ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ক্ষমতায় থাকা আর ক্ষমতা চর্চা করা এক কথা নয়
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দেশান্তরি ঢাকা পোস্ট সম্পাদকের স্মৃতিচারণ: শফিক ও তার প্রেশারগ্রুপ থেকে সন্তানদের রক্ষায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন
সালমা আকতার: মানবিক শিক্ষক ও আত্মপ্রত্যয়ী প্রশাসক ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইউনূস সরকারের “মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল করাটাই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ
রাজনীতিতে সুবাতাস
যাই, ব্যারিস্টার সারা হোসেনকে আরেকটি লাইক দিয়ে আসি…
নিয়ন্ত্রণের ছায়া, স্বাধীনতার প্রশ্ন
বাংলাদেশের শিশুদের কি ৬ মাস বয়সে হামের প্রথম টিকা দেয়া উচিৎ? সম্ভাব্য ৩ ডোজের হামের টিকা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা
(এক)
বাংলাদেশের গত কয়েক দশকের অন্যতম সাফল্যের কেন্দ্রে ছিল জনস্বাস্থ্য। বিশেষত পরিবার পরিকল্পনা এবং শিশু ও মায়েদের ভয়াবহ সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে The Expanded Programme on Immunization (EPI) বা বাংলায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন। এটি আমাদের ভয়াবহ দুর্ভাগ্য যে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সরকারপ্রধান নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভ্যাক্সিন কেনার হীন উদ্দেশ্যে দেশে বিরাজমান ‘অপারেশন প্ল্যান’ বাতিল করে দেয়। ফলশ্রুতিতে ১৮ মাস বাংলাদেশে জন্ম নেয়া অধিকাংশ শিশু হামের টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়।
(দুই)
হামে বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে প্রায় ৫০০ শিশু মারা গেছে অথচ এই বছরই বিগত আওয়ামী লীগ সরকার হাম বাংলাদেশ থেকে নির্মূল হয়েছে – সেটি ঘোষণা করবার কথা। শেখ হাসিনার শাসনামলে
হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম আমরা। কেবল ঘোষণা দেয়া বাকি ছিল। (তিন) বাংলাদেশে সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের প্রথম হামের টিকা দেয়া হয়। দ্বিতীয় টিকা দেয়া হয় ১৫ মাসে। আমাদের জানা উচিৎ কেন হামের টিকা বাংলাদেশে ৯ মাস ও ১৫ মাসে দেয়া হয় এবং কেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্যান্য সময়ে এই টিকা দেয়া হয়। হামের টিকা দেবার ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য বিষয়ঃ ১) যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে প্রতিরক্ষা দেয়া, ও ২) ভ্যাক্সিন যেন সর্বাধিক কাজ করে সেটি নিশ্চিত করা। ক) সেই লক্ষ্যে ভ্যাক্সিন দেবার সময় নির্ধারণ করা হয়। এটি জানা দরকার যে শিশুরা জন্মের সময় মাতৃগর্ভের মাধ্যমে অধিকাংশ এবং পরবর্তীতে মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ
প্রাকৃতিক হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা পেয়ে থাকে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ মাস বয়স পর্যন্ত উচ্চমাত্রায় থাকে। ৯ মাস বয়সে এটি ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এবং ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে এই কার্যকারিতা ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ হারিয়ে যায়। খ) বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন যাতে মায়ের থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাবার পরই হামের টিকা দেয়া হয়। কারণ মায়ের থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ বিরাজমান অবস্থায় যদি টিকা দেয়া হয়, তখন শিশুর শরীর টিকার কার্যকারিতা বুঝতে সক্ষম নাও হতে পারে, ফলশ্রুতিতে সেই টিকা পরিপূর্ণভাবে নাও কাজ করতে পারে। তাই ৬ মাসের আগে কখনই হামের টিকা দেয়া যায় না। ৬ মাস থেকে ৯ মাস
এই যে ৩ মাস শিশুরা টিকার আওতায় থাকে না এর মূল কারণ কয়েকটি। কারণ এই সময়ে প্রাকৃতিক কার্যকারিতা পুরোপুরি হারিয়ে যায় না, কিছুটা হলেও থাকে। তাই যদি একটি দেশের সকল শিশু ধারাবাহিক ও নিয়মিত টিকাদানের আওতায় থাকে, তাহলে অন্যদের থেকে তাদের এই সাময়িক সময়ে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এটিই মূলত Herd Immunity. গ) উন্নত দেশ যেমন আমেরিকা, বা ক্যানাডায় হামের প্রথম টিকা দেয়া হয় ১২ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় টিকা ৪ বছর বয়সে, যখন শিশুরা স্কুলে যায়, তখন। ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিলে এর কার্যকারিতা সর্বাধিক কারণ ইতিমধ্যে মায়ের থেকে প্রাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা চলে যায় এবং
টিকার যে কার্যকারিতা সেটি শিশুর শরীর ধারণ করতে পারে। তাই অনেক সময় ১২-১৫ মাসে হামের প্রথম টিকা নিলে সেটিই যথেষ্ট, তবুও স্কুলে যেহেতু শিশুরা অনেক বেশী সংখ্যক অন্য শিশুর সান্নিধ্যে আসে তাই ক্যানাডা বা আমেরিকায় তাদের ৪ বছর বয়সে ২য় টিকা দেয়। ঘ) ক্যানাডা বা আমেরিকায় যেসব শিশু প্রথম ডোজ ১২ মাস বয়সে পায় তাদের ৯৫ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। ৫ শতাংশ নানা কারণে করে না। কারা এই ৫ শতাংশ সেটি আলাদা করে নির্ধারণ করা ব্যয়বহুল বিধায় সকল শিশুকে ৪-৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয় যেটিকে বুস্টার ডোজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং ২য় ডোজের পর ৯৯
শতাংশ শিশু হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করে। ঙ) উন্নত দেশে ১২ মাস বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার কারণঃ – তাদের টিকাদান কর্মসূচী এত ভাল যে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত শিশুদের শরীরে যে সামান্য প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে যায়, সেটিই যথেষ্ট herd immunity’র কারণে। – অধিকাংশ জনসংখ্যা হামমুক্ত বা herd immunity অর্জন করায়, আক্রান্ত হবার যথেষ্ট আশংকা থাকে না। – বেশী সংখ্যক শিশু এই সময়ে টিকার আওতায় আসে এবং এর কার্যকারিতা সর্বাধিক যেহেতু মাতৃগর্ভ থেকে পাওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা ততদিনে নিঃশেষ হয়। চ) ক্যানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত ও অত্যন্ত সফল দেশে ১২ মাসে; বাংলাদেশের মতো একটা সময় পর্যন্ত উচ্চ সাফল্য পাওয়া দেশে ৯ মাসে
প্রথম টিকা দিলেও কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুদের ৬ মাস বয়সে টিকা দেয়া যায়ঃ ১) যদি কোন দেশে হামের মহামারি দেখা দেয় (outbreak) ২) যদি কোন দেশে হঠাত বড় সংখ্যায় উদ্বাস্তুর আগমন ঘটে ৩) মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে ৪) যদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ জনিত কারণে এটি ছড়িয়ে থাকে, অথবা ৫) যদি কোন কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচীতে অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত ঘটে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হাম মহামারি বা দূর্যোগ ১ এবং ৫ নাম্বার কারণগুলোর জন্য ঘটেছে। ফলশ্রুতিতে বাস্তবতা নিরিখে বাংলাদেশের শিশুদের আগামী কয়েক বছর ২টি ডোজের পরিবর্তে ৩টি হামের ডোজ দেয়া উচিৎ কিনা সেই আলোচনা যৌক্তিক। ৬ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিতে হবে প্রাথমিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য। কিন্তু যেহেতু এই সময়ে মায়ের থেকে প্রাপ্ত প্রতিরোধক ক্ষমতা কার্যকরী থাকে, তাই হামের টিকা দীর্ঘমেয়াদে কাজ নাও করতে পারে, কিন্তু চলমান মৃত্যু ঠেকাতে পারবে। পরবর্তী শিশুদের ১২ মাস, এবং ১৮ মাসে ২য় এবং ৩য় ডোজ দেয়া যেতে পারে। এই ব্যতিক্রমটি সরকার অন্তত দুই বছর চালু রাখতে পারে শিশু মৃত্যু ঠেকানোর জন্য। বাংলাদেশে হামের যে অভাবনীয় বিপর্যয় সেটি প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের traditional পন্থার বাইরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন জনস্বাস্থ্য গবেষক হিসেবে আমি সরকারকে অনুরোধ করি আপদকালীন বিপদ থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশের শিশুদের আগামী দুবছর ৯ মাস ও ১৫ মাসে দুটি টিকা না দিয়ে ৬ মাস, ১২ মাস ও ১৮ মাসে তিনটি টিকা দেবার জন্য। এই বিষয়ে তাদের তরুণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের সাথে শলাপরামর্শ করাও জরুরী। লেখক পরিচিতিঃ ড শামীম আহমেদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো।
হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলাম আমরা। কেবল ঘোষণা দেয়া বাকি ছিল। (তিন) বাংলাদেশে সাধারণত ৯ মাস বয়সে শিশুদের প্রথম হামের টিকা দেয়া হয়। দ্বিতীয় টিকা দেয়া হয় ১৫ মাসে। আমাদের জানা উচিৎ কেন হামের টিকা বাংলাদেশে ৯ মাস ও ১৫ মাসে দেয়া হয় এবং কেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্যান্য সময়ে এই টিকা দেয়া হয়। হামের টিকা দেবার ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য বিষয়ঃ ১) যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে প্রতিরক্ষা দেয়া, ও ২) ভ্যাক্সিন যেন সর্বাধিক কাজ করে সেটি নিশ্চিত করা। ক) সেই লক্ষ্যে ভ্যাক্সিন দেবার সময় নির্ধারণ করা হয়। এটি জানা দরকার যে শিশুরা জন্মের সময় মাতৃগর্ভের মাধ্যমে অধিকাংশ এবং পরবর্তীতে মাতৃদুগ্ধের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ
প্রাকৃতিক হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা পেয়ে থাকে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা ৬ মাস বয়স পর্যন্ত উচ্চমাত্রায় থাকে। ৯ মাস বয়সে এটি ৮৫ শতাংশ কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে এবং ১২ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে এই কার্যকারিতা ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ হারিয়ে যায়। খ) বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দেন যাতে মায়ের থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যাবার পরই হামের টিকা দেয়া হয়। কারণ মায়ের থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধ বিরাজমান অবস্থায় যদি টিকা দেয়া হয়, তখন শিশুর শরীর টিকার কার্যকারিতা বুঝতে সক্ষম নাও হতে পারে, ফলশ্রুতিতে সেই টিকা পরিপূর্ণভাবে নাও কাজ করতে পারে। তাই ৬ মাসের আগে কখনই হামের টিকা দেয়া যায় না। ৬ মাস থেকে ৯ মাস
এই যে ৩ মাস শিশুরা টিকার আওতায় থাকে না এর মূল কারণ কয়েকটি। কারণ এই সময়ে প্রাকৃতিক কার্যকারিতা পুরোপুরি হারিয়ে যায় না, কিছুটা হলেও থাকে। তাই যদি একটি দেশের সকল শিশু ধারাবাহিক ও নিয়মিত টিকাদানের আওতায় থাকে, তাহলে অন্যদের থেকে তাদের এই সাময়িক সময়ে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। এটিই মূলত Herd Immunity. গ) উন্নত দেশ যেমন আমেরিকা, বা ক্যানাডায় হামের প্রথম টিকা দেয়া হয় ১২ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় টিকা ৪ বছর বয়সে, যখন শিশুরা স্কুলে যায়, তখন। ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিলে এর কার্যকারিতা সর্বাধিক কারণ ইতিমধ্যে মায়ের থেকে প্রাপ্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা চলে যায় এবং
টিকার যে কার্যকারিতা সেটি শিশুর শরীর ধারণ করতে পারে। তাই অনেক সময় ১২-১৫ মাসে হামের প্রথম টিকা নিলে সেটিই যথেষ্ট, তবুও স্কুলে যেহেতু শিশুরা অনেক বেশী সংখ্যক অন্য শিশুর সান্নিধ্যে আসে তাই ক্যানাডা বা আমেরিকায় তাদের ৪ বছর বয়সে ২য় টিকা দেয়। ঘ) ক্যানাডা বা আমেরিকায় যেসব শিশু প্রথম ডোজ ১২ মাস বয়সে পায় তাদের ৯৫ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। ৫ শতাংশ নানা কারণে করে না। কারা এই ৫ শতাংশ সেটি আলাদা করে নির্ধারণ করা ব্যয়বহুল বিধায় সকল শিশুকে ৪-৬ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয় যেটিকে বুস্টার ডোজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এবং ২য় ডোজের পর ৯৯
শতাংশ শিশু হামের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করে। ঙ) উন্নত দেশে ১২ মাস বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করার কারণঃ – তাদের টিকাদান কর্মসূচী এত ভাল যে ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত শিশুদের শরীরে যে সামান্য প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে যায়, সেটিই যথেষ্ট herd immunity’র কারণে। – অধিকাংশ জনসংখ্যা হামমুক্ত বা herd immunity অর্জন করায়, আক্রান্ত হবার যথেষ্ট আশংকা থাকে না। – বেশী সংখ্যক শিশু এই সময়ে টিকার আওতায় আসে এবং এর কার্যকারিতা সর্বাধিক যেহেতু মাতৃগর্ভ থেকে পাওয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা ততদিনে নিঃশেষ হয়। চ) ক্যানাডা বা যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত ও অত্যন্ত সফল দেশে ১২ মাসে; বাংলাদেশের মতো একটা সময় পর্যন্ত উচ্চ সাফল্য পাওয়া দেশে ৯ মাসে
প্রথম টিকা দিলেও কোন কোন ক্ষেত্রে শিশুদের ৬ মাস বয়সে টিকা দেয়া যায়ঃ ১) যদি কোন দেশে হামের মহামারি দেখা দেয় (outbreak) ২) যদি কোন দেশে হঠাত বড় সংখ্যায় উদ্বাস্তুর আগমন ঘটে ৩) মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে ৪) যদি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ জনিত কারণে এটি ছড়িয়ে থাকে, অথবা ৫) যদি কোন কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচীতে অপ্রত্যাশিত ব্যাঘাত ঘটে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হাম মহামারি বা দূর্যোগ ১ এবং ৫ নাম্বার কারণগুলোর জন্য ঘটেছে। ফলশ্রুতিতে বাস্তবতা নিরিখে বাংলাদেশের শিশুদের আগামী কয়েক বছর ২টি ডোজের পরিবর্তে ৩টি হামের ডোজ দেয়া উচিৎ কিনা সেই আলোচনা যৌক্তিক। ৬ মাস বয়সে প্রথম টিকা দিতে হবে প্রাথমিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য। কিন্তু যেহেতু এই সময়ে মায়ের থেকে প্রাপ্ত প্রতিরোধক ক্ষমতা কার্যকরী থাকে, তাই হামের টিকা দীর্ঘমেয়াদে কাজ নাও করতে পারে, কিন্তু চলমান মৃত্যু ঠেকাতে পারবে। পরবর্তী শিশুদের ১২ মাস, এবং ১৮ মাসে ২য় এবং ৩য় ডোজ দেয়া যেতে পারে। এই ব্যতিক্রমটি সরকার অন্তত দুই বছর চালু রাখতে পারে শিশু মৃত্যু ঠেকানোর জন্য। বাংলাদেশে হামের যে অভাবনীয় বিপর্যয় সেটি প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের traditional পন্থার বাইরে গিয়ে বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক বিবেচনায় ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন জনস্বাস্থ্য গবেষক হিসেবে আমি সরকারকে অনুরোধ করি আপদকালীন বিপদ থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশের শিশুদের আগামী দুবছর ৯ মাস ও ১৫ মাসে দুটি টিকা না দিয়ে ৬ মাস, ১২ মাস ও ১৮ মাসে তিনটি টিকা দেবার জন্য। এই বিষয়ে তাদের তরুণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণের সাথে শলাপরামর্শ করাও জরুরী। লেখক পরিচিতিঃ ড শামীম আহমেদ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো।



