মনজুরুল হক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও জিও পলিটিক্স বিশ্লেষক
আরও খবর
সক্ষমতা, সাহস, সম্মান এবং শৈলী
মাত্র তিনমাসে নতুন করে ১ কোটি মানুষ দরিদ্র্য হয়েছে
গুম কমিশনের নাবিলা ইদ্রিসের গুপ্তচর জীবনের আখ্যান: আর্টিকেল-১৯ এর প্রতিবেদন
র্যাবের হেলিকপ্টার কি ছয়তলার উচ্চতায় নেমে এসেছিল?
দল নির্বাচনে সম্পৃক্ত হই না
ক্ষমতা গেলে সবার আগে পল্টি দেন তারকা রাজনীতিবিদরা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যতিক্রম?
জুলাইতে মার্কিন দূতাবাসের সেফ হাউসে মজহার শিষ্যদের মগজ ধোলাইপর্ব এবং বেহাত বিপ্লব
জিও-পলিটিক্যাল জটিল সমীকরণ এর কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ
এবার কি খোদ সরকার চাইবে শেখ হাসিনা আসুক!
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা R&AW প্রধান পরাগ জৈন চার সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকা সফর করে গেলেন। সফর সম্পর্কে আজ বাংলাদেশ অফিসিয়াল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পরাগ জৈন-এর ঢাকা সফর, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক, এরও আগে মার্কিন বিশেষ রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সফর। সব মিলিয়ে বেশ একটা ‘ম্যারাথন ডিপ্লোম্যাসি’র মত হয়ে গেল।
📍
পরাগ জৈনের সফল নিয়ে দুদেশের মিডিয়া ঝেড়ে কাশছে না। বাংলাদেশের মিডিয়া সফরের খুটিনাটি বিশদে বললেও কে কী বলেছেন তা প্রকাশ করেনি। ভারতের কিছু মিডিয়া ‘সম্ভবত’ ‘হতে পারে’ কোট আন কোট-এ বেশ কিছু কথা লিখেছে, তবে তা
কোনো দিকনির্দেশ করে না। যেমন ‘সম্পর্কের বরফ কি গলছে?’ কিংবা ‘শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে প্রত্যাবর্তনের বিভিন্ন নিরাপত্তা বিষয়াদি খতিয়ে দেখতে’… এসবও বলা হয়েছে। তবে দুপক্ষের কেউই শর্টস খেলেননি। কেবল ফরওয়ার্ড ডিফেন্সিভই খেলে যাচ্ছে। কোনো কোনো মিডিয়া আগবেড়ে বলছে, ‘শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ‘র’ চিফ ভারতের পরারাষ্ট্র কৌশল জানিয়ে দিয়েছেন’। 📍 ১১ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা তার আগের তাচ্ছিল্যপূর্ণ ঠোঁঠ ওল্টানো ভূমিকা থেকে হঠাৎই বিরাট আইনজ্ঞের মত একে ‘স্বাভাবিক এনগেজমেন্ট’ বলেছেন। ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর গোপন কিছু নয়। বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।‘ তিনি আরও জানান-‘ওই কর্মকর্তা চীন থেকে ঢাকা এসেছেন এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা
সংস্থার কাউন্টারপার্টদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ স্বাভাবিক।’ 📍 সেই তিনিই আবার বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে আসেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পাবেন।‘ অথচ তিনি এবং তার মত অনেকেই পনের দিন আগেও দেশে ফিরতে চাইলে শেখ হাসিনাকে কী কী করা হবে তার বিরাট ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। পাঠক সেসব জানেন, তাই উল্লেখ করা হলো না। 📍 এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠক এমন সময় হলো যখন গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে দু’দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। 📍 বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার এখনও তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে
অনড়। ঢাকার দাবি হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারতের পুলিশ গ্রেফতার করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিক। কিন্তু শেখ হাসিনা ভারতের কাছে একজন অতিথি। তিনি পলাতক ব্যক্তি হিসেবে ভারতে আসেননি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান তাঁকে দিল্লি পৌঁছে দিয়ে গিয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে হস্তান্তর সম্ভব নয়, নয়া দিল্লির তরফে সে কথা একাধিকবার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 📍 বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতর থেকে লেবু চিপে তেতো করার মত শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পনের জন্য একাধিক চিঠি দিয়েছে। বরাবরই ভারতীয় পক্ষ বলে এসেছে- তারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। এর অর্থ সহজেই বোঝা যায় যে ভারত কখনওই শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পন করবে না। সেটা নিয়ে আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পাটের রশি পাকানোর মত পাকাতে চেয়ে নিজেই আটকে গেছেন। ভারত বলছে-‘প্রত্যাবর্তন’, বাংলাদেশ বলছে-‘প্রত্যার্পণ’। 📍 এই দুটো বিষয়কে আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা এমন এক দাবার চাল চেলে দিয়েছেন যাতে ভারতের ‘রাজা’ বেঁচে গেলেও বাংলাদেশরটা পড়েছে বিপদে। “একজন নাগরিক নিজ জন্মভূমিতে ফিরতে চেয়েছে, অথচ সরকার তাঁকে ফিরতে দিচ্ছে না।“ এই বিষয়টা আন্তর্জাতিক স্তরে সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। আবার তিনি ফিরে আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন পেলে বিরোধীরা সরকারের টুঁটি চেপে ধরবে। ওদিকে আদালতের ‘অবৈধ’ বিচার ও রায়ে শেখ হাসিনার সাজা কার্যকর করতে গেলে বিশ্বজনমত সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাবে। অথচ সেই জনমতকে তোয়াক্কা না করে তারেক সরকারের উপায় নেই, কেননা সরকারের ভাড়ার শূন্য। খাদ্য, পণ্য, জ্বালানি,
গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার সংকটে দেশের জেরবার দশা। সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ভারত ছাড়া আর কেউ মেটাতে আসছে না। না পাকিস্তান, না চীন, না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, না তুরস্ক। সুতরাং গিলতে তেতো লাগলেও এই মুহূর্তে তারেক রহমান সরকারকে ভারতের কথা শুনতেই হবে। তথ্য উপদেষ্টার নরোম সুরের মাজেজা এখানেই। 📍 অনেকে বলছেন ভারত কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। কথাটি ঠিক নয়। ভারতের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী তারা পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের ওপর কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয় না। তাই পরাগ জৈন এসেই ভিনি-ভিডি-ভিসি করে গেলেন ব্যাপারটা এমন নয়। পরাগ জৈনকে সৌম্যকান্তির গোবেচারা টাইপ ভদ্দরলোক মনে হচ্ছে তো? তার ডোশিয়ার জানলে রক্ত হিম হয়ে যাবে। থাকগে, সেসব এই পোস্টের বিষয় নয়। 📍 তবে ভারত চাইছে শেখ
হাসিনা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার। নয়া দিল্লি এই ব্যাপারে ঢাকার কাছে তিনটি বিষয় প্রত্যাশা করে- এক. হাসিনাকে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাস ইস্যু করুক ঢাকা। দুই. হাসিনা নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। তিন. ফেরার পর তিনি যেন আইন আদালতে ন্যায়বিচার পান তার নিশ্চয়তা। এই বিষয়গুলো আভাসে জানানো হতে পারে। তবে এখনই যে তা শর্তাকারে দেওয়া হয়নি সেটি নিশ্চিত। 📍 মিডিয়ার বর্ণিত ‘বরফ গলছে’ অ্যাটমোস্ফীয়ারের মধ্যেই আবার ‘পণ্ডিতি করে’ তথ্য উপদেষ্টা আপারহ্যান্ডে থাকার বাসনায় বলেছেন, “আগে ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেভাবে কাজ করে থাকুক, সেই ধরনের অ্যাটিটিউড এখন আর হতে পারবে না। বাংলাদেশে এখন জনগণের নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ এই সরকারের নেই।“ 📍 ডিপ্লোম্যাসিতে শিক্ষানবীশ জাহেদ যে অ্যাটিটিউডের কথা বলেছেন তা অনেক আগেই ভারতের সাউথ ব্লকের ওয়েস্টপেপার বাস্কেটে ঠাঁই পেয়েছে। ইনুসের আইন উপদেষ্টা সেসময় এমনভাবে হুমকি দিতেন যেন বিশ্বের তাবত পুলিশ শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে গ্রেফতার করে নজরুলের হাতে সোপর্দ করবে! বাংলাদেশ-ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তির ধারা ও উপধারা এবং ২০১৩ সালে সংযোজিত নতুন ধারাগুলো পড়লে তিনি জানতেন; চিঠি লিখতে লিখতে ‘জনগন্ময় মিত্র’ হয়ে গেলেও ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরৎ পাঠাবে না। 📍 এখন আবার সেই নজরুলের আপারহ্যান্ডসিন্ড্রোম ডা. জাহেদকে ভর করেছে! তিনি ‘অ্যাটিটিউড’-এর ছবক দিতে চেয়ে পরমুহূর্তেই ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। 📍 এবার একটা পিলে চমকানো সম্ভবনার কথা বলি- তারেক রহমান সরকার যে সংকটে জড়িয়ে পড়েছে, সেখান থেকে এই সরকারকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র শেখ হাসিনা! চমকে উঠলেন তো? খুলে বলিঃ ১। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পনের পর তাঁকে ফাঁসি দিলে দেশজুড়ে যে আফটারশক্ ঘটতে পারে তা সামাল দিতে পারবে না সরকার। ২। যেহেতু ইতোমধ্যে পরাশক্তিধর কয়েকটি দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো আইসিটি আদালতের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার পর যদি সেই আদালতের রায় কার্যকর করা হয় তাহলে সরকারকে বিশ্বপরিসরে জাবাবদিহি করতে হবে। ৩। জামায়াত-এনসিপি ফাঁসির দাবীতে অটল থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধরে নেবে তারেক সরকার জামায়াতের ঘেরাটোপে বন্দী। অ্যাপ্লাই হবে ‘ওয়ার অন টেরর’। সার্জিও গোরের ঠাণ্ডা সফর অনেককিছুর ইঙ্গিত দেয়। ডিসেম্বরে ট্রাম্পের মিডটার্ম ভোট। সুতরাং এ সময় সাহায্য, ডলার আসবে না। ৪। তারেক রহমানকে ভাবতে হবে আওয়ামী লীগের বুস্টআপ আফটারশক্ বেশি সমস্যা না জামায়াত-এনসিপির হুঙ্কার বেশি সমস্যা? ৫। ননডিসক্লোজার চুক্তির ফলে আমেরিকা যা পাওয়ার তা পেয়েছে। বাংলাোদেশে সোনার খনি নেই যে তার লোভে তারা নতুন করে ভারতকে বিপক্ষে ঠেলে দেবে। ৬। চীন তারেক সরকারকে ২০ কেন ২০০ মিলিয়ন দেবে, কিন্তু তা অনুদান নয়, ঋণ। সেই চীন চাইবে না শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত-রাশিয়ার সঙ্গে বিবাদ বাঁধিয়ে আমেরিকার হাত শক্তিশালী হোক। ৭। চীনের শত্রু আমেরিকা, আবার চীন-ভারতের ব্রিক্সের শত্রুও আমেরিকা। চীন সরাসরি তারেক সরকারের পক্ষে গেলে ভারত-আমেরিকা বাংলাদেশকে ‘কোয়াড’-এ নিয়ে চীনের সর্বনাশ করতে পারে। ওদিকে আমেরিকা মিয়ানমারে বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহার করে হস্তক্ষেপ করতে গেলে রাশিয়া-চীন রুখে দাঁড়াবে। সুতরাং আমেরিকার জন্য ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতকে চটিয়ে চীন-ভারত-রাশিয়া অক্ষশক্তির সঙ্গে টাগ অব ওয়ারে যাওয়া লোকসান। 📍 এই জটিল সমীকরণের একমাত্র সমাধান বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি। ইনক্লুসিভ মিনস ইনক্লুসিভই। এবং তা ‘৩ জনের সকল দল’ নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের নিজ নিজ দলে অংশগ্রহণের ডেমোক্র্যাসি। মনে রাখতে হবে মার্কিনিরা আজ অবধি বিশ্বের যতো জায়গায় ‘কালার রেভ্যুলুশন’ ঘটিয়েছে, তার কোনোটিতেই প্রথম সরকার টেকেনি। অর্থাৎ তারা কালার রেভ্যুলুশনের ইনভেস্টমেন্ট উঠে আসলেই সেই সরকারকে ফেলে দিয়েছে। ©️Monjurul Haque 12th August 2026
কোনো দিকনির্দেশ করে না। যেমন ‘সম্পর্কের বরফ কি গলছে?’ কিংবা ‘শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে প্রত্যাবর্তনের বিভিন্ন নিরাপত্তা বিষয়াদি খতিয়ে দেখতে’… এসবও বলা হয়েছে। তবে দুপক্ষের কেউই শর্টস খেলেননি। কেবল ফরওয়ার্ড ডিফেন্সিভই খেলে যাচ্ছে। কোনো কোনো মিডিয়া আগবেড়ে বলছে, ‘শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ‘র’ চিফ ভারতের পরারাষ্ট্র কৌশল জানিয়ে দিয়েছেন’। 📍 ১১ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা তার আগের তাচ্ছিল্যপূর্ণ ঠোঁঠ ওল্টানো ভূমিকা থেকে হঠাৎই বিরাট আইনজ্ঞের মত একে ‘স্বাভাবিক এনগেজমেন্ট’ বলেছেন। ‘র’ প্রধানের বাংলাদেশ সফর গোপন কিছু নয়। বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।‘ তিনি আরও জানান-‘ওই কর্মকর্তা চীন থেকে ঢাকা এসেছেন এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা
সংস্থার কাউন্টারপার্টদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ স্বাভাবিক।’ 📍 সেই তিনিই আবার বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে আসেন, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পাবেন।‘ অথচ তিনি এবং তার মত অনেকেই পনের দিন আগেও দেশে ফিরতে চাইলে শেখ হাসিনাকে কী কী করা হবে তার বিরাট ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। পাঠক সেসব জানেন, তাই উল্লেখ করা হলো না। 📍 এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠক এমন সময় হলো যখন গত বুধবার দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে দু’দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। 📍 বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার এখনও তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে
অনড়। ঢাকার দাবি হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ভারতের পুলিশ গ্রেফতার করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দিক। কিন্তু শেখ হাসিনা ভারতের কাছে একজন অতিথি। তিনি পলাতক ব্যক্তি হিসেবে ভারতে আসেননি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমান তাঁকে দিল্লি পৌঁছে দিয়ে গিয়েছে। এমন একজন ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ চুক্তি মেনে হস্তান্তর সম্ভব নয়, নয়া দিল্লির তরফে সে কথা একাধিকবার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 📍 বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতর থেকে লেবু চিপে তেতো করার মত শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পনের জন্য একাধিক চিঠি দিয়েছে। বরাবরই ভারতীয় পক্ষ বলে এসেছে- তারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। এর অর্থ সহজেই বোঝা যায় যে ভারত কখনওই শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পন করবে না। সেটা নিয়ে আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পাটের রশি পাকানোর মত পাকাতে চেয়ে নিজেই আটকে গেছেন। ভারত বলছে-‘প্রত্যাবর্তন’, বাংলাদেশ বলছে-‘প্রত্যার্পণ’। 📍 এই দুটো বিষয়কে আমলে নিয়ে শেখ হাসিনা এমন এক দাবার চাল চেলে দিয়েছেন যাতে ভারতের ‘রাজা’ বেঁচে গেলেও বাংলাদেশরটা পড়েছে বিপদে। “একজন নাগরিক নিজ জন্মভূমিতে ফিরতে চেয়েছে, অথচ সরকার তাঁকে ফিরতে দিচ্ছে না।“ এই বিষয়টা আন্তর্জাতিক স্তরে সরকারকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে। আবার তিনি ফিরে আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন পেলে বিরোধীরা সরকারের টুঁটি চেপে ধরবে। ওদিকে আদালতের ‘অবৈধ’ বিচার ও রায়ে শেখ হাসিনার সাজা কার্যকর করতে গেলে বিশ্বজনমত সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাবে। অথচ সেই জনমতকে তোয়াক্কা না করে তারেক সরকারের উপায় নেই, কেননা সরকারের ভাড়ার শূন্য। খাদ্য, পণ্য, জ্বালানি,
গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার সংকটে দেশের জেরবার দশা। সেটা তাৎক্ষণিকভাবে ভারত ছাড়া আর কেউ মেটাতে আসছে না। না পাকিস্তান, না চীন, না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, না তুরস্ক। সুতরাং গিলতে তেতো লাগলেও এই মুহূর্তে তারেক রহমান সরকারকে ভারতের কথা শুনতেই হবে। তথ্য উপদেষ্টার নরোম সুরের মাজেজা এখানেই। 📍 অনেকে বলছেন ভারত কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। কথাটি ঠিক নয়। ভারতের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী তারা পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের ওপর কোনো শর্ত চাপিয়ে দেয় না। তাই পরাগ জৈন এসেই ভিনি-ভিডি-ভিসি করে গেলেন ব্যাপারটা এমন নয়। পরাগ জৈনকে সৌম্যকান্তির গোবেচারা টাইপ ভদ্দরলোক মনে হচ্ছে তো? তার ডোশিয়ার জানলে রক্ত হিম হয়ে যাবে। থাকগে, সেসব এই পোস্টের বিষয় নয়। 📍 তবে ভারত চাইছে শেখ
হাসিনা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে চাওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার। নয়া দিল্লি এই ব্যাপারে ঢাকার কাছে তিনটি বিষয় প্রত্যাশা করে- এক. হাসিনাকে দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাস ইস্যু করুক ঢাকা। দুই. হাসিনা নিরাপদে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। তিন. ফেরার পর তিনি যেন আইন আদালতে ন্যায়বিচার পান তার নিশ্চয়তা। এই বিষয়গুলো আভাসে জানানো হতে পারে। তবে এখনই যে তা শর্তাকারে দেওয়া হয়নি সেটি নিশ্চিত। 📍 মিডিয়ার বর্ণিত ‘বরফ গলছে’ অ্যাটমোস্ফীয়ারের মধ্যেই আবার ‘পণ্ডিতি করে’ তথ্য উপদেষ্টা আপারহ্যান্ডে থাকার বাসনায় বলেছেন, “আগে ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেভাবে কাজ করে থাকুক, সেই ধরনের অ্যাটিটিউড এখন আর হতে পারবে না। বাংলাদেশে এখন জনগণের নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ এই সরকারের নেই।“ 📍 ডিপ্লোম্যাসিতে শিক্ষানবীশ জাহেদ যে অ্যাটিটিউডের কথা বলেছেন তা অনেক আগেই ভারতের সাউথ ব্লকের ওয়েস্টপেপার বাস্কেটে ঠাঁই পেয়েছে। ইনুসের আইন উপদেষ্টা সেসময় এমনভাবে হুমকি দিতেন যেন বিশ্বের তাবত পুলিশ শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে গ্রেফতার করে নজরুলের হাতে সোপর্দ করবে! বাংলাদেশ-ভারতের বন্দী বিনিময় চুক্তির ধারা ও উপধারা এবং ২০১৩ সালে সংযোজিত নতুন ধারাগুলো পড়লে তিনি জানতেন; চিঠি লিখতে লিখতে ‘জনগন্ময় মিত্র’ হয়ে গেলেও ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরৎ পাঠাবে না। 📍 এখন আবার সেই নজরুলের আপারহ্যান্ডসিন্ড্রোম ডা. জাহেদকে ভর করেছে! তিনি ‘অ্যাটিটিউড’-এর ছবক দিতে চেয়ে পরমুহূর্তেই ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। 📍 এবার একটা পিলে চমকানো সম্ভবনার কথা বলি- তারেক রহমান সরকার যে সংকটে জড়িয়ে পড়েছে, সেখান থেকে এই সরকারকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র শেখ হাসিনা! চমকে উঠলেন তো? খুলে বলিঃ ১। শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পনের পর তাঁকে ফাঁসি দিলে দেশজুড়ে যে আফটারশক্ ঘটতে পারে তা সামাল দিতে পারবে না সরকার। ২। যেহেতু ইতোমধ্যে পরাশক্তিধর কয়েকটি দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো আইসিটি আদালতের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার পর যদি সেই আদালতের রায় কার্যকর করা হয় তাহলে সরকারকে বিশ্বপরিসরে জাবাবদিহি করতে হবে। ৩। জামায়াত-এনসিপি ফাঁসির দাবীতে অটল থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ধরে নেবে তারেক সরকার জামায়াতের ঘেরাটোপে বন্দী। অ্যাপ্লাই হবে ‘ওয়ার অন টেরর’। সার্জিও গোরের ঠাণ্ডা সফর অনেককিছুর ইঙ্গিত দেয়। ডিসেম্বরে ট্রাম্পের মিডটার্ম ভোট। সুতরাং এ সময় সাহায্য, ডলার আসবে না। ৪। তারেক রহমানকে ভাবতে হবে আওয়ামী লীগের বুস্টআপ আফটারশক্ বেশি সমস্যা না জামায়াত-এনসিপির হুঙ্কার বেশি সমস্যা? ৫। ননডিসক্লোজার চুক্তির ফলে আমেরিকা যা পাওয়ার তা পেয়েছে। বাংলাোদেশে সোনার খনি নেই যে তার লোভে তারা নতুন করে ভারতকে বিপক্ষে ঠেলে দেবে। ৬। চীন তারেক সরকারকে ২০ কেন ২০০ মিলিয়ন দেবে, কিন্তু তা অনুদান নয়, ঋণ। সেই চীন চাইবে না শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারত-রাশিয়ার সঙ্গে বিবাদ বাঁধিয়ে আমেরিকার হাত শক্তিশালী হোক। ৭। চীনের শত্রু আমেরিকা, আবার চীন-ভারতের ব্রিক্সের শত্রুও আমেরিকা। চীন সরাসরি তারেক সরকারের পক্ষে গেলে ভারত-আমেরিকা বাংলাদেশকে ‘কোয়াড’-এ নিয়ে চীনের সর্বনাশ করতে পারে। ওদিকে আমেরিকা মিয়ানমারে বাংলাদেশ ভূখণ্ড ব্যবহার করে হস্তক্ষেপ করতে গেলে রাশিয়া-চীন রুখে দাঁড়াবে। সুতরাং আমেরিকার জন্য ইন্দোপ্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতকে চটিয়ে চীন-ভারত-রাশিয়া অক্ষশক্তির সঙ্গে টাগ অব ওয়ারে যাওয়া লোকসান। 📍 এই জটিল সমীকরণের একমাত্র সমাধান বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি। ইনক্লুসিভ মিনস ইনক্লুসিভই। এবং তা ‘৩ জনের সকল দল’ নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের নিজ নিজ দলে অংশগ্রহণের ডেমোক্র্যাসি। মনে রাখতে হবে মার্কিনিরা আজ অবধি বিশ্বের যতো জায়গায় ‘কালার রেভ্যুলুশন’ ঘটিয়েছে, তার কোনোটিতেই প্রথম সরকার টেকেনি। অর্থাৎ তারা কালার রেভ্যুলুশনের ইনভেস্টমেন্ট উঠে আসলেই সেই সরকারকে ফেলে দিয়েছে। ©️Monjurul Haque 12th August 2026



