শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ June, ২০২৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ June, ২০২৬ |
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান বিতরণ করে অবসরে যাওয়া হাজারো শিক্ষকের সারাজীবনের সঞ্চয় আজ জিম্মি সাতটি বেসরকারি ব্যাংকে। বাড়তি মুনাফার লোভে আইন লঙ্ঘন করে দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা এই অর্থ এখন আর ছাড় করা যাচ্ছে না। ফলে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অগণিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী। এমনকি অনেকে প্রাপ্য টাকা হাতে না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেছেন। ৬৪০ কোটি টাকা আটকে সাত ব্যাংকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অবসর সুবিধা বোর্ডের তহবিলে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৩৫০ কোটি টাকাসহ মোট প্রায় সাড়ে ১৪’শ কোটি টাকা জমা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৩৯

কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৭২৫ টাকা আটকে আছে সাতটি বেসরকারি ব্যাংকে। অবশিষ্ট প্রায় ৮০০ কোটি টাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংকে রয়েছে, যেখান থেকে অর্থ ছাড়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যে সাতটি বেসরকারি ব্যাংকে শিক্ষকদের অবসরের অর্থ এফডিআর এবং এসটিডি আকারে গচ্ছিত রাখা হয়েছে সেগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ ২০০ কোটি টাকারও বেশি রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে। আইন লঙ্ঘন করে বেসরকারি ব্যাংকে অর্থ, নেপথ্যে সাবেক সচিব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা আইন, ২০০২-এর ধারা ৯(৪) এবং সংশ্লিষ্ট

প্রবিধানমালা, ২০০৫-এর প্রবিধি ৬ অনুযায়ী অবসর সুবিধা বোর্ডের সমুদয় অর্থ সরকারি ব্যাংকে রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই সুস্পষ্ট আইনি বিধান লঙ্ঘন করে বাড়তি মুনাফার আশায় তুলনামূলক দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকে টাকা গচ্ছিত রাখা হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ, বোর্ডের প্রোগ্রামার জামাল হোসেন এবং বোর্ডের ব্যবহারকৃত সফটওয়্যার কোম্পানির মালিক গোলাম সারোয়ার ও মোফাজ্জল মওদুদ এলাহীর যোগসাজশে অর্থ বেসরকারি ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে তারা ওই অর্থ থেকে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করে নেন। সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ দীর্ঘ সাড়ে আট বছর বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্বে থেকে নিজের ভাতিজা মোফাজ্জল মওদুদ এলাহীর সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন বি’কে বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেন।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা পরস্পর যোগসাজশে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের শত শত কোটি টাকা তছরুপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মালিকানাধীন ব্যাংকে রাখা হয়েছিল। এর ফলে শিক্ষকদের অর্থ সঠিক সময়ে পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে একসঙ্গে একাধিক শিক্ষকের অর্থ পরিশোধের আবেদন পাঠানো হলেও ব্যাংকগুলো তা দিতে পারছে না বা দিতে অনিচ্ছুক। ব্যাংকগুলো কী বলছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার জানান, মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি এসেছে কিনা এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের অ্যাকাউন্ট এখনও সক্রিয় আছে কিনা, তা অফিসে গিয়ে যাচাই না

করে বলতে পারছেন না। ইউনিয়ন ব্যাংকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হাশেম স্বীকার করেন যে আগের দায়িত্বশীলরা জমাকৃত অর্থ কোনো খাতে বিনিয়োগ না করে ভাগাভাগি করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। এ কারণেই অর্থ ফেরত দিতে সমস্যা হচ্ছে বলে তার ধারণা। সিটিজেনস ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, যিনি অর্থ গচ্ছিত রেখেছিলেন, তিনি আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী টাকা দেওয়া হবে। টাকা পাওয়ার আগেই মৃত্যু, বাড়ছে মানবিক বিপর্যয় সাতক্ষীরার তালতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. সিরাজুল হক ২০২৪ সালের ১ মে অবসর গ্রহণের পর নিয়মানুযায়ী আবেদন করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষায় প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন। এটি বিচ্ছিন্ন

কোনো ঘটনা নয়— এমন অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আবেদনের পর অর্থ না পেয়েই পৃথিবী ছেড়েছেন। উচ্চ আদালত অবসরের ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দিলেও তা মানা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই অর্থ সময়মতো পাওয়া শিক্ষকদের আইনগত ও নৈতিক অধিকার। যা বলচছে মন্ত্রণালয় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা দিতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।” মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং অবসর সুবিধা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক বলেন, “সাতটি বেসরকারি ব্যাংকে আটকে থাকা মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষকদের কষ্টার্জিত

টাকা আদায় করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।” তবে মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা। দীর্ঘ অপেক্ষা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর কর্মকর্তাদের লোভের বলি হয়ে তারা এখন কেবল ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের