। ট্রাইব্যুনাল গঠনের আইন না মানা, প্রতিহিংসামূলক বিচারিক প্রক্রিয়া, অভিযুক্তদের পছন্দের আইনজীবি নিয়োগের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং একতরফা অভিযোগ গঠনের কারণে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই ট্রাইব্যুনাল তীব্র সমালোচনার মধ্যে ছিল। এর মধ্যেই ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একাধিক রায় ঘোষিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে — দণ্ডিত অনুপস্থিত আসামিরা ফিরে এলে বা গ্রেপ্তার হলে কী হবে তাদের বিচারিক পরিণতি? আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন অধিকাংশ পলাতক আসামি ট্রাইব্যুনালে এখন পর্যন্ত ৪টি মামলার রায়ে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলা ছাড়া বাকি ৩ মামলার অনুপস্থিত আসামিরা ইতিমধ্যে আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, দণ্ড ও সাজা অথবা খালাস দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এ সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। শেখ হাসিনা ও কামালের ক্ষেত্রে কী ঘটবে? গত ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে দেশে থাকা তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ

আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করে। আপিল শেষে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ১৩ জানুয়ারি। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম পরিষ্কার জানিয়েছেন, অনুপস্থিত আসামিদের জন্য এখন আর আইনি অনুকম্পার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যখন সকলে বিষয়টি জানছে, এটা জানার পরও তারা যখন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে আসলেন না, আপিল ফাইল করলেন না — তাহলে পরবর্তীতে আইনের যখন আর সুযোগ নেই, তখন এসে আইনের অনুকম্পা পাওয়ারও সুযোগ নেই।” মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল না করে গ্রেফতার হলেই তাদের দণ্ড কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের

প্রসিকিউটর। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিরোধ তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্ট আসামির আবেদনে আপিলের সুযোগ দিতে পারেন। মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর শাস্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত ‘কমপ্লিট জাস্টিস’-এর অধীনে আপিল গ্রহণ করতে পারে বলে তার মত। তবে চিফ প্রসিকিউটর এই যুক্তি খারিজ করে বলেছেন, “আপিলটাই যদি সুপ্রিম কোর্টে না যায়, তাহলে কীভাবে হবে?” প্রসিকিউশনের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ: নতুন বিতর্ক বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে সাম্প্রতিক একটি কেলেঙ্কারিতে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে

জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। সদ্য পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জামিনের জন্য এক কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ট্রাইব্যুনালের গঠন ও কার্যপ্রণালী শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেনি। সাক্ষী ব্যবস্থাপনা, তদন্ত কার্যক্রম এবং অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর ও সাবেক চিফ প্রসিকিউটরের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। এই পরিস্থিতিতে রায় কার্যকরের প্রশ্নটি রাজনৈতিক ও আইনি উভয় অঙ্গনেই সমান আলোচনার বিষয়

হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রাজিলের বড় ধাক্কা: ইনজুরিতে পাকেতা গভীর রাতে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক যুবদল সভাপতিকে উত্তম-মধ্যম, দল থেকেও বহিষ্কার মার্কিন চুক্তি ও স্বার্থরক্ষায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে গম আমদানির অনুমোদন জুনে সারাদেশে ৩৩৩ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতিত: শীর্ষে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা সম্পত্তির বিরোধ থেকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, উচিৎ শিক্ষা দিতে সবার নামে জুলাই মামলা: আছেন ভূমিমন্ত্রী জাবেদসহ আওয়ামী নেতারাও বিধবা নারীর টাকা নিয়ে উধাও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী সমন্বয়ক বাঁধন “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা আমি সমর্থন করি না”, সাক্ষাৎকারে এম সাখাওয়াত হোসেন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বিএনপির হজম করা কঠিন হবে, অকল্পনীয় অনেক ব্যাপার ঘটতে পারে: সাবির মুস্তাফা দরিদ্র ছাত্রের বরাদ্দ সাইকেল নাতনিকে, ধরা পড়ে ফেরত জামায়াত নেতার: ছাগল-ফুটবল-সেলাই মেশিনও লোপাট মবসন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে হাসনাতই সেরা: অনুসন্ধানে উঠে এলো মুখোশের আড়ালের চিত্র এই সংসদ একটি পরাশক্তির মধ্যস্থতায় গড়ে ওঠা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের সংসদ: জমিয়ত নেতা ইউসুফী বান্দরবানে কেএনএফ ক্যাম্পে সেনা-জেএসএস যৌথ হামলা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৪ সেনা নিহতের দাবি সাংবাদিক এনায়েত শাওনকে হুমকি, নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা হাজারীবাগে বাথরুমের সিলিংয়ে থানা লুটের শটগান: ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ পোশাক খাতে বেড়েই চলেছে সংকট: আরও এক কারখানা বন্ধ, ঈদের পরে লাখো শ্রমিক ছাঁটাই চবিতে মধ্যরাতে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রদের মারামারিতে প্রক্টর লাঞ্ছিত, সাংবাদিক হেনস্তা চট্টগ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে পিঠে গুলি করে যুবককে হত্যা, ধোঁয়াশায় পুলিশ “জুলাই আন্দোলন আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত!”—সমন্বয়কের তীব্র অনুশোচনা ১ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় পটিয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম জুনে ৮ মাসের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স, অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ