এবিএম সিরাজুল হোসেইন
আরও খবর
প্রোফাইল লাল করা নিয়ে জুলাই-আগস্টের রাজনীতি এবং বর্তমান বাস্তবতা
বেলুচিস্তানের নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানো কেন বাংলাদেশের নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব?
মব এবং ব্যাঙ্কিং খাতের সংকট একই মেটিকুলাস প্ল্যানের অংশ
৫ আগস্ট ও শেখ হাসিনার ‘তৃতীয় পথ’: একটি কৌশলগত ও মানবিক মূল্যায়ন
আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে সংসদ ভবন চত্ত্বরে বিদেশী কোন দেশের স্বাধীনতা দিবস পালন হলে কি হতো?
হাসিনা সরকার পতনে “সক্রিয় ভূমিকা” রেখেছি: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান (ভিডিও)
বাংলাদেশে কি একটা নিরব গণহত্যা চলছে?
ক্যাডেট কলেজ: “কিল দ্য ইন্ডিয়ান ইন হিম অ্যান্ড সেভ দ্য ম্যান”
কেউ এই ছবিগুলো একসঙ্গে দিয়ে বলেছেন, এনারা সবাই ক্যাডেট কলেজের ছাত্র ছিলেন। কতটুকু সত্য, জানি না। কেউ জানলে জানান। তবে দুই বছর আগে আমি ক্যাডেট কলেজগুলো যে খুনের দর্শন ও স্থানীয় সংস্কৃতির জাতিগত উৎখাতের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেটা নিয়ে লিখেছিলাম। যার সঙ্গে দিয়েছিলাম একটি তালিকা—হোলি আর্টিজানসহ সন্ত্রাসবাদের নেতৃত্বেও যে আমাদের ক্যাডেট কলেজগুলো থেকে এসেছে, সেটি।
মেজর জিয়া—সিলেট ক্যাডেট কলেজে, সাইফুল্লাহ ওজাকি—সিলেট ক্যাডেট কলেজ, সাখাওয়াত কাওসার—মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, আমিনুল ইসলাম বেগ—বরিশাল ক্যাডেট কলেজ, শামিন মাহফুজ—রংপুর ক্যাডেট কলেজ,
গাজী কামরুস সালাম সোহান—মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, নজিবুল্লাহ আনসারী—রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, আরও খোঁজখবর করলে তালিকাটা অনেক লম্বা হবে।
এরা কেউ সাধারণ সন্ত্রাসী নয়; এরা নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন
এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি। এরা সবাই এসেছে ক্যাডেট কলেজ থেকে। লিখেছিলাম ক্যাডেট কলেজের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। মিলিয়ে দেখুন, হত্যার দর্শন ও মনস্তত্ত্বের সঙ্গে মেলে কি না। ক্যাডেট কলেজ মনস্তত্ত্বের জন্মকথা………… উনিশ শতকের শেষের দিকে, যখন বেশিরভাগ আদিবাসী আমেরিকানরা তাদের জন্য সংরক্ষিত সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে বাস করতে বাধ্য ছিল, তখন আমেরিকার ফেডারেল সরকার হাজার হাজার আদিবাসী আমেরিকান শিশুকে বিশেষ বোর্ডিং স্কুলে যোগ দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হয়। ১৮৭৯ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলটি জনৈক রিচার্ড প্র্যাট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্থানীয় জনগণ (আদিবাসী আমেরিকান) তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত জীবনে সফল হতে
পারবে না। রিচার্ড প্র্যাটের বিখ্যাত দর্শন ছিল: “ওদের ভেতরের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” (“Kill the Indian in him and save the man”)। এই দর্শনের ভিত্তিতেই স্কুলটির মডেল তৈরি হয়। পরবর্তীতে কার্লাইল স্কুল আমেরিকায় একটি জাতীয় মডেল হয়ে ওঠে স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানদের মানুষ করতে। তখন ৪০০টিরও বেশি দিবা ও বোর্ডিং স্কুল আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল এবং সেগুলো বেশিরভাগ খ্রিস্টীয় চার্চের প্রভাবিত নিয়মে পরিচালিত হতো। ১৮৮০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি অফ-রিজার্ভেশন বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রায় এক লাখ আদিবাসী আমেরিকানকে এই স্কুলগুলোতে পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেখানে ছাত্রদের স্থানীয় ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল, স্থানীয় বিশ্বাস
ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো এবং তাদের নামসহ আদিবাসী আমেরিকান পরিচয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হতো। পাকিস্তানের সামরিক শাসকেরাও একইভাবে বিশ্বাস করত যে স্থানীয় বাঙালিরা তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত সভ্য হবে না এবং প্রকৃত মুসলামানও হবে না। তারা স্থানীয় বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিকে আধা হিন্দু ভাবত। “ওদের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” মার্কিন ধর্ম-সামরিক দর্শন পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর “ওদের বাঙালি সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” দর্শনে পরিণত হয়েছে। এই দর্থেশন থেকেই ক্যাডেট কলেজগুলোর সৃষ্টি, যা আজও মোল্লা-মিলিটারি ভাইরাস ছড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করে চলেছে। আমাদের ভারতবিরোধিতা, হিন্দুবিদ্বেষ এবং স্বাধীনতাবিরোধী
মৌলবাদী চক্রের দর্শন একই—মৌলিক বা মাটির সত্তাকে হত্যা করা। “Kill the Indian in him and save the man”—আমেরিকায় আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের জন্য হলেও, সেটাকে আমরা আক্ষরিক অর্থেও নিয়েছি। “Kill the Indian in him and save the man” মানে মগজধোলাই হচ্ছে—আমাদের মধ্যে যা ভারতীয়, তাকে শেষ করা এবং পাকিস্তান ও ইসলাম দিয়ে সেটাকে প্রতিস্থাপিত করা। আমেরিকার তৈরি এই ক্যান্সার যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন এ দেশে শান্তি আসবে না। তাদের দর্শন হত্যার এবং উদ্দেশ্য জাতিগত ও সাংস্কৃতিক উৎখাত—সেটাই তারা ২০২৪ সালে বাস্তবায়িত করতে চাইছে। তবে দেরিতে হলেও আমেরিকার অনেক মানুষ এই সংস্কৃতিহীনতা বিকাশের ফল বুঝেছে। এই সংস্কৃতিহীনতা, খুনের দর্শন রপ্তানি করা এবং তাদের সমর্থন করা সামনের
দিনগুলোতে সীমিত হবে—সেটাই মনে করি। কিলার সাইকোপ্যাথ তৈরি করা ক্যাডেট কলেজগুলো একদিন বন্ধ হবে এবং সেটাই জাতিকে রক্ষার জন্য একটি বড় কাজ হবে। আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে যা শেখানো হয়, সেটা ধর্ম সামান্যই; সেটা আসলে রিচার্ড প্র্যাটের কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল মডেলের সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মগজধোলাই।
এবং নেতৃত্বের পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি। এরা সবাই এসেছে ক্যাডেট কলেজ থেকে। লিখেছিলাম ক্যাডেট কলেজের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। মিলিয়ে দেখুন, হত্যার দর্শন ও মনস্তত্ত্বের সঙ্গে মেলে কি না। ক্যাডেট কলেজ মনস্তত্ত্বের জন্মকথা………… উনিশ শতকের শেষের দিকে, যখন বেশিরভাগ আদিবাসী আমেরিকানরা তাদের জন্য সংরক্ষিত সীমাবদ্ধ এলাকার মধ্যে বাস করতে বাধ্য ছিল, তখন আমেরিকার ফেডারেল সরকার হাজার হাজার আদিবাসী আমেরিকান শিশুকে বিশেষ বোর্ডিং স্কুলে যোগ দিতে বাধ্য করার মাধ্যমে একটি সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত হয়। ১৮৭৯ সালে আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুলটি জনৈক রিচার্ড প্র্যাট প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে স্থানীয় জনগণ (আদিবাসী আমেরিকান) তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত জীবনে সফল হতে
পারবে না। রিচার্ড প্র্যাটের বিখ্যাত দর্শন ছিল: “ওদের ভেতরের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” (“Kill the Indian in him and save the man”)। এই দর্শনের ভিত্তিতেই স্কুলটির মডেল তৈরি হয়। পরবর্তীতে কার্লাইল স্কুল আমেরিকায় একটি জাতীয় মডেল হয়ে ওঠে স্থানীয় আদিবাসী আমেরিকানদের মানুষ করতে। তখন ৪০০টিরও বেশি দিবা ও বোর্ডিং স্কুল আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার কাছাকাছি নির্মিত হয়েছিল এবং সেগুলো বেশিরভাগ খ্রিস্টীয় চার্চের প্রভাবিত নিয়মে পরিচালিত হতো। ১৮৮০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি অফ-রিজার্ভেশন বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রায় এক লাখ আদিবাসী আমেরিকানকে এই স্কুলগুলোতে পড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সেখানে ছাত্রদের স্থানীয় ভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল, স্থানীয় বিশ্বাস
ত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হতো এবং তাদের নামসহ আদিবাসী আমেরিকান পরিচয় ত্যাগ করতে বাধ্য করা হতো। পাকিস্তানের সামরিক শাসকেরাও একইভাবে বিশ্বাস করত যে স্থানীয় বাঙালিরা তাদের ঐতিহ্য, অভ্যাস ও বিশ্বাস নির্মূল না করা পর্যন্ত সভ্য হবে না এবং প্রকৃত মুসলামানও হবে না। তারা স্থানীয় বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতিকে আধা হিন্দু ভাবত। “ওদের আদিবাসী সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” মার্কিন ধর্ম-সামরিক দর্শন পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের শাসক শ্রেণীর “ওদের বাঙালি সত্তাকে হত্যা করতে হবে এবং মানুষটাকে বাঁচাতে হবে” দর্শনে পরিণত হয়েছে। এই দর্থেশন থেকেই ক্যাডেট কলেজগুলোর সৃষ্টি, যা আজও মোল্লা-মিলিটারি ভাইরাস ছড়িয়ে দেশকে ধ্বংস করে চলেছে। আমাদের ভারতবিরোধিতা, হিন্দুবিদ্বেষ এবং স্বাধীনতাবিরোধী
মৌলবাদী চক্রের দর্শন একই—মৌলিক বা মাটির সত্তাকে হত্যা করা। “Kill the Indian in him and save the man”—আমেরিকায় আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের জন্য হলেও, সেটাকে আমরা আক্ষরিক অর্থেও নিয়েছি। “Kill the Indian in him and save the man” মানে মগজধোলাই হচ্ছে—আমাদের মধ্যে যা ভারতীয়, তাকে শেষ করা এবং পাকিস্তান ও ইসলাম দিয়ে সেটাকে প্রতিস্থাপিত করা। আমেরিকার তৈরি এই ক্যান্সার যতদিন এ দেশে থাকবে, ততদিন এ দেশে শান্তি আসবে না। তাদের দর্শন হত্যার এবং উদ্দেশ্য জাতিগত ও সাংস্কৃতিক উৎখাত—সেটাই তারা ২০২৪ সালে বাস্তবায়িত করতে চাইছে। তবে দেরিতে হলেও আমেরিকার অনেক মানুষ এই সংস্কৃতিহীনতা বিকাশের ফল বুঝেছে। এই সংস্কৃতিহীনতা, খুনের দর্শন রপ্তানি করা এবং তাদের সমর্থন করা সামনের
দিনগুলোতে সীমিত হবে—সেটাই মনে করি। কিলার সাইকোপ্যাথ তৈরি করা ক্যাডেট কলেজগুলো একদিন বন্ধ হবে এবং সেটাই জাতিকে রক্ষার জন্য একটি বড় কাজ হবে। আমাদের মাদ্রাসাগুলোতে যা শেখানো হয়, সেটা ধর্ম সামান্যই; সেটা আসলে রিচার্ড প্র্যাটের কার্লাইল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল মডেলের সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় মগজধোলাই।



