মার্কিন স্যাংশন ও ট্যারিফের রাজনীতিতে রাজনীতি নেই, আছে শোষণ ও বিশ্বগ্রাসের বাসনা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ August, ২০২৬

মার্কিন স্যাংশন ও ট্যারিফের রাজনীতিতে রাজনীতি নেই, আছে শোষণ ও বিশ্বগ্রাসের বাসনা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ August, ২০২৬ |
আফ্রিকা -আমেরিকা ট্রেড প্রোগ্রামের অধীনে সাব সাহারান দেশগুলিতে প্রায় ১৮০০ পণ্যে আমেরিকা ডিউটি ফ্রি এক্সেস দিয়ে আসছে। আর এটা করা হত AGOA (African growth and opportunity Act) এর মাধ্যমে। হিউম্যান রাইটস, ওয়ার্কার রাইটস, আইনের শাসন ও বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবেশ উন্নত না করতে পারায় সর্বশেষ চারটি আফ্রিকার দেশকে AGOA থেকে বহিষ্কার করতে যাচ্ছে আমেরিকা। দেশগুলি হল, উগান্ডা, গ্যাবন, নাইজার রিপাবলিক এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। এর আগে বুরকিনা ফাসো, গিনি ও মালিকে বহিষ্কার করেছে আমেরিকা। উগান্ডার বহিস্কার হবার কারণ হল বিতর্কিত এন্টি হোমোসেক্সুয়ালিটি আইন পাস করা। অন্য দেশগুলির ভেতর অধিকাংশ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য। প্রথমত আমেরিকা কোন দেশকে ডিউটি ফ্রি এক্সেস দিবে কি দিবেনা সেটা স্বাধীন

দেশ হিসাবে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। এর আগে বাংলাদেশকেও তারা জিএসপি থেকে বের করে দিয়েছিল। এখানে আসলে বলবার মত কিছু নেই। কিন্তু আসলেই কি বিষয়টা এত সহজ? ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। ধরুন উগান্ডা যেই পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে, তার একটি অংশ রিজার্ভ হিসাবে থাকে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে। উগান্ডার রিজার্ভ! আছে আমেরিকার কাছে। এর বিপরীতে একটা ক্ষুদ্র লাভ উগান্ডা পায়। আমেরিকার কাছে থাকার কারণ ডলারের বৈশ্বিক মুদ্রা হওয়া। এখন উগান্ডা চলতে পারছেনা। তাদের দেশের অর্থনীতিকে ফেরানোর জন্য দরকার বিনিয়োগ। আর এক্ষেত্রে এগিয়ে আসবে আমেরিকার বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক। তাদের কাজ ট্রেজারি থেকে একটু বেশি রেটে ডলার নিয়ে উগান্ডায় বিনিয়োগ করা। যেটা

উগান্ডা আবার তার থেকে বেশি রেটে আমেরিকার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। বিষয়টা অনেকটা মাছের তেলে মাছ ভাজা। আর এই ভয়ঙ্কর ক্ষমতার অধিকারী আমেরিকা। আপাতদৃষ্টিতে আমেরিকা শোষণ করছে না, বরং আফ্রিকার উন্নতির জন্য ট্রেড সুবিধা দিচ্ছে বিনিয়োগ করছে। বিশ্ব ব্যংক ঋণ দিচ্ছে। তবে সেটা আমেরিকা নানাভাবেই উসুল করে নেয় কড়ায়-গন্ডায়। এর সাথে দেশগুলির উপর কর্তৃত্বের ইস্যু তো আছেই। ধরুন আফ্রিকার দারিদ্র বিমোচনের জন্য আমেরিকা টাকা ঢালছে। মহৎ ও হিউম্যানিটারিয়ান কাজ। অন্যদিকে উগান্ডার সরকার আমেরিকা ও তার চুক্তির উপর এতটায় নির্ভরশীল যে তাদের দেশের মূল্যবান খনিজের কাজ স্বাধীনভাবে অন্য কাউকে দিতে সক্ষম নয়। কোনভাবে কোন দেশ একটু উচ্চবাচ্য করলেই তার নিষেধাজ্ঞা কনফার্ম। এই ধরুন

উগান্ডা ব্রিকস নিয়ে একটু লাফালাফি করছিল। আফ্রিকান অধিকাংশ দেশ ব্রিকসের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। এটা হয়ত আমেরিকার ভাল লাগেনি। আচ্ছা একটা সহজ বিষয় বলি। আমেরিকা দারিদ্র বিমোচনের জন্য ত্রাতা দেশ হিসাবে আফ্রিকার দেশগুলিকে সাহায্য করে। এখন ধরুন এন্টি হোমোসেক্সুয়ালিটি আইন করেছে কোন এক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। আর এর রিয়েকশনে আপনি আপনার ট্রেড ফ্যাসিলিটি বন্ধ করে দিবেন? নিষেধাজ্ঞা দিতে হলে টার্গেটেড ব্যক্তির উপর দেন সমস্যা নেই। কিন্তু একটা দেশের সকলকে কেন কালেক্টিভ পানিশমেন্ট দিবেন? কত কারখানা বন্ধ হবে, কত মানুষ বেকার হবে এর দায় কে নিবে? সাধারণ মানুষকে তো পানিশমেন্ট দেয়া চলে না। দিলে ধরে নিতে হবে আপনার উদ্দেশ্য দারিদ্য বিমোচন করা ছিলনা বরং

দেশটাকে নিয়ন্ত্রন করা ছিল। দরিদ্র দেশের রক্ত চুষে বড়লোক হচ্ছেন তাদের দায় তো আপনাকে নিতেই হবে তাইনা? কোন নির্দিষ্ট কোম্পানি এখানে দায়ী নয় এই আইন পাশের জন্য, তারা দায়ী নয় মিলিটারি ক্যু এর জন্য। সেখানের শ্রমিক দায়ী নয়। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিকেও অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে আমার ধারণা এটা আমেরিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদে আরো ক্ষতিকর হবে। আফ্রিকার সাথে এশিয়ার কানেকশন আরো দ্রুত বাড়বে। পশ্চিমের উপর আস্থা আরো কমবে। বলে রাখি, বর্তমান যেই ট্যারিফ পলিসি সেটা আমেরিকা বেশিদিন ধরে রাখতে সমর্থ হবেনা। পিছিয়ে আসতে বাধ্য। এই যুদ্ধের শেষ শুধুমাত্র আমেরিকার ইকোনমিক হেজমনির মৃত্যুর মাধ্যমেই সম্ভব। কেন সেটা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। ট্যারিফ যুদ্ধকে যদি শুধু ট্রেডের

দৃষ্টিতে দেখেন তবে ভুল করবেন। কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা ঘোষণা করার পর ট্রাম্প কানাডার উপর অতিরিক্ত ১০% ট্যারিফ যোগ করেছে। ভারত রুশ তেল কেনার জন্য পেনাল্টি ট্যারিফ আরোপের হুমকি দিয়েছে। ব্রিকস নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে ব্রাজিলের উপর উচ্চ ট্যারিফ আরোপ করেছে। এই বিষয়গুলি খুবি স্পষ্ট যে ট্যারিফের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়। বরং ট্যারিফ ক্ষয়িষ্ণু মার্কিন হেজমনি ধরে রাখার বা নতুন করে জাগ্রত করার একটা প্রয়াস মাত্র। চীন ও আমেরিকার অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে কিছু প্যারামিটার আছে। দুই দেশের ইকোনমিক সক্ষমতা, অর্থনীতির আকার, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আউটপুট, বৈশ্বিক ট্রেড ভলিউম, রপ্তানি ও আমদানি, জিডিপির তুলনায় ঋণ, বিশ্ব বাজারে প্রধাণ রপ্তানি পণ্যের ধরন,

মার্কেট শেয়ার, বৃহৎ বাণিজ্য পার্টনার দেশসহ বিভিন্ন পয়েন্ট বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট যে আমেরিকার অর্থনৈতিক হেজমনি নিন্মগামী। বিষয়টি একটি উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। ট্যারিফ নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকায় একটি রিসার্চ হয়েছে (এক্সাক্ট রেফারেন্স দিতে পারছিনা একটি ভিডিওতে দেখেছিলাম) যেখানে বলা হচ্ছে একি পণ্য যেটি চীনে উৎপাদন করা হয়েছে সেটার কস্টিং হয়েছে $৫-$৭ ডলার, কিন্তু আমেরিকাতে তৈরির ক্ষেত্রে কস্টিং হয়েছে $১২-১৫ ডলার। এরুপ পরিস্থিতিতে ইউএস মার্কেটে কনজিউমারদের অপিনিয়ন নিয়ে গবেষণায় উদ্দেশ্য ছিল, মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন স্লোগান কতটুকু সফল হবে? জরিপে কাস্টমার বিহেভিয়ার এনালাইসিস করে যেটা পাওয়া গেছে সেটি হল ১০০% মত এসেছে তারা $৫ ডলারের পণ্যটি নিতে চায়। কোন দেশে তৈরি সেটা মূখ্য নয়। ইউএস রপ্তানি বাজারের প্রধান পণ্য কৃষি, হাইটেক পণ্য, সামরিক সরঞ্জাম, এনার্জি। এগুলা দৈনন্দিন জীবনে যতটা প্রভাব রাখে চীনের চামুচ থেকে থেকে শুরু করে তুলনামূলক কমদামি পণ্য সারাবিশ্বে তার থেকেও বেশি ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে ইকোনমিক শক্তি বিবেচনায় আমেরিকার থেকে চীন এগিয়ে। আমেরিকার সার্ভিস মনোপলি, হাইটেক কিছু কোম্পানি ছাড়া কার্যত পণ্য উৎপাদনে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারিয়েছে বেশ আগে। আমেরিকায় মার্কিন কোম্পানি বিনিয়োগ করলেও আদতে সেটা ফিনানশিয়ালি তেমন ইয়েল্ড দিতে পারেনা। এজন্যই মার্কিন কোম্পানিগুলি চীন, ভারত, ভিয়েতনামের মত দেশে ফ্যাক্টরি করে তাদের পণ্য সারাবিশ্বে সাপ্লাই দেয়। অর্থাৎ আমেরিকার কোম্পানি সারাবিশ্বে যে রপ্তানি করে সেটারো মূল যোগান আসে আমেরিকার বাইরের দেশগুলি হতে। এই ফ্যাক্টটি মাথায় রাখুন। আমেরিকাকে ইউনিপোলার শক্তিতে রুপান্তর করার পেছনে বেশ কয়েকটি উপাদান রয়েছে যেগুলাকে মার্কিন হেজমনির উৎস বলা চলে। এর মধ্যে প্রধান ৩টি হল- ১. ইউএস অর্থনীতি, ২. ইউএস ডিফেন্স পাওয়ার, ৩. ইউএস ব্যাকড বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। ইউএস অর্থনীতি আমেরিকাকে শুধুমাত্র নিজের দেশের অর্থনীতির আকার, উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি বা আমদানির উপর হেজমনি দেয়নি। এর প্রধান শক্তি হল ডলারের বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও ডলার কেন্দ্রিক গ্লোবাল ফিনানশিয়াল সিস্টেম নিয়ন্ত্রন। আমদানি হিসাবে ইউএস বিশ্বের সবথেকে বড় মার্কেট। এর ধারে কাছে কেউ ছিলনা। কিন্তু বর্তমানে ইউএস যত বড় মার্কেট, চীন তার থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেয় মার্কেটের আকার বিবেচনায়। কিন্তু ডলার আমেরিকাকে কিছু এডভান্টেজ দিচ্ছে। গ্রিণব্যাকে ফরেন ট্রেড হওয়ার কারণে সারাবিশ্বে মার্কিন ডলার অনেকটা লোকাল কারেন্সির মত কাজ করে। বাংলাদেশের টাকা যদি সারাবিশ্বে চলত তাহলে যেমন হত আরকি। এর ফলে প্রতিটি দেশের আমদানি রপ্তানিতে ও ট্রেড সেটেলমেন্টে ডলারের চাহিদা রয়েছে। ফলে ডলারকে রিজার্ভ কারেন্সি হিসাবে রাখতে হয় বিশ্বের প্রায় সব দেশকে। আর এই ডলারের বিশাল অংশ আদতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে বা ট্রেজারিতে বিনিয়োগ করা থাকে। এই যে সক্ষমতা, এটা সৃষ্টি হয়েছে ডলারের গ্লোবাল কারেন্সি হিসাবে চাহিদা সৃষ্টির কারণে। এই সক্ষমতার কারণে আমেরিকা ডেফিসিট বা ঘাটতি বাজেট করতে পারে। ঋণ নিয়ে তেমন ভাবা লাগে না। ২০২২ সালে গ্রিণব্যাক এখন কফিনে- বলেছিলাম। ব্যাখা করেছিলাম, ডলারের গ্লোবাল এক্সেপ্টিবিলিটির জন্য ডলারের মূল্যমানের স্টাবিলিটি ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বড় ভূমিকা রেখে এসেছে। সেটার ছেদ পড়ে রাশিয়াকে ডলার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মাধ্যমে। ডলারকে ওয়েপনে রুপ দেয়ার কারণে। রাশিয়ার রিজার্ভ ফ্রিজ করার কারণে। সুইফট নেটওয়ার্ক ও পেমেন্ট সিস্টেমে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মাধ্যমে। উক্ত ঘটনা ডলারের চরম আস্থার ঘাটতি সৃষ্টি করে যা পরবর্তীতে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশকে রিজার্ভ পোর্টফলিও ম্যানেজমেন্ট এর দিকে ঝুকতে বাধ্য করে। অর্থাৎ রিজার্ভে ডলারের অংশ কমিয়ে অন্যান্য কারেন্সি যেমন ইউরো, ইয়েন, ইউয়ান ইত্যাদির সমন্বয়ে রাখতে বাধ্য করে ঝুঁকি কমানোর জন্য। ডলারের ওয়েপমাইজেশন ছিল আমেরিকার প্রথম ভুল। এর ফলে ডিডলারাইজেশন ইনিশিয়েটিভ শুরু হয়। বিকল্প কারেন্সি, কারেন্সি সোয়াপ এরেঞ্জমেন্ট, সর্বশেষ ব্রিকস কারেন্সি বা সিবিডিসি এর মত অপশন আশা শুরু করে। একইসাথে রাশিয়া, চীন ও ভারত নিজেরা স্বতন্ত্র পেমেন্ট গেটওয়ে বানানো শুরু করে। সুইফট বিতর্কিত হবার ফল। এটাও মার্কিন ভুল পলিসির খেসারত। কার্যত মার্কিন ইকোনমিক পাওয়ার বা হেজমনি দেশটির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা যেমন উৎপাদন, বিশ্ব ট্রেডে অংশ, বিশ্ব গ্রোথে অবদানের মত সূচকের উপর ভিত্তি না করে বরং অনৈতিক পথ বা টেকেন ফর গ্রান্টেড মিনস যেমন ডলারের বৈশ্বিক চাহিদা, গ্লোবাল ফিনানশিয়াল সিস্টেমের উপর ইউএস কন্ট্রোল এসবের উপর ভিত্তি করে হয়েছে। পূর্বে আমেরিকা বিশ্ব অর্থনীতি শাসনের ক্ষেত্রে প্রকৃত ফিনানশিয়াল পারফরম্যান্স এর সাথে ডলার ও ফিনানশিয়াল সিস্টেম কন্ট্রোলের হেলদি অনুপাতকে ব্যবহার করত। কিন্তু বর্তমানে ফিনানশিয়াল পারফরম্যান্স দুর্বল হতে থাকায় বিশ্ব অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মাঝে রাখতে ডলার ওয়েপনাইজেশন, বা ফিনানশিয়াল সিস্টেমের উপর নিজেদের কন্ট্রোলকে অতিরিক্ত নির্ভর হয়ে পড়ছে এবং এটিকে কাজে লাগিলে হেজমনি বজায় রাখতে চাইছে। এটি কার্যত আমেরিকার দুর্বলতার প্রকাশ মাত্র। এই সংক্রান্ত আলোচনার কিছু অংশ বিশেষ কারণে লেখার শেষ অংশে আলোচনা করব। আমেরিকার হেজমনির আরেকটি উৎস হল, সামরিক সক্ষমতা যা এখন পর্যন্ত বিশ্বে আনম্যাচড। কিন্তু সমস্যা শুরু হয়েছে সেই ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমেই। আমেরিকা প্রচলিত অস্ত্রে হাইটেক এসেটস ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে থাকলেও বিশ্বে এখন প্রচলিত অস্ত্র যেমন ট্যাংক, বিমান, কামান, রাইফেল এগুলা এক প্রকার ইফেক্টিভনেস হারিয়েছে। অর্ধশতাব্দী ধরে আমেরিকার বিশ্ব শাসনের মূলে ছিল এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার। একেকটি ক্যারিয়ার বানাতে আমেরিকার বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা লেগেছে। কিন্তু বিশ্ব এখন পূর্বের ধ্যান-ধারণা বা স্ট্রাটেজিতে নেই। খোদ আমেরিকা স্বীকার করছে তারা হাইপারসনিক মিসাইল প্রোগ্রামে পিছিয়ে পড়ছে। তাদের $২০ বিলিয়নের একেকটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার যেটুকু হেজমনি এতদিন সৃষ্টি করতে পারত, চীন, রাশিয়া, এমনকি ইরান ভিন্ন স্ট্রাটেজিতে এগিয়েছে। আমেরিকা স্বীকার করছে চীন চাইলে ১৫-২০ মিনিটে আমেরিকার সবকটি ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে পারে। তারাই বলছে এগুলা এখন ওল্ড টেক। এমনকি হুথিরাও লো টেক ব্যালিস্টিক মিসাইলের মাধ্যমে ইউএস ক্যারিয়ারকে ৪০০০ কিমি দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে। এই যাত্রায় নতুন মোড় নিয়েছে ড্রোন। ইরানের শাহেদ। এই ড্রোন কম খরুচে। কিন্তু টার্গেটে আঘাত করতে পারুক আর না পারুক শত্রুর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে কার্যত এক্সজস্ট করে দিতে সক্ষম। কামিকাজি ড্রোনের সোয়ার্ম অ্যাটাক ও ব্যালিস্টিক মিসাইলের কম্বিনেশন ইউএস এর থাড মিসাইলের ২৫% শেষ করেছে ইসরায়েল ইরানের মাত্র ১২ দিনের যুদ্ধেই। অর্থাৎ অতীতে আমেরিকার যে সামরিক হেজমনি ছিল সেটি বিশাল চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। কার্যত উন্নত প্রযুক্তির থাড মিসাইল হয়ত যুদ্ধ ২ মাস চললে স্টক সম্পূর্ণ খালি হয়ে পড়তে। এমনকি কম খরুচে প্যাট্রিয়টসেরও একই অবস্থা। এখানে মূল বার্তা হল, আমেরিকা যেভাবে হাই টেক কস্টলি ও ইফেক্টিব অস্ত্রে বিনিয়োগ করেছে প্রতিপক্ষ তার উলটা এপ্রোচে লো কস্ট অপশন বেছে নিয়েছে। এই বিষয়টি বুঝতে পেরে খোদ আমেরিকা শাহেদ ড্রোনের মার্কিন ভার্সন LUCAS ড্রোন সার্ভিসে এনেছে। এই সামরিক সক্ষমতা ও ভিন্ন ডাইমেনশন ও যুদ্ধ স্ট্রাটেজি আমেরিকাকেও আধুনিক যুদ্ধে ভালনারেবল করে ফেলেছে। ৩য় হেজমনির উৎস হল বৈশ্বিক মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি। এগুলো আমেরিকার বৈশ্বিক হেজমনি ধরে রাখার ও অন্য দেশকে চাপে রাখার মার্কিন সফট পাওয়ার এপ্লিকেশন টুলস। এর ভেতর আছে জাতিসংঘ, আইএমএফ, বিশ্ব ব্যাংক, ন্যাটো, জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠন, IAEA, WTO এর মত প্রতিষ্ঠান। এর ভেতর ইউএস এইডের মত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও রয়েছে। রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, মিত্র দেশগুলির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ। জাতিসংঘের মত সংস্থাগুলি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সেটাও মার্কিন ভূল পলিসির কারণে আর অহংকার করে অবৈধ ক্ষমতা প্রয়োগ করার কারণে। এই সংগঠন কার্যত মার্কিন স্বার্থ সবক্ষেত্রে সংরক্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়াও আমেরিকা নিজেও এরূপ সংস্থাগুলিকে বিতর্কিত করেছে। ইউনেস্কো থেকে বের হয়ে গেছে, জাতিসংঘে ফান্ডিং অফ করা, আইসিসি’র জাজদের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মত ঘটনা ঘটছে। মার্কিন স্বার্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে WTO এর মত প্রতিষ্ঠানকেও বাইপাস করা হচ্ছে। রাশিয়ার উপর মার্কিন সফট পাওয়ার কাজ না করাতে কার্যত আমেরিকা ডলারকে ব্যবহার করে নিজেদের ভবিষ্যৎ আরো অন্ধকার করেছে। অবশ্য অন্য টুলস কাজ না করাতে ডলারকে ব্যবহার করা ছাড়া তেমন অপশন ছিলনা আমেরিকার কাছে। সর্বশেষ হল ট্যারিফ। মোটামুটি আমেরিকা তার কাছে থাকা সব অস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে। ট্যারিফকে আমার শেষ অস্ত্র মনে হয়। কেন সেটা ব্যাখ্যা করি। ট্যারিফের মাধ্যমে আমেরিকা শত্রু মিত্র সকলকেই পানিশ করেছে। তবে ভাল ফল পেয়েছে। জাপান আমেরিকায় $৫০০ বিলিয়ন বিনিয়োগ করবে, ইইউ $৭৫০ বিলিয়ন, সৌদি $১০০০ বিলিয়ন, আমিরাত $১২০০ বিলিয়ন, কাতার $১৪০০ বিলিয়ন বিনিয়োগ কমিটমেন্ট দিয়েছে। হিসাব একটু উল্টাপাল্টা হতে পারে। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ থেকে আমেরিকা এমন কমিটমেন্ট নিচ্ছে। এটা হচ্ছে মার্কিন দৈন্য-দশার উলঙ্গ প্রতিচ্ছবি যা কোনভাবেই কাজ করবে না। ট্যারিফ ডাবল এজড সোর্ড। এর উভয়পাশেই কাটে। নিজ দেশে ইন্ডাস্ট্রি করা ভালো উদ্যোগ, তবে সেটা পলিটিক্যালি। ফ্যাক্টর এনডাউমেন্ট থিওরি বলে যে অঞ্চলের যেটা প্রাচুর্য সে অঞ্চলে সেটাই করা উচিত। এতে কস্ট কমে, ইফিসিয়েন্সি বাড়ে। আমেরিকার জন্য গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি করা যেমন বাস্তবিক নয়। আমেরিকাতে কোনো দেশ বিনিয়োগ করলে সে দেশকেও বিপদে পড়তে হতে পারে। কেন? আমেরিকাকে বাইরের দেশ থেকে কাঁচামাল আনতেই হবে। কোনো দেশ এক্ষেত্রে স্কয়ংসম্পূর্ণ নয়। যদি কানাডা আমেরিকায় বিনিয়োগ করবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সর্বনিন্ম ট্যারিফ ১৫% এ নামিয়ে আনতে পারে, তথাপি কানাডার ওই মার্কিন ফ্যাক্টরির কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। যে দেশ সেই পণ্য আমেরিকাকে রপ্তানি করবে, ট্যারিফের কারণে সেই দেশের ওই পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে আমেরিকার নিজের জন্যই। এখন হয়ত আমেরিকা চাইবে এই অতিরিক্ত খরচ রপ্তানিকারক দেশ বহন করুক। পণ্যের দাম না বাড়িয়ে রপ্তানিকারক দেশ উক্ত কাঁচামালের খরচ কমিয়ে আনতে গেলে সেটা সবক্ষেত্রে বাস্তবিক হয়না। ফলে ন্যাচারালি বাইরের দেশের উক্ত কোম্পানিকে মার্কিন বাজার থেকে শিফট হয়ে বিকল্প মার্কেট দেখা লাগতে পারে। এনিওয়ে, এটা মার্কিন পণ্যের দাম আরো বৃদ্ধি করবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয়ভাবেই। আর ইউএস ফ্যাক্টরির উৎপাদন খরচ বেশি হলে সেটা ইউএস এর বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তলানিতে পৌঁছাবে। ফলাফল চীনের চড়ুই পাখি হত্যার প্রকল্পের মতো। যারা ভাবছেন ট্যারিফ নিয়ে আমেরিকা জিতে গেল, বিষয়টি ঠিক তার উল্টা। ইউনিপোলার পাওয়ার ক্রাশিং। কিন্তু ইগো ধরে রাখতে গিয়ে আমেরিকা মূল সমস্যাগুলি এড্রেস করছে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের