ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাংলাদেশে কি একটা নিরব গণহত্যা চলছে?
ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
হাওয়া ভবন বাজেট ১০১: বাজেটের “আকার” বেড়েছে কিন্তু “উকার” কমেছে
ড. আসিফ নজরুল- আপনার এক অঙ্গে কতো রূপ?
গনতন্ত্র ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
পলাশীর পতনের ঠিক ১৯২ বছর পরে বাংলার জেগে ওঠার উপখ্যান
অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার!
র্যাব সংস্কার: ন্যায়বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ?
বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ইতিহাসে র্যাব একটি বিতর্কিত অথচ অপরিহার্য অধ্যায়। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বাহিনী জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। অথচ আজ যখন সংস্কারের কথা উঠছে, তখন প্রশ্ন জাগে—এই সংস্কার কি সত্যিকারের জবাবদিহিতার পথে নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবরণে?
১৮ই মে ২০২৬, র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। কিন্তু আইন প্রণয়নের আড়ালে যে বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ থেকেই যায়।
“যেকোনো সংস্থায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের নামে পুরো বাহিনীর উপর ঢালাও দায় চাপানো কখনোই ন্যায়বিচার নয়।”
আংশিক বিচারের বিপদ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ICT) চলমান মামলায় কেবল ২০১৬
থেকে ২০২৪ সময়কালকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। অথচ ‘অধিকার’ ও ‘আসক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকেই ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নির্দিষ্ট একটি সময়কাল বেছে নেওয়া—এবং সেই কালপর্বে দায়িত্বরত বিশেষ পদের সেনা কর্মকর্তাদের এককভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো—আইনি প্রক্রিয়ার বদলে রাজনৈতিক নির্বাচনের গন্ধ বহন করে। স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে: গুম-খুনের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে ডিবি, সিটিটিসি বা অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তারা কেন এই বিচারের বাইরে? মিডিয়ায় ডিবির ‘আয়নাঘর’ নিয়ে সমতুল্য অভিযোগ থাকলেও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিরাপদ দূরত্বে। এই বৈষম্য কি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি রাখে? চেইন অব কমান্ড ও একক দায়িত্বের অসঙ্গতি ফৌজদারি কার্যবিধি এবং সামরিক চেইন অব কমান্ডের বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো গুরুতর ঘটনা একজনের
একক সিদ্ধান্তে সংঘটিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। মাঠপর্যায় থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত বহুস্তরীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া থাকে। তাহলে শুধু কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে ‘মূল অভিযুক্ত’ বানিয়ে বাকিদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? এটা কি প্রকৃত বিচার, নাকি কাউকে বলির পাঁঠা বানানোর কৌশল? এই নীরবতার মধ্যে আরও একটি প্রশ্ন চাপা পড়ে আছে: যে সাক্ষীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মামলা বিচারাধীন। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাই যদি আজ অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার নৈতিক ভিত্তি কোথায় থাকে? আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যে ব্যারিস্টার আরমানের নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার শুরু হয়েছে, সেই ২০১৬ সালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকে র্যাবে ছিলেনই না। পাসপোর্ট ও অফিশিয়াল
পোস্টিং অর্ডার যাচাইযোগ্য তথ্য—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো এটি: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো এজেন্ডার অংশ হিসেবে কি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? যে সেনা কর্মকর্তারা ২৫-৩০ বছরের নিষ্কলুষ সেবা দিয়ে র্যাবে গিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ আনা হলে ভবিষ্যতে কোনো পেশাদার কর্মকর্তা কি আর জঙ্গিবাদ বা মাদক দমনে সাহসী পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসবেন? “সংস্কার দরকার—সত্যিকারের, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সংস্কার। কিন্তু সেই সংস্কার হতে হবে সামগ্রিক জবাবদিহিতার পথে, বিশেষ কাউকে টার্গেট করার হাতিয়ার হিসেবে নয়।” প্রকৃত সংস্কারের পথ র্যাবের নতুন আইন প্রণয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা হবে সর্বকালীন ও সর্বব্যাপী—শুধু একটি নির্দিষ্ট
সময়কাল বা নির্দিষ্ট বাহিনীকে নয়, সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আইনের আওতায় এনে। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে—অভিযোগের তথ্যভিত্তিক যাচাই, সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিরূপণ এবং চেইন অব কমান্ডের সব স্তরকে সমানভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা অপরিহার্য। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দলীয় প্রতিহিংসার যন্ত্র হতে পারে না। দেশকে ভালোবাসার অর্থ শুধু পরিবর্তন চাওয়া নয়—এর অর্থ হলো সেই পরিবর্তন যেন ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে, সেটা নিশ্চিত করা। সংস্কারের আলো যেন বিচারের নামে অন্ধকারের হাতিয়ার না হয়—এটুকুই প্রত্যাশা।
থেকে ২০২৪ সময়কালকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। অথচ ‘অধিকার’ ও ‘আসক’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকেই ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নির্দিষ্ট একটি সময়কাল বেছে নেওয়া—এবং সেই কালপর্বে দায়িত্বরত বিশেষ পদের সেনা কর্মকর্তাদের এককভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো—আইনি প্রক্রিয়ার বদলে রাজনৈতিক নির্বাচনের গন্ধ বহন করে। স্বাভাবিক প্রশ্ন ওঠে: গুম-খুনের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে ডিবি, সিটিটিসি বা অন্যান্য বাহিনীর কর্মকর্তারা কেন এই বিচারের বাইরে? মিডিয়ায় ডিবির ‘আয়নাঘর’ নিয়ে সমতুল্য অভিযোগ থাকলেও তাদের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিরাপদ দূরত্বে। এই বৈষম্য কি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি রাখে? চেইন অব কমান্ড ও একক দায়িত্বের অসঙ্গতি ফৌজদারি কার্যবিধি এবং সামরিক চেইন অব কমান্ডের বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো গুরুতর ঘটনা একজনের
একক সিদ্ধান্তে সংঘটিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। মাঠপর্যায় থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত বহুস্তরীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া থাকে। তাহলে শুধু কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে ‘মূল অভিযুক্ত’ বানিয়ে বাকিদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে কেন? এটা কি প্রকৃত বিচার, নাকি কাউকে বলির পাঁঠা বানানোর কৌশল? এই নীরবতার মধ্যে আরও একটি প্রশ্ন চাপা পড়ে আছে: যে সাক্ষীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধেই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মামলা বিচারাধীন। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাই যদি আজ অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার নৈতিক ভিত্তি কোথায় থাকে? আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যে ব্যারিস্টার আরমানের নিখোঁজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিচার শুরু হয়েছে, সেই ২০১৬ সালে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকে র্যাবে ছিলেনই না। পাসপোর্ট ও অফিশিয়াল
পোস্টিং অর্ডার যাচাইযোগ্য তথ্য—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর আজও পাওয়া যায়নি। সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীর প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হয়তো এটি: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো এজেন্ডার অংশ হিসেবে কি সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে? যে সেনা কর্মকর্তারা ২৫-৩০ বছরের নিষ্কলুষ সেবা দিয়ে র্যাবে গিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ আনা হলে ভবিষ্যতে কোনো পেশাদার কর্মকর্তা কি আর জঙ্গিবাদ বা মাদক দমনে সাহসী পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে আসবেন? “সংস্কার দরকার—সত্যিকারের, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ সংস্কার। কিন্তু সেই সংস্কার হতে হবে সামগ্রিক জবাবদিহিতার পথে, বিশেষ কাউকে টার্গেট করার হাতিয়ার হিসেবে নয়।” প্রকৃত সংস্কারের পথ র্যাবের নতুন আইন প্রণয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা হবে সর্বকালীন ও সর্বব্যাপী—শুধু একটি নির্দিষ্ট
সময়কাল বা নির্দিষ্ট বাহিনীকে নয়, সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে আইনের আওতায় এনে। বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে—অভিযোগের তথ্যভিত্তিক যাচাই, সাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিরূপণ এবং চেইন অব কমান্ডের সব স্তরকে সমানভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা অপরিহার্য। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দলীয় প্রতিহিংসার যন্ত্র হতে পারে না। দেশকে ভালোবাসার অর্থ শুধু পরিবর্তন চাওয়া নয়—এর অর্থ হলো সেই পরিবর্তন যেন ন্যায়সঙ্গত, নিরপেক্ষ এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করে, সেটা নিশ্চিত করা। সংস্কারের আলো যেন বিচারের নামে অন্ধকারের হাতিয়ার না হয়—এটুকুই প্রত্যাশা।



