“হাম হলে আয়ু বাড়ে”—স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বেপরোয়া মন্তব্যে ক্ষোভ, নেপথ্যে ইউনূস-নুরজাহানের টিকা ব্যর্থতা ধামাচাপার চেষ্টা? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ মে, ২০২৬

“হাম হলে আয়ু বাড়ে”—স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বেপরোয়া মন্তব্যে ক্ষোভ, নেপথ্যে ইউনূস-নুরজাহানের টিকা ব্যর্থতা ধামাচাপার চেষ্টা?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ মে, ২০২৬ |
দেশজুড়ে হামের মহামারীতে যখন একের পর এক শিশুর কফিন বাড়ি ফিরছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিএনপি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দিলেন এক চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার— “হাম হলে আয়ু বাড়ে।” তাঁর ভাষায়, “হাম ছোট বেলায় আমরাও হয়েছে, আপনারও হয়েছে। সব শিশুর ছোট বেলায় হাম হয়। আমরা তো মরে যাইনি। হাম হওয়ায় আমাদের আয়ু আরো বৃদ্ধি পাইছে।” বাংলাদেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন “যুগান্তকারী” আবিষ্কার এর আগে কোনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেননি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ যখন হামকে একটি প্রাণঘাতী ভ্যাকসিনপ্রতিরোধযোগ্য রোগ হিসেবে চিহ্নিত করে বছরের পর বছর টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তখন মন্ত্রী মহোদয় আত্মবিশ্বাসের সাথে জানালেন— হাম আসলে দীর্ঘজীবনের পথ। মাঠের চিত্র: সংখ্যার ভেতরে

মানুষের কান্না মন্ত্রীর এই “দার্শনিক” বক্তব্যের সামনে বাস্তবতার ছবিটা নির্মম। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৭৯ শিশুর এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৭ শিশু প্রাণ হারিয়েছে— অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গে সম্মিলিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩৩৬ ছাড়িয়েছে। একটি দিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে একই দিনে। দেশের ৬১ জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ভোলার বাংলাবাজারের ৫ মাস বয়সী তাকরিমের কথা ধরা যাক। তিন হাসপাতাল ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুসনদে লেখা হয়— হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া, রক্তে জীবাণুর সংক্রমণ ও মস্তিষ্কে সংক্রমণ। মন্ত্রীর হিসাবে হয়তো তাকরিমেরও “আয়ু বেড়ে যেত”— যদি সে বেঁচে থাকত। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হামের

কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। হামের কারণে নিউমোনিয়া জটিল আকার নেয়। হাসপাতালে শিশুদের আনা হচ্ছে অনেক জটিলতা তৈরি হওয়ার পর— লাইফ সাপোর্ট দিয়েও তাদের বাঁচানো যাচ্ছে না। ইউনূস-নুরজাহানের টিকা বিপর্যয়: যে সত্য বিএনপি বলতে চাইছে, কিন্তু আড়াল করছে দায় হামের এই মহামারীর পেছনে যে কারণটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সেটি হলো ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হামের টিকা সংগ্রহে ভয়াবহ ব্যর্থতা। স্বনামধন্য বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনা বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ইউনিসেফ সে সময় এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্ক করেছিল যে এর ফলে টিকাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে

এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স জানিয়েছেন, তিনি বারবার সরকারের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিলেন। অন্তর্বর্তী স্বাস্থ্যমন্ত্রী নুরজাহান বেগমকে তিনি সরাসরি সতর্ক করেছিলেন। ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে ড. ইউনূসের পরামর্শেই হামের টিকা কেনার প্রচলিত পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি চার বছরে অন্তত একটি বড় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকার ঘাটতি পূরণ করার নিয়ম থাকলেও তা হয়নি। ফলে অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা ৩০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে হাম মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিএনপি সরকারের দ্বৈত নীতি: দায় চাপানো আর দায় এড়ানো বিএনপির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আচরণে একটি সুস্পষ্ট দ্বৈত অবস্থান লক্ষ্যণীয়। এক দিকে জাতীয়

সংসদে তিনি হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকার তথা আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকার উভয়কেই দায়ী করেছেন। অন্য দিকে, যখন হামে শত শত শিশু মরছে, তখন তিনি জনসম্মুখে বলছেন হাম হলে আয়ু বাড়ে— এটি কার্যত মহামারীকে তুচ্ছ করার সামিল। স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সময়ে স্বীকার করেছিলেন, “বজ্রপাতের মতো হঠাৎ এসেছে হাম, আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না।” অথচ সেই প্রস্তুতিহীনতার পেছনে ইউনূস-নুরজাহানের টিকা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে যথাযথ জবাবদিহিতার মুখে আনার পরিবর্তে সরকার রাজনৈতিক দোষারোপের খেলায় মেতে উঠেছে। হাম ও অন্যান্য রোগের টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

কিন্তু সেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে মন্ত্রী মহোদয় এখন ব্যস্ত “হামে আয়ু বৃদ্ধি”র নতুন স্বাস্থ্যতত্ত্ব প্রচারে। পৃথিবীর কোনো দেশে— উন্নত বা অনুন্নত— কোনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন না যে হামে আক্রান্ত হলে আয়ু বাড়ে। এই মন্তব্য শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিরুদ্ধেই নয়, এটি সেই শত শত পরিবারের বিরুদ্ধেও— যারা সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। ইউনূস-নুরজাহানের টিকা ব্যর্থতার জবাবদিহি প্রয়োজন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই ন্যায়সঙ্গত দাবিকে ব্যবহার করে বর্তমান সরকার যখন মহামারীর ভয়াবহতাকে লঘু করতে থাকে— তখন রাজনীতি আর জনস্বাস্থ্যের মধ্যে যে বিপজ্জনক সংঘাত তৈরি হয়, তার মাশুল দিতে হয় শিশুদের। হাম কারও আয়ু বাড়ায় না, মন্ত্রী মহোদয়। এটি শিশুর জীবন কেড়ে নেয়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‘ছিন্ন বিশ্বে’ একতার গান মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক হোয়াইট হাউসকে আরিয়ানার হুঁশিয়ারি, ‘বর্বর কাজে’ আমার গান ব্যবহার করবেন না ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই চিকিৎসাসামগ্রীর গুদাম শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই: শিক্ষা অধিকার সংসদ আদ্‌-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল, হাসপাতাল ছাড়ছেন রোগীরা সিপিবির প্রতিক্রিয়া: বাজেটে নেই ব্যয় কমানোর আশাবাদ, বাড়বে বৈষম্য খুলনায় বাড়ির সামনে গুলি করে বিএনপি নেতা ঢাকাইয়া রফিককে হত্যা কার্যালয়ে চোরের হানা, নাশকতা চেষ্টার দাবি অ্যাটর্নি জেনারেল কুদ্দুসের ‘একই আকাশ, একই বাতাস’: বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন স্বপ্নের কথা বললেন নতুন ভারতীয় দূত দীনেশ ত্রিবেদী শিশু ফাহিমা ধর্ষণ-হত্যা: ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে পতন প্রতিবেশীর শয়নকক্ষে মিলল শিশু ‘রাকার’ বস্তাবন্দি লাশ বিজয়ের ৫২তম জন্মদিনে ভক্তদের জন্য থাকছে বিশেষ উপহার ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চান বাংলাদেশের ক্রীড়ামন্ত্রী দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশ বিশ্বকাপের মাঝেই চলে গেলেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকা ব্রিতো মেক্সিকো সিটিতে বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধন ৩ লাল কার্ডের নাটকীয় উদ্বোধনী ম্যাচে দ. আফ্রিকাকে হারাল মেক্সিকো পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারালো দক্ষিণ কোরিয়া