বাজেট ২০২৬-২৭: একদিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ, অন্যদিকে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬

বাজেট ২০২৬-২৭: একদিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ, অন্যদিকে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬ |
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের চেয়েও কঠিন বলে মনে করছে সরকার। দেশের ধসে পড়া অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মধ্যেই ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ সম্ভাবনাগুলো গ্রাস করেছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই সরকার গঠনের মাত্র তিন মাসের মধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত করতে হচ্ছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারকে। বৈশ্বিক সংকট বারবার বাজেট প্রণয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করলেও সব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই সরকার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিশাল আকারের একটি বাজেট। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১১ই জুন জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের মোট আকার হতে পারে ৯ লাখ ২০ হাজার থেকে ৯

লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার খসড়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সীমিত সম্পদ নিয়েই সমতার বাংলাদেশ গঠনে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর। তবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে এবং অর্থনীতিসহ সামগ্রিক খাতের সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ করতে তিনি মানুষের কাছে আরও কিছুটা সময় চাইবেন। কোভিডের চেয়েও কঠিন এই সময় অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালের কোভিড-১৯ মহামারি সময়ের সঙ্গে তুলনা করে বলছেন, কোভিডকালেও এতটা সংকটে পড়েনি বিশ্ব। কারণ সে সময় মানুষ ঘর থেকে বেরোতে না পারলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল ছিল। যদিও গতি কিছুটা কমেছিল, তাতে পৃথিবীর অনেক দেশ চরম সংকটে পড়েছিল। তবে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতি

হয়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একদিকে চলছে চরম বৈশ্বিক সংকট, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। একটার পর একটা অঘটন আর অভ্যন্তরীণ সংকট সঙ্গী করে সরকারের তিন মাস পার হয়েছে। রেকর্ড ঘাটতির বাজেট এবারের বাজেটে আয় ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজেটে ঘাটতি হতে পারে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়া হতে পারে ১ লাখ কোটি টাকা এবং বাকি ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসেই সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে

প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে এবং রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচির ধারা স্বাভাবিক রাখতে প্রথমবারের মতো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এডিপির আকার হতে যাচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকা, যা চলমান এডিপির চেয়ে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বেশি। আইএমএফের আপত্তি সত্ত্বেও ভর্তুকি বাড়ছে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের আয় কমে যাওয়া এবং পরিস্থিতি সামলাতে আইএমএফের আপত্তি সত্ত্বেও বাজেটে ভর্তুকি বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, বৈশ্বিক সংকটে প্রবৃদ্ধি কমবে বিশ্বজুড়ে। অন্যদিকে চড়া মূল্যস্ফীতির চাপে ভুগছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব শ্রেণির মানুষ। আইএমএফের চাপে দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের

কম সময়ের মাথায় সরকারকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে হয়েছে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়ও চলছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ বহাল রাখায় এ খাতেও ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ব্যয় বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ বাজেটে। এতে সরকারের খরচ বাড়বে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এর ফলে নতুন বছরে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে প্রবৃদ্ধিসহায়ক বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা থেকে সরে এসে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বাজেটে অধিক গুরুত্ব দিতে হচ্ছে সরকারকে। জনবান্ধব কর্মসূচি ও ব্যবসায়িক সুবিধা উচ্চ মূল্যস্ফীতি,

চড়া পণ্যমূল্য, জ্বালানি খাতের অস্থিরতা এবং ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সংস্কারের মধ্যেও দেশের মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে চায় সরকার। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননসহ আরও নতুন কিছু জনবান্ধব কর্মসূচি ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। নিত্যপণ্য আমদানিতে করছাড় দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যার ফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ভর্তুকির পরিমাণ বাড়বে। ব্যবসাবাণিজ্য চাঙা করতে সব ধরনের করপোরেট কর কমানো হতে পারে এবং ব্যবসার খরচ কমানো ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ রয়েছে। নতুন বাজেট প্রস্তাবে পণ্যের ধরন অনুযায়ী এই হার ৪ কিংবা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার চিন্তা করছে সরকার। অতি ধনীদের জন্য সম্পদকর, মধ্যবিত্তের

জন্য স্বস্তি এবারের বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে সম্পদকর। বর্তমানে উচ্চসম্পদের ব্যক্তিদের ওপর প্রদেয় আয়করের ভিত্তিতে সারচার্জ আরোপ করা হয়। নতুন প্রস্তাবে সারচার্জ তুলে দিয়ে সরাসরি সম্পদের মূল্যের ওপর কর আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩০ হাজার করদাতা রয়েছেন যাদের আয় দেড় কোটি টাকার বেশি। নতুন করহার কার্যকর হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছে সরকার। অন্যদিকে সাধারণ করদাতাদের চাপ কমাতে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হতে পারে। ফিরছে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাজেটের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রসঙ্গগুলোর একটি হলো অন্তর্বর্তী সরকার যে অপ্রদর্শিত আয় বা কালোটাকা বৈধ করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছিল, তা আবার চালু করার পরিকল্পনা। তবে এবার আগের মতো নির্দিষ্ট কম হারে নয়, বরং নিয়মিত করহারেই এ সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ যে অর্থবছরে আয় গোপন করা হয়েছিল, সেই সময়কার নির্ধারিত করহার অনুযায়ী কর পরিশোধ করে সম্পদ বৈধ করা যাবে। শাপাশি আয়কর বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন বা অন্য কোনো সংস্থা আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে সেজন্য আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। এছাড়া করের আওতা বিস্তারে সব অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে এক ছাতার নিচে এনে করব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাকেও বছরে অন্তত একটি ন্যূনতম কর দিতে হবে। মোটরসাইকেল ও চার্জার রিকশার মালিকদেরও আয়করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, আসছে বাজেটটা হবে নতুন এক প্রেক্ষাপটে জনপ্রত্যাশার, যেখানে প্রতিফলিত হতে হবে জনগণের স্বার্থ। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অনেক দিন পর দেশের মানুষ ভোট দিয়ে একটা সরকার গঠন করেছে। ফলে এ সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। এজন্য প্রথম বাজেটের দিকে নজর থাকবে প্রায় সব শ্রেণির মানুষেরই।’ অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এবারের বাজেটে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হবে রাজস্ব আদায় ও বিনিয়োগ উৎসাহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। কারণ একদিকে উচ্চ ব্যয় মেটাতে রাজস্ব বাড়াতে হবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত করের চাপে ব্যবসাবাণিজ্য ও শিল্প খাত আরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কাঁচামালে এআইটি কমানো, করহার আগাম ঘোষণা এবং করকাঠামোকে আরও স্থিতিশীল করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা ব্যবসায়ীদের আস্থা ফেরাতে কিছুটা হলেও সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সামগ্রিকভাবে একটি কঠিন বছর হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ছাত্রলীগ সন্দেহে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থী কিশোর কারাগারে, শিক্ষাজীবন ধ্বংসে পুলিশের প্রতি ক্ষোভ ৬ বছরের শিশুকে ৭০ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণচেষ্টা: সালিশ-মীমাংসার নামে ধামাচাপার চেষ্টা যুবদল নেতাদের হামে সাড়ে ৫শ মায়ের কোল খালি, অথচ ইউনূসের হাহাকার সুদূর চীন নিয়ে! ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের দ্বন্দ্ব: ৪৬২৫টি হতদরিদ্র পরিবারের ভাগ্য অনিশ্চিত চসিক যেন ‘শাহাদাত এন্টারপ্রাইজ’: টেন্ডার ছাড়াই কোটি কোটি টাকার গরুর হাট বাটোয়ারা! দুই মন্ত্রণালয়ের টানাহেঁচড়ায় ধ্বংসের মুখে চট্টগ্রামের গুলিয়াখালী ম্যানগ্রোভ বন ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে শিল্পী-জনতার সমাবেশ: ধর্ষণ ও শিশু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বাজেট ২০২৬-২৭: একদিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ, অন্যদিকে রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি রাস্তা থেকে ধরে ইটভাটায় নিয়ে পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবককে গণপিটুনি ২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাসায় একা পেয়ে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বিজয়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কেমন হবে এই ৫ তারকার বিশ্বকাপ? ভারতে ‘আরশোলা জনতা’ কারা, জনপ্রিয়তার নেপথ্যে কী ঘুমধুম সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩ কলকাতায় আকাশছোঁয়া ছাগল ও দুম্বার দাম, নেপথ্যে কী দেশে হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু ভারতীয় তরুণের মুখে হরমুজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বেঁচে ফেরার গল্প দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর ঢাকার রাস্তায় এআই ক্যামেরা, কতটা কাজে দিচ্ছে