মার্কিন অবরোধকে ফাঁকি দিয়ে মালয়েশিয়ায় বিক্রি হচ্ছে ইরানের তেল, চূড়ান্ত গন্তব্য চীন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ July, ২০২৬

মার্কিন অবরোধকে ফাঁকি দিয়ে মালয়েশিয়ায় বিক্রি হচ্ছে ইরানের তেল, চূড়ান্ত গন্তব্য চীন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ July, ২০২৬ |
মালয়েশিয়া উপকূলের বিশাল নোঙর এলাকাটি এখন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল বিক্রির প্রধান বাজার হয়ে উঠেছে। গত শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানের তেলবাহী জাহাজ ‘হিউম্যানিটি’ মালাক্কা প্রণালি ও সিঙ্গাপুর হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে মালয়েশিয়া উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার পর হঠাৎ করেই এর ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস)’ বা স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি মালয়েশিয়ার ‘ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল)’-এ পৌঁছেছে। এটি দক্ষিণ চীন সাগরের ১,২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গন্তব্য চীন ও ডার্ক হওয়া জাহাজ সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাগরে অপেক্ষমাণ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে অন্য জাহাজে তেল খালাস করার প্রস্তুতি নিতেই

সম্ভবত জাহাজটি ট্র্যাকিংয়ের বাইরে গিয়ে ‘ডার্ক’ হয়ে গেছে। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্যমতে, এই তেলের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্ভবত চীন। ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কেনে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে ইওপিএল এলাকাটি ইরান, রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলের একটি অনানুষ্ঠানিক বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্যাটেলাইট ডেটা বলছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের পাঁচ মাসব্যাপী যুদ্ধ এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ (যা ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলে এবং ১৪ জুলাই আবার শুরু হয়) সত্ত্বেও ইওপিএল-এ এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মেরিটাইম সিকিউরিটি মনিটরিং প্রজেক্ট সিলাইট-এর পরিচালক রে পাওয়েল আলজাজিরাকে জানান, এ বছরের শুরু

থেকে তিনি এমন ৬২টি জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল, ইওপিএল, হংকং এবং উত্তর চীনের মধ্যে চলাচলের সময় ভুয়া বা বাতিল হয়ে যাওয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্স জানান, এসব জাহাজ মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যারা চীনের স্বাধীন ‘টিপট’ বা ছোট তেল শোধনাগারগুলোতে ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তা করে। এরিকা আরও বলেন, ইরান থেকে চীনে যাওয়া অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। তেলের উৎস গোপন করতে চীনে পৌঁছানোর আগে এই প্রক্রিয়াটি একাধিকবার হতে পারে। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বড় কোম্পানিগুলোর (যেমন- সিএনপিসি, সিনোপেক ও সিএনওওসি) তুলনায় এই ছোট

শোধনাগারগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার আওতার বাইরে থাকে। তাই তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানের তেল কম দামে কিনতে বেশি আগ্রহী। শান্ত জলসীমা ও আইনি ফাঁকফোকর ইয়োকোসুকা কাউন্সিল অন এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজ (ওয়াইসিএপিএস)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কর্মসূচির পরিচালক ও মেরিটাইম নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ চার্লি ব্রাউন বলেন, মালয়েশিয়ার ইওপিএল সংলগ্ন নোঙর এলাকাটি আগের মতোই ব্যস্ত। তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে এবং সংঘাতের প্রতিটি পর্যায়েই সেখানে জাহাজগুলোকে নোঙর করতে এবং জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো নানা কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে। হংকংয়ের সমতুল্য আয়তনের ইওপিএল এলাকাটির সুবিধা হলো এর শান্ত জলসীমা, যা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সরবরাহকারীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট কাছাকাছি। আবার এটি এমন দূরত্বে অবস্থিত যা ঐতিহাসিকভাবেই এলাকাটিকে আইনিভাবে

একটি ধূসর বা অস্পষ্ট অঞ্চলে পরিণত করেছে। এলাকাটি মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে হলেও এর এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড)-এর আওতাভুক্ত। তবে এই অঞ্চলটি সমুদ্রে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার চেয়ে মাছ ধরার অধিকার ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের বিষয়গুলোকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি এর আগে জানিয়েছিল, দুর্গম অবস্থান এবং অধিক্ষেত্রগত সীমাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় টহল দেওয়া বেশ কঠিন। অবশ্য কুয়ালালামপুর তাদের আইনি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। অবৈধ নোঙর, পুনরায় সরবরাহ (বাঙ্কারিং) এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া ইইজেড-এ জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর ঠেকাতে গত জুনে মালয়েশিয়া তাদের ইইজেড আইন সংশোধন করেছে। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। চার্লি ব্রাউনের মতে,

যেকোনো সাধারণ দিনেই ওই এলাকায় ২০০টির মতো জাহাজ নোঙর করা থাকতে পারে, যার অর্ধেকই সম্ভবত ইরানের সঙ্গে যুক্ত। আলজাজিরার পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসে হিউম্যানিটিসহ ইরানের পতাকাবাহী ১৮টি তেলের ট্যাংকার ইওপিএল-এ পৌঁছানোর পর ট্র্যাকিংয়ের বাইরে চলে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডোর নামের আরেকটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। ওইদিন ইওপিএল-এ অন্তত ৫০টি মার্কিন বা ইইউ-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ তাদের এআইএস সিগন্যাল চালু রেখে অবস্থান করছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেখানে আরও অনেক ‘ডার্ক’ জাহাজ অবস্থান করছে। পেমেন্ট মেকানিজম এবং চীনের ভূমিকা ইউরোপভিত্তিক বৈশ্বিক পূর্বাভাস পরামর্শক সংস্থা ‘জিওপলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস'-এর মতে, ইওপিএল এলাকায় জাহাজগুলোর মধ্যে স্থানান্তরিত হওয়া

ইরানের তেল বিক্রির কাজ সম্পন্ন হয় চীনের 'ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম (সিআইপিএস)’-এর মাধ্যমে। এর ফলে মার্কিন নজরদারিতে থাকা সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়ে চীনা মুদ্রা রেনমিনবিতে তেলের দাম পরিশোধ করা যায়। চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের তেল কেনার কথা স্বীকার করে না। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইওপিএল হয়ে চীনে ইরানের তেল পরিবহনের বিষয়ে তারা অবগত নন। এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একাধিকবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন লং-আর্ম জুরিসডিকশন ব্যবহারের বিরোধী। তবে গবেষক এরিকার মতে, চীনের কাস্টমস ডেটা ইওপিএল দিয়ে যাওয়া কার্গোটির উৎস ও গতিবিধি সম্পর্কে কিছু সূত্র দেয়। তিনি বলেন, গত বছর ইরান চীনে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে, অথচ চীনের কাস্টমসের তথ্যে ইরান থেকে তেল আমদানির কোনো হিসাব নেই। একই সময়ে কাস্টমসের তথ্য দেখায় যে, মালয়েশিয়া থেকে চীনের আমদানি মাঝেমধ্যেই মালয়েশিয়ার নিজস্ব তেল উৎপাদনের পরিমাণকে ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে যায়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই অপরিশোধিত তেলের একটি অংশ অন্য কোথাও থেকে এসেছে। অন্যদিকে, বেইজিং মার্কিন আইনি ব্যবস্থা থেকে নিজস্ব শোধনাগারগুলোকে রক্ষা করতেও পদক্ষেপ নিয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের তেল কেনার দায়ে পাঁচটি টিপট শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ওই নির্দেশকে ব্লক করে দেয়। তাদের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ চলতি সপ্তাহে আরও ছয়টি তেলের ট্যাংকার ও হংকং-চীনভিত্তিক পাঁচটি কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এগুলো ইরানের শ্যাডো ফ্লিট বা ছায়া নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত এবং চীনে তেল পরিবহন করেছে। এ বিষয়ে বেইজিং এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীনা শোধনাগারগুলোর ইরানি অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইওপিএল-এর মতো নেটওয়ার্কগুলো বাকি তেলের বিক্রি সচল রেখেছে। চার্লি ব্রাউন বলেন, নিষেধাজ্ঞা কখনোই এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। নিষেধাজ্ঞার কারণেই বাজারব্যবস্থা ও লেনদেন প্রক্রিয়ার বিবর্তন ঘটেছে। একমাত্র অবরোধের কারণেই দৃশ্যত ইরান থেকে চীনে তেল যাওয়া কিছুমাত্রায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের