ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
৪ কোটি ডলার পরিশোধ না করেই বাংলাদেশ থেকে পণ্য ক্রয় বন্ধ করল ইউরোপের ব্র্যান্ড এলপিপি
বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ পাবে না, জানিয়ে দিলেন মহাসচিব কাও কিম
চীনে ভারি বৃষ্টিতে ভূমিধসে নিহত বেড়ে ২৫, বেইজিংসহ একাধিক অঞ্চলে সতর্কতা
ইরান যাওয়ার পথে মরুভূমিতে ১৯ আফগানের মৃত্যু
মোদির বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক কেজরিওয়ালের
প্রেসিডেন্টের শপথের আগেই কলম্বিয়ায় বোমা হামলা, আহত ১১
মাত্র এক দশকেই এলএনজি রপ্তানিকারক সব দেশকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে যুক্তরাষ্ট্র
খাইবার শিকান: ইরানের যে ক্ষেপণাস্ত্র ঘুম কেড়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান বারবার যে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছুঁড়ছে, তার নাম খাইবার শিকান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরান শুরু থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের হামলার কৌশল দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে, যা এই ক্ষেপণাস্ত্রকে মার্কিন সেনাদের জন্য আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
খাইবার শিকান আসলে কী?
খাইবার শিকান একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইরানের দাবি, এটি প্রায় ৯০০ মাইল পর্যন্ত উড়তে সক্ষম—অর্থাৎ গোটা মধ্যপ্রাচ্য এমনকি তার বাইরের এলাকাও এর আওতায় পড়ে।
ইরান একে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র বলে দাবি করে—অর্থাৎ এটি সোভিয়েত আমলের কোনো পুরোনো নকশার পরিবর্তিত রূপ নয়, বরং ইরানেই ডিজাইন করা।
সপ্তম শতাব্দীর খাইবারের
যুদ্ধের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে, যেখানে নবী মুহাম্মদের অনুসারীরা একটি ইহুদি জনবসতি জয় করেছিলেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ইরানের প্রতিপক্ষদের জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তোলার পেছনে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য কাজ করে। এর কিছু সংস্করণে, ওয়ারহেড বহনকারী নাকের অংশ পৃথিবীর দিকে উচ্চগতিতে নেমে আসার সময় দিক পরিবর্তন করতে পারে। পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মতো নয়, এতে রয়েছে কঠিন জ্বালানি (সলিড ফুয়েল)—অর্থাৎ উৎক্ষেপণের ঠিক আগে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয় না। এর ফলে ইরান ট্রাকের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রেখে যেকোনো সময় দ্রুত ছুঁড়তে পারে, তার আগেই মার্কিন যুদ্ধবিমান সেগুলো ধ্বংস করার সুযোগ পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র এক হাজার পাউন্ডেরও বেশি ওজনের পেলোড বহন করতে পারে এবং ঘণ্টায় কয়েক
হাজার মাইল বেগে ছুটতে পারে, ফলে সরাসরি আঘাত হানলে তা অত্যন্ত মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার ২০২২ সালে খাইবার শিকান উন্মোচনের সময় ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, এর তৃতীয় প্রজন্মের নকশা আগের মডেলগুলোর তুলনায় ওজনে এক-তৃতীয়াংশ এবং উৎক্ষেপণে সময় লাগে ছয় ভাগের এক ভাগ। যুদ্ধে ইরান খাইবার শিকানের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও ব্যবহার করছে, এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন গতি, উড্ডয়নপথ ও কৌশলের সমন্বয় ঘটাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব উৎক্ষিপ্ত অস্ত্রের বেশিরভাগই ভূপাতিত করতে পেরেছে, তবে কিছু অস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে খাইবার
শিকানসহ প্রায় আড়াই হাজার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এছাড়া ইরানের রয়েছে স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ উৎক্ষেপণযান। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করেও ইরান মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংসের চেষ্টা করলেও, কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে তাদের মজুত কিছুটা পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি এমন প্রমাণও মিলেছে যে ইরান খাইবার শিকান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করেছে। মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এমন ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যায় হুতিদের সংস্করণটি ইরানেরটির প্রায় হুবহু অনুরূপ। ইরান খাইবার শিকানের নির্মাণ ব্যয় প্রকাশ না করলেও
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের তুলনায় অনেক সস্তা। প্যাট্রিয়ট, থাড এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইলের মতো এসব ইন্টারসেপ্টরের প্রতিটির দাম ধরন ভেদে ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলার পর্যন্ত। ট্রাম্পের লক্ষ্য বদল যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন করা। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।” তবে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসেছেন এবং এখন মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা থেকে বিরত রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র কোনো সমস্যা নয়। এগুলো ছোট একটি জায়গায় ক্ষতি
করে, কিন্তু গোটা গ্রহকে উড়িয়ে দেয় না।” পঞ্চম মাসে পা রাখা এই সংঘাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষণও এখনো দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে, যেখানে নবী মুহাম্মদের অনুসারীরা একটি ইহুদি জনবসতি জয় করেছিলেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ইরানের প্রতিপক্ষদের জন্য বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং করে তোলার পেছনে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য কাজ করে। এর কিছু সংস্করণে, ওয়ারহেড বহনকারী নাকের অংশ পৃথিবীর দিকে উচ্চগতিতে নেমে আসার সময় দিক পরিবর্তন করতে পারে। পুরোনো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মতো নয়, এতে রয়েছে কঠিন জ্বালানি (সলিড ফুয়েল)—অর্থাৎ উৎক্ষেপণের ঠিক আগে জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হয় না। এর ফলে ইরান ট্রাকের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রেখে যেকোনো সময় দ্রুত ছুঁড়তে পারে, তার আগেই মার্কিন যুদ্ধবিমান সেগুলো ধ্বংস করার সুযোগ পায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র এক হাজার পাউন্ডেরও বেশি ওজনের পেলোড বহন করতে পারে এবং ঘণ্টায় কয়েক
হাজার মাইল বেগে ছুটতে পারে, ফলে সরাসরি আঘাত হানলে তা অত্যন্ত মারাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার ২০২২ সালে খাইবার শিকান উন্মোচনের সময় ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছিল, এর তৃতীয় প্রজন্মের নকশা আগের মডেলগুলোর তুলনায় ওজনে এক-তৃতীয়াংশ এবং উৎক্ষেপণে সময় লাগে ছয় ভাগের এক ভাগ। যুদ্ধে ইরান খাইবার শিকানের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও ব্যবহার করছে, এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন গতি, উড্ডয়নপথ ও কৌশলের সমন্বয় ঘটাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব উৎক্ষিপ্ত অস্ত্রের বেশিরভাগই ভূপাতিত করতে পেরেছে, তবে কিছু অস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে জর্ডানের একটি ঘাঁটিতে হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ইরানের কাছে খাইবার
শিকানসহ প্রায় আড়াই হাজার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এছাড়া ইরানের রয়েছে স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশ উৎক্ষেপণযান। ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করেও ইরান মধ্যম পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংসের চেষ্টা করলেও, কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে ইরান ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে তাদের মজুত কিছুটা পুনর্গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি এমন প্রমাণও মিলেছে যে ইরান খাইবার শিকান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করেছে। মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি এমন ছবি প্রকাশ করেছে, যাতে দেখা যায় হুতিদের সংস্করণটি ইরানেরটির প্রায় হুবহু অনুরূপ। ইরান খাইবার শিকানের নির্মাণ ব্যয় প্রকাশ না করলেও
বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের তুলনায় অনেক সস্তা। প্যাট্রিয়ট, থাড এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইলের মতো এসব ইন্টারসেপ্টরের প্রতিটির দাম ধরন ভেদে ২০ লাখ থেকে দেড় কোটি ডলার পর্যন্ত। ট্রাম্পের লক্ষ্য বদল যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিশ্চিহ্ন করা। ট্রাম্প তখন বলেছিলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেব।” তবে পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই লক্ষ্য থেকে সরে এসেছেন এবং এখন মূলত ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা থেকে বিরত রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “ক্ষেপণাস্ত্র কোনো সমস্যা নয়। এগুলো ছোট একটি জায়গায় ক্ষতি
করে, কিন্তু গোটা গ্রহকে উড়িয়ে দেয় না।” পঞ্চম মাসে পা রাখা এই সংঘাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষণও এখনো দেখা যাচ্ছে না।



