বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিচারিক নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে তীব্র বিতর্ক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিচারিক নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ জুন, ২০২৬ |
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সম্প্রতি একটি রায় প্রদান করেছে, যা আইনি ও শিক্ষাবিদ মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই রায় বিচারিক নিরপেক্ষতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব এবং সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক যথার্থতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। দেওয়ানি আপিল নং ৭৮/২০২৪ মামলাটি গুলশান মডেল টাউন, ঢাকার ৪০/৫ নর্থ অ্যাভিনিউতে অবস্থিত একটি উচ্চমূল্যের সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে, যা মরহুম বিচারপতি এ.এফ.এম. আব্দুর রহমান চৌধুরীকে রাজউক কর্তৃক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা — যাদের মধ্যে বর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীও রয়েছেন — সম্পত্তিটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পুনর্বিকাশ করতে গিয়ে রাজউক আরোপিত রূপান্তর ফির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেন, যা প্রতি কাঠায় সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল। ২০১৬

সালে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ৯৯১১-এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ওই ফি অবৈধ ঘোষণা করে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। রাজউক আপিল করলে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ লিভ না দিয়েই হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন, যা পরবর্তীতে সাংবিধানিকভাবে অসংগত বলে স্বীকার করা হয়। এরপর রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়, যা ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর মঞ্জুর হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বরের চূড়ান্ত রায়ে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত পুনরুদ্ধার করেন এবং রূপান্তর ফি আরোপকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আদালত শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট সম্পত্তির জন্য ২২ লাখ টাকা ফি নির্ধারণ করেন এবং রায়টি ভবিষ্যতে নজির হিসেবে প্রযোজ্য হবে না

বলে নির্দেশ দেন। মামলার সময়ক্রম বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আপিল বিভাগে পদোন্নতি পান। মাত্র দুই মাসের মধ্যে ২৪ অক্টোবর তার পরিবারের রিভিউ পিটিশন মঞ্জুর হয় এবং ৬ নভেম্বরের চূড়ান্ত রায়ে তার পরিবারই সুবিধাভোগী হয়। এরপর ডিসেম্বর ২০২৫-এ তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চূড়ান্ত বেঞ্চে তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুস্পষ্ট নথি না থাকলেও, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন পদোন্নতি ও অনুকূল ফলাফলের এই নৈকট্য “পক্ষপাতের দৃশ্যমান আশঙ্কা” তৈরি করে — যা বৈশ্বিকভাবে বিচারিক বৈধতা ক্ষুণ্ণ করার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়। রায়ের সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো আদালতের এই নির্দেশনা যে রায়টি কেবলমাত্র প্রশ্নাধীন সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য

হবে এবং ভবিষ্যতে নজির হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। স্ট্যারে ডেসিসিস মতবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত কমন ল ব্যবস্থায় এ ধরনের সীমাবদ্ধতা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সর্বোচ্চ আদালতের রায় সাধারণত অধস্তন আদালতের জন্য বাধ্যকর — আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিচারকের নিজ পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট রায়ের নজির মূল্য সীমিত করা “নির্বাচনমূলক বিচার” ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই বিতর্ক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির একটি প্রতিবেদনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের বিরুদ্ধে স্বার্থের দ্বন্দ্বযুক্ত মামলায় বিরত না থাকা ও উপহার প্রকাশে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে “নৈতিক সংকটের” কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ২০২৩ সালের বিচারিক আচরণ নির্দেশিকা স্পষ্টভাবে বলে যে বিচারকদের

শুধু প্রকৃত পক্ষপাতই নয়, পক্ষপাতের যৌক্তিক আশঙ্কাও এড়িয়ে চলতে হবে এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে জনআস্থা ক্ষুণ্ণ না হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী, বিচারকরা — প্রধান বিচারপতিসহ — শপথ নেন যে তারা “ভয় বা পক্ষপাত, আসক্তি বা বিদ্বেষ ছাড়া” দায়িত্ব পালন করবেন। আইন পণ্ডিতরা মনে করেন, এই শপথ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতিকে ধারণ করে। যখন কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত সরাসরি পারিবারিক সুবিধার সঙ্গে মিলে যায়, তখন প্রশ্নটি কেবল আইনি বৈধতার নয়, বরং শপথের আত্মা রক্ষিত হয়েছে কিনা তারও। গুলশান সম্পত্তি মামলার রায় বিচারিক কর্তৃত্ব ও ব্যক্তিগত স্বার্থের মধ্যকার সীমারেখা পরীক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অসদাচরণের সিদ্ধান্ত না হলেও,

পারিবারিক সুবিধা, পদ্ধতিগত সময়ক্রম এবং নজিরের সীমাবদ্ধতার সমন্বয় প্রাতিষ্ঠানিক সততা নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, স্বার্থের দ্বন্দ্বের কেবল ধারণাটিও সুদূরপ্রসারী পরিণতি বহন করতে পারে — আদালতের বৈধতা নির্ভর করে জনআস্থার উপর, এবং সেই আস্থা দুর্বল হয় যখন বিচারিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক স্বার্থের সঙ্গে সংযুক্ত বলে মনে হয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হাসিনার সময় মানুষ কম দামে ইলিশ খেয়েছে: এখন ভারতেও যায় না, তাও কেন ১ কেজির দাম ২৭০০ টাকা? নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আপনার ভয় ‘ওদের’ পুঁজি দেশি-বিদেশি অর্গানিক ফুডের নামে আসলে কী খাচ্ছেন? পাবনায় নিখোঁজ আওয়ামী লীগ সহসভাপতির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে দেশে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের হাত-পা, চোখ বেঁধে সেনাসদস্যের বাড়িতে ডাকাতি চিকিৎসার জন্য মা-স্ত্রী ঢাকায়: লুটপাটের পর আগুন, ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি সোলেইমানির শোধ: ট্রাম্পের মাথার দাম ঘোষণা আইআরআই’র, পুরস্কার ১ কোটি ডলার প্রতিমন্ত্রী যখন সরকারি ঠিকাদার: আইন, নৈতিকতা ও সাংবিধানিক সংকটে মীর শাহে আলম ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মরিয়া বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: বাড়ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ: পর্ব-১ চাঁদা না পেলেই সরাসরি গুলি: চট্টগ্রামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর একের পর এক জামিনে আতঙ্কিত নগরবাসী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘শারীরিক ফুটবল’-এর লড়াইয়ের প্রস্তুতি রদ্রির ‘বুকে ব্যথা নিয়ে’ সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির আকস্মিক মৃত্যু ‘বিএনপির কোনো ভিডিও করা যাবে না’—বলেই ওসির সামনে সাংবাদিকের উপর নেতাকর্মীদের হামলা ১১ দিনেই ৩ মামলায় জামিন পেলেন ছিনতাইকারী থেকে মাদক-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের গডফাদার বুইস্যা ফাইনালে মেসিকে ‘ম্যান-মার্কিং’ করবে না স্পেন! ছাত্রলীগে গুপ্তবেশে ছিলেন ছাত্রদলের দুই নেতা, ‘কৌশল’ বলে স্বীকার করলেন প্রিজন ব্রেক-কাশিমপুর: উচ্চ নিরাপত্তা ব্যূহ ভেদ করে রিম্পার পালিয়ে যেতে লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট চুক্তির চেয়েও ৫০% বেশি দামে কেনা হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি ‘আপনার বহু আগে ঢাকায় আমি ছাত্রদল করে আসছি’— কুমিল্লা এসপির বিস্ফোরক মন্তব্য ভাইরাল গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস: চবি ক্যাম্পাসে স্লোগানে স্লোগানে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ