মনজুরুল হক লেখক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
আরও খবর
শেখ হাসিনার সরকারের পতন পরবর্তী দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালচাল
রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি সেনাবাহিনীর আনুগত্য: ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
এলাকার সবচেয়ে ভালো ছেলেটা শিবির করে: জুবায়ের কেমন শিবির?
প্রোফাইল লাল করা নিয়ে জুলাই-আগস্টের রাজনীতি এবং বর্তমান বাস্তবতা
ক্যাডেট কলেজ: “কিল দ্য ইন্ডিয়ান ইন হিম অ্যান্ড সেভ দ্য ম্যান”
বেলুচিস্তানের নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়ানো কেন বাংলাদেশের নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়িত্ব?
মব এবং ব্যাঙ্কিং খাতের সংকট একই মেটিকুলাস প্ল্যানের অংশ
গন্তব্য কোথায়?
নিউজফিডজুড়ে সেনাপ্রধানের বাণী ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাণীটি হতে পারত দেশের সার্বিক অবস্থায় দেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত বাহিনীর প্রধান হিসাবে দেশের এই অস্থির সময়ে সামরিক বাহিনীর কর্তব্য কী তার দিকনির্দেশনা দেওয়া। তা হয়নি। তিনি ARMY INTERNATIONAL ISLAMIC INSTITUTE উদ্বোধন করে দেওয়া ভাষণের এক পর্যায়ে বলেছেন, “যথাযথ শিক্ষা না পেয়ে, বিদআতে চেয়ে গেছে দেশ।“
বক্তব্যটিকে সিরিয়াসলি নেওয়া কিছু ছিল না যদি বক্তব্যটি একজন ইসলামি চিন্তাবিদ বলতেন, কেননা সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নয় উর্দি পরে বিশেষ ধর্মের নীতিজ্ঞান প্রচার করা। একজন সেনা সদস্য কিংবা স্বয়ং সেনাপ্রধান একটি বিশেষ ধর্মের অনুরাগী, পালনকারী হতেই পারেন, সেটা তার ধর্মবিশ্বাস, কর্তব্য নয়। তার কর্তব্য চাকরিরত অবস্থায় সেনা আইন
মান্য করে দেশের সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব, তথা দেশ রক্ষা করা। সে কাজের জন্য তাদেরকে দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে সেই অর্থের যোগান দেয় রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং তাদের করের টাকা। হতে পারে এই বক্তব্যের পেছনে গুঢ় কোনও উদ্দেশ্য নেই। তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখে তাদের চোখে প্রিয়পাত্র হতে চেয়ে বলেছেন, কিন্তু এর আফটারশক্ যে কত মারাত্মক সেটা বাংলাদেশের মানুষ বিস্তারে না বুঝলেও অনেকে বুঝতে পারছেন। তাই সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্যটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ‘সিম্পটম্পটা’ কেন মারাত্মক তা ইতিহাসের আলোকে দেখার চেষ্টা করছিঃ ইতিহাসে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের সামরিক বাহিনীর পুরোটা বা এবং কিছু অংশ মুসলিম
মৌলবাদী চরমপন্থী বা ইসলামপন্থী মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পরবর্তীতে সেইসব দেশে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গৃহযুদ্ধ এবং চরম সংকটের সৃষ্টি করেছে। এই তালিকায় প্রথম নামটি-পাকিস্তান। ১. পাকিস্তানঃ ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হকের সামরিক একনায়কত্বের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সুপরিকল্পিতভাবে “ইসলামীকরণ” নীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় এই নীতি আরও গতিশীল করা হয় কারণ, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোঝানো হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি কমিউনিস্ট তথা নাস্তিকদের দেশ। সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে ইসলামের পক্ষে ‘জিহাদ’। রাষ্ট্রীয় মদদে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে, যেমন: লস্কর-ই-তৈয়বা, জৈশ-ই-মোহাম্মদ ব্যবহার করার নীতি পরবর্তীতে দেশের ভেতরেই বড় ধরনের সংঘাত তৈরি করে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো খোদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ ঘোষণা করে, যার ফলে পাকিস্তানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং অর্থনীতি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়। ২. সুদানঃ ১৯৮৯ সালে উগ্র ইসলামপন্থী নেতা হাসান আল-তুরাবির সমর্থনে জেনারেল ওমর আল-বশির সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতা দখল করেন। এই সামরিক-মৌলবাদী জোট সুদানে কঠোর শরিয়া আইন জারি করে এবং ওসামা বিন লাদেনসহ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়। এর ফলাফল- দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কারণে ২০১১ সালে সুদান বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ‘দক্ষিণ সুদান’ নামক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দীর্ঘ তিন দশকের স্বৈরশাসনের পর দেশটি এখনো চরম রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ৩, আফগানিস্তানঃ ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে আফগান সামরিক বাহিনীর একাংশ এবং পরবর্তী সময়ে মুজাহিদীন দলগুলোর
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মৌলবাদী মতাদর্শের বিস্তার ঘটে। সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের পর নব্বইয়ের দশকে মৌলবাদী দলগুলোর গৃহযুদ্ধের খপ্পরে পড়ে আফগানিস্তান পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরবর্তীতে সামরিক কাঠামোর ভাঙন এবং উগ্রপন্থী তালেবান গোষ্ঠীর উত্থান দেশটিকে কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক সন্ত্রাসের চারণভূমিতে পরিণত করে। ৪. আলজেরিয়াঃ ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে চরমপন্থী দল ‘ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট’ (FIS) বিজয় প্রায় নিশ্চিত হলে আলজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সামরিক বাহিনী নির্বাচন বাতিল করে ক্ষমতা দখল করে। এর ফলে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ এবং উগ্রপন্থীরা সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। ১৯৯২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে (যা “ডার্ক ডিকেড” নামে পরিচিত) প্রায় ২ লক্ষ মানুষ নিহত হয় এবং দেশের
আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ৫. ইরাকঃ ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের ধর্মনিরপেক্ষ ‘বাথ পার্টির’ সেনাবাহিনী ভেঙে দেওয়া হয়। এই বেকার এবং ক্ষুব্ধ সামরিক কর্মকর্তারা পরবর্তীতে উগ্র সুন্নি মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সাদ্দামের সেনাবাহিনীর এই দক্ষ সামরিক কমান্ডাররাই পরবর্তীতে কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএস (ISIS)-এর মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। তারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ, গণহত্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে। ৬. ইয়েমেনঃ ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং উত্তর ইয়েমেনের শিয়া জাইদি মতাদর্শের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী হুতিদের সাথে জোট বাঁধে। সেনাবাহিনীর এই দলত্যাগের কারণে হুতিরা রাজধানী
সানা দখল করে নেয়, ফলে ইয়েমেনকে একটি ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে ইয়েমেনে বর্তমান শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবেলা করছে। এই ছয়টি দেশের যে সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো তা দেশগুলোর সামগ্রিক চিত্র নয়। প্রকৃত অবস্থা এর চয়েও ভয়াবহ। এবার দেখা যাক ঠিক এর বিপরীতে কী ঘটে যদি শক্তিশালী সেনা শাসক বা সেনাপ্রধান কিংবা বিপ্লবের শীর্ষ নেতৃত্ব ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও আধুনিক হন। মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর কঠোর সামরিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে মুসলিম মৌলবাদী ও রক্ষণশীলদের কুচক্র দমন করে তুরস্ককে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। ইউরোপীয় এনলাইটমেন্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাষ্ট্র, সমাজ, আইন এবং শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ দূর করার নীতি বাস্তবায়ন করেন। আধুনিক তুরস্কের অভ্যুদয়ের পেছনে সম্পূর্ণ অবদান তার।
মান্য করে দেশের সংবিধান কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব, তথা দেশ রক্ষা করা। সে কাজের জন্য তাদেরকে দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে সেই অর্থের যোগান দেয় রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং তাদের করের টাকা। হতে পারে এই বক্তব্যের পেছনে গুঢ় কোনও উদ্দেশ্য নেই। তিনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখে তাদের চোখে প্রিয়পাত্র হতে চেয়ে বলেছেন, কিন্তু এর আফটারশক্ যে কত মারাত্মক সেটা বাংলাদেশের মানুষ বিস্তারে না বুঝলেও অনেকে বুঝতে পারছেন। তাই সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্যটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ‘সিম্পটম্পটা’ কেন মারাত্মক তা ইতিহাসের আলোকে দেখার চেষ্টা করছিঃ ইতিহাসে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের সামরিক বাহিনীর পুরোটা বা এবং কিছু অংশ মুসলিম
মৌলবাদী চরমপন্থী বা ইসলামপন্থী মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পরবর্তীতে সেইসব দেশে দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, গৃহযুদ্ধ এবং চরম সংকটের সৃষ্টি করেছে। এই তালিকায় প্রথম নামটি-পাকিস্তান। ১. পাকিস্তানঃ ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে জেনারেল জিয়া-উল-হকের সামরিক একনায়কত্বের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে সুপরিকল্পিতভাবে “ইসলামীকরণ” নীতি চাপিয়ে দেওয়া হয়। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় এই নীতি আরও গতিশীল করা হয় কারণ, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোঝানো হয় সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি কমিউনিস্ট তথা নাস্তিকদের দেশ। সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে ইসলামের পক্ষে ‘জিহাদ’। রাষ্ট্রীয় মদদে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে, যেমন: লস্কর-ই-তৈয়বা, জৈশ-ই-মোহাম্মদ ব্যবহার করার নীতি পরবর্তীতে দেশের ভেতরেই বড় ধরনের সংঘাত তৈরি করে। তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো খোদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ ঘোষণা করে, যার ফলে পাকিস্তানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে এবং অর্থনীতি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়। ২. সুদানঃ ১৯৮৯ সালে উগ্র ইসলামপন্থী নেতা হাসান আল-তুরাবির সমর্থনে জেনারেল ওমর আল-বশির সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতা দখল করেন। এই সামরিক-মৌলবাদী জোট সুদানে কঠোর শরিয়া আইন জারি করে এবং ওসামা বিন লাদেনসহ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেয়। এর ফলাফল- দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের কারণে ২০১১ সালে সুদান বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ‘দক্ষিণ সুদান’ নামক নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। দীর্ঘ তিন দশকের স্বৈরশাসনের পর দেশটি এখনো চরম রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ৩, আফগানিস্তানঃ ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে আফগান সামরিক বাহিনীর একাংশ এবং পরবর্তী সময়ে মুজাহিদীন দলগুলোর
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মৌলবাদী মতাদর্শের বিস্তার ঘটে। সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের পর নব্বইয়ের দশকে মৌলবাদী দলগুলোর গৃহযুদ্ধের খপ্পরে পড়ে আফগানিস্তান পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পরবর্তীতে সামরিক কাঠামোর ভাঙন এবং উগ্রপন্থী তালেবান গোষ্ঠীর উত্থান দেশটিকে কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক সন্ত্রাসের চারণভূমিতে পরিণত করে। ৪. আলজেরিয়াঃ ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে চরমপন্থী দল ‘ইসলামিক স্যালভেশন ফ্রন্ট’ (FIS) বিজয় প্রায় নিশ্চিত হলে আলজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সামরিক বাহিনী নির্বাচন বাতিল করে ক্ষমতা দখল করে। এর ফলে সামরিক বাহিনীর একটি অংশ এবং উগ্রপন্থীরা সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। ১৯৯২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত চলা এই রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে (যা “ডার্ক ডিকেড” নামে পরিচিত) প্রায় ২ লক্ষ মানুষ নিহত হয় এবং দেশের
আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ৫. ইরাকঃ ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের ধর্মনিরপেক্ষ ‘বাথ পার্টির’ সেনাবাহিনী ভেঙে দেওয়া হয়। এই বেকার এবং ক্ষুব্ধ সামরিক কর্মকর্তারা পরবর্তীতে উগ্র সুন্নি মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। সাদ্দামের সেনাবাহিনীর এই দক্ষ সামরিক কমান্ডাররাই পরবর্তীতে কুখ্যাত জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআইএস (ISIS)-এর মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। তারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ, গণহত্যা এবং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে। ৬. ইয়েমেনঃ ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর ইয়েমেনি সামরিক বাহিনীর একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং উত্তর ইয়েমেনের শিয়া জাইদি মতাদর্শের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী হুতিদের সাথে জোট বাঁধে। সেনাবাহিনীর এই দলত্যাগের কারণে হুতিরা রাজধানী
সানা দখল করে নেয়, ফলে ইয়েমেনকে একটি ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। এর ফলে ইয়েমেনে বর্তমান শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবেলা করছে। এই ছয়টি দেশের যে সংক্ষিপ্ত চিত্র দেওয়া হলো তা দেশগুলোর সামগ্রিক চিত্র নয়। প্রকৃত অবস্থা এর চয়েও ভয়াবহ। এবার দেখা যাক ঠিক এর বিপরীতে কী ঘটে যদি শক্তিশালী সেনা শাসক বা সেনাপ্রধান কিংবা বিপ্লবের শীর্ষ নেতৃত্ব ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও আধুনিক হন। মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক উসমানীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর কঠোর সামরিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়ে মুসলিম মৌলবাদী ও রক্ষণশীলদের কুচক্র দমন করে তুরস্ককে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। ইউরোপীয় এনলাইটমেন্টের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাষ্ট্র, সমাজ, আইন এবং শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ধর্মের রাজনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ দূর করার নীতি বাস্তবায়ন করেন। আধুনিক তুরস্কের অভ্যুদয়ের পেছনে সম্পূর্ণ অবদান তার।



