রাজু নূরুল সিনিয়র অ্যাডভাইজার, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
আরও খবর
দল নির্বাচনে সম্পৃক্ত হই না
ক্ষমতা গেলে সবার আগে পল্টি দেন তারকা রাজনীতিবিদরা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যতিক্রম?
জুলাইতে মার্কিন দূতাবাসের সেফ হাউসে মজহার শিষ্যদের মগজ ধোলাইপর্ব এবং বেহাত বিপ্লব
দল ক্ষমতা হারালে সবার আগে পিছটান দেন তারকা রাজনীতিবিদ’রা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যাতিক্রম?
নবমবার সংশোধন করেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুলে-ভরা এবং অসংগতিপূর্ণ বিবৃতি
তাসনুভা প্রসঙ্গে ১,২৩০ জনের সাক্ষর: ধর্মীয় আপত্তি থেকে ফৌজদারি আইন—কোথায় টানতে হবে সীমারেখা?
গন্তব্য কোথায়?
র্যাবের হেলিকপ্টার কি ছয়তলার উচ্চতায় নেমে এসেছিল?
সুমাইয়া বেড়াতে এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে, তার মায়ের কাছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন তখন তুঙ্গে। সিদ্ধিরগঞ্জের আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিচ্ছে। মানুষ খুব কৌতুহলী হয়ে সেই হেলিকপ্টার দেখতে ছাদে ভিড় করেছে। আরও অনেকের মত, সুমাইয়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেলিকপ্টার দেখছে। তার আড়াই বছর বয়সী মেয়েটা তখন ঘুমে।
হুট করে কি জানি হল। মাথা চক্কর দেওয়ার মত করে উঠে সুমাইয়া ফ্লোরে পড়ে গেল। পড়ার সময় করে ওঠা চিৎকারের শব্দ শুনে তার মা এসে দেখে, রক্তে ভেসে গেছে সেই বারান্দা। সরাসরি মাথায় গুলি লেগেছে। এক মুহুর্তেই প্রাণ বেরিয়ে গেছে।
লোকজন জানালো, গুলি এসেছে হেলিকপ্টার থেকে। ব্যস, এইটুকুই। কোনো সুরতহাল, ময়নাতদন্ত কিছুই করা হয়নি। সুমাইয়াকে দাফন করা হয়েছে।
একটা জীবন শেষ হলো, পেছনে আড়াই বছরের শিশু সন্তানের জীবন পড়ে রইল অনিশ্চিতভাবে। এবার ছবিটা দেখুন ভাল করে। সুমাইয়া দাঁড়িয়ে থাকা বারান্দার গ্রিলের ছবি এটি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ৩০শে জুলাই এটি প্রকাশ করেছে। সুমাইয়া দাঁড়িয়ে ছিল ছয়তলার বারান্দায়। আশেপাশে এরকম বাড়ির সংখ্যা আরও আছে। পুলিশ নিচ থেকে গুলি করলে সেটা এসে লাগতো গ্রিলের নিচের দিকে। হেলিকপ্টারে চড়ে উপর থেকে কেউ গুলি করলে সেটা লাগতো গ্রিলের উপরের দিকটায়, বা একপাশে! কিন্তু একদম সোজা এসে, গুলিটা গ্রিলে লাগল কী করে? হেলিকপ্টার কি বাড়ির ছয় তলার বারান্দা বরাবার নেমে এসে গুলি করেছে? না। তাহলে আরেকটা সম্ভাবনা হতে পারে, দূর থেকে স্নাইপার তাক করে গুলি করা হতে
পারে। তার মানে অন্য কোনো বাসা থেকে সেই গুলিটা করা হয়েছে? তাহলে কে করেছে? পুলিশ? লীগের কোনো নেতা? ভারতীয় বাহিনী? র্যাব? হেলিকপ্টার থেকে কেউ? নাকি অন্য কেউ? এটা জানতে হলে তদন্ত করতে হবে। পুলিশি তদন্তের একটা সিস্টেম আছে। কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল সুরক্ষা, আলামত বা প্রমাণ সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এরপর মামলা নথিভুক্ত করে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সুমাইয়ার ক্ষেত্রে এসবের কিছুই হয়নি। জুলাই-আগস্টে যে এত মানুষ মারা গেল, তাদের কারও মরদেহ ময়নাতদন্তের দরকার মনে করেনি কেউ। কেনো সেটা করা হলো না, এই প্রশ্নটা কি
করা যাবে? নাকি কোনো ট্যাগ খেতে হবে? এই যে আমি, এই হত্যাকাণ্ডের যে বিচার চাই, এখন সেটা পাবো কি করে? অথচ সুমাইয়া হত্যার তদন্ত করলে জানা যেত, কোন ধরনের রাইফেল থেকে গুলি করা হয়েছে, এই গুলি সাধারণত কারা ব্যবহার করে। ওখান থেকেই জানা যেত, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরকারি বাহিনী জড়িত কিনা! ঠিক এভাবে প্রতিটা হত্যাকাণ্ডেরই হদিস খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যেটি ন্যায় বিচারের জন্য অপরিহার্য। যে পুলিশ গুলি করেছে, আপনি তো তারই বিচার করবেন, নাকি? তাহলে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ লাগবে না? অবশ্য যদি মনে করেন যে, গড়ে ধরে ১০০ জনের ফাঁ/সি দিয়ে দেবো, তাহলে ভিন্ন কথা। ৫ই আগস্টের পর থেকে জুলাই পন্থী যত
মানুষ ’মেটিুকিউলাস ডিজাইন’, ’আমাদের লক্ষ্য ছিল হাসিনা’, ’জুলাই মূলত ডিপ স্টেটের কারসাজি’, ’আমেরিকান এম্বাসির হাসিনা খেদাও মুভমেন্ট’ বলে এসেছেন, আপনাদের প্রত্যেকটা এসব প্রশ্নকে উস্কে দিয়েছে। মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সেসব প্রশ্ন উদ্রেকের সুযোগ করে দিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। প্রশ্ন হলো, যে সরকারে খোদ আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ছিলেন, তারা কেনো এই সামান্য কাজটুকু করলেন না? তারা জানেন না যে, ময়নাতদন্ত ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যায় না? ঠিক এই কথাটাই দিল্লীতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা নিজেরা হত্যাকাণ্ড করে যে দায়মুক্তি পেতে পারে, তাহলে আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো? এই প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে খোদ
জুলাইপন্থীরা। ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের সূত্র ধরে যে এই প্রশ্নগুলো আরও বড় করে সামনে এসেছে, সেটিই আমি গতকাল বলার চেষ্টা করেছি। সামনের দিনে আরও আসতে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই প্রশ্নবিদ্ধতো হবেই; বরং অক্ষরে অক্ষরে পুরনো বন্দোবস্ত ফিরে আসবে। আফসোস এই, মাঝখানে পড়ে বহু নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হল।
একটা জীবন শেষ হলো, পেছনে আড়াই বছরের শিশু সন্তানের জীবন পড়ে রইল অনিশ্চিতভাবে। এবার ছবিটা দেখুন ভাল করে। সুমাইয়া দাঁড়িয়ে থাকা বারান্দার গ্রিলের ছবি এটি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ৩০শে জুলাই এটি প্রকাশ করেছে। সুমাইয়া দাঁড়িয়ে ছিল ছয়তলার বারান্দায়। আশেপাশে এরকম বাড়ির সংখ্যা আরও আছে। পুলিশ নিচ থেকে গুলি করলে সেটা এসে লাগতো গ্রিলের নিচের দিকে। হেলিকপ্টারে চড়ে উপর থেকে কেউ গুলি করলে সেটা লাগতো গ্রিলের উপরের দিকটায়, বা একপাশে! কিন্তু একদম সোজা এসে, গুলিটা গ্রিলে লাগল কী করে? হেলিকপ্টার কি বাড়ির ছয় তলার বারান্দা বরাবার নেমে এসে গুলি করেছে? না। তাহলে আরেকটা সম্ভাবনা হতে পারে, দূর থেকে স্নাইপার তাক করে গুলি করা হতে
পারে। তার মানে অন্য কোনো বাসা থেকে সেই গুলিটা করা হয়েছে? তাহলে কে করেছে? পুলিশ? লীগের কোনো নেতা? ভারতীয় বাহিনী? র্যাব? হেলিকপ্টার থেকে কেউ? নাকি অন্য কেউ? এটা জানতে হলে তদন্ত করতে হবে। পুলিশি তদন্তের একটা সিস্টেম আছে। কোথাও হত্যাকাণ্ড ঘটলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল সুরক্ষা, আলামত বা প্রমাণ সংগ্রহ, সুরতহাল তৈরি এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এরপর মামলা নথিভুক্ত করে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সুমাইয়ার ক্ষেত্রে এসবের কিছুই হয়নি। জুলাই-আগস্টে যে এত মানুষ মারা গেল, তাদের কারও মরদেহ ময়নাতদন্তের দরকার মনে করেনি কেউ। কেনো সেটা করা হলো না, এই প্রশ্নটা কি
করা যাবে? নাকি কোনো ট্যাগ খেতে হবে? এই যে আমি, এই হত্যাকাণ্ডের যে বিচার চাই, এখন সেটা পাবো কি করে? অথচ সুমাইয়া হত্যার তদন্ত করলে জানা যেত, কোন ধরনের রাইফেল থেকে গুলি করা হয়েছে, এই গুলি সাধারণত কারা ব্যবহার করে। ওখান থেকেই জানা যেত, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সরকারি বাহিনী জড়িত কিনা! ঠিক এভাবে প্রতিটা হত্যাকাণ্ডেরই হদিস খুঁজে পাওয়া সম্ভব, যেটি ন্যায় বিচারের জন্য অপরিহার্য। যে পুলিশ গুলি করেছে, আপনি তো তারই বিচার করবেন, নাকি? তাহলে তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ লাগবে না? অবশ্য যদি মনে করেন যে, গড়ে ধরে ১০০ জনের ফাঁ/সি দিয়ে দেবো, তাহলে ভিন্ন কথা। ৫ই আগস্টের পর থেকে জুলাই পন্থী যত
মানুষ ’মেটিুকিউলাস ডিজাইন’, ’আমাদের লক্ষ্য ছিল হাসিনা’, ’জুলাই মূলত ডিপ স্টেটের কারসাজি’, ’আমেরিকান এম্বাসির হাসিনা খেদাও মুভমেন্ট’ বলে এসেছেন, আপনাদের প্রত্যেকটা এসব প্রশ্নকে উস্কে দিয়েছে। মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সেসব প্রশ্ন উদ্রেকের সুযোগ করে দিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। প্রশ্ন হলো, যে সরকারে খোদ আন্দোলনের শীর্ষ নেতা ছিলেন, তারা কেনো এই সামান্য কাজটুকু করলেন না? তারা জানেন না যে, ময়নাতদন্ত ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যায় না? ঠিক এই কথাটাই দিল্লীতে আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা নিজেরা হত্যাকাণ্ড করে যে দায়মুক্তি পেতে পারে, তাহলে আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো? এই প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে খোদ
জুলাইপন্থীরা। ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের সূত্র ধরে যে এই প্রশ্নগুলো আরও বড় করে সামনে এসেছে, সেটিই আমি গতকাল বলার চেষ্টা করেছি। সামনের দিনে আরও আসতে থাকবে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই প্রশ্নবিদ্ধতো হবেই; বরং অক্ষরে অক্ষরে পুরনো বন্দোবস্ত ফিরে আসবে। আফসোস এই, মাঝখানে পড়ে বহু নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হল।



