ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত জারদারি, পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ
১০-১২ বার লোডশেডিং: অন্ধকারে ডুবছে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ যাত্রীরা
কৃষিমন্ত্রীর ‘উদ্বৃত্ত মজুদ’ দাবি অথচ সারের বাজার সিন্ডিকেটের দখলে, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত গুণতে হচ্ছে ৬০০ টাকা
২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড: তারেক যদি মাস্টারমাইন্ড না হন, প্রকৃত হামলাকারী কারা?
৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে নতুন রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হলো
৫ আগস্টের পর পঙ্গু শিল্পখাত: ২ বছরে মোট কত কারখানা বন্ধ ও কত শ্রমিক হলেন বেকার?
মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস, বিএনপি ও জোটের যেসব নেতাকে ঘিরে জোরালো আলোচনা
শেখ হাসিনার সময় বিরোধিতা করা হলেও এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির নির্দেশ তারেক সরকারের
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে সময়মতো এলএনজি কার্গো আমদানি সুনিশ্চিত করতে তিনি সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়া (ডিপিএম) পরিহারের নির্দেশনা দেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন যেন ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ উৎপাদনকারী কেন্দ্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং হাব) উন্নীত করতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সচিব ও মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সভায় বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব
নেওয়ার সময়ের প্রেক্ষাপটের সাথে বর্তমান অবস্থার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ সেখানে তুলে ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। উক্ত সভায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত মধ্যমেয়াদি এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে গ্যাস, জ্বালানি তেল, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার বর্তমান চাহিদা ও সরবরাহের পাশাপাশি কোন উৎস থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। কিন্তু এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার হবে, এ নিয়ে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দল এবং পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন চরম বিরোধিতা করে। যার প্রেক্ষিতে দেশে-বিদেশেও এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ না করতে শেখ হাসিনার
সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবুও সরকার নির্দিষ্ট কোনো জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে থাকার জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করে। গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়লে যেন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। যার সুফল বর্তমানে পাচ্ছে দেশের মানুষ। বিএনপি সরকারও এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত) দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বেশ কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও চালু করা হয়। এর মধ্যে প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হলো: পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত ও চালু হয়। রামপাল
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট): বাগেরহাটের রামপালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এ সময় এগিয়ে নেওয়া হয় এবং উৎপাদনে যায়। বরিশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: বরিশালের ৩০৭/৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক প্ল্যান্ট। তারেক রহমানের অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন শীত মৌসুমের মধ্যেই শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং পরবর্তী গ্রীষ্মের আগেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে একটি দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি প্রাপ্যতার বিষয়ে একটি স্পষ্ট পূর্বাভাস দিতে সরকার এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে
যাচ্ছে। এজন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কীভাবে পর্যায়ক্রমে বিকশিত হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সরকার দেশের জন্য ৯০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। ৩০<ে আগস্ট পর্যন্ত যে সকল চালানের এলসি খোলা হয়েছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছালে ৫৭ দিনের মজুদ গড়ে উঠবে—যা বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের মাত্র ১৪ দিনের মজুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। এ কারণে বিদ্যমান দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়ম ও অনিশ্চয়তা এড়াতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এড়িয়ে
চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডিপিএম পদ্ধতিতে আদেশ দেওয়া ৬টি এলএনজি কার্গো চুক্তিকৃত দামে বাংলাদেশে সরবরাহ করেনি বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো; বরং বেশি দর পেয়ে তারা তা অন্য দেশে বিক্রি করে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি সরবরাহ পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা থেকে যায়। তাই এই পদ্ধতিটি পরিহার করার ওপর প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এতে বিদ্যুতে ভর্তুকির চাপ কিছুটা বাড়লেও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখাই প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া, জ্বালানি বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম
ইউনিট চালুর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভোলা অঞ্চলে আবিষ্কৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে (প্রতি কার্গো ৭৩০ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা) এলএনজি কিনতে হচ্ছে বলে ভোলার পাইপলাইন তৈরি করা সরকারের জন্য লাভজনক হবে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ১৫০টি কূপে খনন ও পুনঃখনন কাজ জোরদারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৯ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে অতিরিক্ত ১,৭৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহের একটি পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। গ্যাস সরবরাহের সুবিধার্থে মধ্যপ্রাচ্যের একক উৎসের ওপর নির্ভর না থেকে আমেরিকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া চলছে। জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে অনুমোদিত ৫,২০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের লোডের বিপরীতে ৩,২০০ এমএমসিএফডি সরবরাহ করতে পারলে অর্থনীতি স্বাভাবিক থাকবে, আর ৩,৮০০ এমএমসিএফডি সরবরাহ করা গেলে ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে। বর্তমানে দৈনিক ২,৬০০ থেকে ২,৭৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যার ৬২ শতাংশই (১,৫৮৫ এমএমসিএফডি) ব্যয় হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরাসরি ১,০০০ এমএমসিএফডি এবং শিল্পখাতের ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৫৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট ৩৮ শতাংশ গ্যাস দিয়ে শিল্পকারখানা, বাণিজ্য, পরিবহন ও গৃহস্থালির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। যদিও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের চেয়ে সামান্য বেশি, তবুও শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতি ১ এমএমসিএফডি গ্যাস দিয়ে প্রায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের পরিধি বিস্তারের ওপরও জোর দিচ্ছে বিভাগটি। বাংলাদেশে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়; তার আগে দেশীয় কূপের (দৈনিক ২,০০০-২,১০০ এমএমসিএফডি) গ্যাস দিয়েই জাতীয় চাহিদা পূরণ করা হতো। পরবর্তীতে চাহিদা বাড়লেও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়নি, বরং কমে বর্তমানে ১,৬০০ এমএমসিএফডিতে নেমে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই গ্যাস সংকট নিরসন ও টেকসই সরবরাহ ধরে রাখতে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নেওয়ার সময়ের প্রেক্ষাপটের সাথে বর্তমান অবস্থার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ সেখানে তুলে ধরে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। উক্ত সভায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত মধ্যমেয়াদি এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে গ্যাস, জ্বালানি তেল, ফার্নেস অয়েল ও কয়লার বর্তমান চাহিদা ও সরবরাহের পাশাপাশি কোন উৎস থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশে বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। কিন্তু এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার হবে, এ নিয়ে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দল এবং পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন চরম বিরোধিতা করে। যার প্রেক্ষিতে দেশে-বিদেশেও এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ না করতে শেখ হাসিনার
সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তবুও সরকার নির্দিষ্ট কোনো জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে থাকার জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করে। গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়লে যেন বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। যার সুফল বর্তমানে পাচ্ছে দেশের মানুষ। বিএনপি সরকারও এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত) দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বেশ কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও চালু করা হয়। এর মধ্যে প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হলো: পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে নির্মিত ও চালু হয়। রামপাল
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট): বাগেরহাটের রামপালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হয়। মাতারবাড়ী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ এ সময় এগিয়ে নেওয়া হয় এবং উৎপাদনে যায়। বরিশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র: বরিশালের ৩০৭/৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক প্ল্যান্ট। তারেক রহমানের অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন শীত মৌসুমের মধ্যেই শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং পরবর্তী গ্রীষ্মের আগেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে একটি দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি প্রাপ্যতার বিষয়ে একটি স্পষ্ট পূর্বাভাস দিতে সরকার এই সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে
যাচ্ছে। এজন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা কীভাবে পর্যায়ক্রমে বিকশিত হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে সরকার দেশের জন্য ৯০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। ৩০<ে আগস্ট পর্যন্ত যে সকল চালানের এলসি খোলা হয়েছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছালে ৫৭ দিনের মজুদ গড়ে উঠবে—যা বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের মাত্র ১৪ দিনের মজুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের হাতে খুব বেশি বিকল্প নেই। এ কারণে বিদ্যমান দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অনিয়ম ও অনিশ্চয়তা এড়াতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এড়িয়ে
চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ডিপিএম পদ্ধতিতে আদেশ দেওয়া ৬টি এলএনজি কার্গো চুক্তিকৃত দামে বাংলাদেশে সরবরাহ করেনি বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো; বরং বেশি দর পেয়ে তারা তা অন্য দেশে বিক্রি করে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে এলএনজি সংগ্রহের ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঝুঁকি যেমন বেশি, তেমনি সরবরাহ পাওয়ার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা থেকে যায়। তাই এই পদ্ধতিটি পরিহার করার ওপর প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বল্পমেয়াদে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এতে বিদ্যুতে ভর্তুকির চাপ কিছুটা বাড়লেও শিল্পে গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখাই প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া, জ্বালানি বিভাগ আশা প্রকাশ করেছে যে আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম
ইউনিট চালুর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ভোলা অঞ্চলে আবিষ্কৃত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে (প্রতি কার্গো ৭৩০ থেকে ৭৫০ কোটি টাকা) এলএনজি কিনতে হচ্ছে বলে ভোলার পাইপলাইন তৈরি করা সরকারের জন্য লাভজনক হবে। এর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ ১৫০টি কূপে খনন ও পুনঃখনন কাজ জোরদারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০২৯ সালের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে অতিরিক্ত ১,৭৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহের একটি পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। গ্যাস সরবরাহের সুবিধার্থে মধ্যপ্রাচ্যের একক উৎসের ওপর নির্ভর না থেকে আমেরিকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া চলছে। জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে অনুমোদিত ৫,২০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের লোডের বিপরীতে ৩,২০০ এমএমসিএফডি সরবরাহ করতে পারলে অর্থনীতি স্বাভাবিক থাকবে, আর ৩,৮০০ এমএমসিএফডি সরবরাহ করা গেলে ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে। বর্তমানে দৈনিক ২,৬০০ থেকে ২,৭৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যার ৬২ শতাংশই (১,৫৮৫ এমএমসিএফডি) ব্যয় হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরাসরি ১,০০০ এমএমসিএফডি এবং শিল্পখাতের ক্যাপটিভ পাওয়ারে ৫৮৫ এমএমসিএফডি গ্যাস ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট ৩৮ শতাংশ গ্যাস দিয়ে শিল্পকারখানা, বাণিজ্য, পরিবহন ও গৃহস্থালির চাহিদা মেটানো হচ্ছে। যদিও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনের চেয়ে সামান্য বেশি, তবুও শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রতি ১ এমএমসিএফডি গ্যাস দিয়ে প্রায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের পরিধি বিস্তারের ওপরও জোর দিচ্ছে বিভাগটি। বাংলাদেশে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়; তার আগে দেশীয় কূপের (দৈনিক ২,০০০-২,১০০ এমএমসিএফডি) গ্যাস দিয়েই জাতীয় চাহিদা পূরণ করা হতো। পরবর্তীতে চাহিদা বাড়লেও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়নি, বরং কমে বর্তমানে ১,৬০০ এমএমসিএফডিতে নেমে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই গ্যাস সংকট নিরসন ও টেকসই সরবরাহ ধরে রাখতে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।



