চবিতে মধ্যরাতে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রদের মারামারিতে প্রক্টর লাঞ্ছিত, সাংবাদিক হেনস্তা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ July, ২০২৬

চবিতে মধ্যরাতে ছাত্রদল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রদের মারামারিতে প্রক্টর লাঞ্ছিত, সাংবাদিক হেনস্তা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ July, ২০২৬ |
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনার জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে দুই দফায় ঘটে যাওয়া এই মারামারির ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি লাঞ্ছিত এবং কর্মরত সাংবাদিকরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৩০শে জুন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চবির শাহজালাল হলের সামনে এই চাঞ্চল্যকর সংঘাতের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ২৯শে জুন (সোমবার) রাতে চবি শহিদ মিনার এলাকায় বড় পর্দায় ব্রাজিল বনাম জাপানের ফুটবল ম্যাচ দেখার আয়োজন করা হয়। সেখানে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান

ইফতেখার দিশান ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসেন। শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনের দাবি, দিশান ছাত্রীদের আসনে বসে ধুমপান করছিলেন, যা দেখে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে মারামারি হয়। তবে দিশান ধুমপানের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, সোমবার রাতে কোনো কারণ ছাড়াই মামুন তার সাথে দুর্ব্যবহার ও মারধর করেছিল। সোমবার রাতের ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে শাহজালাল হলের সামনে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। দিশানের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একদল শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার পর ওই শিক্ষার্থীরা শাহজালাল হলের ভেতরে আশ্রয় নেন। ঘটনাটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শাহজালাল

হলের সামনে এসে অবস্থান নেন এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হলের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক শিক্ষার্থী নিজেদের জীবন রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমানকে ফোন করে উদ্ধারের অনুরোধ জানান। উলফাতুর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এই ঘটনায় চরম ক্ষিপ্ত হন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তারা উলফাতুরকে মুঠোফোনে ডেকে এনে হলের সামনেই ঘিরে ধরেন। উলফাতুর রহমানের অভিযোগ,”আমি কোনো অপরাধ করিনি, এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে ডেকে এনে গলা চেপে ধরে মারধর করে এবং আমার মোটরসাইকেলের চাবিও ছিনিয়ে নেয়।” মধ্যরাতে ক্যাম্পাসের এই রণক্ষেত্রের খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে দ্রুত

ঘটনাস্থলে ছোটেন চবির প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। কিন্তু উত্তেজিত ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং প্রক্টরিয়াল বডিকে লাঞ্ছিত করেন। একই সময়ে ঘটনার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপস্থিত কর্মরত সাংবাদিকরাও ছাত্রদলের হাতে হেনস্তার শিকার হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। মারামারিতে গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চবি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী জানান,”আল মামুনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং মাথা ফুলে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।” অন্যদিকে, ছাত্রশক্তি নেতা উলফাতুর রহমানকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে চবি প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী

বলেন,”খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মতবিরোধ থেকেই দুই পক্ষের হাতাহাতি হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের