হাসান মোরশেদ
আরও খবর
‘রাজনীতির রিখটার স্কেলে ৮-৯ মাত্রার ভূমিকম্প হবে’— সাদ্দাম হোসেন
র্যাব সংস্কার: ন্যায়বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ?
বঙ্গোপসাগর তীরে পরমাণু শক্তির উত্থান
একজন তোফায়েল আহমেদ, অনেকজন আমরা
আওয়ামী লীগের লক্ষাধিক নেতা-কর্মীর অবরুদ্ধ জীবন: উৎসবের ঈদে বিষাদের হাহাকার
দেশে ফেরার মুখে দলকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসিনার দাবি, হত্যা, হামলা, মামলা সত্ত্বেও তৈরি নতুন নেতৃত্ব
হাসিনা রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন? কে ধরবেন দলের হাল? ‘দ্য ওয়াল’-কে কী বললেন আওয়ামী লিগ নেত্রী
বাংলাদেশে হাম মহামারি: কেনো এত সংক্রমণ, এত মৃত্যু?
ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস। দেশটিতে হামের প্রথম ডোজ টিকা পায় মাত্র ৪২ শতাংশ শিশু, ২০২৫ সালে আক্রান্তের হার ছিল প্রতি দশ লাখে ৮২৪ জন। আফগানিস্তানে কয়েক দশকের যুদ্ধ-অরাজকতায় টিকার হার ৫৯ শতাংশ, আক্রান্তের হার দশ লাখে ৪৪১। চাদে টিকার হার ৬৭ শতাংশ, দক্ষিণ সুদানে ৭২ শতাংশ। এই দেশগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব কেউ অবাক হয়ে দেখে না, কারণ বছরের পর বছর ধরে টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা জমতে জমতে একটা পর্যায়ে বিস্ফোরণ ঘটে।
এবার বাংলাদেশের দিকে তাকান। ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে হামের প্রথম ডোজ টিকার হার ছিল ৯৭ শতাংশ, দ্বিতীয় ডোজ ৯৩ শতাংশ। ভারত, পাকিস্তান,
মিয়ানমার, এমনকি বহু ইউরোপীয় দেশের চেয়েও ভালো। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভুটান, মালদ্বীপ আর শ্রীলঙ্কা কিছুটা এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে গোটা বছরে বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ২৪৭ জন, প্রতি দশ লাখে ১.৪ জন। সংখ্যাটা এত ছোট যে পরিসংখ্যানের গ্রাফে চোখেও পড়ে না। ২০২৬ সালে সেই বাংলাদেশেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি দশ লাখে আক্রান্ত ৪৪৮ জন। মাত্র দুই বছরে সংক্রমণ বেড়েছে ৩১১ গুণ। যে দেশ ২০২৪ পর্যন্ত আফগানিস্তান বা চাদের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় ছিল, সেই দেশ এখন তাদের সমান বা কাছাকাছি সংক্রমণের মধ্যে আছে। আর মৃত্যুর হিসাবে বাংলাদেশ এই দেশগুলোর চেয়েও এগিয়ে। মারা গেছে ৬১০-এরও বেশি মানুষ, প্রায় সবাই
পাঁচ বছরের নিচের শিশু। মৃত্যুহার প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ(আফগানিস্তানে শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ), উন্নত দেশে যেটা শূন্য দশমিক এক শতাংশের নিচে থাকে। আর অনেক বিশেষজ্ঞের মতে সরকারি হিসাবে মৃত্যু কম দেখানো হচ্ছে, বাস্তব সংখ্যা আরো বেশি। কাছাকাছি পরিমান সংক্রমণে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের মৃত্যুর পরিমান এতো বেশী- কারন জনঘনত্ব । বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশগুলোর একটি, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ৩১৯ জন। তুলনায় আফগানিস্তানে মাত্র ৬০, চাদে ১৫। হাম এমনিতেই ভয়ংকর সংক্রামক, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সুরক্ষাহীন পরিবেশে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। এই ঘনত্বে সংক্রমণ শুরু হলে দ্রুত থামানো না গেলে যা হওয়ার তাই হয়। তাহলে বাংলাদেশের আজকের পরিস্থিতির
জন্য কারন দুটিঃ এক। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ পদ শূন্য থাকে, টিকা কেনার প্রক্রিয়া আটকে যায়। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকেই টিকার ঘাটতি দেখা দেয়। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সরবরাহের মূল কাঠামো বাতিল করে দেয়, নতুন ব্যবস্থা তৈরিতে মাস কেটে যায়। কেন্দ্রীয় মজুদ শূন্যে নামে। প্রতি চার বছর অন্তর যে বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা, সেটি ২০২৪ সালেও হয়নি। UNICEF, WHO, দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা বারবার সতর্ক করেছিলেন। কেউ কানে তোলেনি। টিকা পৃথিবীতে ছিল, টাকা ছিল, লোকবল ছিল। শুধু ছিল না সিদ্ধান্ত নেওয়ার সদিচ্ছা। সরকার সরাসরি টিকা কিনবে নাকি UNICEF-এর মাধ্যমে কিনবে, এই
আমলাতান্ত্রিক টানাপোড়েনে মাস কেটেছে। সেই ফাঁকে অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা জমতে থেকেছে। দুই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া সরকার পরিস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নেয়নি। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত ছিল না। কুমিল্লা মেডিকেলে ৪০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি হয়েছিল ১৬৪ শিশু। ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ চালু হয়েছে একটি শিশুর মৃত্যুর পরে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, “একটি বাচ্চা মারা যাওয়ার পরপরই আমরা আইসিইউর ব্যবস্থা করেছি।” অর্থাৎ ব্যবস্থা এসেছে লাশের পরে, লাশ ঠেকানোর আগে নয়। গল্পটা আসলে খুব সহজ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে বছরের পর বছর টিকা না দিতে পেরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ মাত্র এক বছরের রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনায় সেই একই জায়গায় পৌঁছে গেছে। আর জনঘনত্বকে বিবেচনায় নিয়ে সংক্রমণ
ঠেকানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, সেটাই মৃত্যুর সংখ্যাকে ওই দেশগুলোর চেয়েও বেশি করে তুলেছে।
মিয়ানমার, এমনকি বহু ইউরোপীয় দেশের চেয়েও ভালো। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভুটান, মালদ্বীপ আর শ্রীলঙ্কা কিছুটা এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালে গোটা বছরে বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ২৪৭ জন, প্রতি দশ লাখে ১.৪ জন। সংখ্যাটা এত ছোট যে পরিসংখ্যানের গ্রাফে চোখেও পড়ে না। ২০২৬ সালে সেই বাংলাদেশেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি দশ লাখে আক্রান্ত ৪৪৮ জন। মাত্র দুই বছরে সংক্রমণ বেড়েছে ৩১১ গুণ। যে দেশ ২০২৪ পর্যন্ত আফগানিস্তান বা চাদের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় ছিল, সেই দেশ এখন তাদের সমান বা কাছাকাছি সংক্রমণের মধ্যে আছে। আর মৃত্যুর হিসাবে বাংলাদেশ এই দেশগুলোর চেয়েও এগিয়ে। মারা গেছে ৬১০-এরও বেশি মানুষ, প্রায় সবাই
পাঁচ বছরের নিচের শিশু। মৃত্যুহার প্রায় শূন্য দশমিক আট শতাংশ(আফগানিস্তানে শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ), উন্নত দেশে যেটা শূন্য দশমিক এক শতাংশের নিচে থাকে। আর অনেক বিশেষজ্ঞের মতে সরকারি হিসাবে মৃত্যু কম দেখানো হচ্ছে, বাস্তব সংখ্যা আরো বেশি। কাছাকাছি পরিমান সংক্রমণে অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশের মৃত্যুর পরিমান এতো বেশী- কারন জনঘনত্ব । বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতির দেশগুলোর একটি, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১ হাজার ৩১৯ জন। তুলনায় আফগানিস্তানে মাত্র ৬০, চাদে ১৫। হাম এমনিতেই ভয়ংকর সংক্রামক, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি সুরক্ষাহীন পরিবেশে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। এই ঘনত্বে সংক্রমণ শুরু হলে দ্রুত থামানো না গেলে যা হওয়ার তাই হয়। তাহলে বাংলাদেশের আজকের পরিস্থিতির
জন্য কারন দুটিঃ এক। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ পদ শূন্য থাকে, টিকা কেনার প্রক্রিয়া আটকে যায়। সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকেই টিকার ঘাটতি দেখা দেয়। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সরবরাহের মূল কাঠামো বাতিল করে দেয়, নতুন ব্যবস্থা তৈরিতে মাস কেটে যায়। কেন্দ্রীয় মজুদ শূন্যে নামে। প্রতি চার বছর অন্তর যে বিশেষ হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা, সেটি ২০২৪ সালেও হয়নি। UNICEF, WHO, দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা বারবার সতর্ক করেছিলেন। কেউ কানে তোলেনি। টিকা পৃথিবীতে ছিল, টাকা ছিল, লোকবল ছিল। শুধু ছিল না সিদ্ধান্ত নেওয়ার সদিচ্ছা। সরকার সরাসরি টিকা কিনবে নাকি UNICEF-এর মাধ্যমে কিনবে, এই
আমলাতান্ত্রিক টানাপোড়েনে মাস কেটেছে। সেই ফাঁকে অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা জমতে থেকেছে। দুই। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া সরকার পরিস্থিতিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নেয়নি। হাসপাতালগুলো প্রস্তুত ছিল না। কুমিল্লা মেডিকেলে ৪০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি হয়েছিল ১৬৪ শিশু। ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আইসিইউ চালু হয়েছে একটি শিশুর মৃত্যুর পরে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, “একটি বাচ্চা মারা যাওয়ার পরপরই আমরা আইসিইউর ব্যবস্থা করেছি।” অর্থাৎ ব্যবস্থা এসেছে লাশের পরে, লাশ ঠেকানোর আগে নয়। গল্পটা আসলে খুব সহজ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে বছরের পর বছর টিকা না দিতে পেরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, বাংলাদেশ মাত্র এক বছরের রাজনৈতিক অব্যবস্থাপনায় সেই একই জায়গায় পৌঁছে গেছে। আর জনঘনত্বকে বিবেচনায় নিয়ে সংক্রমণ
ঠেকানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, সেটাই মৃত্যুর সংখ্যাকে ওই দেশগুলোর চেয়েও বেশি করে তুলেছে।



