ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬

আরও খবর

ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল

‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য

“জুলাই আন্দোলন পরিকল্পিত ডিজাইন ছিল, যেখানে স্নাইপার ব্যবহার করা হয়েছে”— বিএনপির সাংসদ নিলোফার চৌধুরী মনি

“প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসেব নিতে হবে, সেইভাবে প্রস্তুত হও”— নিপীড়িত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা

‘দেশে এখন পক্ষ দুটি- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অথবা বিপক্ষে’, অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান মিথিলা ফারজানার

‘মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, গাজীপুরে শেখ হাসিনার আইন চলবে’

মার্কিন চুক্তি ও স্বার্থরক্ষায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে উচ্চমূল্যে গম আমদানির অনুমোদন

ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬ |
ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে আমরা যতটা শুনি, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা অন্ধকারেই থেকে যায়। অসংখ্য নারী আছেন যারা জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা কাউকে বলতে পারেন না। অনেকেই থানায় যান না, মামলা করেন না, এমনকি নিজের পরিবারের কাছেও সবকিছু খুলে বলেন না। আজও অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে প্রশ্ন করা হয়, “মেয়েটি কোথায় ছিল?”, “কী পোশাক পরেছিল?”, “কেন সেখানে গিয়েছিল?” অথচ প্রশ্ন হওয়া উচিত ছিল, “অপরাধী কেন এই কাজ করল?” যতদিন পর্যন্ত আমরা ভুক্তভোগীর পরিবর্তে অপরাধীর দিকে আঙুল তুলতে না শিখব, ততদিন এই সমস্যার পুরো সমাধান সম্ভব নয়। অনেক নারী অভিযোগ করতেও চান না, কারণ তারা জানেন মামলা শুরু হলেও

বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হতে পারে। বারবার একই ঘটনা বলতে হয়, বারবার অপমানজনক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকের কাছে এই মানসিক যন্ত্রণা অপরাধের স্মৃতিকে আরও গভীর করে তোলে। তারা জানেন, অভিযোগ করলেই ন্যায়বিচার মিলবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ক্ষমতাবান বা প্রভাবশালী হয়। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে উল্টো ভুক্তভোগীকেই নানা ধরনের চাপ, হুমকি বা হয়রানির মুখে পড়তে হয়।এর সঙ্গে আছে সামাজিক ভয়। আমাদের সমাজে এখনও অনেক মানুষ অপরাধীর বদলে ভুক্তভোগীকেই প্রশ্ন করে। একজন নারী ধর্ষণের শিকার হলে তার চরিত্র নিয়ে কথা ওঠে, তাকে ছোট করা হয়, অপমান করা হয়। বিবাহিত নারীদের অনেকেই ভয় পান—স্বামী কী ভাববে, শ্বশুরবাড়ি কীভাবে

নেবে, সংসার টিকবে তো? কেউ কেউ এই আশঙ্কাও করেন যে সত্য প্রকাশ করলে হয়তো সংসারটাই ভেঙে যাবে। নীরবতার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ।একজন নির্যাতিত নারীর জন্য বিচার শুধু আদালতের রায় নয়, তার মর্যাদা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ও। কিন্তু যখন বিচার পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, তখন অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা এমন কিছু নীতি নিয়েছিলেন যাতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার নারীদের পরিচয় গোপন রাখা হয় এবং অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—যেন ভুক্তভোগী আরও অপমানিত না হন এবং অপরাধীরা সামাজিকভাবে জবাবদিহির মুখোমুখি হয়। তবে শুধু আইন করলেই সমস্যার

সমাধান হয় না। নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে তাকে অর্থনৈতিকভাবেও শক্তিশালী হতে হবে। এই কারণেই মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নারীদের কাজের সুযোগ তৈরির উদ্যোগগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকতার পদ সংরক্ষণের পেছনেও শুধু চাকরি দেওয়ার চিন্তা ছিল না। এর মাধ্যমে অনেক মেয়ে অল্প বয়সেই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর চাকরিতে যোগ দিয়ে তারা একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পেরেছে। এতে পরিবারগুলোও মেয়েদের শিক্ষার প্রতি আরও উৎসাহিত হয়েছে।এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ। যখন একটি মেয়ে জানে যে পড়াশোনা করে

চাকরি পাওয়ার সুযোগ আছে, তখন তার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি হয়। পরিবারও তাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করে। একজন মেয়ে যখন নিজের আয় করতে পারে, তখন তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়ে। সে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। গ্রামের অনেক পরিবারে আগে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেওয়াই ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ পরিবার মনে করত মেয়েদের ভবিষ্যৎ বলতে শুধু বিয়েই। কিন্তু যখন চাকরি ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়, তখন সেই চিন্তাধারায় পরিবর্তন আসে। পরিবার বুঝতে শুরু করে, মেয়েরাও পরিবারের অর্থনৈতিক শক্তি হতে

পারে। একজন শিক্ষিত নারী নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হন। তিনি জানেন কোথায় সাহায্য চাইতে হবে, কোথায় অভিযোগ করতে হবে এবং কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।তাই নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ মানে শুধু কয়েকটি ডিগ্রি অর্জন নয়; এটি একটি প্রজন্মকে আরও সচেতন, আত্মনির্ভরশীল এবং শক্তিশালী করে তোলার প্রক্রিয়া। প্রতিটি স্কুল, কলেজ, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রে নারীর প্রতি সম্মান শেখানো জরুরি। ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শেখাতে হবে যে সম্মতি, মর্যাদা এবং মানবিকতা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো সভ্য সমাজের ভিত্তি। একটি মেয়ের নিরাপত্তা শুধু পুলিশের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব।একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই হয় যখন একজন নারী রাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, অন্যায়ের শিকার হলে নির্ভয়ে

বিচার চাইতে পারেন এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সমান সুযোগ পান। যে সমাজ তার নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে, সেই সমাজই সত্যিকার অর্থে এগিয়ে যায়। নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং মর্যাদা—এই চারটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। শুধু অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করলেই হবে না, এমন একটি সমাজ গড়তে হবে যেখানে কোনো নারী অন্যায়ের শিকার হলে ভয় বা লজ্জায় চুপ করে থাকতে বাধ্য না হয়। তার পাশে পরিবার থাকবে, সমাজ থাকবে, আইন থাকবে—আর সবচেয়ে বড় কথা, তার কণ্ঠস্বর শোনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪ ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায় ‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে শেষ হলো রপ্তানির বছর রোনালদো ও রামোসের গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল “জুলাই আন্দোলন পরিকল্পিত ডিজাইন ছিল, যেখানে স্নাইপার ব্যবহার করা হয়েছে”— বিএনপির সাংসদ নিলোফার চৌধুরী মনি “প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসেব নিতে হবে, সেইভাবে প্রস্তুত হও”— নিপীড়িত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা গ্যাসের অভাবে বন্ধ ৫৫০ কারখানা, ঝুলে আছে নতুন ১৮০০ আবেদন রাঙামাটিতে ৩ হাজার ইয়াবাসহ গণ অধিকার পরিষদের জেলা সহসভাপতি গ্রেপ্তার মাদক সিন্ডিকেটের হোতাকে ছাড়াতে থানায় যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা জাবিতে গোপনে ছাত্রীদের ছবি তুলতে গিয়ে ধৃত যুবদল নেতা মুচলেকায় মুক্ত, গাড়ি থেকে উদ্ধার মাদক গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল: ২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে: কিছু জরুরি তথ্য ‘দেশে এখন পক্ষ দুটি- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অথবা বিপক্ষে’, অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান মিথিলা ফারজানার ‘মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, গাজীপুরে শেখ হাসিনার আইন চলবে’