ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পশ্চিম তীরে ১০০ স্থানে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে দখলদার ইসরাইল
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশু নিহত
ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী
ইরানে সশস্ত্র হামলা: বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ২ সদস্য নিহত
গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ঘণ্টায় পাঁচজনের মৃত্যু: গবেষণা
কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম সংগঠনের ‘মাদার খাদিজা’ আর নেই
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টা ট্রাম্পের, যে রায় দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় প্রত্যেকেরই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার বহাল রেখেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর মাধ্যমে মার্কিন মাটিতে জন্ম নেওয়া সকলেই নাগরিকত্ব পাবেন—এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই আইনি ঐকমত্যকে পাল্টে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলো।
আদালতের এই রায়ে ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যা তিনি তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই জারি করেছিলেন। ওই আদেশে নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসী এবং সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার নিয়ম বাতিলের কথা বলা হয়েছিল।
রক্ষণশীল ধারার এই সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে চলতি বছর ট্রাম্পের নীতিমালার ওপর এটি দ্বিতীয় বড় ধাক্কা।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক শুল্ক নীতি বাতিল করে তার বাণিজ্য নীতির মূল স্তম্ভটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমান রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং তিন উদারপন্থী বিচারপতিসহ মোট পাঁচজন বিচারপতি একমত হয়েছেন যে মার্কিন সংবিধান জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, বিচারপতি ব্রেট কাভানো এই সাংবিধানিক যুক্তির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটিকে একটি ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের দায়ে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন। রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টস ট্রাম্প প্রশাসনের সেই যুক্তি খণ্ডন করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই অধিকার কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বা মার্কিন
রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত। রবার্টস তার রায়ে লিখেছেন, কংগ্রেস যদি আমেরিকান নাগরিকত্ব কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের সন্তানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইত, তবে নাগরিকত্ব ধারার সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট ভাষায় সেই উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেত। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত এপ্রিল মাস থেকেই এই মামলায় নিজের পরাজয়ের ব্যাপারে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন। ওই সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের মৌখিক যুক্তি শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা। শুনানির পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, গত মাসে এক মন্তব্যে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে এই মামলায় তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প তার
‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মতোই আদালত ব্যবস্থাও ‘কারচুপিপূর্ণ’, আর এই কারণেই দেশের মানুষ তাকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের মূল দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার এই নিয়ম অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে, কারণ অভিবাসীরা জানে তাদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার পাবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থার কারণে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস এবং নিল গোরসুচ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সুর মিলিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। থমাস তার ভিন্নমত্যে লিখেছেন, আদালত অবৈধ অভিবাসী ও
বার্থ ট্যুরিস্টদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আলাদা এক ভিন্নমত্যে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো বলেন, এই বিষয়টির সমাধান মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে কংগ্রেসের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সমালোচকেরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই প্রথা গত প্রায় ১৩০ বছর ধরে মার্কিন জীবনধারার একটি অন্যতম ভিত্তি। এটি বাতিল করা হলে প্রতিটি শিশুর বাবা-মায়ের আইনি মর্যাদা যাচাই করতে গিয়ে প্রশাসনকে বিশাল ব্যবহারিক ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। যদিও ট্রাম্পের ২০২৫ সালের জানুয়ারির আদেশে বলা হয়েছিল যে এটি আদেশ কার্যকরের ৩০ দিন পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তবুও আইনজীবীদের মতে, এই প্রস্তাব যদি
সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখত, তবে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী বহু মানুষের আইনি মর্যাদা নিয়ে এক তীব্র অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হতো। সূত্র: পলিটিকো।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক শুল্ক নীতি বাতিল করে তার বাণিজ্য নীতির মূল স্তম্ভটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। বর্তমান রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং তিন উদারপন্থী বিচারপতিসহ মোট পাঁচজন বিচারপতি একমত হয়েছেন যে মার্কিন সংবিধান জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা দেয়। অন্যদিকে, বিচারপতি ব্রেট কাভানো এই সাংবিধানিক যুক্তির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেও ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটিকে একটি ফেডারেল আইন লঙ্ঘনের দায়ে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন। রায়ে প্রধান বিচারপতি রবার্টস ট্রাম্প প্রশাসনের সেই যুক্তি খণ্ডন করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই অধিকার কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য যাদের বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন বা মার্কিন
রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত। রবার্টস তার রায়ে লিখেছেন, কংগ্রেস যদি আমেরিকান নাগরিকত্ব কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারীদের সন্তানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাইত, তবে নাগরিকত্ব ধারার সংক্ষিপ্ত ও সুনির্দিষ্ট ভাষায় সেই উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবেই প্রকাশ পেত। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত এপ্রিল মাস থেকেই এই মামলায় নিজের পরাজয়ের ব্যাপারে কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন। ওই সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের মৌখিক যুক্তি শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটনা। শুনানির পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, গত মাসে এক মন্তব্যে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে এই মামলায় তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প তার
‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার মতোই আদালত ব্যবস্থাও ‘কারচুপিপূর্ণ’, আর এই কারণেই দেশের মানুষ তাকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন এবং তিনি এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের মূল দাবি ছিল, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার এই নিয়ম অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে, কারণ অভিবাসীরা জানে তাদের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার পাবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারাও দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থার কারণে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস এবং নিল গোরসুচ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সুর মিলিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। থমাস তার ভিন্নমত্যে লিখেছেন, আদালত অবৈধ অভিবাসী ও
বার্থ ট্যুরিস্টদের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আলাদা এক ভিন্নমত্যে বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো বলেন, এই বিষয়টির সমাধান মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে কংগ্রেসের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার সমালোচকেরা বলছেন, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার এই প্রথা গত প্রায় ১৩০ বছর ধরে মার্কিন জীবনধারার একটি অন্যতম ভিত্তি। এটি বাতিল করা হলে প্রতিটি শিশুর বাবা-মায়ের আইনি মর্যাদা যাচাই করতে গিয়ে প্রশাসনকে বিশাল ব্যবহারিক ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হতো। যদিও ট্রাম্পের ২০২৫ সালের জানুয়ারির আদেশে বলা হয়েছিল যে এটি আদেশ কার্যকরের ৩০ দিন পর জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তবুও আইনজীবীদের মতে, এই প্রস্তাব যদি
সুপ্রিম কোর্ট বহাল রাখত, তবে দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী বহু মানুষের আইনি মর্যাদা নিয়ে এক তীব্র অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হতো। সূত্র: পলিটিকো।



