ভারতে চাকরির পরীক্ষা যেভাবে ক্ষোভের কারণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ August, ২০২৬

ভারতে চাকরির পরীক্ষা যেভাবে ক্ষোভের কারণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ August, ২০২৬ |
অশোক কুমার বিশ্বাস করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একসময় তাঁর পরিবারের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর স্বল্পমূল্যে রান্নার গ্যাস, কৃষকদের সরাসরি ভর্তুকিসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা তাদের কৃষক পরিবারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। সেই কৃতজ্ঞতায় অশোকের মা-বাবা টানা তিনটি নির্বাচনে তাঁকে ভোট দেন। কিন্তু গত সপ্তাহে সেই ২৫ বছর বয়সী অশোক দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর এলাকায় মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন। ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে হওয়া এ আন্দোলন ভারতের ক্ষুব্ধ ও বঞ্চিত তরুণদের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। সরকার প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল করার পর আন্দোলনের সূত্রপাত। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ

পাওয়ায় ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অশোকের ছোট ভাই অভিষেকও ছিলেন। ভারতে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ এসব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। কূটনীতিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কেরানি থেকে শুরু করে বনরক্ষী– হাজারো সরকারি পদে নিয়োগ নির্ভর করে কঠিন এসব পরীক্ষার ওপর। লাখ লাখ শিক্ষার্থী বছরের পর বছর এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে এসব পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালের পর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে অন্তত দুই ডজন জাতীয় পরীক্ষার ফল বাতিল হয়েছে। তবে এবারের ঘটনা কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে। দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের

অভিযোগ, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা লাখো তরুণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলছে। সরকারি চাকরির নিরাপত্তার স্বপ্নই তাদের একমাত্র ভরসা। চার বছর আগে অশোক নিজের রাজ্য বিহার থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরবর্তী দিল্লিতে চলে আসেন। সেখানে স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার কোচিংয়ে ভর্তি হন। বহুবার চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। পরে তাঁর ছোট ভাই অভিষেকও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য দিল্লিতে যোগ দেন। এই দুই ভাইয়ের মতো হাজারো তরুণ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে– অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি, যুব বেকারত্ব, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম

বয়সী ভারতীয়দের বেকার হওয়ার আশঙ্কা দেশের গড় নাগরিকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। ফের আন্দোলন, সিজেপির সমর্থন এবার ঝাড়খণ্ডে চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীরা ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত এবং রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন এক ছাত্রনেতা। এ আন্দোলন সিজেপির সমর্থনও পেয়েছে। এর ফলে রাঁচিতে চলা বিক্ষোভ আরও জোরদার হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো। তিনি গত রোববার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম

এবং প্রশাসনিক গাফিলতির মতো যেসব ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, তার জের ধরেই এ বিক্ষোভের সূত্রপাত। শিক্ষার্থীদের মতে, এসব ঘটনায় বারবার তাদের ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের