ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
‘মানসিকভাবে শক্ত থাকো’, বাবাকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন মেসিকে রোনালদোর সমবেদনা
বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়ে মিয়ামিতে ফিরলেন মেসি
বাংলাদেশের বিপক্ষে নামার আগের দিনই একাদশ জানিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া
ভারতীয় মালিকানাধীন দল দুবাই ক্যাপিটালসেই থাকছেন মোস্তাফিজ
বাংলাদেশ সফরে না এসে আফগানিস্তানের সঙ্গে সিরিজ খেলবে ভারত
বাংলাদেশ দলেরই আমাকে প্রয়োজন আছে: সাকিব
আইসিসির বিশ্বকাপ ফরম্যাট পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের
২৩ বছর পর সেই ডারউইনে নতুন শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ
২৩ বছর আগে যে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট যাত্রা শুরু হয়েছিল, আবারও সেই স্মৃতিঘেরা শহরেই ফিরেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০৩ সালে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা।
এরপর কেটে গেছে দুই যুগেরও বেশি সময়। বদলেছে দুই দলের প্রজন্ম, বদলেছে ক্রিকেটের ধরন এবং একই সঙ্গে বদলেছে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থান ও পরিচয়ও।
কিন্তু দীর্ঘ এই দুই যুগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আর সাদা পোশাকে নামার সুযোগ পাননি টাইগাররা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার সেই ডারউইনেই বিরতি ভাঙার উপলক্ষ তৈরি হয়েছে।
তবে নতুন শুরুর অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশকে ডারউইনে কিছুটা অস্বস্তি নিয়েই মাঠে নামতে হচ্ছে। সিরিজের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র
৫৪ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে পুরোনো শঙ্কাটাই যেন আবার নতুন করে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে বাংলাদেশের সামনে এবার নিজেদের নতুন করে চেনানোর সুযোগ। একই সঙ্গে ২০০৩ সালের সেই হতাশার স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন কোনো গৌরবময় গল্প লেখার হাতছানিও থাকছে শান্তদের সামনে। ২০০৩ সালের সেই সফরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন স্টিভ ওয়াহ আর বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ডারউইনের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া ৪০৭ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয়
ইনিংসে বাংলাদেশ ১৭৮ রানে থামলে ম্যাচটি ইনিংস ও ১৩২ রানে হারে। কেয়ার্নসে দ্বিতীয় টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয় দল। তৎকালীন সেই সফরের দলের দুই অন্যতম সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার সুমন, যারা দুজনই এখন জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশরাফুল বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাটিং কোচ হিসেবে আর হাবিবুল বাশার সুমন রয়েছেন নির্বাচক প্যানেলের প্রধান হিসেবে। বৃহস্পতিবার সকালে ডারউইনে গড়াতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বছর আগের অভিজ্ঞতা ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠতেই শান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচকের সঙ্গে এটাই কথা হচ্ছিল যে এখন
আর সেই ২৩ বছর আগের মতো এই দলটা নাই। ওনার এই বিশ্বাস আছে এই দলটার উপরে। অনুশীলন ম্যাচের একটা খারাপ দিন যেতেই পারে, তবে আমি বিশ্বাস করি এমন দিন টেস্ট ম্যাচে আসবে না।’ ২৩ বছর আগের অভিজ্ঞতা আর আজকের বাংলাদেশের অবস্থান এক নয়। ২০০৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা ছিল মাত্র কয়েক বছরের। কিন্তু এখন ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা ঝুলিতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত শান্তরা। এর মধ্যে অজিদের হারানোর অনন্য সুখস্মৃতিও রয়েছে লাল-সবুজদের। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই দলের এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫টি টেস্টের
মুখোমুখি লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় চারটি এবং বাংলাদেশের জয় একটি। মিরপুরের সেই স্মরণীয় জয়টিই ডারউইনে শান্তদের জন্য অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। যদিও এবার লড়াইটা বাংলাদেশের চেনা কন্ডিশনে নয়। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাড়তি পেস ও বাউন্স সামলানোই হবে ব্যাটারদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা কঠিন করে তুলতে প্রস্তুত স্বাগতিকদের বিশ্বসেরা পেস আক্রমণ। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে রয়েছেন অভিজ্ঞ নাথান লায়ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চারজনই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রথম কাজ হবে নতুন বলের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইনিংসকে বড় রূপ দেওয়া। অস্ট্রেলিয়ার এই ধারালো বোলিং আক্রমণের সামনে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারবে, তা নিয়ে বেশ সংশয়
প্রকাশ করা হয়েছে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমেও। পরিস্থিতি এমন যে ডারউইন টেস্ট কতদিনে গড়াবে, ম্যাচের ফল আসার আগেই তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে অজি সংবাদমাধ্যমে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই হয়তো সেখানকার কিছু গণমাধ্যম ম্যাচের স্থায়িত্ব নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছে না। তবে মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট অস্ট্রেলিয়ার চিরাচরিত অন্যান্য পেসবান্ধব ভেন্যুগুলোর মতো কঠিন নয়। এখানে পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদেরও সুবিধা পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতেও ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটি বেশ ভালো হতে পারে। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচের তেতো অভিজ্ঞতা খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না দলকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যাওয়া সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল
বাংলাদেশ। পেসার ক্যাম্পবেল থমসনের তোপের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে অফ স্পিনার কোরি রকিচিওলির বোলিংয়েও রীতিমতো ভুগতে হয়েছিল লাল-সবুজের ব্যাটারদের। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মূল দলের ধারালো বোলিং আক্রমণের মুখে বাংলাদেশের কাজটা যে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রতিপক্ষকে একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বরং বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর কণ্ঠে পাওয়া গেল সজাগ ও সতর্ক বার্তা, ‘নিশ্চিত নই (বাংলাদেশের এই দলকে কীভাবে রেট করবেন), হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর আমাকে জিজ্ঞেস করলে আরও কিছু জানাতে পারব। তবে হ্যাঁ, ওরা এমন একটি দল, যাদের বিরুদ্ধে কোনো আইসিসি ইভেন্টে নামলে বেশ নার্ভাস লাগতেই পারে, কারণ ওদের দলে কিছু বড় মাপের খেলোয়াড় আছে।’ বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরার জন্য পুরোপুরি ফিট উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ অভিজ্ঞ সেনানিদের ওপর ভরসা রাখছে দল। একই সঙ্গে তরুণ পেস ইউনিট অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কতটা কার্যকারিতা দেখাতে পারে, সেটাও ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে যাচ্ছে। নাহিদ রানা না থাকায় সফরকারীদের বোলিং আক্রমণের মূল দায়িত্ব সামলাতে হবে অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদকেই। তার সঙ্গে পেস ইউনিটে আছেন হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদরা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের বাড়তি গতি ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে শুরুতেই স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারলে দলের জন্য সুবিধা হবে। নতুন বলে তাসকিন-হাসানের নিয়ন্ত্রিত শুরুর পর এবাদতের গতিময় বোলিং বাংলাদেশকে মোমেন্টাম এনে দিতে পারে। আর উইকেটে স্পিনের সুবিধা থাকলে বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। ম্যাচে আলাদা নজর থাকবে দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও প্যাট কামিন্সের দিকেও। দুজনের পরিচালনার কৌশল ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই; ডারউইন টেস্টে দলকে এগিয়ে নেওয়া। শান্তর ওপর চাপটা একটু বেশিই, কারণ অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চার নম্বরে ব্যাট হাতেও কঠিন কন্ডিশনে দলকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব তার। অন্যদিকে কামিন্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার সাথে সাথে অজিদের পেস আক্রমণের মূল বাণটি ছুড়তে হবে। নতুন বলে কামিন্সের গতি ও বাউন্স সামলানোই হবে ম্যাচের শুরুতে সফরকারী ব্যাটারদের প্রধান পরীক্ষা। ২৩ বছর আগে এই ডারউইনেই ৯৭ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পা রেখেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ সময় পর সেই একই মাঠে এবার খেলতে নামছে অনেক বেশি পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ এক দল। পরিসংখ্যানে স্বাগতিকরা অনেক এগিয়ে থাকলেও মাঠের খেলায় নামার পর অতীত রেকর্ড কেবলই সংখ্যা। দুই যুগের পুরোনো সেই আক্ষেপ ও হতাশার স্মৃতি পেছনে ফেলে প্রথম বল থেকেই এবার নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায় শান্তর দল।
৫৪ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে পুরোনো শঙ্কাটাই যেন আবার নতুন করে সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরে বাংলাদেশের সামনে এবার নিজেদের নতুন করে চেনানোর সুযোগ। একই সঙ্গে ২০০৩ সালের সেই হতাশার স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন কোনো গৌরবময় গল্প লেখার হাতছানিও থাকছে শান্তদের সামনে। ২০০৩ সালের সেই সফরে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন স্টিভ ওয়াহ আর বাংলাদেশের নেতৃত্বে ছিলেন খালেদ মাহমুদ সুজন। ডারউইনের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া ৪০৭ রান করে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। দ্বিতীয়
ইনিংসে বাংলাদেশ ১৭৮ রানে থামলে ম্যাচটি ইনিংস ও ১৩২ রানে হারে। কেয়ার্নসে দ্বিতীয় টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয় দল। তৎকালীন সেই সফরের দলের দুই অন্যতম সদস্য ছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও হাবিবুল বাশার সুমন, যারা দুজনই এখন জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আশরাফুল বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাটিং কোচ হিসেবে আর হাবিবুল বাশার সুমন রয়েছেন নির্বাচক প্যানেলের প্রধান হিসেবে। বৃহস্পতিবার সকালে ডারউইনে গড়াতে যাওয়া প্রথম টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে মুখোমুখি হন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ২৩ বছর আগের অভিজ্ঞতা ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উঠতেই শান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচকের সঙ্গে এটাই কথা হচ্ছিল যে এখন
আর সেই ২৩ বছর আগের মতো এই দলটা নাই। ওনার এই বিশ্বাস আছে এই দলটার উপরে। অনুশীলন ম্যাচের একটা খারাপ দিন যেতেই পারে, তবে আমি বিশ্বাস করি এমন দিন টেস্ট ম্যাচে আসবে না।’ ২৩ বছর আগের অভিজ্ঞতা আর আজকের বাংলাদেশের অবস্থান এক নয়। ২০০৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা ছিল মাত্র কয়েক বছরের। কিন্তু এখন ২৬ বছরের অভিজ্ঞতা ঝুলিতে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শক্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত শান্তরা। এর মধ্যে অজিদের হারানোর অনন্য সুখস্মৃতিও রয়েছে লাল-সবুজদের। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। দুই দলের এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫টি টেস্টের
মুখোমুখি লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় চারটি এবং বাংলাদেশের জয় একটি। মিরপুরের সেই স্মরণীয় জয়টিই ডারউইনে শান্তদের জন্য অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। যদিও এবার লড়াইটা বাংলাদেশের চেনা কন্ডিশনে নয়। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাড়তি পেস ও বাউন্স সামলানোই হবে ব্যাটারদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা কঠিন করে তুলতে প্রস্তুত স্বাগতিকদের বিশ্বসেরা পেস আক্রমণ। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজলউডের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে রয়েছেন অভিজ্ঞ নাথান লায়ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চারজনই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রথম কাজ হবে নতুন বলের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ইনিংসকে বড় রূপ দেওয়া। অস্ট্রেলিয়ার এই ধারালো বোলিং আক্রমণের সামনে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারবে, তা নিয়ে বেশ সংশয়
প্রকাশ করা হয়েছে অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমেও। পরিস্থিতি এমন যে ডারউইন টেস্ট কতদিনে গড়াবে, ম্যাচের ফল আসার আগেই তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে অজি সংবাদমাধ্যমে। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলেই হয়তো সেখানকার কিছু গণমাধ্যম ম্যাচের স্থায়িত্ব নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছে না। তবে মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট অস্ট্রেলিয়ার চিরাচরিত অন্যান্য পেসবান্ধব ভেন্যুগুলোর মতো কঠিন নয়। এখানে পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদেরও সুবিধা পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতেও ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটি বেশ ভালো হতে পারে। যদিও প্রস্তুতি ম্যাচের তেতো অভিজ্ঞতা খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না দলকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যাওয়া সেই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল
বাংলাদেশ। পেসার ক্যাম্পবেল থমসনের তোপের পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে অফ স্পিনার কোরি রকিচিওলির বোলিংয়েও রীতিমতো ভুগতে হয়েছিল লাল-সবুজের ব্যাটারদের। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মূল দলের ধারালো বোলিং আক্রমণের মুখে বাংলাদেশের কাজটা যে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে প্রতিপক্ষকে একেবারেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বরং বাংলাদেশকে নিয়ে তাঁর কণ্ঠে পাওয়া গেল সজাগ ও সতর্ক বার্তা, ‘নিশ্চিত নই (বাংলাদেশের এই দলকে কীভাবে রেট করবেন), হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর আমাকে জিজ্ঞেস করলে আরও কিছু জানাতে পারব। তবে হ্যাঁ, ওরা এমন একটি দল, যাদের বিরুদ্ধে কোনো আইসিসি ইভেন্টে নামলে বেশ নার্ভাস লাগতেই পারে, কারণ ওদের দলে কিছু বড় মাপের খেলোয়াড় আছে।’ বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো, চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরার জন্য পুরোপুরি ফিট উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ, মুশফিকুর রহিম, তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ অভিজ্ঞ সেনানিদের ওপর ভরসা রাখছে দল। একই সঙ্গে তরুণ পেস ইউনিট অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কতটা কার্যকারিতা দেখাতে পারে, সেটাও ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে যাচ্ছে। নাহিদ রানা না থাকায় সফরকারীদের বোলিং আক্রমণের মূল দায়িত্ব সামলাতে হবে অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদকেই। তার সঙ্গে পেস ইউনিটে আছেন হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদরা। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের বাড়তি গতি ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে শুরুতেই স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারলে দলের জন্য সুবিধা হবে। নতুন বলে তাসকিন-হাসানের নিয়ন্ত্রিত শুরুর পর এবাদতের গতিময় বোলিং বাংলাদেশকে মোমেন্টাম এনে দিতে পারে। আর উইকেটে স্পিনের সুবিধা থাকলে বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। ম্যাচে আলাদা নজর থাকবে দুই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও প্যাট কামিন্সের দিকেও। দুজনের পরিচালনার কৌশল ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই; ডারউইন টেস্টে দলকে এগিয়ে নেওয়া। শান্তর ওপর চাপটা একটু বেশিই, কারণ অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চার নম্বরে ব্যাট হাতেও কঠিন কন্ডিশনে দলকে টেনে নেওয়ার দায়িত্ব তার। অন্যদিকে কামিন্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার সাথে সাথে অজিদের পেস আক্রমণের মূল বাণটি ছুড়তে হবে। নতুন বলে কামিন্সের গতি ও বাউন্স সামলানোই হবে ম্যাচের শুরুতে সফরকারী ব্যাটারদের প্রধান পরীক্ষা। ২৩ বছর আগে এই ডারউইনেই ৯৭ রানে অলআউট হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পা রেখেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ সময় পর সেই একই মাঠে এবার খেলতে নামছে অনেক বেশি পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ এক দল। পরিসংখ্যানে স্বাগতিকরা অনেক এগিয়ে থাকলেও মাঠের খেলায় নামার পর অতীত রেকর্ড কেবলই সংখ্যা। দুই যুগের পুরোনো সেই আক্ষেপ ও হতাশার স্মৃতি পেছনে ফেলে প্রথম বল থেকেই এবার নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায় শান্তর দল।



