ক্যাডেট কলেজ: “কিল দ্য ইন্ডিয়ান ইন হিম অ্যান্ড সেভ দ্য ম্যান” – ইউ এস বাংলা নিউজ




এবিএম সিরাজুল হোসেইন
আপডেটঃ ২৩ জুলাই, ২০২৬

ক্যাডেট কলেজ: “কিল দ্য ইন্ডিয়ান ইন হিম অ্যান্ড সেভ দ্য ম্যান”

এবিএম সিরাজুল হোসেইন
আপডেটঃ ২৩ জুলাই, ২০২৬ |
কেউ এই ছবিগুলো একসঙ্গে দিয়ে বলেছেন, এনারা সবাই ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। কতটুকু সত্য, জানি না। কেউ জানলে জানান। তবে দুই বছর আগে আমি ক্যাডেট কলেজগুলো যে খুনের দর্শন ও স্থানীয় সংস্কৃতির জাতিগত উৎখাতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটা নিয়ে লিখেছিলাম। যার সঙ্গে দিয়েছিলাম একটি তালিকা—হোলি আর্টিজানসহ সন্ত্রাসবাদের নেতৃত্বেও যে আমাদের ক্যাডেট কলেজগুলো থেকে এসেছে, সেটি। মেজর জিয়া—সিলেট ক্যাডেট কলেজে, সাইফুল্লাহ ওজাকি—সিলেট ক্যাডেট কলেজ, সাখাওয়াত কাওসার—মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, আমিনুল ইসলাম বেগ—বরিশাল ক্যাডেট কলেজ, শামিন মাহফুজ—রংপুর ক্যাডেট কলেজ, গাজী কামরুস সালাম সোহান—মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, নজিবুল্লাহ আনসারী—রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, আরও খোঁজখবর করলে তালিকাটা অনেক লম্বা হবে। এরা কেউ সাধারণ সন্ত্রাসী নয়; এরা নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন

এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি। এরা সবাই এসেছে ক্যাডেট কলেজ থেকে। লিখেছিলাম ক্যাডেট কলেজের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। মিলিয়ে দেখুন, হত্যার দর্শন ও মনস্তত্ত্বের সঙ্গে মেলে কি না। ক্যাডেট কলেজ মনস্তত্ত্বের জন্মকথা………… উনিশ শতকের শেষের দিকে, যখন বেশিরভাগ আদিবাসী আমেরিকানরা তাদের জন্য সংরক্ষিত সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে বাস করতে বাধ্য ছিল, তখন আমেরিকার ফেডারেল সরকার হাজার হাজার আদিবাসী আমেরিকান শিশুকে বিশেষ বোর্ডিং স্কুলে যোগ দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হয়। ১৮৭৯ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলটি জনৈক রিচার্ড প্র্যাট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্থানীয় জনগণ (আদিবাসী আমেরিকান) তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত জীবনে সফল হতে

পারবে না। রিচার্ড প্র্যাটের বিখ্যাত দর্শন ছিল: “ওদের ভেতরের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” (“Kill the Indian in him and save the man”)। এই দর্শনের ভিত্তিতেই স্কুলটির মডেল তৈরি হয়। পরবর্তীতে কার্লাইল স্কুল আমেরিকায় একটি জাতীয় মডেল হয়ে ওঠে স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানদের মানুষ করতে। তখন ৪০০টিরও বেশি দিবা ও বোর্ডিং স্কুল আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল এবং সেগুলো বেশিরভাগ খ্রিস্টীয় চার্চের প্রভাবিত নিয়মে পরিচালিত হতো। ১৮৮০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি অফ-রিজার্ভেশন বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রায় এক লাখ আদিবাসী আমেরিকানকে এই স্কুলগুলোতে পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেখানে ছাত্রদের স্থানীয় ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল, স্থানীয় বিশ্বাস

ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো এবং তাদের নামসহ আদিবাসী আমেরিকান পরিচয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হতো। পাকিস্তানের সামরিক শাসকেরাও একইভাবে বিশ্বাস করত যে স্থানীয় বাঙালিরা তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত সভ্য হবে না এবং প্রকৃত মুসলামানও হবে না। তারা স্থানীয় বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিকে আধা হিন্দু ভাবত। “ওদের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” মার্কিন ধর্ম-সামরিক দর্শন পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর “ওদের বাঙালি সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” দর্শনে পরিণত হয়েছে। এই দর্থেশন থেকেই ক্যাডেট কলেজগুলোর সৃষ্টি, যা আজও মোল্লা-মিলিটারি ভাইরাস ছড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করে চলেছে। আমাদের ভারতবিরোধিতা, হিন্দুবিদ্বেষ এবং স্বাধীনতাবিরোধী

মৌলবাদী চক্রের দর্শন একই—মৌলিক বা মাটির সত্তাকে হত্যা করা। “Kill the Indian in him and save the man”—আমেরিকায় আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের জন্য হলেও, সেটাকে আমরা আক্ষরিক অর্থেও নিয়েছি। “Kill the Indian in him and save the man” মানে মগজধোলাই হচ্ছে—আমাদের মধ্যে যা ভারতীয়, তাকে শেষ করা এবং পাকিস্তান ও ইসলাম দিয়ে সেটাকে প্রতিস্থাপিত করা। আমেরিকার তৈরি এই ক্যান্সার যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন এ দেশে শান্তি আসবে না। তাদের দর্শন হত্যার এবং উদ্দেশ্য জাতিগত ও সাংস্কৃতিক উৎখাত—সেটাই তারা ২০২৪ সালে বাস্তবায়িত করতে চাইছে। তবে দেরিতে হলেও আমেরিকার অনেক মানুষ এই সংস্কৃতিহীনতা বিকাশের ফল বুঝেছে। এই সংস্কৃতিহীনতা, খুনের দর্শন রপ্তানি করা এবং তাদের সমর্থন করা সামনের

দিনগুলোতে সীমিত হবে—সেটাই মনে করি। কিলার সাইকোপ্যাথ তৈরি করা ক্যাডেট কলেজগুলো একদিন বন্ধ হবে এবং সেটাই জাতিকে রক্ষার জন্য একটি বড় কাজ হবে। আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে যা শেখানো হয়, সেটা ধর্ম সামান্যই; সেটা আসলে রিচার্ড প্র্যাটের কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল মডেলের সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মগজধোলাই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্রে যা লিখলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী টানা পঞ্চম দিনও অচল লোকসভা, বক্তব্যের সুযোগ পেলেন না রাহুল বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে ‘আজীবন’ বহিষ্কারের পিটিশন ভাঙতে চলেছিল ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, অতঃপর… বিজয়ের শেষ সিনেমা ‘জন নায়াগান’, আরও ৩ সিনেমা মুক্তি মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে ১১৩৩ বাংলাদেশিসহ ২২ হাজারের বেশি অভিবাসী সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কী কী কারণে কমে যায়? যশোরে নিখোঁজের দুই দিন পরে ভ্যানচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আমাদের কাফেলা মদিনা থেকে ঘুরে আমেরিকার দিকে চলে গেছে: ইআবা নেতা ফয়জুল করিম বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি সরকার: ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণে উত্তরণের চিন্তা সিরাজগঞ্জে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, পরিবারের দাবি সুপরিকল্পিত হত্যা গোপালগঞ্জে ভারী পেপার ওয়েট ছুড়ে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক! অপহরণ-হত্যাচেষ্টা, ফটিকছড়ি জামায়াত আমির-সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে মামলা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন: সফর সংক্ষিপ্ত করে তড়িঘড়ি দেশে ফিরছেন স্পিকার প্রোফাইল লাল করা নিয়ে জুলাই-আগস্টের রাজনীতি এবং বর্তমান বাস্তবতা আওয়ামী লীগের ‘১.৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি’র লক্ষ্যমাত্রা বিএনপি আমলে নামল ১ ট্রিলিয়নে, সময়ও বাড়ল ১০ বছর ছাত্রী হলের ওয়াশরুমের গোপন ভিডিও করা ক্যান্টিনকর্মী আটক, বিক্ষোভে উত্তাল খুবি