ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থাগ্রহণ: কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ August, ২০২৬

ঢাবির ২৩১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থাগ্রহণ: কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ August, ২০২৬ |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সুপারিশকৃত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কানাডাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, এই উদ্যোগ একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে। বিবৃতি অনুযায়ী, সম্প্রতি সরকারপন্থী একদল শিক্ষকের পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে ২৩১ জন শিক্ষকের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়। সাবেক সরকারকে সমর্থন করা এবং জুলাইর চেতনাবিরোধী মনোভাব পোষণের অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা বিবেচনার সুপারিশ করে সিন্ডিকেট। এই অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে আরও রয়েছেন উপ-উপাচার্য

(প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোরশেদ হাসান খান। গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন উল্লেখ করে, এই চার সদস্যকেই ব্যাপকভাবে বর্তমান ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হয়। সংগঠনটির মতে, এতে কমিটির নিরপেক্ষতা ও প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন উঠতে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়, যখন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় একই ধরনের রাজনৈতিক ঘরানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত কমিটির ওপর, তখন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আস্থা অর্জনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়। সংগঠনটি বলে, “ন্যায়বিচার শুধু করলেই হবে না, তা যে করা হয়েছে

সেটাও দৃশ্যমান হতে হবে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী, যা শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্বাস লালন ও চর্চার অধিকার—এমনকি সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার—নিশ্চিত করে। এই আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আলোকে, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারকে সমর্থন করা, অথবা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা, তা নিজে থেকেই অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে না। এই ধরনের বিশ্বাস ও সংশ্লিষ্টতা সুরক্ষিত থাকে, যতক্ষণ না তা আইন লঙ্ঘন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ভঙ্গ কিংবা অন্যের প্রতি প্রমাণযোগ্য ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত হয়। সংগঠনটির ভাষ্য, তালিকাভুক্ত ২৩১ জন শিক্ষকের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত

জনসমক্ষে প্রমাণিত কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়নি। বরং “জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থী” আচরণের মতো অভিযোগগুলো স্পষ্ট আইনি বা শৃঙ্খলাগত সংজ্ঞাবিহীন, ব্যাপক ও অস্পষ্ট বিবরণের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে হয়। বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের ভিত্তি হিসেবে এ ধরনের অস্পষ্ট ও বিষয়ীভিত্তিক মানদণ্ড ব্যবহার করলে তা যথাযথ প্রক্রিয়া, আইনি নিশ্চয়তা এবং স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতিগুলোকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে। গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন জোর দিয়ে বলে, যেকোনো শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত অপরাধ, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং শক্তিশালী প্রক্রিয়াগত সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতে হবে, যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণ আত্মপক্ষ সমর্থন ও প্রতিনিধিত্বের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

অন্যথায় এমন এক নজির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যেখানে শিক্ষাবিদরা অসদাচরণের জন্য নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের পছন্দের বাইরে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ পোষণের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন। সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, আইনগত ও প্রক্রিয়াগত উদ্বেগের বাইরেও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের জন্য এর পরিণতি যথেষ্ট গুরুতর। সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য অন্যায়ের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত, জনসমক্ষে পর্যবেক্ষণ এবং শাস্তির আশঙ্কার মধ্যে ব্যক্তিদের ফেলে রাখা তাদের সুনাম, পেশাগত অবস্থান, মানসিক স্বাস্থ্য ও আর্থিক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। বৌদ্ধিক বহুত্ববাদ ও একাডেমিক স্বাধীনতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের জন্য এমন পরিণতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি। বিবৃতির শেষাংশে গ্লোবাল জাস্টিস নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন বলে, এই বিষয়টি মূলত কোনো

নির্দিষ্ট সরকার, রাজনৈতিক আন্দোলন বা মতাদর্শের প্রতি সমর্থন-বিরোধিতার বিষয় নয়। বরং এটি একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষার মতো গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরিহার্য মূলনীতিগুলো রক্ষার প্রশ্ন। এসব নীতি থেকে বিচ্যুতি একটি স্বাধীন ও মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের