তাসনুভা প্রসঙ্গে ১,২৩০ জনের সাক্ষর: ধর্মীয় আপত্তি থেকে ফৌজদারি আইন—কোথায় টানতে হবে সীমারেখা? – ইউ এস বাংলা নিউজ




লুবনা তূঋণ লেখক, গবেষক, চিকিৎসক
আপডেটঃ ৫ আগস্ট, ২০২৬

তাসনুভা প্রসঙ্গে ১,২৩০ জনের সাক্ষর: ধর্মীয় আপত্তি থেকে ফৌজদারি আইন—কোথায় টানতে হবে সীমারেখা?

লুবনা তূঋণ লেখক, গবেষক, চিকিৎসক
আপডেটঃ ৫ আগস্ট, ২০২৬ |
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে তাসনুভা আনান শিশিরের বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১,২৩০ জন “বিশিষ্ট নাগরিক” শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উলামা আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আছেন, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক আছেন, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, ছাত্রনেতা-শিক্ষিত সমাজের প্রায় একটা ছোটখাটো interdisciplinary conference ই বলা যায়। তবে আমার খালি চোখে তালিকায় জামায়াত-শিবিরের প্রস্ফুটিত নামগুলোই দেখা গেলো। ফলে “১,২৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক” শুনে যে বিশাল ideological diversity কল্পনা করেছিলাম, তালিকা দেখে সেই excitement কিছুটা কমে গেল। একই ecosystem এর ১,২৩০টি স্বাক্ষর আর ১,২৩০টি স্বাধীন চিন্তা কিন্তু এক জিনিস না। দুই একজন স্বাক্ষরকারীর নাম দেখলেই অবশ্য এই interdisciplinary enthusiasm এর উৎসটা কিছুটা বোঝা যায়…. যেমন প্রফেসর সরওয়ার সাহেব। তাঁর পিএইচডি

গবেষণার বিষয় ছিল মাছের reproductive biology। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর intellectual curiosity এমন এক বিস্ময়কর multidisciplinary যাত্রা করেছে যে মাছের প্রজননতন্ত্র থেকে মানুষের, বিশেষ করে নারীর, প্রজননতন্ত্রে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। তিনি এমন তত্ত্বও দিয়েছেন যে আধুনিক নারীদের মাসিক বেশি হওয়ার কারণ তারা আগের প্রজন্মের নারীদের মতো ঘন ঘন সন্তান নেয় না। যিনি স্যানিটারী ন্যাপকিন কে মনে করেন পশ্চিমা ষড়যন্ত্র, যিনি টিকার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন করেছিলেন। একজন মানুষের academic curiosity এত multidisciplinary হতে পারে, মাছের reproductive biology থেকে নারীর uterus, uterus থেকে sanitary pad, sanitary pad থেকে vaccine, vaccine থেকে music teacher, আর সেখান থেকে সরাসরি marriage law এবং transgender identity-এটা

না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আছেন আসিফ মাহতাব। অধ্যাপক সরওয়ার হোসেনের সঙ্গে গত বছর স্কুলে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিরোধিতায় আয়োজিত জাতীয় সম্মেলনেও তাঁকে সক্রিয় দেখা গেছে। শিশুদের স্কুলে সংগীত শেখানো থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কাকে বিয়ে করবেন, জাতির curriculum এবং personal life, দুই বিভাগেরই quality control নিয়ে তাঁদের কর্মব্যস্ততা প্রশংসনীয়। আরও তালিকায় আছেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, মব-রাজনীতি ও ক্ষমতা প্রদর্শন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যথেষ্ট বিতর্ক চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগের ধুলো এখনও পুরোপুরি বসেনি, এর মধ্যেই অন্য নাগরিকের জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ দাবি করছেন। ফলে ১,২৩০ জনের এই সমাবেশে theology,

academia, moral policing এবং campus power politics, সব মিলিয়ে interdisciplinary representation মোটামুটি সম্পূর্ণ। কিন্তু এত interdisciplinary expertise এক জায়গায় এসেও একটা elementary distinction যেন হারিয়ে গেছে: ধর্মীয় আপত্তি, নৈতিক আপত্তি এবং ক্রিমিনাল অফেন্স এক জিনিস না। কোনো কাজ আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে হতে পারে। আমার নৈতিক মূল্যবোধেও সেটা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সেটা অপছন্দও করতে পারেন। কিন্তু তার কোনোটাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ করে না যে একটা ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। বিবৃতিতে তাসনুভাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন একজন জন্মগত পুরুষ কেবল একদিন নিজেকে নারী বলে ঘোষণা করেছেন এবং তাঁর transition নিয়েও অত্যন্ত নির্দিষ্ট anatomical দাবি করা হয়েছে। কিন্তু তাসনুভা নিজে যে চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি

প্রকাশ করেছেন, সেখানে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাঁর প্রকাশিত Mount Sinai এর একজন চিকিৎসকের স্বাক্ষরিত ২০২৩ সালের নথিতে বলা হয়েছে, তাঁর sex reassignment surgery হয়েছে এবং তাঁর sex designation M থেকে F পরিবর্তিত হয়েছে। আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো medical document এর authenticity স্বাধীনভাবে যাচাই করছি না। ফলে এটাকে চূড়ান্ত legal proof বলছি না। কিন্তু precisely সেটাই point। যখন basic fact ই independently verified না, তখন ১,২৩০ জন মানুষ punishment এর ব্যাপারে এত নিশ্চিত হলেন কীভাবে? বিশেষ করে যখন স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে এত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রয়েছেন, বিষয়টা আরও interesting হয়ে যায়। একাডেমিক প্রশিক্ষণ এর প্রথম পাঠগুলোর একটি তো হওয়া উচিত evidence before conclusion। এখানে

methodology একটু উল্টো-conclusion first, verification later. Transgender woman আর gay man একই analytical ধারণা না। এই বিতর্কের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যা এখানেই। Gender identity, biological characteristics, legal sex এবং sexual orientation এগুলো একই বিষয় না। একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী একজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকলে সেই সম্পর্ককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই পুরুষের homosexual relationship বলা যায় না। কারণ sexual orientation এবং gender identity দুটি আলাদা analytical category। কেউ এই ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় বা দার্শনিকভাবে একমত নাও হতে পারেন। সেটা তাঁর অধিকার। কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের প্রশ্নে আইনগত শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এই বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতির যৌক্তিকতা নাই। এখানে বাংলাদেশের আইনে একটি বাস্তব জটিলতা আছে। বাংলাদেশ হিজড়া জনগোষ্ঠীকে একটা স্বতন্ত্র লিঙ্গীয়

পরিচয় হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়েছে, কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির ট্রানজিশন এর পর male-to-female বা female-to-male legal sex recognition এর জন্য একটা পরিষ্কার, comprehensive statutory framework এখনও নেই। ফলে বিদেশে চিকিৎসাগত ট্রানজিশন এবং sex designation পরিবর্তিত হলে বাংলাদেশি আইনে সেই পরিবর্তনের স্ট্যাটাস কী হবে, এটা একটা প্রকৃত আইনি প্রশ্ন। আর প্রকৃত আইনি প্রশ্ন এর উত্তর মিছিল, ফতোয়া বা গণস্বাক্ষর দিয়ে দেওয়া যায় না। কেউ ধর্মীয় বা দার্শনিকভাবে ট্রান্সজেন্ডার আইডেন্টিটি গ্রহণ নাও করতে পারেন। সেই মত প্রকাশের অধিকার তাঁর আছে। কিন্তু ক্রিমিনাল ‘ল’ ব্যক্তিগত থিওলজি দিয়ে চলে না। এখানে বরং সত্যিকারের আইনি প্রশ্ন আছে- বিদেশে medically transitioned এবং sex designation পরিবর্তিত একজন নাগরিককে বাংলাদেশের আইন বিবাহ এর ক্ষেত্রে কোন সেক্স হিসেবে বিবেচনা করবে? বাংলাদেশের বর্তমান আইন এই প্রশ্নের জন্য সুস্পষ্ট ও comprehensive gender-recognition framework দেয় না। সুতরাং এটা স্লোগান এর চেয়ে অনেক বেশি জটিল আইনি বিষয়। আর জটিল আইনি সমস্যার সবচেয়ে খারাপ সমাধান এই ১,২৩০ জন মানুষ মিলে আগে শাস্তি ঠিক করে পরে আইন খোঁজা। আসেন ৩৭৭ ধারাটাও একটু পড়া যাক….. বিবৃতিতে এমনভাবে পেনাল কোডের 377 ধারা এসেছে যেন সেখানে লেখা আছে: “same-sex marriage is a criminal offence. প্রকৃতপক্ষে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বিয়েকে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে না। ধারাটি মূলত নির্দিষ্ট ধরনের যৌন আচরণ নিয়ে; এমনকি অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে penetration এর কথাও স্পষ্টভাবে বলা আছে। একজন মানুষ ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় ধারণ করেন বা দুজন মানুষ কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন, কেবল এই তথ্য থেকেই ৩৭৭ ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলা যায় না। ফৌজদারি আইন এতটা অনুমাননির্ভর না। কাউকে দেখে তাঁর যৌন আচরণ অনুমান করা যায় না, সম্পর্কের পরিচয় দেখে অপরাধ ধরে নেওয়া যায় না, নৈতিক আপত্তিকে ক্রিমিনাল এভিডেন্স বানানো যায় না। অপরাধের নির্দিষ্ট উপাদান প্রমাণ করতে হয়। তা না হলে আদালত, সাক্ষ্য-প্রমাণ আর বিচারপ্রক্রিয়ার এত আয়োজনের দরকার কী? ফেসবুক কমেন্ট সেকশনকেই বিচার বিভাগ ঘোষণা করে দিলেই তো হয়। তবে এই বিয়ের legal status নিয়ে genuine প্রশ্ন আছে, এবং সেখানেও অতিসরল সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। বাংলাদেশের আইন same-sex marriage কে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো স্পষ্ট কাঠামো দেয় না। আবার তাসনুভার ক্ষেত্রে তারও আগে নির্ধারণ করতে হবে, বাংলাদেশের আইনে বিবাহের উদ্দেশ্যে তাঁর legal sex কী হিসেবে গণ্য হবে। এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই সম্পর্কটিকে আইনি অর্থে “দুই পুরুষের বিয়ে” বলে ধরে নেওয়া যুক্তিগতভাবে premature। এর সঙ্গে আছে দ্বিতীয় জটিলতা interfaith marriage। বাংলাদেশের ১৮৭২ সালের Special Marriage Act আধুনিক universal civil marriage law না। আইনের Section 2 এর পরিধি এতটাই সীমিত যে এটা এমন কোনো সহজ ব্যবস্থা তৈরি করে না যেখানে একজন মুসলিম ও একজন হিন্দু নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে সাধারণ civil marriage framework এর অধীনে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু “সমকামী বিয়ে হয়েছে তাই ৩৭৭ ধারায় শাস্তি দিন, আইন এতটা WhatsApp-friendly না। আরেকটি বিষয় আরও বিরক্তিকর, একজন নাগরিকের শরীর নিয়ে গণপরিষদ কেন বসেছে? একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিকে তাঁর পূর্বনাম দিয়ে চিহ্নিত করা, “জন্মগত সুস্থ পুরুষ” বলা, তাঁর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা করা এবং তাঁর জেন্ডার আইডেন্টিটিকে “উন্মাদনা” জাতীয় ভাষায় উপস্থাপন করা, এগুলো dehumanisation এর ভাষা। বিবৃতির ভাষায় একজন মানুষের genital anatomy সমালোচনার বিষয় হয়েছে। তাঁর কোন অঙ্গ আছে, কোন অঙ্গ নেই, সার্জারী হয়েছে কি না, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের শরীর নিয়ে ১,২৩০ জন মানুষের public political statement কেন প্রয়োজন? কোনো legal proceeding এ প্রয়োজন হলে competent authority medical documentation দেখবে। জাতীয় পর্যায়ে anatomical audit committee বসানোর প্রয়োজন নাই। নারীর শরীর নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে এই রাজনীতি দেখে আসছি। নারী কী পরবেন, কোথায় যাবেন, কার সঙ্গে কথা বলবেন, কাকে পড়াবেন, কখন ঘর থেকে বের হবেন, কাকে বিয়ে করবেন, কখন বিয়ে করবেন, সন্তান নেবেন কি না, সমাজের যেন প্রতিটি বিষয়ে অদৃশ্য shareholders’ meeting আছে।এখন সেই তালিকায় নতুন প্রশ্ন যোগ হয়েছে, কে নারী হওয়ার জন্য যথেষ্ট নারী? নতুন টার্গেট হলো gender identity এবং sexuality। পিতৃতন্ত্রের বিশেষ দক্ষতা এখানেই। নিজের সীমানা রক্ষা করতে করতে একসময় সে অন্য মানুষের শরীরকেও পাবলিক প্রপার্টি বানিয়ে ফেলে। Small government for me, maximum surveillance for you. পিতৃতন্ত্রের চেকপয়েন্ট একবার বসলে সেখানে শুধু ট্রান্সজেন্ডার মানুষকে থামানো হয় না। আজকে ট্রান্সজেন্ডার নারীর শরীর পাবলিক ইন্সপেকশন এর বিষয়। কালকে cisgender নারীর পোশাক, sexuality, fertility, marriage কিংবা reproductive decisions ও একই moral jurisdiction এর মধ্যে ঢুকে পড়বে। একজন নাগরিকের শরীর নিয়ে এত সামাজিক মালিকানাবোধ আমরা পেলাম কোথা থেকে? এবারে আসি ১,২৩০ সংখ্যাটি নিয়ে। এতজন প্রভাবশালী মানুষকে একসঙ্গে পাওয়া যায়, এটা তো আসলে আশার খবর। তাই ভাবছি, এই extraordinary organisational capacity টা আর কোথায় দেখা যায়? বাংলাদেশে যখন কোনো মাদরাসা, স্কুল, এতিমখানা বা অন্য প্রতিষ্ঠানে শিশুকে যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন বা ভয়াবহ সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসে, তখন কি আমরা একই urgency তে শত শত শিক্ষক, আলেম, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও সামাজিক নেতাকে বলতে দেখি: প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত চাই। কোনো প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় মর্যাদা অপরাধীকে রক্ষা করতে পারবে না। শিশু সুরক্ষায় বাধ্যতামূলক safeguarding ব্যবস্থা চাই। দোষীদের বিচার চাই। আমি বলছি না যে এই ১,২৩০ জনের কেউ কখনো শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ করেননি, সেটা এভিডেন্স ছাড়া বলা ঠিক হবে না। আমার মাথা ব্যথা কালেক্টিভ প্রায়োরিটি নিয়ে। দুইজন consenting adult এর ব্যক্তিগত সম্পর্ক আমাদের এত দ্রুত সংগঠিত করতে পারে, কিন্তু ক্ষমতাবান প্রাপ্তবয়স্কের হাতে অসহায় শিশুর শরীর আক্রান্ত হলে একই মাত্রার সংগঠিত moral mobilisation কোথায়? এখানেই selective morality এর naked politics পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে জেন্ডার থিওরি লাগে না, ট্রান্সজেন্ডার ডিবেট লাগে না, ইন্টারফেইথ ম্যারেজ ল বোঝারও প্রয়োজন নাই। সেখানে নৈতিক সমীকরণ খুব সহজ: একদিকে ক্ষমতাবান প্রাপ্তবয়স্ক। অন্যদিকে এমন এক শিশু, যে meaningful consent ই দিতে পারে না। এবং বিশেষ করে ধর্মীয় বা আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বা ধর্মীয় শিক্ষকের হাতে শুধু physical power থাকে না; থাকে moral authority, পরিবারের বিশ্বাস, শিশুর আনুগত্য এবং অভিযোগ করলে বিশ্বাস না করার ভয়। সুতরাং ১,২৩০ জন প্রভাবশালী মানুষ যদি সেই জায়গায় একসঙ্গে দাঁড়াতেন, তার বাস্তব সামাজিক মূল্য অসীম হতে পারত। কোনো পরিবার অভিযোগ করতে সাহস পেত। কোনো প্রতিষ্ঠান ঘটনা চাপা দেওয়ার আগে ভাবত। কোনো শিশুকে হয়তো পরবর্তী নির্যাতন থেকে বাঁচানো যেত। নৈতিকতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সেই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষটিকে নিয়ন্ত্রণ করায় না, যার জীবনযাপন আপনি অপছন্দ করেন। নৈতিকতার পরীক্ষা হলো সেই শিশুটির পাশে দাঁড়ানো, যার নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই নেই। এই distinction টাই নারীবাদী রাজনীতির কেন্দ্রে। নারীবাদ প্রশ্ন করে: ক্ষমতা কার হাতে? Consent কার আছে? Vulnerability কার? কে নিজের institutional, religious, economic বা physical authority ব্যবহার করে অন্যের শরীর নিয়ন্ত্রণ করছে? দুইজন consenting adult এর সম্পর্ক এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক কর্তৃক শিশুর sexual abuse তাই একই “অশ্লীলতা” বা “নৈতিক অবক্ষয়” এর ঝুড়িতে ফেলার বিষয় না। প্রথমটিতে রাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করতে হয়: তোমার interference এর legal basis কী? দ্বিতীয়টিতে রাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করতে হয়: তুমি শিশুটিকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে কেন? এই পার্থক্যটুকুই moral policing আর rights-based politics এর পার্থক্য। সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষোভও Penal Code না। ব্যবস্থা না নিলে “শান্তিপ্রিয় জনগণ” ক্ষুব্ধ ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এই বিবৃতি ভয়ংকর। এর সরল অর্থ দাঁড়ায়, আমরা শান্তিপ্রিয়, তবে রাষ্ট্র আমাদের পছন্দমতো কাউকে শাস্তি না দিলে আমরা কতটা শান্তিপ্রিয় থাকব তার নিশ্চয়তা নেই। এটা আইনের শাসনের দাবি, নাকি mob veto? একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো গোষ্ঠী বলতে পারে না, “এই নাগরিককে শাস্তি দিন, নইলে অন্য নাগরিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে কী করবে বলা যায় না।” রাষ্ট্র যদি এই যুক্তি মেনে নেয়, তাহলে আগামীকাল অন্য আরেকটা সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী অন্য কোনো সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে একই ফর্মুলা ব্যবহার করবে। আজকে সেক্সুয়ালিটি, কালকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পরশু কোনো নারী শিল্পী, তারপর কোনো লেখক, তারপর কোনো শিক্ষক, তারপর আপনি। Majoritarian politics এর সমস্যা এখানে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা একবার যদি নিজেকে আইনের উৎস ভাবতে শুরু করে, সংবিধান খুব দ্রুত পপুলারিটি কনটেস্ট এ পরিণত হয়। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এটা ডেমোগ্রাফিক ফ্যাক্ট। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ৯২ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বাকি ৮ শতাংশ মানুষের মৌলিক মর্যাদা বাতিল করার লাইসেন্স না। বরং সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করাই কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেসি র সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকার রক্ষার জন্য সাহস লাগে না; রাষ্ট্রের চরিত্র বোঝা যায় unpopular minority র অধিকার কতটা নিরাপদ, সেখানে। বাংলাদেশের সংবিধানের Article 27 নাগরিকদের equality before law এবং equal protection of law নিশ্চিত করে; Article 28 ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। সংবিধান বাদ দিন। আদালত বাদ দিন। একটা decibel meter কিনুন। যে পক্ষ সবচেয়ে জোরে ক্ষুব্ধ হবে, আইন তার। এটার নাম rule of law না। এটার নাম rule by threatened outrage। ধর্মীয় আপত্তির অধিকার আছে; অন্যের জন্য শাস্তি দাবি করতে আইনি ভিত্তি লাগে। কেউ homosexuality কে ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ মনে করতে পারেন। কেউ transgender identity র ধারণা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। কেউ interfaith marriage কে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবতে পারেন। Plural society তে এসব মত থাকবে। কিন্তু একটা secular legal order এর fundamental distinction হলো: আপনি যা পাপ মনে করেন, রাষ্ট্রকে সেটা অপরাধ বলতেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নাই। Sin এবং crime একই category না। রাষ্ট্র যদি প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিটি নিষেধাজ্ঞাকে criminal offence বানাতে শুরু করে, তাহলে একই ভূখণ্ডে বহু ধর্মের মানুষের জন্য একক criminal law চালানোই অসম্ভব হয়ে যাবে। এবং এখানেই আমার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে সবচেয়ে বড় হতাশা। ১,২৩০ জনের মধ্যে শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থাকার বিষয় আমাকে ভীষণ ভাবে হতাশ করেছে। একজন ধর্মীয় নেতা তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে সমলিঙ্গের সম্পর্ককে গ্রহণযোগ্য মনে নাই করতে পারেন। একজন নাগরিকও ব্যক্তিগতভাবে এমন সম্পর্কের বিরোধিতা করতে পারেন। গণতন্ত্রে সেই মত প্রকাশের অধিকার তাঁর আছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক, একজন আইনপ্রণেতা বা রাজনৈতিক নেতা যখন ব্যক্তিগত ধর্মীয় নৈতিকতাকে রাষ্ট্রীয় শাস্তির ভিত্তিতে পরিণত করতে চান, তখন এটা আর ধর্মতত্ত্বে থাকে না। প্রশ্নটা হয়ে যায় constitutionalism, citizenship and the limits of state power এর। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ তো সমাজের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নকে আরও carefully interrogate করা। একজন academic এর কাজ precisely সেই জায়গায় প্রশ্ন করা যেখানে সমাজ নিশ্চিত হয়ে গেছে যে আর কোনো প্রশ্নের প্রয়োজন নেই। তাঁর কাজ evidence, conceptual clarity এবং intellectual freedom রক্ষা করা। তিনি ধর্মবিশ্বাসী হতে পারেন, conservative হতে পারেন, সমলিঙ্গের বিয়ের বিরোধীও হতে পারেন। কিন্তু একজন মানুষের শরীর ও পরিচয়কে জনসমক্ষে অবমাননার বস্তু বানানো এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্ভাব্য ক্ষোভকে রাষ্ট্রীয় coercion এর আর্গুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা scholarship না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কি critical thinking তৈরি করছে, নাকি educated moral policing? ডিগ্রি মানুষকে উদার করে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। PhD ও prejudice এর vaccine না। একজন transgender নাগরিকের legal sex recognition নিয়ে প্রশ্ন আছে? গবেষণা করুন। বাংলাদেশ এর marriage law outdated? আইন সংস্কারের প্রস্তাব দিন। Section 377 এর application নিয়ে প্রশ্ন ? Jurisprudence বিশ্লেষণ করুন। Interfaith marriage এর আইনি সংকট আছে? Parliament কে modern civil marriage framework তৈরির কথা বলুন। কিন্তু আগে “শাস্তি নিশ্চিত করুন” লিখে স্বাক্ষর করে পরে offence খুঁজতে বসা scholarship না। সেটা activism হতে পারে, ideology হতে পারে, theology হতে পারে, research methodology অন্তত না। বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে legal sex recognition, marriage validity এবং interfaith status নিয়ে genuine complexity আছে। কিন্তু কোনো নাগরিককে শাস্তি দেওয়ার আগে রাষ্ট্রকে অপরাধ প্রমাণ করতে হয়। নাগরিককে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করার আগে সমাজকে তার শরীর পরীক্ষা করার অধিকার দেওয়া হয় না। আর একটা সমাজের সভ্যতার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হলো, যে মানুষটি সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যে পড়ে না, যাকে আপনি বোঝেন না, যার জীবন আপনি পছন্দও করেন না, তার জন্যও আপনি আইনের একই প্রটেকশন দাবি করতে পারেন কি না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মধ্যরাতে কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ১৭ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১০ তিন বছর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিলিস্তিনের সাবেক মন্ত্রীর পরিবারের ১১২ জনের লাশ উদ্ধার গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সে নতুন নেতৃত্ব, আগস্টেই গণতান্ত্রিক উপবিধি প্রণয়নের ঘোষণা: প্রবাসীদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগঠন গঠনের প্রত্যয়; চেয়ারম্যান নির্বাচিত আজম চৌধুরী শোককে শক্তিতে রূপান্তরের অঙ্গীকারে নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু স্মরণে প্রবাসীদের আলোর মিছিল: আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, কালো ব্যাজ ও শোক র‍্যালি; বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের জয়জয়কার: সেরা অভিনেতা শাকিব খান, সেরা অভিনেত্রী বুবলী, সেরা পরিচালক হৃদি হক; আজীবন সম্মাননা পেলেন কিংবদন্তি আহমেদ শরীফ তাসনুভা প্রসঙ্গে ১,২৩০ জনের সাক্ষর: ধর্মীয় আপত্তি থেকে ফৌজদারি আইন—কোথায় টানতে হবে সীমারেখা? স্কটল্যান্ডে কমনওয়েলথ গেমসে গিয়ে পালিয়েছেন পাকিস্তান ও উগান্ডার অ্যাথলেট পশ্চিমা বিশ্বে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ভিড়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আশার আলো ভারতের আইসিসিআর বৃত্তি ইউক্রেন-রাশিয়া আকাশ ও সমুদ্র যুদ্ধে নতুন মোড় শান্তা ফারজানাসহ ৬ জন গ্রেপ্তার মারা গেছেন ‘গজনি’ খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত তালাকের কথা শুনে ক্ষিপ্ত শিপন, স্ত্রীসহ শাশুড়িকে হত্যা করে প্রেসক্লাবের সংঘর্ষের জেরে ঢামেকে হট্টগোল, আতঙ্কে রোগী-স্বজনরা ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে জামায়াত: নুরুল হক নুর ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ৩০ জবি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ, উত্তেজনা প্রতিশ্রুতি দিয়েও অর্থ দিচ্ছে না ফিফা, বিশ্বকাপ আয়োজক শহরগুলোর ক্ষোভ নিউ ইয়র্কে ছাত্রলীগের দুদলের মারামারি, গ্রেপ্তার ২