ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মোহাম্মদপুরে ‘ককটেল’ বিস্ফোরণ
প্রবাসীর স্ত্রীসহ আপত্তিকর অবস্থায় যুবদল নেতা আটক
নিখোঁজ কাস্টমসকর্মীর ১৫ টুকরা লাশ পুকুরে
গভীর রাতে তরুণীর সাথে আপত্তিকর অবস্থায় আটক ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নেতা- ‘আগেই বিয়ে হয়েছে’
ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের বাঁধ কেটে বালি-মাটি লুটছেন বিএনপির নেতারা
গোপনে প্রবাসীর স্ত্রীর স্নানের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার শফিকুল
জাতীয় পরিচয়পত্র করানোর কথা বলে মামাতো বোনকে ধর্ষণ, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক গ্রেপ্তার
‘পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগানে যশোরে ডিসি অফিস ঘেরাও
বর্ষা এলেই ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জীবনে ফিরে আসে একই দুর্ভোগের গল্প। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, অসংখ্য প্রতিশ্রুতি, আর নানা উদ্যোগের পরও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে যশোরের ভবদহ ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মাছের ঘের, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। এই পরিস্থিতিতে স্থায়ী সমাধানের দাবিতে আজ সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভবদহ অঞ্চলের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচির আয়োজন করে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিবন্দি মানুষ
মাথায় মাথাল, কাঁধে লাঙল, মই ও নিড়ানি, হাতে জাতীয় পতাকা এবং নানা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে ডিসি কার্যালয়ে জড়ো হন। তাদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় ‘পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও’। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মনিরামপুর উপজেলার পদ্মনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর মাছের ঘের ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একমাত্র বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। উঠানে কোমর সমান, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে হাঁটুসমান পানি। সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মাকে নিয়ে তিনি উঁচু সড়কের পাশে অস্থায়ী পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সরকার বদলায়, কিন্তু ভবদহের মানুষের দুর্ভোগের শেষ হয় না। আমডাঙ্গা খাল খনন ও বিল কপালিয়ায় টিআরএম
চালু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তিনি। ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে এর আগে চার দফা দাবি জানিয়েছিল ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এ দাবিতে গত ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। স্মারকলিপিতে তখন বলা হয়েছিল, দ্রুত দাবি বাস্তবায়িত না হলে ৩ আগস্ট ডিসি কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময় চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন এবং বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের বাঁধসহ সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণ; আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী
পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অসম্পূর্ণ নদী খনন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা এবং পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতাই ভবদহের জলাবদ্ধতাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ২০২৫ সালে ১৪০ কোটি টাকার নদী খনন প্রকল্প নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হলেও কয়েক দিনের টানা বর্ষণেই সেই আশা ভেসে গেছে। বর্তমানে দুই শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, নদী খননের পাশাপাশি টিআরএম বাস্তবায়ন ছাড়া ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, ভবদহের বর্তমান সংকট
শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ব্যর্থতারও প্রতিফলন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘ইতোমধ্যে সরকারের দায়িত্ব পেয়ে আমরা দলীয়ভাবে ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করেছি। যশোরবাসীর নানা সমস্যা সমধানে ইতোমধ্যে যশোরের সন্তান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবদহের সমস্যা নিরসনে তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করি, যশোরবাসীর দুঃখ এই সরকারের হাত ধরে লাঘব হবে।’
মাথায় মাথাল, কাঁধে লাঙল, মই ও নিড়ানি, হাতে জাতীয় পতাকা এবং নানা দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে ডিসি কার্যালয়ে জড়ো হন। তাদের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত হয় ‘পানি সরাও, মানুষ বাঁচাও’। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মনিরামপুর উপজেলার পদ্মনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর মাছের ঘের ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একমাত্র বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। উঠানে কোমর সমান, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে হাঁটুসমান পানি। সাপ ও পোকামাকড়ের ভয়ে স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মাকে নিয়ে তিনি উঁচু সড়কের পাশে অস্থায়ী পলিথিনের ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, সরকার বদলায়, কিন্তু ভবদহের মানুষের দুর্ভোগের শেষ হয় না। আমডাঙ্গা খাল খনন ও বিল কপালিয়ায় টিআরএম
চালু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তিনি। ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে এর আগে চার দফা দাবি জানিয়েছিল ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। এ দাবিতে গত ২৬ জুলাই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানিসম্পদমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয় ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। স্মারকলিপিতে তখন বলা হয়েছিল, দ্রুত দাবি বাস্তবায়িত না হলে ৩ আগস্ট ডিসি কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময় চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, জরুরি ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার সম্পন্ন এবং বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; খর্ণিয়া দক্ষিণ পাশের বাঁধসহ সব অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ এবং খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর পলি অপসারণ; আইডব্লিউএমের সুপারিশ অনুযায়ী
পর্যায়ক্রমে টিআরএম বাস্তবায়ন এবং নদী খননের সঙ্গে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ এবং পানিবন্দি মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, অসম্পূর্ণ নদী খনন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা এবং পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতাই ভবদহের জলাবদ্ধতাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ২০২৫ সালে ১৪০ কোটি টাকার নদী খনন প্রকল্প নিয়ে নতুন আশার সৃষ্টি হলেও কয়েক দিনের টানা বর্ষণেই সেই আশা ভেসে গেছে। বর্তমানে দুই শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, নদী খননের পাশাপাশি টিআরএম বাস্তবায়ন ছাড়া ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, ভবদহের বর্তমান সংকট
শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ব্যর্থতারও প্রতিফলন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘ইতোমধ্যে সরকারের দায়িত্ব পেয়ে আমরা দলীয়ভাবে ভবদহ এলাকা পরিদর্শন করেছি। যশোরবাসীর নানা সমস্যা সমধানে ইতোমধ্যে যশোরের সন্তান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ভবদহের সমস্যা নিরসনে তিনি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। আশা করি, যশোরবাসীর দুঃখ এই সরকারের হাত ধরে লাঘব হবে।’



