ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হামে সাড়ে ৫শ মায়ের কোল খালি, অথচ ইউনূসের হাহাকার সুদূর চীন নিয়ে!
২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, যুবকের মৃত্যুদণ্ড
ঘুমধুম সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩
দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর
পল্লবীতে শিশুহত্যা: দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট
সোহেল ও তার স্ত্রীর বিচার শুরুর বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য
এক জোড়া স্যান্ডেল
দুই মন্ত্রণালয়ের টানাহেঁচড়ায় ধ্বংসের মুখে চট্টগ্রামের গুলিয়াখালী ম্যানগ্রোভ বন
কেওড়া, বাইন, গেওয়া আর নুনিয়া গাছের ঘন সবুজ চাদরে ঢাকা সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী বনভূমি আজ এক চরম অস্তিত্ব সংকটে। যে উপকূলীয় বন এক সময় ছিল হরিণ, লাল কাঁকড়া আর হাজারো পাখির নিরাপদ স্বর্গরাজ্য, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা আর অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের করাল গ্রাসে তা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এক সময়ের শপাঁচেক হরিণের এই আবাসভূমি আজ দখলদারদের আগুন আর প্লাস্টিক বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
৫০০ হরিণ উধাও
বন বিভাগের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে এই বনাঞ্চলে ১০টি চিত্রল হরিণ অবমুক্ত করা হয়েছিল। বন কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ সালের দিকে এই বনে হরিণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫০০-তে।
টিয়া, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, সারস পাখির কলকাকলি আর খেকশিয়াল, বনবিড়াল,
গুইসাপের অবাধ বিচরণ ছিল এখানে। কিন্তু পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত কোলাহল, মাইকের আওয়াজ এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে এই প্রাণবৈচিত্র্য। আইনি মারপ্যাঁচে পঙ্গু বন বিভাগ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের দিকে বন বিভাগ এই সংবেদনশীল উপকূলকে বাঁচাতে ‘গুলিয়াখালী কোস্টাল বে-ভিউ ইকোপার্ক’ গড়ার মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ২০২২ সালের ১০ই জানুয়ারি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই বনের ২৫৯.১০ একর ভূমিকে ‘পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। দুই মন্ত্রণালয়ের এই প্রশাসনিক দ্বৈততার সুযোগ নেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বন বিভাগের হাত থেকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় শুরু হয় অবাধে গাছ কাটা, জমি দখল আর বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ধুম। রাতের আঁধারে আগুন, প্লাস্টিক দূষণ ৪
হাজার ৬০০ একরের এই বিশাল উপকূলীয় বনে এখন চলছে রীতিমতো তাণ্ডব। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল আটকে দিচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, সম্প্রতি রাতের আঁধারে সরকারি বনভূমি দখলের উদ্দেশ্যে বনের ভেতর পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল ছারখার করে দিয়েছে। উপকূলীয় বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রনি আলী অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “পর্যটন অঞ্চল ঘোষণার কারণে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। ফলে অবৈধ দখল ও গাছ কাটা বন্ধসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আমাদের মিলছে না।” চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে শিল্প-কারখানার গ্রাস পরিবেশবিদরা বলছেন, মিরসরাইয়ে ৩৩ হাজার একর বনভূমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল
এবং সীতাকুণ্ড উপকূলে শতাধিক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের ফলে চট্টগ্রামের উপকূলীয় সুরক্ষা বলয় এমনিতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তার ওপর গুলিয়াখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বনকে যদি দ্রুত ‘ইকোপার্ক’ বা বিশেষায়িত কোস্টাল ট্যুরিজম জোনের আওতায় এনে সুরক্ষিত না করা যায়, তবে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই সবুজ দেয়াল। অবশ্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ফররুখ আহম্মদ জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় আনার কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতও দ্রুত সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আসবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নির্মূল হবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মন্ত্রণালয়ের এই ‘পরিকল্পনা’ বাস্তবায়িত হতে হতে গুলিয়াখালীর এই ঐতিহ্যবাহী বন ও তার জীববৈচিত্র্য আর বেঁচে থাকবে তো?
গুইসাপের অবাধ বিচরণ ছিল এখানে। কিন্তু পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত কোলাহল, মাইকের আওয়াজ এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে এই প্রাণবৈচিত্র্য। আইনি মারপ্যাঁচে পঙ্গু বন বিভাগ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের দিকে বন বিভাগ এই সংবেদনশীল উপকূলকে বাঁচাতে ‘গুলিয়াখালী কোস্টাল বে-ভিউ ইকোপার্ক’ গড়ার মহাপরিকল্পনা হাতে নেয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ২০২২ সালের ১০ই জানুয়ারি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই বনের ২৫৯.১০ একর ভূমিকে ‘পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে। দুই মন্ত্রণালয়ের এই প্রশাসনিক দ্বৈততার সুযোগ নেয় স্থানীয় প্রভাবশালীরা। বন বিভাগের হাত থেকে কার্যত নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় শুরু হয় অবাধে গাছ কাটা, জমি দখল আর বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের ধুম। রাতের আঁধারে আগুন, প্লাস্টিক দূষণ ৪
হাজার ৬০০ একরের এই বিশাল উপকূলীয় বনে এখন চলছে রীতিমতো তাণ্ডব। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূল আটকে দিচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, সম্প্রতি রাতের আঁধারে সরকারি বনভূমি দখলের উদ্দেশ্যে বনের ভেতর পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল ছারখার করে দিয়েছে। উপকূলীয় বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রনি আলী অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “পর্যটন অঞ্চল ঘোষণার কারণে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। ফলে অবৈধ দখল ও গাছ কাটা বন্ধসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আমাদের মিলছে না।” চারপাশ থেকে ধেয়ে আসছে শিল্প-কারখানার গ্রাস পরিবেশবিদরা বলছেন, মিরসরাইয়ে ৩৩ হাজার একর বনভূমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল
এবং সীতাকুণ্ড উপকূলে শতাধিক শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের ফলে চট্টগ্রামের উপকূলীয় সুরক্ষা বলয় এমনিতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। তার ওপর গুলিয়াখালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বনকে যদি দ্রুত ‘ইকোপার্ক’ বা বিশেষায়িত কোস্টাল ট্যুরিজম জোনের আওতায় এনে সুরক্ষিত না করা যায়, তবে অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে এই সবুজ দেয়াল। অবশ্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ফররুখ আহম্মদ জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় আনার কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতও দ্রুত সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় আসবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো নির্মূল হবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মন্ত্রণালয়ের এই ‘পরিকল্পনা’ বাস্তবায়িত হতে হতে গুলিয়াখালীর এই ঐতিহ্যবাহী বন ও তার জীববৈচিত্র্য আর বেঁচে থাকবে তো?



