রৌদ্র রুদ্র নিরাপত্তা বিশ্লেষক
আরও খবর
একবার নক্ষত্রের দিকে চাই
আঁধার পেরিয়ে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয়: একটি নতুন বাংলাদেশের অপেক্ষায় ১৫ আগস্ট
সক্ষমতা, সাহস, সম্মান এবং শৈলী
জিও-পলিটিক্যাল জটিল সমীকরণ এর কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ
মাত্র তিনমাসে নতুন করে ১ কোটি মানুষ দরিদ্র্য হয়েছে
গুম কমিশনের নাবিলা ইদ্রিসের গুপ্তচর জীবনের আখ্যান: আর্টিকেল-১৯ এর প্রতিবেদন
র্যাবের হেলিকপ্টার কি ছয়তলার উচ্চতায় নেমে এসেছিল?
৫০ বছর পর সাক্ষাৎকারে খুনি ডালিম: একাত্তরেই মুজিবহত্যার ছক- সম্পৃক্ত জিয়া, কোরান ছুঁয়ে নেন শপথও
শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিমের একটি সাক্ষাৎকারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পটভূমি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাকিস্তানি ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেন ২০২৫ সালের ৫ই জানুয়ারি ডালিমের সাক্ষাৎকার নেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসে।
সাক্ষাৎকারে ডালিম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রচলিত কয়েকটি ব্যাখ্যাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে তার দাবি—শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা স্বাধীনতার পর নয়, বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই নেওয়া হয়েছিল।
ডালিমের বক্তব্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময়ই একটি সামরিক গোষ্ঠীর মধ্যে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। তার দাবি, ওই পরিকল্পনার
অংশ হিসেবেই শেখ মুজিবকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। ‘পঁচিশ বছরের পরিকল্পনা’, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ডালিমের দাবি সাক্ষাৎকারে ডালিম আরও দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিচয় ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কলকাতার নিকটবর্তী কল্যাণী এলাকায় জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় বলেও জানান তিনি। ডালিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জিয়াউর রহমানকে তাদের কথিত ‘পঁচিশ বছরের পরিকল্পনা’র কথা জানান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চান। ডালিম নিশ্চিত করেন, জিয়াউর রহমান সেই পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করতে সম্মতি দিয়েছিলেন। এমনকি দুজনের মধ্যে কোরান ছুঁয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার হয়েছিল বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন ডালিম। ডালিম আরও জানান, তাদের পরিকল্পনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতাচ্যুত
করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টকে তিনি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেন না; বরং এর সূত্রপাত মুক্তিযুদ্ধের সময়েই হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন। প্রচলিত ‘কারণ’গুলোর ব্যাখ্যায় প্রশ্ন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পেছনে শেখ মুজিব সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি, রক্ষীবাহিনী, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকোচনের মতো বিভিন্ন কারণের কথা দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকারীর সমর্থকরা অজুহাত দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া শেখ কামাল ও শরিফুল হক ডালিমের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করেও নানা বর্ণনার অপপ্রচার রয়েছে। কিন্তু ডালিমের সাক্ষাৎকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা ১৫ই আগস্টের মূল পরিকল্পনার কারণ ছিল না; বরং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা তারও আগে করা হয়েছিল।
এই দাবি সত্য হলে ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রচলিত কিছু ব্যাখ্যা নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। ১৯৬৯ সালেই কি মুজিবকে হত্যার ষড়যন্ত্র? শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের ইতিহাস আরও পুরোনো হতে পারে—এমন তথ্যও আলোচনায় এসেছে। মিজানুর রহমান খানের মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড গ্রন্থে উদ্ধৃত ১৯৬৯ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকাস্থ মার্কিন কনসুলেট থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো একটি বার্তায় শেখ মুজিবকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই বার্তার বর্ণনা অনুযায়ী, শেখ মুজিব বিশ্বাস করতেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি ক্ষুদ্র পাঞ্জাবি গোষ্ঠী তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করছে এবং একজন সম্ভাব্য আততায়ী ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের বহু বছর আগেই শেখ মুজিবকে হত্যার আশঙ্কা রাজনৈতিক
ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে নথিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ডালিমের স্ত্রীকে ‘অপহরণ’—বদলে গেল পরিচিত গল্প? ডালিমের সাক্ষাৎকারের আরেকটি আলোচিত অংশ তার স্ত্রীকে ঘিরে প্রচলিত একটি কাহিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি বর্ণনায় বলা হয়ে থাকে, শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রীকে অপহরণ করেছিলেন এবং এ ঘটনাই পরবর্তীতে ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সাক্ষাৎকারে ডালিম সম্পূর্ণ ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ঢাকার লেডিস ক্লাবে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তার শ্যালক বাপ্পির লম্বা চুল নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা সেখানে গিয়ে ডালিমকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ডালিমের স্ত্রী ও খালা বাধা দিলে তাদেরও গাড়িতে
তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। ডালিমের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে শেখ মুজিবুর রহমানের হস্তক্ষেপে ঘটনাটির মীমাংসা হয়। এই বর্ণনা সত্য হলে ডালিমের স্ত্রীকে শেখ কামাল অপহরণ করেছিলেন—এমন প্রচলিত দাবির সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। ‘৫ আগস্টের পরই প্রকাশ্যে এলেন ডালিম’ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এমন সাক্ষাৎকার প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা ডালিমের বক্তব্য নতুন করে জনসমক্ষে আসার পর ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইতিহাসের পুরোনো প্রশ্ন, নতুন করে সামনে ডালিমের সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে মূলত তিনটি প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রথমত, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কি সত্যিই ১৯৭১ সালেই করা
হয়েছিল? দ্বিতীয়ত, ওই পরিকল্পনায় তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের কারা যুক্ত ছিলেন এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল? তৃতীয়ত, শেখ কামাল ও ডালিমের কথিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাহিনির কতটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য? ডালিম নিজে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অংশগ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার বক্তব্য নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি একটি স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য—তাই তার দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলাই যেতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ডালিমের এই সাক্ষাৎকার ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পটভূমি নিয়ে বহু পুরোনো বিতর্ককে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং ইতিহাসের কিছু প্রচলিত বয়ানকে নতুন করে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করেছে।
অংশ হিসেবেই শেখ মুজিবকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। ‘পঁচিশ বছরের পরিকল্পনা’, জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ডালিমের দাবি সাক্ষাৎকারে ডালিম আরও দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার সময় থেকেই তার সঙ্গে জিয়াউর রহমানের পরিচয় ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কলকাতার নিকটবর্তী কল্যাণী এলাকায় জিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয় বলেও জানান তিনি। ডালিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জিয়াউর রহমানকে তাদের কথিত ‘পঁচিশ বছরের পরিকল্পনা’র কথা জানান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চান। ডালিম নিশ্চিত করেন, জিয়াউর রহমান সেই পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করতে সম্মতি দিয়েছিলেন। এমনকি দুজনের মধ্যে কোরান ছুঁয়ে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার হয়েছিল বলেও সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন ডালিম। ডালিম আরও জানান, তাদের পরিকল্পনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ক্ষমতাচ্যুত
করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টকে তিনি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেন না; বরং এর সূত্রপাত মুক্তিযুদ্ধের সময়েই হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন। প্রচলিত ‘কারণ’গুলোর ব্যাখ্যায় প্রশ্ন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পেছনে শেখ মুজিব সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, দুর্নীতি, রক্ষীবাহিনী, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংকোচনের মতো বিভিন্ন কারণের কথা দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকারীর সমর্থকরা অজুহাত দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া শেখ কামাল ও শরিফুল হক ডালিমের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করেও নানা বর্ণনার অপপ্রচার রয়েছে। কিন্তু ডালিমের সাক্ষাৎকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা ১৫ই আগস্টের মূল পরিকল্পনার কারণ ছিল না; বরং হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা তারও আগে করা হয়েছিল।
এই দাবি সত্য হলে ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের প্রচলিত কিছু ব্যাখ্যা নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। ১৯৬৯ সালেই কি মুজিবকে হত্যার ষড়যন্ত্র? শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্রের ইতিহাস আরও পুরোনো হতে পারে—এমন তথ্যও আলোচনায় এসেছে। মিজানুর রহমান খানের মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড গ্রন্থে উদ্ধৃত ১৯৬৯ সালের ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকাস্থ মার্কিন কনসুলেট থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো একটি বার্তায় শেখ মুজিবকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই বার্তার বর্ণনা অনুযায়ী, শেখ মুজিব বিশ্বাস করতেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি ক্ষুদ্র পাঞ্জাবি গোষ্ঠী তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করছে এবং একজন সম্ভাব্য আততায়ী ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের বহু বছর আগেই শেখ মুজিবকে হত্যার আশঙ্কা রাজনৈতিক
ও কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে নথিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ডালিমের স্ত্রীকে ‘অপহরণ’—বদলে গেল পরিচিত গল্প? ডালিমের সাক্ষাৎকারের আরেকটি আলোচিত অংশ তার স্ত্রীকে ঘিরে প্রচলিত একটি কাহিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি বর্ণনায় বলা হয়ে থাকে, শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রীকে অপহরণ করেছিলেন এবং এ ঘটনাই পরবর্তীতে ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সাক্ষাৎকারে ডালিম সম্পূর্ণ ভিন্ন বর্ণনা দিয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ঢাকার লেডিস ক্লাবে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তার শ্যালক বাপ্পির লম্বা চুল নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তৎকালীন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা সেখানে গিয়ে ডালিমকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ডালিমের স্ত্রী ও খালা বাধা দিলে তাদেরও গাড়িতে
তুলে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। ডালিমের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে শেখ মুজিবুর রহমানের হস্তক্ষেপে ঘটনাটির মীমাংসা হয়। এই বর্ণনা সত্য হলে ডালিমের স্ত্রীকে শেখ কামাল অপহরণ করেছিলেন—এমন প্রচলিত দাবির সঙ্গে তা সাংঘর্ষিক। ‘৫ আগস্টের পরই প্রকাশ্যে এলেন ডালিম’ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে এমন সাক্ষাৎকার প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকা ডালিমের বক্তব্য নতুন করে জনসমক্ষে আসার পর ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কও নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইতিহাসের পুরোনো প্রশ্ন, নতুন করে সামনে ডালিমের সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে মূলত তিনটি প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রথমত, ১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কি সত্যিই ১৯৭১ সালেই করা
হয়েছিল? দ্বিতীয়ত, ওই পরিকল্পনায় তৎকালীন সামরিক কর্মকর্তাদের কারা যুক্ত ছিলেন এবং তাদের ভূমিকা কী ছিল? তৃতীয়ত, শেখ কামাল ও ডালিমের কথিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের প্রচলিত কাহিনির কতটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য? ডালিম নিজে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অংশগ্রহণকারী হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার বক্তব্য নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি একটি স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য—তাই তার দাবিগুলোকে যৌক্তিক বলাই যেতে পারে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ডালিমের এই সাক্ষাৎকার ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পটভূমি নিয়ে বহু পুরোনো বিতর্ককে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে এবং ইতিহাসের কিছু প্রচলিত বয়ানকে নতুন করে প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করেছে।



