পোশাক খাতে বেড়েই চলেছে সংকট: আরও এক কারখানা বন্ধ, ঈদের পরে লাখো শ্রমিক ছাঁটাই – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২ জুলাই, ২০২৬

পোশাক খাতে বেড়েই চলেছে সংকট: আরও এক কারখানা বন্ধ, ঈদের পরে লাখো শ্রমিক ছাঁটাই

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ জুলাই, ২০২৬ |
দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পে সংকট যেন কাটছেই না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও এখনো এই শিল্পে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, উচ্চ সুদের ব্যাংকঋণ, ডলার সংকট, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নীতি সহায়তার ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও বহু কারখানা গভীর আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। উৎপাদন কমলেও ব্যাংকঋণের কিস্তি, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও প্রশাসনিক স্থায়ী ব্যয় নিয়মিতই বহন করতে হচ্ছে, যা ছোট ও মাঝারি কারখানার পক্ষে সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে একের পর এক কারখানা

বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও ছাঁটাইয়ের কারণে লাখো শ্রমিকের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। এই সংকটের সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে ‘ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেড (ইউনিট-২)’ ১ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ২৮শে জুন থেকে শ্রমিকেরা বেআইনি ধর্মঘট শুরু করে কারখানার পরিবেশ অস্থিতিশীল করেন। বারবার অনুরোধের পরও কাজে যোগ না দেওয়ায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, গত ২৭শে জুন রুবিনা বেগম (৫০) নামের এক সুইং অপারেটর কাজের সময় কারখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়

মারা যান। কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সফল মো. আমজাদ হোসেইন জানান, এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কারখানার ভাঙচুর রক্ষার্থে কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাক শিল্পাঞ্চলে কোরবানির ঈদের পর থেকেই শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাভারের আল-মুসলিম গ্রুপের তিনটি কারখানা থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০-এর বেশি শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে এসে তারা ছাঁটাইয়ের

খবর শোনেন। অন্যদিকে, গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। গাজীপুরের ইউনিক ডিজাইনার্সে কর্মরত বিল্লাল সোহাগের মতো হাজার হাজার শ্রমিক এখন জানেন না আগামী মাসে তাদের সংসার কীভাবে চলবে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক মন্দার অজুহাত তুলে শ্রম আইন অমান্য করে শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে এবং ব্যয় কমানোর কৌশল হিসেবে পুরোনোদের বাদ দিয়ে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড়

চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত আর্থিক প্রণোদনা বাস্তবায়ন ও ব্যাংকঋণে বিশেষ সুবিধা দিয়ে কর্মসংস্থান ধরে রাখা। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল মনে করেন, আর্থিক সংকটই বর্তমানে কারখানা বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ। রুগ্ন ও বন্ধপ্রায় শিল্পের জন্য সরকার ৬০ হাজার কোটি টাকার যে সহায়তা তহবিল ঘোষণা করেছে, তা এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কক্সবাজার হোটেলের কাছেই খালি মাঠে কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন রোহিঙ্গা-ক্যাম্পে দিনদিন বাড়ছে সহিংসতা: মসজিদে যাওয়ার পথে উগ্রবাদী সংগঠন আরসা কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নারী সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুতি: তদন্ত চলাকালে সম্পাদক মিন্টুর পদত্যাগ পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে উদ্বেগ: দুই বছরে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ১ বিলিয়ন ঘনফুট অর্থ সংকটে দরপ্রস্তাব প্রত্যাহার: হচ্ছে না মেট্রোরেল লাইন-পাঁচের উড়াল অংশের কাজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার সর্বনিম্ন ট্রাইব্যুনালে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ লতিফ সিদ্দিকী, বললেন— ‘ফাঁসি দিয়ে দেন’ ইউনূস-তারেকের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে চরম গ্যাস সংকটে বাংলাদেশ আরো ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ যুক্তরাষ্ট্র, চলতি বছর এ পর্যন্ত ফিরলেন ৮৮ জন যা জানা প্রয়োজন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্পর্কে নোয়াখালীতে গভীর রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত ৫ মাদকাসক্তি: ইসলামে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, মহানবীর (সা.) সতর্কবার্তা ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আগস্ট থেকে প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা ঢাবির ৬ অধ্যাপককে অব্যাহতি, সাদেকা হালিমকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ৮৬ ডেপুটি ও ১৭৯ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে সিদ্ধান্ত এলো হাম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু মার্কিন অবরোধকে ফাঁকি দিয়ে মালয়েশিয়ায় বিক্রি হচ্ছে ইরানের তেল, চূড়ান্ত গন্তব্য চীন বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার