ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কক্সবাজার আদালত চত্বরে গুলিবিদ্ধ ২
সোমবার ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
মিরপুরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, বিএনপির নেতাকর্মীসহ আসামি শতাধিক
চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ভবন ঘেরাও জনতার
সেনা কর্মকর্তা তানজিম হত্যা: চারজনের মৃত্যুদণ্ড, নয়জনকে যাবজ্জীবন
শিশু রামিসা হত্যা: অভিযুক্ত সোহেল রানার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন
প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ও গোপনে ভিডিও ধারণ, মাওলানা মিরাজ গ্রেপ্তার
ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা, কতটা কাজে দিচ্ছে
রাজধানী ঢাকার একটি মোড়ে সম্প্রতি ট্রাফিক সংকেত অমান্য করেই চলে গিয়েছিলেন গাড়িচালক হান্নান রহমান জীবন (২৮)। এর কিছুক্ষণ পর মোবাইল ফোনে নিয়ম ভাঙার বার্তা পান গাড়িটির মালিক। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাকে জরিমানা করা হয় ২ হাজার টাকা।
হান্নানের গাড়িটি শনাক্ত করা হয়েছিল সড়কে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত ক্যামেরার মাধ্যমে। তাঁর দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে গাড়ি চালান।
তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই পোস্ট দিয়ে বলছেন, গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের অনেকে এরইমধ্যে এআই ক্যামেরাকে ফাঁকি দেওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছেন। কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা পুলিশ কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন। বুয়েটের এক বিশ্লেষক বলছেন, প্রযুক্তির
চেয়ে সড়কে আইন মানানোর চেষ্টার সফলতা নির্ভর করবে নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগের ওপর। গত মাসে রাজধানীর ট্রাফিক ক্যামেরাগুলোকে এআই সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত করা শুরু করে পুলিশ। এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করা গাড়ি শনাক্ত করতে সক্ষম। কতটা কাজে দিচ্ছে? ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, এআই ব্যবস্থাটি মূলত রাস্তায় থাকা বর্তমান ট্রাফিক মনিটরিং ক্যামেরার লাইভ ফিড ব্যবহার করে কাজ করে। সিগন্যাল অমান্য করা, লেন ভাঙা থেকে শুরু করে অবৈধ পার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন অপরাধ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘আমরা সুফল পেতে শুরু করেছি। এ পর্যন্ত আমরা অন্তত
৩০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’ পুলিশ সদরদপ্তরের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে ৫২ বছর বয়সী অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিডগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সেখানে সফটওয়্যার কর্তৃক চিহ্নিত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাচাই করেন। শারমিন আফরোজ জানান, একদিনেই এই সিস্টেমে প্রায় ৮০০টি ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আপাতত পুলিশ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানা করছে। বাকিদের সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক সার্জেন্ট এস এম নাজিম উদ্দিন এএফপিকে বলেন, এআই ব্যবস্থা চালুর পর থেকে চালকেরা আইন মানতে শুরু করেছেন। কিছু প্রতিবন্ধকতা পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা আছে। শারমিন আফরোজ
বলেন, কিছু গাড়ির নম্বর প্লেট অস্পষ্ট অথবা এত ছোট যে তা ঠিকভাবে চেনা বা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশ বর্তমানে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি ফুটপাতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধগুলো শনাক্ত করতে শিগগিরই নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক হাসিব মোহাম্মদ আহসান বলেন, এই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য প্রযুক্তির চেয়েও বেশি নির্ভর করবে নিয়ম প্রয়োগের ওপর। অর্থ্যাৎ, কর্তৃপক্ষ নিয়মগুলো কতটা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করছে সেটির ওপর। অধ্যাপক আহসান বলেন, ট্রাফিক সিগন্যাল ও সেগুলোর আধুনিকীকরণের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে। কিন্তু প্রচেষ্টাগুলো টেকসই হয়নি। বুয়েটের এই
অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা আছে, পরিকল্পনায় কোনো ধারাবাহিকতা এমনকি ব্যর্থতার জন্য কারও কোনো জবাবদিহিতাও নেই।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ-এর একটি গবেষণায় ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর একটি যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার বা ৩ মাইল। এই গতিতে গাড়িতে চলার চেয়ে হেঁটেই আগে পৌঁছানো সম্ভব।
চেয়ে সড়কে আইন মানানোর চেষ্টার সফলতা নির্ভর করবে নিয়মের ধারাবাহিক প্রয়োগের ওপর। গত মাসে রাজধানীর ট্রাফিক ক্যামেরাগুলোকে এআই সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত করা শুরু করে পুলিশ। এই প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করা গাড়ি শনাক্ত করতে সক্ষম। কতটা কাজে দিচ্ছে? ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র এনএম নাসিরুদ্দিন জানান, এআই ব্যবস্থাটি মূলত রাস্তায় থাকা বর্তমান ট্রাফিক মনিটরিং ক্যামেরার লাইভ ফিড ব্যবহার করে কাজ করে। সিগন্যাল অমান্য করা, লেন ভাঙা থেকে শুরু করে অবৈধ পার্কিংয়ের মতো বিভিন্ন অপরাধ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ বলছে, এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে। নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘আমরা সুফল পেতে শুরু করেছি। এ পর্যন্ত আমরা অন্তত
৩০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’ পুলিশ সদরদপ্তরের একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে ৫২ বছর বয়সী অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ এআই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার লাইভ ফিডগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলেন। সেখানে সফটওয়্যার কর্তৃক চিহ্নিত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাচাই করেন। শারমিন আফরোজ জানান, একদিনেই এই সিস্টেমে প্রায় ৮০০টি ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। আপাতত পুলিশ গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানা করছে। বাকিদের সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক সার্জেন্ট এস এম নাজিম উদ্দিন এএফপিকে বলেন, এআই ব্যবস্থা চালুর পর থেকে চালকেরা আইন মানতে শুরু করেছেন। কিছু প্রতিবন্ধকতা পুলিশ কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা আছে। শারমিন আফরোজ
বলেন, কিছু গাড়ির নম্বর প্লেট অস্পষ্ট অথবা এত ছোট যে তা ঠিকভাবে চেনা বা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশ বর্তমানে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি ফুটপাতে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার মতো অপরাধগুলো শনাক্ত করতে শিগগিরই নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করা হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক হাসিব মোহাম্মদ আহসান বলেন, এই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য প্রযুক্তির চেয়েও বেশি নির্ভর করবে নিয়ম প্রয়োগের ওপর। অর্থ্যাৎ, কর্তৃপক্ষ নিয়মগুলো কতটা ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগ করছে সেটির ওপর। অধ্যাপক আহসান বলেন, ট্রাফিক সিগন্যাল ও সেগুলোর আধুনিকীকরণের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে। কিন্তু প্রচেষ্টাগুলো টেকসই হয়নি। বুয়েটের এই
অধ্যাপক আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে আইন না মানার প্রবণতা আছে, পরিকল্পনায় কোনো ধারাবাহিকতা এমনকি ব্যর্থতার জন্য কারও কোনো জবাবদিহিতাও নেই।’ উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ-এর একটি গবেষণায় ঢাকাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর একটি যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় মাত্র ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার বা ৩ মাইল। এই গতিতে গাড়িতে চলার চেয়ে হেঁটেই আগে পৌঁছানো সম্ভব।



