বিশ্লেষণঃ গনহত্যার দায় ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




MARK Rubel
আপডেটঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্লেষণঃ গনহত্যার দায় ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ

MARK Rubel
আপডেটঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ |
সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনী বিল পাসগত ৮ এপ্রিল সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধিত) অধ্যাদেশটি বিল আকারে পাশ করা হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১১ মে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ইউনুসের শাসনামলে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন) সংশোধন করে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে ২০২৫ সনের ২১ নং অধ্যাদেশ জারি করা অধ্যাদেশটি শুধুমাত্র শাস্তির বিধান সংযুক্ত করে বাকী সব সংশোধনি অপরিবর্তিত রেখে সংসদে পাশ করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি মূলত ধারা ১৮(১) ও ধারা ২০-এ সংশোধন করে নতুন বিধান যোগ করা হয়েছিলো। অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া

পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। তখন কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারতো বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারতো। তবে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধনী এনে সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করা হয়।সরকারের নতুন ক্ষমতাএর ফলে সরকার নির্বাহী আদেশে যেকোনো “সত্তা”র যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারার ক্ষমতা অর্জন করে। অধ্যাদেশ জারির পরদিন (১২ মে’২৫) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ

ঘোষণা করে। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত/বাতিল করে। ধারা ১৮-এর সংশোধন সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর মাধ্যমে ২০০৯ সনের ১৬ নং আইনের ধারা ১৮ এর যে সকল সংশোধন করা হয়- সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবে” শব্দগুলির পর “বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে” শব্দগুলি সংযোজিত হইবে। ধারা ২০-এর সংশোধন ২০০৯ সনের ১৬ নং আইনের ধারা ২০ এর যে সকল সংশোধন করা হয়- উক্ত আইনের ধারা ২০ এর- (ক) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত “যদি কোন ব্যক্তিকে ধারা

১৮ এর বিধান অনুসারে তালিকাভুক্ত করা হয় বা কোন সত্তাকে নিষিদ্ধ করা হয়” শব্দগুলি ও সংখ্যার পরিবর্তে “যদি কোন ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে; (খ) উপ-ধারা (১) এর- (অ) দফা (গ)-তে উল্লিখিত ‘নিষিদ্ধ’ শব্দের পরিবর্তে “উক্ত” শব্দ প্রতিস্থাপিত হইবে, এবং (আ) দফা (ঙ) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ দফা (ঙ) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা:- “(ঙ) উক্ত সত্তা কর্তৃক বা উহার পক্ষে বা সমর্থনে যে কোন প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যে কোন মাধ্যমে যে কোন ধরনের প্রচারণা, অথবা

মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করিবে।”; (গ) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ‘নিষিদ্ধ’ শব্দের পরিবর্তে “উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত” শব্দগুলি, সংখ্যা ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে, এবং (ঘ) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত “তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা নিষিদ্ধ সংঘটনের” শব্দগুলির পরিবর্তে “ধারা ১৮ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে এইরূপ কোন ব্যক্তি বা সত্তার” শব্দগুলি, সংখ্যাগুলি ও বন্ধনী প্রতিস্থাপিত হইবে। নিষিদ্ধ কার্যক্রম ও শাস্তি এই সংশোধনীগুলিসহ বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারবে বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে।

বিলে বলা হয়েছে, উক্ত সত্তা কর্তৃক বা উহার পক্ষে বা সমর্থনে যেকোনো প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মুদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে যেকোনো ধরনের প্রচারণা, অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করবে। নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। আওয়ামী লীগের উপর প্রভাব ও ‘গণহত্যা’র অভিযোগ মূলত এই বিলের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ইউনুস রেজিমে নেয়া ‘গণহত্যার দায়ে’ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশকে সংসদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে ‘গণহত্যাকারী’ হিসাবে উপস্থাপন করলো।প্রশ্নবিদ্ধ ‘গণহত্যা’র বিষয়প্রকৃতপক্ষে এই তথাকথিত গণহত্যা কবে, কখন বা কিভাবে ঘটেছে? কাল্পনিক এই

গণহত্যা কি আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে? যাদের মৃত্যুর ঘটনা গণহত্যা বলা হচ্ছে সেই ঘটনায় কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকার বা আওয়ামী লীগ কোনভাবে জড়িত?জুলাই-আগস্ট ঘটনার ব্যাখ্যা২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত এই সময়কালকে কেউ বলে ‘বিপ্লব’, কেউ বলে ‘ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান’ আবার দেশের বড় একটা অংশ বলে ‘জুলাই ষড়যন্ত্র’। দিন গড়াতেই দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট জুলাই-আগস্টের তথাকথিত এই আন্দোলন ছিলো ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’র ছদ্মাবরণে আমেরিকান ডিপস্টেট ও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ISI এর পরিকল্পনা ও অর্থায়নে স্বাধীনতাবিরোধী ও পাকিস্তানপন্থী জামায়াত-বিএনপি-সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী জঙ্গী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতায় নির্বাচিত সরকার উৎখাত করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ‘ওয়েল ডিজাইন্ড পিউর মেটিকিউলাস’ প্ল্যান। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক জুলাই-আগস্টের এই মেটিকিউলাস ডিজাইনের সব স্টেকহোল্ডার প্রথমে থেকে দাবী করেছিলো জুলাই-আগস্ট মাসে ৪ হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে সরকার এবং আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি। ধীরে ধীরে মৃতের সেই সংখ্যা কমতে থাকে। একপর্যায়ে কমে হয় ৩ হাজার। কিন্তু ৩ হাজার জনের তথ্য প্রমাণও দিতে না পেরে সংখ্যাটা তারা ২ হাজারে নামিয়ে আনে। অবশেষে সেটা ১৪শত এসে ফিক্সড হয়। এরপরও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকম সংখ্যা দাবী ও প্রকাশিত হয়।যেমন: ১১ই নভেম্বর’২৪ প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসের ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে দাবি করা হয় নিহতের সংখ্যা ৮৭২ জন। • ৪ঠা সেপ্টেম্বর’২৪ তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম দাবী করে নিহতের সংখ্যা ৮০০ জন। • ২৮শে সেপ্টেম্বর’২৪ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে দাবী করা হয় নিহতের সংখ্যা ১,৫৮১ জন। • ৩০শে এপ্রিল’২৫ বগুড়ায় এক সমাবেশে সারজিস আলম বলে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার জনের বেশী। • ৩০শে এপ্রিল’২৫ ঢাকার মিরপুরে এক সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০ জনের বেশী। পরবর্তীতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারও একপেশে ফরমায়েসী তদন্তেও এই ২ হাজার শহীদ ছাত্র-জনতার তথ্যপ্রমাণও খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। তদন্তদল তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করে ‘১লা জুলাই থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সর্বমোট নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪ শত জন হতে পারে’, যার মধ্যে লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র‍্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত আছে। অন্যদিকে ১৩ই সেপ্টেম্বর’২৪ এইচআরএসএস এক প্রতিবেদনে জানায় ১৬ই জুলাই থেকে ৯ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৭৫ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ ৫ আগস্ট’২৫ প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস জুলাই ঘোষণাপত্রে বলেন, রাজপথে নারী-শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বিতর্কিত ও ভুলে ভরা জুলাই শহীদ গেজেট এমন সব বিতর্কিত ও ভিত্তিহীন দাবীর মধ্যেই ১৫ জানুয়ারী’২৫ তারিখে ঘোষিত হয় ‘জুলাই শহীদ গেজেট’। ‘ক্ষমতাসীন’দের সিলেক্ট করা ৮৩৪ জন নিহতের পরিবারকে এককালীন ও মাসিক ভাতার নামে সরকারী টাকা ও বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার প্রকল্প। ৩০ জুন’২৫ তারিখে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তালিকা হালনাগাদ করে আরো ১০ জন অন্তর্ভুক্ত করার পর মোট নিহতের সংখ্যা হয় ৮৪৪ জন। পরবর্তীতে নানা সমালোচনার কারনে ৩ আগস্ট’২৫ তারিখে আবারও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশোধনী দিয়ে তথাকথিত ‘শহীদ তালিকা’ থেকে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে নিহতের সংখ্যা ৮৩৬ জন হয়।গেজেটের ত্রুটি ও অসঙ্গতিমিথ্যা, অসম্পূর্ণ ও গোজামিলে ভরা এই শহীদ তালিকা তৈরীতে স্বাভাবিক অতিজরুরী কোন পদ্ধতি, যেমন, বিভাগ বা জেলাওয়ারী পদ্ধতি, মৃত্যুর তারিখ বা ঘটনাস্থল অনুসরণ করা হয়নি। গেজেটে থাকা অসংখ্য নাম ও ঠিকানা অসম্পূর্ণ এবং অতি সহজ বানানেরও অসংখ্য ভুল। শহীদের তালিকা দীর্ঘ করার জন্য এবং কর্তৃপক্ষের জালিয়াতি খুঁজে না পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ রকমের কূটিলতা ও চতুরতার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। গেজেটভুক্ত ব্যক্তিদের নিহত হওয়ার কারণ-তারিখ-সময়-ঘটনাস্থল কিছুই উল্লেখ নাই। নিহত ব্যক্তির বয়স-পেশাও উল্লেখ করা হয় নাই। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নাম উল্লেখ না করে ডাক নাম, পিতা-পুত্র দু’জনের নামই এক শব্দে ও অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। হাস্যকরভাবে পুত্রের নাম বাংলায় আর পিতার নাম ইংরেজী ফন্টে লিখা আছে একাধিক, মৃতের নামের আগে জনাব লেখা আছে একাধিক। এমনকি পিতা-পুত্রের নাম প্রায় একইও পাওয়া গেছে একাধিক। কারো জন্ম-জীবন-জীবিকা-পড়ালেখা-মৃত্যুবরণ এবং নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের অর্থাৎ সবকিছু শহরে হলেও গেজেটে বর্তমান ঠিকানা বাদ দিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানা হিসাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে শুধুমাত্র গ্রামের ঠিকানা। এমনকি একাধিক নিহতের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে থানা-জেলা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ইউনিয়ন এর নাম দেয়া আছে। কোনো রকম হোল্ডিং নাম্বার, গ্রাম-পাড়া-মহল্লা ছাড়াই শুধুমাত্র থানা-জেলা উল্লেখ আছে অনেকের ঠিকানায়। মোট কথা নিহত কারো বিস্তারিত তথ্য খুঁজে পাওয়া বা কারো নাম-ঠিকানা যাচাই করা প্রায় অসম্ভব করে তোলা হয়েছে এই গেজেটে। গেজেটে তো এমন ভুল হওয়ার কথা না, স্বাভাবিকভাবেই এগুলি ইচ্ছাকৃত এবং স্ক্যাম। বিভিন্ন সংবাদপত্র পড়া ও বিশ্লেষণ, বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ/অনুসন্ধান করে ও নানা প্রক্রিয়ায় এনালাইসিস করে সমস্ত তথ্য চেক-ক্রস চেক-রিচেক করে নাম ঠিকানার ভুল বানানের পাশাপাশি র‍্যান্ডম বেসিসে ৫ আগস্টের পরের ঘটনায় নিহত হওয়া অনেক লোকের নাম, জুলাই-আগস্ট মাসের তথাকথিত আন্দোলনে যাদের কোনোরকম সংশ্লিষ্টতা নাই এমন মানুষের নামও অন্তর্ভুক্ত আছে এই শহীদ (!) গেজেটে। এমন অসংখ্য অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায় এই তথাকথিত শহীদ গেজেটে। সোজা কথায় এই ‘শহীদ গেজেট’ ভাঁওতাবাজি ও মিথ্যার বিশাল এক স্ক্যাম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘জুলাই শহীদ’ সংজ্ঞা অনুযায়ী অর্থাৎ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ” অর্থ “তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা উক্ত সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি।” অর্থাৎ সংজ্ঞানুসারে ‘শহীদ’ হিসাবে বিবেচিত হওয়ার সময়কাল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করা পর্যন্ত হওয়া উচিত। সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সেই সময়কালে কেউ আঘাতে আহত হয়ে পরবর্তী সময়ে যদি সেই আঘাতের কারণে মারা যায় – তাদের নাম। অথচ এই গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর এবং সেনাপ্রধান দেশ ও দেশবাসীর দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন ঘটনায় নিহত অসংখ্য দুর্বৃত্তদের নাম! গেজেটে অন্তর্ভুক্ত বিতর্কিত মৃত্যু বিস্তারিত বললে এই শহীদ গেজেটে তিন শতাধিক আছে ৫ আগস্ট দুপুরে প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পর সারা দেশে সকল থানা, ফাঁড়ি, পুলিশ লাইন এসপি অফিস, মেট্রোপলিটন সদর দপ্তর, পুলিশ সদর দপ্তরে দায়িত্বরত পুলিশের উপর, আনসার একাডেমি ও এপিবিএন সদর দপ্তরে হামলা করে ভাংচুর, আসবাব ও অস্ত্রাগার লুট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ হত্যা করতে গিয়ে আত্মরক্ষার্থে বাধ্য হয়ে পুলিশ, আনসার ও এপিবিএন সদস্যদের ছোঁড়া গুলিতে নিহতদের নাম। বিজিবির পোষাকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সদস্য বা ভারতীয় বিএসএফ সদস্য আছে এবং তারা ‘হিন্দি ভাষায় কথা বলছে’ এমন গুজব ছড়িয়ে বিজিবি সদস্যদের বহনকারী গাড়িবহরের গতিরোধ করে হামলা ও বিজিবি সদস্য হত্যা, অস্ত্রলুট ও গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করার সময় বিজিবির গুলিতে নিহতদের নাম। প্রায় শতাধিক আছে হৃদরোগ, হিটস্ট্রোক, সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে, আত্মঘাতী গুলিতে আহত হয়ে, তথাকথিত আন্দোলনকারিদের হামলায় ও আগুনে পুড়ে নিহত, অতিরিক্ত মদ্যপানে অসুস্থ হয়ে, দীর্ঘদিনের কিডনী জটিলতায় অসুস্থ হয়ে, সংসদ ভবন লুটপাটের সময় আহত হয়ে, নিজেদের অন্তর্কোন্দলে, কারাগারে বন্দী অবস্থা থেকে পালাতে যেয়ে, এমনকি প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের সপ্তাহধিক কাল পরে ধর্ষণের দায়ে গণপিটুনীতে, চাঁদাবাজি করতে যেয়ে গণপিটুনীতে, পারিবারিক দ্বন্দ্বে সড়ক দুর্ঘটনায়, হার্ট অ্যাটাক করে, ছাত্রদের গণপিটুনীতে নিহতদের নাম! আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি-মন্ত্রী-মেয়র, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট-অগ্নিসংযোগ করার সময় নিজেদের আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ও আহত হয়ে নিহতদের নামও আছে এই তালিকায়! প্রায় ১২৫ জনের মৃত্যুর কারণ, সময়, তারিখ এবং ঘটনাস্থলের কোন তথ্য কোথাও নাই। এরা জাস্ট অদৃশ্য, নোবডি কিন্তু ‘জুলাই শহীদ’! এদেরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা হত্যা করেছে! কিন্তু কোথায়, কবে, কখন, কিভাবে হত্যা করেছে তার কোন বর্ণনা, তথ্য, প্রমাণ কোথাও নাই! এমনকি তথাকথিত আন্দোলনে অংশ নেয়া জঙ্গী-জামাত-শিবিরের বর্বর হামলায় নিহত পুলিশ সদস্যদের নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে সেই হত্যাকাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের উপরে চাপানো হয়েছে! অর্থাৎ গেজেটভুক্ত ৮৩৬ জনের মধ্যে প্রায় ৬৫% নিহত ব্যক্তিই ক্ষমতাসীনদের ঘোষিত ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী তথাকথিত ‘জুলাই শহীদ’ এর সংজ্ঞায় পড়েই না! শুধুমাত্র শহীদের তালিকা দীর্ঘ করে তথাকথিত গণহত্যার দায় আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপানোর জন্যই এদের সকলকে শহীদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের বক্তব্য পরিবর্তন জুলাই-আগস্ট মাসে নিহত হওয়া অনেকের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করার সময়ে ও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অর্থ সহায়তা নেয়ার সময়ে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় বারবার বলেছিলো তাদের পরিবারের নিহতরা আন্দোলন কিংবা রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ছিলো না এবং তারা কর্মস্থলে আসা-যাওয়ার সময় কিংবা কর্মরত অবস্থায় মারা গেছে। তবে গেজেটভুক্ত প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ৩০ লাখ টাকা ও প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা এবং ঢাকায় একটি করে ফ্ল্যাট, চাকরির ক্ষেত্রে কোটাসহ অন্যান্য অনেক সুবিধা সরকার দিবে – ইউনুসের ইন্টেরিম সরকারের এমন ঘোষণা মিডিয়ায় আসার পরে একটা শ্রেণী বিভিন্ন কূটকৌশলের মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের নিহত সদস্যদের/নিকটজনদের নাম শহীদ গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য চেঞ্জ হয়ে গেছে। নতুন টার্মে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের ভাষ্য হলো, ‘নিহতরা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ছিলো, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলো না তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে রাস্তায় নেমেছিলো, পরিবারের কাউকে না বলে চুপিচুপি আন্দোলনে যাইতো, নিহতরা আন্দোলনে সরাসরি না গেলেও শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চাইতো, আন্দোলনকারীদের পানি খাওয়াইতে যাইতো, আন্দোলনে যাওয়ার জন্য অফিস থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসতো, ইত্যাদি! অর্থাৎ কয়েকমাস আগের পথচারী সরকারী ঘোষণার পর আন্দোলনকারী হয়ে গেছে! স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক, সড়ক দুর্ঘটনায়, মদ্যপানেসহ যে কোন প্রকারে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হয়ে গেছে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত! হেলমেট বাহিনী ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রলীগ-যুবলীগে ‘হেলমেট বাহিনী’ বিষয়টার সাথে প্রায় সবাই পরিচিত হলেও ৫ আগস্টে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই ‘হেলমেট বাহিনী’র রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে যায়। দেখা যায় হেলমেট বাহিনী এতো বছর ছাত্রলীগ-যুবলীগের ব্যানারে সক্রিয় রাজনীতি করলেও আসলে ওরা জামাত-শিবির সমর্থক ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আদর্শ ধারণ করতো। দৃশ্যত ছাত্রলীগ নেতাদের আপন হওয়ার জন্য এবং ক্যাম্পাসে, হলে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করার ছদ্মাবরণে পেশীশক্তির ব্যবহার করতো, হলের সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতন করতো যেন সবার মনে ছাত্রলীগ সম্পর্ক বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয় এবং ছাত্রলীগ বিতর্কিত হয়। অর্থাৎ ওদের মিশনই ছিলো কিভাবে ছাত্রলীগের পতাকাতলে থেকে ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করা যায় এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মন থেকে এই সংগঠনকে দূরে রাখা যায়। সম্প্রতি মনোপলি ডাকসু নির্বাচনে ভিপি-জিএস নির্বাচিত (!) হওয়া সাদিক-ফরহাদ ছাত্রলীগের পতাকাতলে ছাত্রলীগ হয়েই ছিলো এবং পটপরিবর্তনের পর দেখা যায় ওরা আসলে শুরু থেকেই শিবিরের পদধারী ছিলো। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই নয়, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েটসহ প্রায় সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এমন দেখা যায়।ছাত্রলীগবিরোধী হেলমেট বাহিনীর সদস্যদের মতো প্রশাসনে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সম্মিলিত নিরাপত্তা বাহিনীতেও সম্ভবত আওয়ামী লীগ ও দেশবিরোধী গ্রুপ ছিলো। এই দেশবিরোধী গ্রুপ জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলনে হিংস্রতা, নৈরাজ্য, তান্ডব দমন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার নামে আন্দোলন উসকে দেয়ার জন্য, সরকারকে বিতর্কিত করার ও বিপদে ফেলার মিশনে ছিলো। যেমন কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান আন্দোলন দমানোর জন্য অধীনস্তদের বলেন,“আপনারা নিলিং পজিশনে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে, কোমরের নীচে গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবেন।” অথচ পুলিশের গুলিতে নিহত প্রায় সবাই মাথায় বুকে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে! এছাড়াও গুপ্তস্থান থেকে অজ্ঞাত স্নাইপার রাইফেলধারীর ছোঁড়া ৭.৬১ গুলিতেও অসংখ্য মানুষ নিহত হয়েছে! যেহেতু পুলিশ এই ৭.৬২ বোরের বুলেট বা স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে না, তাহলে এই গুলি ছুঁড়লো কারা!! তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শাখাওয়াত হোসেন কয়েকবার এই বুলেট ও রাইফেলধারীর বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি তিনি একাধিকবার বলেছেন, ৫ আগস্ট সকালে তিনি যখন রাস্তায় মিছিলের জন্য যাচ্ছিলেন, তখন অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে মোবাইলে ফোন করে সামনে যেতে নিষেধ করা হয়! কারণ হিসাবে সমানে স্নাইপার রাইফেলধারী ব্যক্তি অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে থাকার কথা বলা হয়! স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম শাখাওয়াত হোসেনকে কে ফোন করে সাবধান করেছিলো?? সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিবিসি বাংলা’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ৫ আগস্টের ৭/৮ দিন আগে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে থেকে স্নাইপার রাইফেলধারির কথা তাকে জানায়। অজ্ঞাত স্নাইপারের হত্যা তালিকায় আসিফ নজরুলের নাম থাকার কথা নাকি তাকে জানানো হয়!! হেলিকপ্টার থেকে গুলির অপপ্রচার আরেকটা বিষয়, জুলাই-আগস্টে অনেক প্রচার পায় এবং এখনও অনেকেই দাবী করে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে পুলিশ, র‍্যাব অনেক ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে! এই দাবী সম্পূর্ণ অপপ্রচার, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে সিঙ্গেল শটে ঘরের ভিতরে, বারান্দায় বা বাসার ছাদে অবস্থান করা কাউকে গুলি করে হত্যা করা কতটা কঠিন ও অসাধ্য সেটা সাধারণ জ্ঞানের বিবেচক ও বিচক্ষণ সবাই উপলব্ধি করতে পারেন। তারপরও যদি হেলিকপ্টার থেকে গুলি করাও হয়, তাতে ৩তলা, ৪তলা বা ৫তলার ঘরে বারান্দায় ছাদে অবস্থান করা মানুষের শরীরে সমান্তরালে গুলি লাগবে না। স্বাভাবিকভাবে শরীরে গুলি ঢুকে কোনাকুনিভাবে নীচের দিক দিয়ে বের হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘শাউয়া মাউয়া ছিঁড়ে ফেলা’ বাক্যের জনক হিসাবে জনপ্রিয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র (ওসমান হাদী) ওসমান গনীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে মাত্র কয়েক ফুট দূর থেকে ও সামান্য দুই ফুটেরও কম উচ্চতার পার্থক্যের গুলিতে তার কানের পাশ দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে পৌছে গেছে। তাহলে ঐ রকম আকাশ-পাতাল উচ্চতার পার্থক্যের স্থান থেকে ছোঁড়া গুলির ক্ষেত্রে কী ঘটতে পারে! কিন্তু বাসার ঘরে, বারান্দায় বা ছাদে যারা গুলিবিদ্ধ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে তা শোনা বা দেখা যায়নি! একই রকমভাবে একই অবস্থাই ঘটতো রাস্তায় দাঁড়ানো পুলিশের গুলিতে কেউ বিদ্ধ হলে। এই ক্ষেত্রে গুলি নীচ দিয়ে ঢুকে কোনাকুনিভাবে উপর দিক দিয়ে বের হয়ে যেতো বা আটকে যেতো। ভিক্টিমদের ক্ষেত্রে এমনটাও ঘটেনি। প্রায় প্রত্যেকেই সমান্তরালের কাছাকাছি অবস্থান থেকে ছোঁড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়েছে। অর্থাৎ দূরে উঁচু কোন বিল্ডিং থেকেও গুলি ছোঁড়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পরের ঘটনা গেজেটের ৩০০ জনেরও অধিক নিহত ব্যক্তি মারা গেছে ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের পরে সারাদেশ জুড়ে মবের উল্লাসে সমস্ত থানা, ফাঁড়ি, পুলিশলাইন, এসপি অফিস, কমিশনার অফিস, পুলিশ সদর দপ্তর, আনসারসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপরে উম্মত্ত হামলা, অস্ত্র লুট, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ হত্যার চেষ্টাকালে পুলিশ, আনসার, বিজিবি, এপিবিএন-এর বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষার্থে ছোঁড়া গুলিতে। এই ঘটনাগুলি যখন ঘটে তার অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন, ক্ষমতার পটপরিবর্তন হয়ে সরকার উৎখাত হয়েছে। অবশ্য পুলিশ রেগুলেশনেই আছে জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য, সরকারী সম্পত্তি রক্ষার জন্য, বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।এখানে একটা ঘটনা উল্লেখ করি, ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর তথাকথিত বিজয় মিছিলের নামে গণভবনে ভাংচুর, লুটপাট শেষে রাত পৌনে ৮টার দিকে কাফরুলে নিজ বাসায় ফিরে আসে মেহেরুন নেছা তানহা (শহীদ গেজেটে সিরিয়াল ২১৫ নম্বর)। বাসাতে ফিরে আসার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ ঘরের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় তানহা। তার পরিবার থেকে দাবী করা হয় কাফরুল থানা থেকে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে মেহেরুন নিহত হয়েছে, কিন্তু থানা থেকে ছোঁড়া গুলি তার বাসায় ঢোকার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ময়নাতদন্ত ছাড়া ঐ রাতেই ১১টার দিকে জানাজা শেষে মিরপুরের পূর্ববাইশটেক কবরস্থানে দাফন করা হয় মেহেরুনকে। রহস্যজনক এই মৃত্যুতে তানহার পিতা মোশাররফ হোসেন প্রধান আসামী হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আরো ৪০ জনের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে! আরেকটা শহীদের ঘটনা উল্লেখ করি এখানে, যে হত্যাকাণ্ড গণহত্যারই অংশ এবং এই গণহত্যার জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ দায়ী। ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর আব্দুল হান্নান খানের ছেলে সিফাত উম্মত্ত মিছিলের সাথে গণভবন মবে অংশ নেয়। বিমান বাহিনীতে মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের (এমইএস) চার্জহ্যান্ড পদে কর্মরত আব্দুল হান্নান খান সন্ধ্যার দিকে অফিস শেষে বের হয়ে ছেলে সিফাতকে ফোন দিয়ে জানতে পারেন সে গণভবনে আছে। হান্নান খান অফিস থেকে বের হয়ে বাইক নিয়ে গণভবন যান। সেখান থেকে ছেলে সিফাতকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে মিরপুর ১৩ নম্বরের বাসায় ফিরছিলেন। পথে কাফরুল থানার কাছাকাছি যেতেই ঐ সময় কাফরুল থানায় হামলাকারী দুর্বৃত্তদের আক্রমণ থেকে জীবন রক্ষার্থে দুর্বৃত্তদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ছুঁড়তে থাকে। এ সময়ে একটি গুলি এসে আব্দুল হান্নান খানের তলপেটে বাম পাশে ঢুকে পিছন সাইড দিয়ে বের হয়ে যায়। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল হান্নান খানকে মৃত ঘোষণা করে। আবদুল হান্নান খান শেখ হাসিনার ঘটানো গণহত্যার একজন শহীদ হিসাবেই গেজেটভুক্ত হয়েছেন!! ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের অবস্থা ৫ তারিখ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ (!) করেছেন এবং দেশত্যাগ করেছেন শুনে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা প্রত্যেকেই পুরোপুরি স্থবির/কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। তখন দলের উপর মহল থেকে নির্দেশ, নির্দেশনা দেওয়ার মতো কেউ কিংবা উপর মহলের নির্দেশ/নির্দেশনা শোনার মতো অবস্থায় সারা দেশের কোথাও কেউ ছিলো না। দুপুরের পর থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া হামলা, তান্ডব, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নৈরাজ্যের কারণে লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা নিজেরাই নিজেদের জীবন শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংগঠনের নেতা-কর্মী-এমনকি সমর্থকরাও জীবন রক্ষার্থে নিজ বাড়ি, এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। সারা দেশের এসব ঘটনায় কোন থানা, পুলিশ ফাঁড়িসহ অন্যান্য স্থানগুলিতে এই সমস্ত নেতা-কর্মীদের উপস্থিত থাকার বিন্দুমাত্র সুযোগ বা সম্ভাবনা নাই। তারপরও এসব মৃত্যুর দায় চাপানো হয়েছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নামে! এই মৃত্যুর ঘটনাকে গণহত্যা দাবী করে তার দায় দেয়া হচ্ছে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের উপরে! লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীর নামে দেয়া হয়েছে ভিত্তিহীন অযৌক্তিক সাজানো মিথ্যা মামলা! প্রায় প্রতিটা ‘হত্যা মামলা’ ও ‘হত্যা চেষ্টা’মামলার এজাহারে “বিজয় মিছিল করার সময় হামলা” লাইনটি লেখা হয়েছে। এমনটি লেখার উদ্দেশ্য হলো, গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সুবিধা লাভ করা এবং ভুয়া শহীদদের দ্বারা সংগঠিত হামলা, হত্যা, লুটপাট, ভাংচুর অগ্নিসংযোগসহ প্রতিটি অপকর্ম ঢেকে দেওয়ার অপচেষ্টা। আইনগত ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন শেখ হাসিনা পদত্যাগ (তাদের দাবী অনুযায়ী) করে দেশত্যাগ করার পর ‘সুপ্রীম অথরিটি’হিসেবে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কোন সুযোগ কি আছে। তাকে আসামী করা কি আইনসম্মত? তারপরও এমন সব মামলা হয়েছে, চার্জশীট হচ্ছে, চলছে বিচারকার্য! এমনকি একাধিক মামলাতে রায়ও দেয়া হয়েছে!! গণহত্যার দাবী করা ৮৩৬ জনের তালিকার মধ্যে যখন প্রায় ৬৫% জনের মৃত্যুর ঘটনা ও দায় নিয়ে, এমনকি মৃত্যুর কারণ ও সময়-ঘটনাস্থল এত বিতর্কিত, সেই তালিকার উপরে ভিত্তি করে আওয়ামী লীগকে গণহত্যাকারী বলাটা কি বাস্তব সম্মত?? এই কাল্পনিক গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা কি যৌক্তিক?? আইন সম্মত? সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য??

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কারখানা বন্ধের মিছিল বাড়ছেঃ ক্রুড ওয়েল সংকটে এবার বন্ধ হলো দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি ধানমন্ডিতে আদি-চিরায়ত রূপে ফিরল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’- হাজারো বাঙালির অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উদযাপন ব্যাংকগুলোর অনিয়ম-দুর্নীতিতেই নিঃস্ব উদ্যোক্তারা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ ২০ মাসে ফাহিমের বিদেশ সফরের পেছনেই বিসিবির খরচ প্রায় ৪১ লাখ টাকা বিশ্লেষণঃ গনহত্যার দায় ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ ট্রলের তোড়ে শিবিরের ‘বৈশাখ-ই আকবর’ হয়ে গেল ‘নববর্ষ উৎসব’ এমপি পদের দরদাম ১২ কোটি! চট্টগ্রামের বিএনপি নেত্রীর বিস্ফোরক দাবি যশোরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলা গুরুতর আহত ফুল চাষি নেতা আব্দুর রহিম মানুষের হাতে আহত হনুমান প্রথমে থানায়, পরে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে হাজির! সাগরে ইলিশের প্রাচুর্য হলেও সাধারণের নাগালের বাইরে: গত বছরের চেয়ে দাম বেড়েছে ১৫% নববর্ষ কবে থেকে শুরু ও বাংলা মাসের নামকরণ কীভাবে হলো দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রামে ভিড়ল জাহাজ, আসছে আরও দুই ডিজেলের চালান নববর্ষে মুমিনের আনন্দ, প্রত্যয় ও পরিকল্পনা বৈশাখের শোভাযাত্রা ৫ বিভাগে বৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পর ফের চালু মেট্রো রেল যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ অবরোধ তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে সৌদি দক্ষিণ লেবাননে বহু ইসরায়েলি সেনা হতাহত পত্রিকাটি ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ ও ‘ভুয়া খবর’ পরিবেশনকারী: ট্রাম্প