ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অস্ট্রেলিয়ায় উগ্রবাদে জড়িত সন্দেহে বুলবুলপুত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত: ইহুদি-খ্রিস্টান বিদ্বেষ প্রসারে আজহারির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
‘হ্যাঁ’ ভোট প্রচারে ১৪২ কোটি টাকার অবৈধ ব্যয়: ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনি নোটিশ
আবারও ভুয়া শহীদ ও ভুয়া জুলাইযোদ্ধার নাম তালিকায়, ব্যাপক ঘাপলা-অনিয়মের সন্ধান
ইউনূসের স্বাক্ষরিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিঃ অন্যান্য দেশের তুলনায় সবচেয়ে কম ছাড়, অথচ সবচেয়ে বেশী শর্ত
ট্টগ্রামে বার নির্বাচন: আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের বাধাদান: জেএমবিএফ-এর নিন্দা, জাতিসংঘ-ইইউর হস্তক্ষেপ দাবি
‘এই কাঁদুনেরা ফ্যাসিস্ট জামানায় নির্যাতনে উৎসাহ জোগাত’
আপিল বিভাগে আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
লাইসেন্স নবায়ন নামঞ্জুর, তবুও বিটিআরসির ছত্রছায়ায় চুটিয়ে চলছে মেট্রোনেটের ব্যবসা!
লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ। নবায়নের আবেদন নামঞ্জুর করেছে মন্ত্রণালয়। কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আনুষ্ঠানিকভাবে। তার পরেও দেশজুড়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দৃশ্যত টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির পরোক্ষ সম্মতিতেই এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের সুযোগে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আদায় না হওয়া রেভিনিউ শেয়ার নিয়ে এখন অনিশ্চয়তার মুখে সরকারের পাওনা।
২০০৯ সালের অক্টোবরে ন্যাশনওয়াইড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা আইএসপি হিসেবে নিবন্ধিত হয় মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড।
ন্যাশনওয়াইড লাইসেন্সের অর্থ হলো, সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার বৈধ অনুমতি। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। মেয়াদ ফুরানোর তিন মাস পর, ওই
বছরের ডিসেম্বরে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করে মেট্রোনেট। আবেদন মূল্যায়নে ১১ মাস সময় নেওয়ার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিটিআরসি সেটি পূর্বানুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু মন্ত্রণালয় আবেদনটি নামঞ্জুর করে এবং গত ৬ই জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বিটিআরসিকে সে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। বিটিআরসিও এরপর মেট্রোনেটকে বিষয়টি অবহিত করে। লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নামঞ্জুরের পরও মেট্রোনেট তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। বিষয়টি নজরে আসার পর মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বিটিআরসির লাইসেন্সিং শাখা গত মার্চে মেট্রোনেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। কিন্তু মেট্রোনেট কার্যক্রম গুটানোর পরিবর্তে উল্টো লাইসেন্স নবায়নের আবেদন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিটিআরসিতে চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি তুলে ধরে যে,
তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আগের অবস্থান থেকে সরে আসে বিটিআরসি। মেট্রোনেটের পুনর্বিবেচনার আবেদন ফের মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ‘গ্রাহক সেবা অব্যাহত রাখার’ অজুহাতে মেট্রোনেটকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঘোষিত সুযোগ করে দিচ্ছে বিটিআরসি। রাজস্ব আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা টেলিকম খাতের নিয়ম অনুযায়ী, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ রাজস্ব শেয়ার হিসেবে বিটিআরসি পেয়ে থাকে। মেট্রোনেটের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। কিন্তু লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এই সময়ের রাজস্ব শেয়ার বিটিআরসি আদৌ আদায় করেছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, লাইসেন্স নবায়নের আবেদন চূড়ান্তভাবে খারিজ হয়ে গেলে এই দেড় বছরের বকেয়া পাওনা আদায় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে — যা সরকারের জন্য সরাসরি আর্থিক ক্ষতি। আইনি জটিলতার বাইরেও মেট্রোনেটের ব্যবসায়িক অবস্থা এখন শোচনীয়। মালিকানাসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ব্যাপক গ্রাহক হারানোয় প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বে ধস নেমেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেট্রোনেট-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাসিক রাজস্ব ছিল ৮ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ লাখ টাকার নিচে — অর্থাৎ দুই বছরের কম সময়ে রাজস্ব কমেছে প্রায় বিশ গুণ। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) জহিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নামঞ্জুরের পর প্রত্যাশিত হচ্ছে যে,
কোনো প্রতিষ্ঠান আর কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তারপরও কী বিবেচনায় বিটিআরসি এমন অনুমতি দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবে। মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা তারাই। পুনর্বিবেচনার চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে যাবতীয় নথি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বিটিআরসি ও মেট্রোনেটের নীরবতা এ বিষয়ে বিটিআরসির অবস্থান জানতে কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন উইংয়ে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়ে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য আসেনি। মেট্রোনেটের চেয়ারম্যান মুনওয়ার মঈনকেও একাধিকবার ফোন, খুদেবার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তিনিও কোনো সাড়া দেননি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ের এই নীরবতা নিয়েই এখন
প্রশ্ন উঠছে টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলে।
বছরের ডিসেম্বরে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করে মেট্রোনেট। আবেদন মূল্যায়নে ১১ মাস সময় নেওয়ার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিটিআরসি সেটি পূর্বানুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কিন্তু মন্ত্রণালয় আবেদনটি নামঞ্জুর করে এবং গত ৬ই জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বিটিআরসিকে সে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। বিটিআরসিও এরপর মেট্রোনেটকে বিষয়টি অবহিত করে। লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নামঞ্জুরের পরও মেট্রোনেট তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। বিষয়টি নজরে আসার পর মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বিটিআরসির লাইসেন্সিং শাখা গত মার্চে মেট্রোনেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। কিন্তু মেট্রোনেট কার্যক্রম গুটানোর পরিবর্তে উল্টো লাইসেন্স নবায়নের আবেদন পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিটিআরসিতে চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি তুলে ধরে যে,
তারা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আগের অবস্থান থেকে সরে আসে বিটিআরসি। মেট্রোনেটের পুনর্বিবেচনার আবেদন ফের মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ‘গ্রাহক সেবা অব্যাহত রাখার’ অজুহাতে মেট্রোনেটকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঘোষিত সুযোগ করে দিচ্ছে বিটিআরসি। রাজস্ব আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা টেলিকম খাতের নিয়ম অনুযায়ী, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ রাজস্ব শেয়ার হিসেবে বিটিআরসি পেয়ে থাকে। মেট্রোনেটের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। কিন্তু লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও প্রায় দেড় বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে এই সময়ের রাজস্ব শেয়ার বিটিআরসি আদৌ আদায় করেছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা
বলছেন, লাইসেন্স নবায়নের আবেদন চূড়ান্তভাবে খারিজ হয়ে গেলে এই দেড় বছরের বকেয়া পাওনা আদায় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে — যা সরকারের জন্য সরাসরি আর্থিক ক্ষতি। আইনি জটিলতার বাইরেও মেট্রোনেটের ব্যবসায়িক অবস্থা এখন শোচনীয়। মালিকানাসংক্রান্ত অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ব্যাপক গ্রাহক হারানোয় প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বে ধস নেমেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেট্রোনেট-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাসিক রাজস্ব ছিল ৮ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৪০ লাখ টাকার নিচে — অর্থাৎ দুই বছরের কম সময়ে রাজস্ব কমেছে প্রায় বিশ গুণ। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) জহিরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নামঞ্জুরের পর প্রত্যাশিত হচ্ছে যে,
কোনো প্রতিষ্ঠান আর কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তারপরও কী বিবেচনায় বিটিআরসি এমন অনুমতি দিয়েছে, সে বিষয়ে তারা ভালো বলতে পারবে। মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা তারাই। পুনর্বিবেচনার চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে যাবতীয় নথি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বিটিআরসি ও মেট্রোনেটের নীরবতা এ বিষয়ে বিটিআরসির অবস্থান জানতে কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির মিডিয়া কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন উইংয়ে লিখিত প্রশ্ন পাঠিয়ে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য আসেনি। মেট্রোনেটের চেয়ারম্যান মুনওয়ার মঈনকেও একাধিকবার ফোন, খুদেবার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়েছে। তিনিও কোনো সাড়া দেননি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উভয়ের এই নীরবতা নিয়েই এখন
প্রশ্ন উঠছে টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলে।



