ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাংলাদেশের মতো ভারতেও জেন-জি নেতৃত্ব জনগণের ঘৃণার পাত্র: জয়পুরে চড়-থাপ্পড়ের শিকার জেন-জি নেতা অভিজিৎ
লেবাননে প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে, ইসরাইলের সমালোচনা ট্রাম্পের
ইরান চুক্তি নিয়ে ইসরাইলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি: যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও কে আসল বিজয়ী?
ফিলিপাইনে ৬.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
চুক্তি হলেও লেবানন ও গাজা থেকে সেনা সরাবে না ইসরাইল
লেবাননে ইসরাইলের রাসায়নিক ‘গ্লাইফোসেট’ ব্যবহারের অভিযোগ
পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির বাহাদুরি: শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বেহাল দশা, প্রতিরক্ষা বাজেটে পিষ্ট নাগরিকরা
পাকিস্তান গর্বের সঙ্গে নিজেকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচয় দেয়। প্রতিবেশী দেশকে পাল্টা হুমকি দেওয়ার সময় পারমাণবিক সক্ষমতার কথা সরকারি মহল থেকে বারবার উচ্চারিত হয়। অথচ সেই একই দেশে ২ কোটি ৬০ লাখ শিশু আজও স্কুলের মুখ দেখেনি, হাসপাতালের এক বেডে গাদাগাদি করে শুয়ে থাকেন একাধিক রোগী, এবং প্রতি বছর হাজার হাজার ডাক্তার দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন ভালো জীবনের সন্ধানে।
অস্ত্রের বাহাদুরি আর নাগরিক জীবনের এই করুণ বৈপরীত্যই এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশের প্রকৃত শক্তি পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যায় নয়, বরং তার নাগরিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনমানে। সেই বিচারে পাকিস্তান আজ এক গভীর সংকটের মধ্যে দাঁড়িয়ে। দেশের সিংহভাগ
বাজেট চলে যাচ্ছে ঋণ পরিশোধ এবং প্রতিরক্ষা খাতে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ থাকছে নামমাত্র। এই অগ্রাধিকারের বিকৃতিই দেশটির মানবসম্পদকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিক্ষা খাতের চিত্র রীতিমতো উদ্বেগজনক। পাকিস্তান তার মোট জিডিপির মাত্র ১.৭ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করে, অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার অন্তত ৪ শতাংশ হওয়া উচিত। এই বরাদ্দের সিংহভাগও আবার লোপাট হয়ে যায় দুর্নীতির গহ্বরে। কাগজে-কলমে হাজার হাজার স্কুল সচল দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই, তবু শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন তুলছেন। যে স্কুলগুলো টিকে আছে, সেগুলোর বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ নেই, সুপেয় পানি নেই, সীমানা প্রাচীর নেই এমনকি শৌচাগারও নেই। মানসম্মত শিক্ষকের তীব্র
সংকট এবং সেকেলে পাঠ্যক্রমের কারণে যে শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে তারাও যুগের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা আরও করুণ। পাকিস্তানে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতা বা স্টান্টিংয়ের শিকার, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে পোলিও নির্মূল হলেও পাকিস্তান এখনো এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। হেপাটাইটিস ও যক্ষ্মার প্রকোপও আশঙ্কাজনক মাত্রায় রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি রোগী থাকায় এক বেডে একাধিক রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে বহু পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, কারণ দেশের সিংহভাগ মানুষকে নিজের পকেট থেকেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হয়। এই দুরবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ না
দেখে অর্থনৈতিক মন্দা ও কম বেতনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার দক্ষ ডাক্তার ও নার্স দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব, ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। ধারাবাহিক কোনো জাতীয় নীতিমালার অভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের তহবিল বারবার লুটপাটের শিকার হয়েছে, যা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ না বাড়ায়, তবে দেশটির মানবসম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সেই পরিণতি হবে পরমাণু শক্তিধর এই দেশটির জন্য যেকোনো পারমাণবিক বিপর্যয়ের চেয়েও ভয়ঙ্কর— কারণ বোমা দিয়ে জাতি গড়া যায় না, মানুষ গড়তে হয়
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের হাত ধরে।
বাজেট চলে যাচ্ছে ঋণ পরিশোধ এবং প্রতিরক্ষা খাতে। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ থাকছে নামমাত্র। এই অগ্রাধিকারের বিকৃতিই দেশটির মানবসম্পদকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শিক্ষা খাতের চিত্র রীতিমতো উদ্বেগজনক। পাকিস্তান তার মোট জিডিপির মাত্র ১.৭ শতাংশ শিক্ষায় ব্যয় করে, অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই হার অন্তত ৪ শতাংশ হওয়া উচিত। এই বরাদ্দের সিংহভাগও আবার লোপাট হয়ে যায় দুর্নীতির গহ্বরে। কাগজে-কলমে হাজার হাজার স্কুল সচল দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলোর অস্তিত্ব নেই, তবু শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন তুলছেন। যে স্কুলগুলো টিকে আছে, সেগুলোর বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ নেই, সুপেয় পানি নেই, সীমানা প্রাচীর নেই এমনকি শৌচাগারও নেই। মানসম্মত শিক্ষকের তীব্র
সংকট এবং সেকেলে পাঠ্যক্রমের কারণে যে শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে তারাও যুগের সাথে তাল মেলাতে পারছে না। স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা আরও করুণ। পাকিস্তানে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিহীনতা বা স্টান্টিংয়ের শিকার, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকে পোলিও নির্মূল হলেও পাকিস্তান এখনো এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। হেপাটাইটিস ও যক্ষ্মার প্রকোপও আশঙ্কাজনক মাত্রায় রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি রোগী থাকায় এক বেডে একাধিক রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে বহু পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, কারণ দেশের সিংহভাগ মানুষকে নিজের পকেট থেকেই চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হয়। এই দুরবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ না
দেখে অর্থনৈতিক মন্দা ও কম বেতনের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার দক্ষ ডাক্তার ও নার্স দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই সামগ্রিক বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব, ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। ধারাবাহিক কোনো জাতীয় নীতিমালার অভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের তহবিল বারবার লুটপাটের শিকার হয়েছে, যা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, পাকিস্তান যদি অনতিবিলম্বে জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ না বাড়ায়, তবে দেশটির মানবসম্পদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর সেই পরিণতি হবে পরমাণু শক্তিধর এই দেশটির জন্য যেকোনো পারমাণবিক বিপর্যয়ের চেয়েও ভয়ঙ্কর— কারণ বোমা দিয়ে জাতি গড়া যায় না, মানুষ গড়তে হয়
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের হাত ধরে।



