‘ভবিষ্যতে দাম কমানোর প্রলোভন’ মার্কিন কোম্পানির সাথে সরকারের উচ্চমূল্যে এলএনজি চুক্তি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬

আরও খবর

আওয়ামী লীগ আমলের কোনো সক্ষমতাই ধরে রাখতে পারছে না বিএনপি সরকার

চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ: বন্যা, অধিকার বঞ্চিতকরণ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ও শীতল যুদ্ধের খাদ্য-রাজনীতির গভীরতর বিশ্লেষণ

ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি না করায় বিএনপির সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ শেখ হাসিনার

ভারতের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আগের চেয়েও জোরদারে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত সফরে তারেক রহমান: তবুও গোপন রাখার চেষ্টায় প্রেস উইং!

দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের হামলা, গ্রিল-আসবাবপত্র লুটপাট

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত জারদারি, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ

‘ভবিষ্যতে দাম কমানোর প্রলোভন’ মার্কিন কোম্পানির সাথে সরকারের উচ্চমূল্যে এলএনজি চুক্তি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ আগস্ট, ২০২৬ |
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এবং দেশের দীর্ঘদিনের পুরনো সরবরাহকারীরা হঠাৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পাঠাতে না পারায় গভীর সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনা ছাড়া পেট্রোবাংলার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তবে দর অত্যধিক চড়া হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে হলেও যা পাওয়া যাচ্ছে তা-ই কেনা হচ্ছে; অন্যথায় কার্গো হাতছাড়া হয়ে পরে আরও বেশি মূল্যে কেনার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এই চরম অস্থিরতার মধ্যেই একাধিক দফায় আলোচনার পর গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে ১৩ বছর মেয়াদী এক এলএনজি ক্রয় চুক্তি সম্পাদন করেছে পেট্রোবাংলা। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭

কার্গো এলএনজি দেশে পৌঁছাবে। তবে এই চুক্তির শর্তাবলী সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়ে সচরাচর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের যে বেঞ্চমার্ক সূচক ধরা হয়, এখানে তার পরিবর্তে বাজার-ভিত্তিক দুটি আলাদা মূল্য নির্ধারণী পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। আর এই নতুন দরকাঠামোর কারণে প্রথম তিন বছরে সরবরাহকৃত জ্বালানির ক্রয়মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও বাজার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে জাপান কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) ভিত্তিক ক্রয়ে গানভরের ধার্যকৃত প্রিমিয়াম পেট্রোবাংলার বর্তমান স্বল্পমেয়াদি অন্যান্য চুক্তির চেয়ে কিছুটা কম। কিন্তু ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মেয়াদের এলএনজি দাম সরাসরি জেকেএম সূচকের সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে এশিয়ার স্পট এলএনজির যে ঊর্ধ্বমুখী দর—যা বাংলাদেশের বিদ্যমান তেল-ভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির

মূল্যের প্রায় দ্বিগুণের সমান—বাংলাদেশকে সরাসরি সেই চড়া বাজারের ঝুঁকিতেই ফেলে দিচ্ছে। চুক্তির ধারা অনুসারে, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে যে ১৪ কার্গো এলএনজি কেনা হবে, তার দাম ধরা হবে ‘জেকেএম সূচক + ০.০৮৭৫ ডলার’। মূলত এখানেই মূল আর্থিক জটিলতাটি দৃশ্যমান হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিগুলোর দাম ব্রেন্ট ক্রুড তেলের সমীকরণের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, যার সঙ্গে প্রস্তাবিত এই কাঠামোর সরাসরি পার্থক্য রয়েছে। অপরদিকে একটি ভিন্ন শর্তানুসারে, ২০২৮ সালে আসার কথা থাকা তিনটি কার্গোর মূল্য নির্ধারিত হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হেনরি হাব’ দরকাঠামোয়। এর পর ২০২৯ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর যে ১০টি করে কার্গো আসবে, তার দর নির্ধারিত হবে হেনরি হাবের

১২১ শতাংশ মূল্যের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে আরও ৫.২০ ডলার যোগ করার মাধ্যমে। নতুন চুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা বুঝতে গেলে গত ১৬ই আগস্টের ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বাজারদর (ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৫২ ডলার), জেকেএম দর (প্রতি এমএমবিটিইউ ২১.২১ ডলার) এবং ১৭ই আগস্টের হেনরি হাব গ্যাসের দামকে (প্রতি এমএমবিটিইউ ২.৭১ ডলার) তুলনা করা দরকার। ত বে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল মূল্যমান যেহেতু পরিবর্তনশীল, তাই প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক বদলানোর সাথে সাথে দেশে আনা এলএনজির চূড়ান্ত দামেও তফাত দেখা দেবে। বিদ্যমান তেল-ভিত্তিক চুক্তিগুলো এখনো অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী স্বল্পমেয়াদি জেকেএম-ভিত্তিক কেনাকাটার ফিক্সড প্রিমিয়ামের হিসাব করলে গানভরের অফারটি হয়তো সাময়িকভাবে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে। কিন্তু তেল-ভিত্তিক ইনডেক্সে আবদ্ধ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি চালানের সঙ্গে পাশাপাশি

রাখলে পুরো চিত্রটি বদলে যায়। এই পার্থক্যের পেছনে মূল কারণ মূল্য নির্ধারণে ব্যবহৃত সূচক বা বেঞ্চমার্কের মধ্যকার মৌলিক ফারাক। ১৬ই আগস্টের ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেলপ্রতি দাম (৮৮.৫২ ডলার) হিসাব করলে দেখা যায়, তেল-নির্ভর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোয় প্রিমিয়াম ও স্লোপ যোগ করে এলএনজির প্রতি এমএমবিটিইউ দর পড়ে আনুমানিক ১০.৯৩ থেকে ১২.৩২ ডলারের মধ্যে। যেখানে পেট্রোবাংলার প্রধান সরবরাহকারী কাতারএনার্জি ১৫ বছরের চুক্তিতে বছরে ৪০ কার্গো সরবরাহ করে, ব্রেন্টের ওই দিনের দামে যাদের প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির আনুমানিক খরচ ছিল ১১.৭০ ডলার। অথচ গানভরের প্রস্তাবিত ‘জেকেএম + ০.০৮৭৫ ডলার’ ফর্মুলায় একই পরিমাণ এলএনজির দাম এসে ঠেকছে প্রতি এমএমবিটিইউতে ২১.৩০ ডলারে—যা কাতারএনার্জির তেলের বেঞ্চমার্কের চেয়ে প্রায় ৯.৬০ ডলার বেশি। অনুরূপভাবে, ওকিউ

ট্রেডিংয়ের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির (বার্ষিক ১৬ কার্গো) আওতায় তেলের দরে প্রতি এমএমবিটিইউ কিনতে খরচ হয় ১০.৯৩ ডলার; ফলে তাদের চেয়ে গানভরের জেকেএম-ভিত্তিক দামের পার্থক্য দাঁড়ায় ১০.৩৭ ডলার। কাতারএনার্জি ট্রেডিং এলএলসির ১৫ বছর মেয়াদি অন্য একটি চুক্তির (বছরে ১২ কার্গো) ক্ষেত্রে ব্রেন্ট ফর্মুলায় প্রতি এমএমবিটিইউ খরচ হয় ১১.৭৩ ডলার, যা গানভরের চেয়ে ৯.৫৭ ডলার কম। একইভাবে ওকিউ ট্রেডিংয়ের ১২ বছর মেয়াদি অপর একটি চুক্তিতে (বার্ষিক ৪ কার্গো) তেলের দর অনুযায়ী খরচ ১২.৩২ ডলার হলে, গানভরের দাম সেখানে প্রতি এমএমবিটিইউতে ৮.৯৮ ডলার বেশি পড়ে। অন্যান্য উদাহরণের মধ্যে এক্সিলারেট গ্যাসের ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তিতে (বার্ষিক ১৪ কার্গো) ব্রেন্ট সমীকরণে সর্বোচ্চ দর বেঁধে দেওয়া আছে ১২.১২

ডলার; ফলে তাদের চেয়েও গানভরের দাম প্রতি এমএমবিটিইউতে ৯.১৮ ডলার বেশি দেখাচ্ছে। এ বিশ্লেষণে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, বর্তমানে বলবৎ থাকা তেলের ওপর নির্ভরশীল দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয় এবং গানভরের নতুন জেকেএম-ভিত্তিক সূচকের মধ্যে প্রতি এমএমবিটিইউতে ব্যবধান সর্বোচ্চ ১০.৮০ ডলার পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি কেবল বর্তমান বাজারদরের একটি স্থির রূপ। কারণ তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে ব্রেন্ট-নির্ভর খরচ নির্ধারিত হলেও, জেকেএম পুরোপুরি বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ ও চাহিদার গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে ওঠা-নামা করে। চলতি স্বল্পমেয়াদি চুক্তির চেয়ে গানভরের প্রিমিয়াম তুলনামূলক কম বর্তমানে বাংলাদেশে চালু থাকা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি চুক্তির জেকেএম প্রিমিয়ামের সঙ্গে তুলনা করলে আবার গানভরের ধার্য করা প্রিমিয়ামকে কিছুটা কম মনে হয়। ২০২৫-২৬ মেয়াদের জন্য ২ বছরের চুক্তিতে প্রতি বছর ১২ কার্গো সরবরাহকারী ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড প্রিমিয়াম নিচ্ছে ‘জেকেএম + ০.১৫ ডলার’। এর বিপরীতে গানভরের ০.০৮৭৫ ডলারের প্রিমিয়ামটি ওকিউয়ের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউতে প্রায় ৫.৭৫ সেন্ট কম। একইভাবে ২০২৬ সালে ৫ কার্গো সরবরাহের জন্য আরামকো ট্রেডিংয়ের ১ বছর মেয়াদি চুক্তিতে মান ধরা হয়েছে ‘জেকেএম + ০.১৪৫ ডলার’; এখানেও গানভরের প্রিমিয়াম ৫.৭৫ সেন্ট সাশ্রয়ী। তাছাড়া সুইজারল্যান্ডের সোকার ট্রেডিং এসএ সম্প্রতি ২০২৬ সালে ২ কার্গো সরবরাহের যে অনুমতি পেয়েছে, তাদের প্রিমিয়াম ‘জেকেএম + ০.১২৫ ডলার’, যার তুলনায় গানভরের প্রিমিয়াম ৩.৭৫ সেন্ট কম পড়ে। প্লাটস জেকেএম-এর ওই সময়কার প্রতি এমএমবিটিইউ ২১.২১ ডলার দর ধরে হিসাব করলে, ওকিউয়ের মোট এলএনজি মূল্য দাঁড়ায় ২১.৩৬ ডলার, আরামকোর ২১.৩৫ ডলার এবং সোকারের প্রায় ২১.৩৪ ডলার। কিন্তু সমসাময়িক বাজারে গানভরের ফর্মুলায় এলএনজির মোট মূল্য এসে পৌঁছায় ২১.৩০ ডলারে; যা বিদ্যমান তিন স্বল্পমেয়াদি চুক্তির চেয়ে কিছুটা কম ব্যয়বহুল। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এই সামান্য আর্থিক সুবিধাটি প্রধানত গানভরের প্রিমিয়াম রেট কম হওয়ার কারণে এসেছে, তাদের মূল বেঞ্চমার্ক দর কম থাকার কারণে নয়। যেহেতু চারটি চুক্তিই জেকেএম সূচকের সাথে সম্পৃক্ত, তাই এশিয়ার স্পট এলএনজি বাজারের মূল ওঠানামার সঙ্গেই সমন্বিত হবে সার্বিক দাম। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কারণে জেকেএম-এর রেট কমে প্রতি এমএমবিটিইউতে ১০ ডলারে নেমে আসে, তবে ওকিউয়ের দর দাঁড়াবে ১০.১৫ ডলার এবং গানভরের পরিশোধযোগ্য দর নেমে আসবে প্রায় ১০.০৯ ডলারে। হেনরি হাবের শেষ ধাপে গড় খরচ কমে আসার সম্ভাবনা গানভরের সঙ্গে করা চুক্তির দ্বিতীয় ধাপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস বেঞ্চমার্ক ‘হেনরি হাব’-এর ওপর নির্ভরশীল। ১৭ই আগস্টের এনওয়াইমেক্স হেনরি হাবের মূল্যমান (প্রতি এমএমবিটিইউ ২.৭১ ডলার) অনুযায়ী, গানভরের নির্ধারিত ‘হেনরি হাবের ১২১ শতাংশ + ৫.২০ ডলার’ ফর্মুলায় পেট্রোবাংলার প্রতি এমএমবিটিইউ কিনতে খরচ হবে প্রায় ৮.৪৮ ডলার। বাজার বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৯ সাল থেকে পরবর্তী বছরগুলোতে হেনরি হাবের গড় দাম প্রতি এমএমবিটিইউতে ৩.৪০ থেকে ৪.৩০ ডলারের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। সেই হিসেবে ওই মেয়াদে গানভরের কাছ থেকে কেনা এলএনজির আনুমানিক দর পড়বে ৯.৩১ থেকে ১০.৪০ ডলারের মধ্যে। এটি বর্তমান জেকেএম-ভিত্তিক দাম থেকে অনেক কম এবং বাংলাদেশের চলমান অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিগুলোর দরের সাথে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তা সত্ত্বেও, এই হেনরি হাব অংশে পেট্রোবাংলা যেসব বাণিজ্যিক শর্ত মেনে নিয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। যেমন, ভারতের জিএআইএল সংস্থা কাতারএনার্জির সঙ্গে ‘হেনরি হাবের ১১৫ শতাংশ + ৫.৬৬ ডলার’ ফর্মুলায় চুক্তি করেছে, যেখানে ১৭ আগস্টের বাজার ধরে তাদের ডিসচার্জ পোর্টে প্রতি এমএমবিটিইউ মূল্য দাঁড়ায় ৮.৭৮ ডলার। আবার ট্রাফিগুরার সাথে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের চুক্তিতে দর ধরা হয়েছে ‘হেনরি হাবের ১২১ শতাংশ + ৪.৫০ ডলার’; ফলে সেদিনের বাজারমূল্যে তাদের প্রতি এমএমবিটিইউ খরচ পড়ত ৭.৭৮ ডলার। চীনের গুয়াংদং পার্ল রিভার গ্রুপের সাথে কনোকোফিলিপসের ১৫ বছরের চুক্তিও একই শর্তে (১২১ শতাংশ + ৪.৫০ ডলার) হওয়ায় তাদের দরও ৭.৭৮ ডলারে সীমিত থাকত। উক্ত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় যে, গানভরকে দেওয়া পেট্রোবাংলার ১২১ শতাংশ স্লোপ ও ৫.২০ ডলার প্রিমিয়াম উভয়ই তুলনামূলক বেশি। বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যদি ভৌগোলিক রাজনৈতিক সংঘাত কমে আগের স্তরে ফিরে আসে, তবে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। সার্বিকভাবে, একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও গানভর এমন এক কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যার মাধ্যমে চুক্তির শুরুর তিন বছর (২০২৬-২০২৮)—যখন বাজার চড়া থাকবে—তারা সরবরাহকে স্পট মূল্যের সাথে যুক্ত করে দ্রুত মুনাফা তুলে নেওয়ার সুবিধা পাবে। পাশাপাশি হেনরি হাবের ক্ষেত্রেও তারা ১২১ শতাংশের মতো চড়া স্লোপ আদায় করে নিয়েছে, যা সাধারণ হেনরি হাব চুক্তিগুলোর স্বাভাবিক স্লোপের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। অবশ্য দেশের জ্বালানি বিভাগ চুক্তিটির ভেতরে কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে। তাদের মূল্য সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রথম কয়েক বছরে জেকেএম-ভিত্তিক চড়া মূল্যের এলএনজি কেনা হলেও, পরবর্তী বছরগুলোতে হেনরি হাব-ভিত্তিক সাশ্রয়ী মূল্যের এলএনজির কারণে পুরো ১৩ বছরের সামগ্রিক গড় ক্রয়মূল্য বাংলাদেশে চালু থাকা কয়েকটি পুরনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গড়ের চেয়েও নিচে নেমে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ আমলের কোনো সক্ষমতাই ধরে রাখতে পারছে না বিএনপি সরকার চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ: বন্যা, অধিকার বঞ্চিতকরণ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ও শীতল যুদ্ধের খাদ্য-রাজনীতির গভীরতর বিশ্লেষণ ক্রমাগত ধর্ষণের পর হত্যার হুমকি শিক্ষকের, ১৫ বছর বয়সী মাদ্রাসা ছাত্রের আত্মহত্যার চেষ্টা ‘ভবিষ্যতে দাম কমানোর প্রলোভন’ মার্কিন কোম্পানির সাথে সরকারের উচ্চমূল্যে এলএনজি চুক্তি ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি না করায় বিএনপির সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ শেখ হাসিনার ভুয়া মামলায় গ্রেপ্তার করানোয় বিএনপি নেতাকে আওয়ামী কর্মীদের ‘দাঁত ভাঙা জবাব’ ভারতের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আগের চেয়েও জোরদারে দুটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব রাশিয়া-মিয়ানমার সম্পর্ক: নিরাপত্তা থেকে অর্থনৈতিক জোটের দিকে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ভারত সফরে তারেক রহমান: তবুও গোপন রাখার চেষ্টায় প্রেস উইং! এবার মাত্র ৬৪ রানেই অলআউট বাংলাদেশ নিখোঁজের দুদিন পর ডোবায় গুম করা আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার ঝিনাইদহে গরু চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে একজন নিহত শরিফুলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাকাই টেস্টে আশা জিইয়ে রাখল বাংলাদেশ দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির দুই পক্ষের হামলা, গ্রিল-আসবাবপত্র লুটপাট মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত জারদারি, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ সিরিয়ায় ইসরায়েল-তুরস্ক উত্তেজনা: পশ্চিম এশিয়ায় কি নতুন এক ফ্রন্ট খুলছে? কারাবন্দি সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে ১০-১২ বার লোডশেডিং: অন্ধকারে ডুবছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা শেখ হাসিনার সময় বিরোধিতা করা হলেও এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ তারেক সরকারের স্বস্তি নেই রাজধানীর বাজারে: মাছ-মুরগি-ডিমে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত