ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মো-সা-দ এজেন্ট’ বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল সুপ্রিম কোর্টে
ডাকাতি মামলায় বিএনপির ৯ নেতাকর্মী কারাগারে
৩ লাখের মুলা ঝুলিয়ে অসহায় পরিবারের হাতে ৭০০ টাকা দিয়ে নাসির-সারজিসের ফুটেজ খাওয়া, নিন্দা সাধারণের
পরীক্ষা দিতে আসা ছাত্রলীগ নেতার ওপর ছাত্রদল-শিবিরের মবের পর পুলিশে সোপর্দ, পুলিশের প্রতি ধিক্কার শিক্ষার্থীদের
তুরাগে আওয়ামী লীগের ৩ কর্মীর লাশ উদ্ধার: পরিবারের দাবি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সরকারের ‘না’
প্রেমের ফাঁদে ফেলে পর্নোগ্রাফি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল: চট্টগ্রামে শিবির নেতা গ্রেপ্তার
তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতা-কর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ
ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্ব: ৪৬২৫টি হতদরিদ্র পরিবারের ভাগ্য অনিশ্চিত
ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকি। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার হাজার হাজার গরিব ও দুস্থ মানুষের ঘরে জ্বলছে না উনুন। কারণ, সরকারের দেওয়া ভিজিএফের (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) চালের কার্ড এখনো বিতরণই করা হয়নি।
তবে এই বিলম্বের কারণ কোনো প্রশাসনিক জটিলতা নয়, বরং চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ‘কার্ডের ভাগ’ কম-বেশি হওয়ার মনস্তাত্ত্বিক লড়াই!
এমনকি এই ভাগাভাগির তালিকায় খোদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জন্যও রয়েছে আলাদা কোটা। রাজনৈতিক সমঝোতায় গরিবের হক এভাবে বাটোয়ারা করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
নথিতে ফাঁস ভাগাভাগির ‘মহাকাব্য’
কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রধান সহকারী আমিনুল ইসলাম ঠান্ডুর কক্ষ
থেকে সংগ্রহ করা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কোরবানির ঈদের বণ্টন তালিকায় দেখা গেছে এক অবিশ্বাস্য চিত্র। এবারের ঈদের জন্য কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৪ হাজার ৬২৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ আসে। নিয়মানুযায়ী তা প্রকৃত দুস্থদের মাঝে বণ্টন করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক টেবিল বৈঠকে তা ভাগ করা হয়েছে এভাবে: বিএনপির পকেটে ২,৮০০টি কার্ড, জামায়াতে ইসলামীর ভাগে ১,৫০০টি কার্ড এবং ইউএনওর স্পেশাল কোটা ৩২৫টি কার্ড। জানা গেছে, গত রোজার ঈদেও একইভাবে চালের কার্ড লুটপাট করা হয়েছিল। সেবার বিএনপি ২৮০০টি, জামায়াত ১২০০টি, নির্বাহী প্রকৌশলী ২৫টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ৪০টি কার্ড ভাগ করে নিয়েছিল। পৌরসভার প্রধান সহকারী আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু ফাইল থেকে বণ্টনের কাগজটি দেখিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন,”এবার তালিকা করা
হলেও তা শেষ পর্যন্ত মানা হবে কি না বলা যাচ্ছে না। কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব চলছে। গত ঈদে জামায়াত ১২০০ কার্ড পেয়েছিল, তখন একটা কায়দায় মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু এবার জামায়াত বিএনপির সমপরিমাণ কার্ড দাবি করছে। এই অনড় অবস্থানের কারণেই পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া আটকে আছে।” উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ১০ কেজি করে সরকারি চাল বিতরণ শুরু হয়ে গেলেও পৌর এলাকায় এখনো কার্ডই ছেঁড়া হয়নি। প্রধান সহকারীর কক্ষে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে কার্ডগুলো। এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতারা মারামারি করছে কার্ডের ভাগ নিয়ে, আর না খেয়ে মরছি আমরা। ঈদের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। এবার
মনে হয় ঈদের আগে আর চাল জুটবে না কপালে।” পৌরসভার প্যাডে এভাবে রাজনৈতিক দল ও নিজের নামে ভাগের বিষয়টি স্রেফ অস্বীকার করেছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি দায় এড়িয়ে দাবি করেন, “পৌরসভার প্যাড যে কেউ বানাতে পারে। এভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকারি চাল বণ্টন করার কোনো নিয়ম বা সরকারি নির্দেশনা নেই। তবে আশা করছি, সোমবারের (২৫ মে) মধ্যে কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হবে।” তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সরকারি অনুদান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন নির্লজ্জ ভাগাভাগি এবং প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা সচেতন নাগরিক সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। গরিবের পেটে লাথি মেরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার এই ‘মহোৎসব’ ধামাচাপা দিতেই
এখন তড়িঘড়ি করে কার্ড ছিটানোর চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
থেকে সংগ্রহ করা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কোরবানির ঈদের বণ্টন তালিকায় দেখা গেছে এক অবিশ্বাস্য চিত্র। এবারের ঈদের জন্য কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ৪ হাজার ৬২৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ আসে। নিয়মানুযায়ী তা প্রকৃত দুস্থদের মাঝে বণ্টন করার কথা থাকলেও রাজনৈতিক টেবিল বৈঠকে তা ভাগ করা হয়েছে এভাবে: বিএনপির পকেটে ২,৮০০টি কার্ড, জামায়াতে ইসলামীর ভাগে ১,৫০০টি কার্ড এবং ইউএনওর স্পেশাল কোটা ৩২৫টি কার্ড। জানা গেছে, গত রোজার ঈদেও একইভাবে চালের কার্ড লুটপাট করা হয়েছিল। সেবার বিএনপি ২৮০০টি, জামায়াত ১২০০টি, নির্বাহী প্রকৌশলী ২৫টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ৪০টি কার্ড ভাগ করে নিয়েছিল। পৌরসভার প্রধান সহকারী আমিনুল ইসলাম ঠান্ডু ফাইল থেকে বণ্টনের কাগজটি দেখিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন,”এবার তালিকা করা
হলেও তা শেষ পর্যন্ত মানা হবে কি না বলা যাচ্ছে না। কার্ড বিতরণ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব চলছে। গত ঈদে জামায়াত ১২০০ কার্ড পেয়েছিল, তখন একটা কায়দায় মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু এবার জামায়াত বিএনপির সমপরিমাণ কার্ড দাবি করছে। এই অনড় অবস্থানের কারণেই পুরো বিতরণ প্রক্রিয়া আটকে আছে।” উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ইতিমধ্যে ১০ কেজি করে সরকারি চাল বিতরণ শুরু হয়ে গেলেও পৌর এলাকায় এখনো কার্ডই ছেঁড়া হয়নি। প্রধান সহকারীর কক্ষে বস্তাবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে কার্ডগুলো। এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতারা মারামারি করছে কার্ডের ভাগ নিয়ে, আর না খেয়ে মরছি আমরা। ঈদের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। এবার
মনে হয় ঈদের আগে আর চাল জুটবে না কপালে।” পৌরসভার প্যাডে এভাবে রাজনৈতিক দল ও নিজের নামে ভাগের বিষয়টি স্রেফ অস্বীকার করেছেন কালীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ। তিনি দায় এড়িয়ে দাবি করেন, “পৌরসভার প্যাড যে কেউ বানাতে পারে। এভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকারি চাল বণ্টন করার কোনো নিয়ম বা সরকারি নির্দেশনা নেই। তবে আশা করছি, সোমবারের (২৫ মে) মধ্যে কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হবে।” তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে সরকারি অনুদান নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন নির্লজ্জ ভাগাভাগি এবং প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা সচেতন নাগরিক সমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। গরিবের পেটে লাথি মেরে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার এই ‘মহোৎসব’ ধামাচাপা দিতেই
এখন তড়িঘড়ি করে কার্ড ছিটানোর চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



