ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের গোপন ভিডিও করা ক্যান্টিনকর্মী আটক, বিক্ষোভে উত্তাল খুবি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ July, ২০২৬

ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের গোপন ভিডিও করা ক্যান্টিনকর্মী আটক, বিক্ষোভে উত্তাল খুবি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ July, ২০২৬ |
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ ছাত্রী হলের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হল ক্যান্টিনের এক কর্মচারীকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। গতকাল ২২শে জুলাই, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে অভিযুক্তকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনার বিচার এবং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ ২৩শে জুলাই, বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি অনুসন্ধান করেন। পরে অভিযোগ ওঠে, হল ক্যান্টিনের কর্মচারী ইমাম হাসান ওই ফোনটি সেখানে রেখে গোপনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। প্রায় দুই বছর ধরে তিনি বিজয়-২৪ হলের ক্যান্টিনে

কর্মরত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ধারণ করা ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এ ঘটনায় ইমাম হাসানের স্ত্রীরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়। পরে অভিযুক্তকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়। এর জেরে যৌন হয়রানির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, পকেট গেট এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা

ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ক্লাস-কার্যক্রমও বর্জন করেন শিক্ষার্থীরা। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির কয়েকটি ঘটনায় প্রশাসন কোনও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এবার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।” হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত ইমাম হাসান শিক্ষার্থীদের মারধরের শিকার হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলেছে হাসানের স্ত্রীও এ ঘটনায় জড়িত। সে হাসানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। তার স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা

হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক সহকারী পরিচালক মো. হাসান মাসুদ বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করেছে। শিক্ষার্থীরা আজ ক্লাস বর্জন করে বিভিন্ন হল ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আমরা এখন বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার করতে হবে। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর হলের শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। এরপর থেকেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রী বলেন, ছাত্রী হলের মতো সংরক্ষিত স্থানে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।” এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মাহবুবর রহমান সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বলেন, “বিষয়টি সমাধানের জন্য মিটিং চলছে আমাদের। মিটিং শেষ হলে কথা বলবো।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের