আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধ, ব্যবসা গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দারাজ বাংলাদেশ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ জুন, ২০২৬

আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধ, ব্যবসা গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দারাজ বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ জুন, ২০২৬ |
চীনের বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের খুচরা ই-কমার্স ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগ থেকে সরে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস দারাজের ওপর। ফলে কঠিন সময় পার করছে দারাজ বাংলাদেশ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দেশের একমাত্র শতভাগ বৈদেশিক বিনিয়োগভিত্তিক ই-কমার্স মার্কেটপ্লেসটির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও পাকিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী দারাজ গ্রুপকে অধিগ্রহণ করে আলিবাবা। বর্তমানে এসব বাজারেই নিজেদের বিনিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন আনছে প্রতিষ্ঠানটি। ই-কমার্স খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে আলিবাবা। তবে বৈশ্বিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

(এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে ঝুঁকছে। ই-কমার্স খাত এবং আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সূত্র বলছে, ক্লাউড ও এআইভিত্তিক সেবা প্রদানের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে আলিবাবা। এর অংশ হিসেবে হংকংয়ে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অবকাঠামোও গড়ে তুলছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ের ই-কমার্স ব্যবসার পরিবর্তে সরবরাহকারীভিত্তিক ই-কমার্স মডেলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে আলিবাবা। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দুটি বড় ব্যবসা হলো স্থানীয় ই-কমার্স কোম্পানির সঙ্গে পণ্য সরবরাহকারীদের সংযোগ স্থাপন এবং সীমান্তপারের ই-কমার্স বাণিজ্য পরিচালনা। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলিবাবা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারা ব্যবসা-টু-ব্যবসা (বিটুবি) খাতে বেশি মনোযোগ দেবে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে খুচরা বাজারের

চেয়ে একটি ‘সোর্সিং হাব’ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যবসায়িক এই রূপান্তরই দারাজে নতুন বিনিয়োগ বন্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দারাজের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি এখন ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করছে। এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও নেপালে দারাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে আলিবাবা। বর্তমানে দারাজ বাংলাদেশের সিইও বেন কিয়ান ই বাংলাদেশ ছাড়াও এই দুই দেশের কার্যক্রম তদারকি করবেন। শুধু শীর্ষ পর্যায় নয়, বিভিন্ন স্তরেই কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। দারাজ বাংলাদেশের কার্যক্রম থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীকে বিদায় করা হয়েছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মী জানান, চলতি বছরের শুরুতে যে সংখ্যক

কর্মী ছিল, ঈদুল আজহার আগে তা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফলে কর্মরতদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন। একই সঙ্গে দারাজ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বেতন বকেয়া থাকার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান। প্রতিষ্ঠানটির মধ্যম পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “ম্যানেজার ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মে মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয়নি। গত সপ্তাহের শেষ দিকে সেই বকেয়া পরিশোধ করা হয়। তবে বেতনের বাইরে কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন সুবিধা এখনও বাকি রয়েছে। এছাড়া ভাড়াভিত্তিক গাড়ি সরবরাহকারী ব্যবসায়ীদের কয়েক মাসের বিলও পরিশোধ করা হয়নি।” চাকরিচ্যুত কর্মীদের জন্য প্রতিশ্রুত বিভিন্ন সুবিধাও এখন পর্যন্ত দেওয়া

হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন সাবেক কর্মী বলেন, “দারাজে ছয় মাস পূর্ণ না হলেও কর্মীরা সাধারণত ঈদ বোনাস পেতেন। আনুপাতিক হারে হলেও বোনাস দেওয়া হতো। এমনকি যাদের চাকরির মেয়াদ ছয় মাস হয়নি, তারাও ঈদুল ফিতরের আগে বোনাস পেয়েছেন। কিন্তু এবার ঈদুল আজহার আগে বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হলেও তাদের কোনো বোনাস দেওয়া হয়নি। শুধু বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “গ্র্যাচুইটি, নোটিশ পিরিয়ডের বেতনসহ অন্যান্য পাওনাও এখনও বাকি রয়েছে। দারাজের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমন পরিস্থিতি কেউ প্রত্যাশা করেনি।” সম্প্রতি দারাজ বাংলাদেশের কাছে প্রধান কার্যালয় থেকে অভ্যন্তরীণভাবে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিতে আর অতিরিক্ত বিনিয়োগ করা হবে না। অর্থাৎ এখন

থেকে নিজেদের আয় দিয়েই পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হবে। আগামী জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের মধ্যে ‘ব্রেক ইভেন’ বা আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যে পৌঁছাতে না পারলে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর কোনো ভর্তুকি দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ ব্যবহার করে পরিচালন ব্যয়ের একটি অংশ মেটানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ অন্যান্য বাজারে দ্রুত ‘ব্রেক ইভেন’-এ পৌঁছানোর চেষ্টা করছে দারাজ। ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে অব্যাহত রয়েছে কর্মী ছাঁটাই। বর্তমানে দারাজে প্রায় ১ হাজার মানুষ কাজ করলেও তাদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৩০০ জন নিয়মিত কর্মী। বাকি কর্মীরা ডেলিভারি রাইডারসহ চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং ব্যবস্থার আওতায় কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংখ্যাও

আরও কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যয় কমাতে রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তেজগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা অফিস, হাব ও সর্টিং সেন্টারের কিছু অংশও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার উলুখোলায় অবস্থিত দারাজের মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রির চেষ্টাও চলছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে দারাজের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনাকারী বহু মার্চেন্টের পাওনাও বকেয়া রয়েছে। এ কারণে তাদের একটি অংশ নিয়মিতভাবে পণ্য সরবরাহ করছেন না। বেতন-ভাতা পরিশোধ না হওয়ায় ডেলিভারি ও লজিস্টিকস বিভাগের কিছু কর্মী সম্প্রতি কর্মবিরতিও পালন করেছেন। এতে পণ্য সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এই বিভাগের একজন কর্মী বলেন, “গত মাসের ১৫ তারিখে করা কিছু অর্ডার ২৯ তারিখ পর্যন্তও ডেলিভারি হয়নি।” দারাজের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজেদের আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহের সক্ষমতা অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্তই তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বাবলম্বী হতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির সামনে কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোনো পথ নাও থাকতে পারে। তবে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করার পরিবর্তে বিকল্প কিছু কৌশলও বিবেচনায় রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ, ভাড়া বা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই কর্মকর্তা বলেন, “তেজগাঁওয়ের সর্টিং সেন্টার কোনো ডেলিভারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হতে পারে। আবার দারাজের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা এবং অর্ডারের পরিমাণ বিবেচনায় অন্য কোনো বিনিয়োগকারীর সঙ্গে অংশীদারত্ব বা একীভূত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” তিনি বলেন, “দারাজ বাংলাদেশের যেহেতু আলিবাবা ছাড়া আর কোনো বিনিয়োগকারী নেই, তাই আলিবাবা যদি বিনিয়োগ বন্ধ করে দেয়, তাহলে কার্যত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।” এ বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে দারাজের পক্ষ থেকে পাঠানো এক মন্তব্যে আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধের তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, “এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত থাকলে আমরা নিজেরাই গণমাধ্যমকে অবহিত করব।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আলিবাবার বিনিয়োগ বন্ধ, ব্যবসা গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দারাজ বাংলাদেশ প্রবাসীদের বিক্ষোভের অতীত স্মৃতি স্মরণ করে লন্ডন সফর বাতিল করেন শফিকুল বেনজীরের ‘ক্যাশিয়ার’ থেকে বিএনপির এমপি — জসিম উদ্দিনের বিস্ময়কর রাজনৈতিক পুনর্জন্ম বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হওয়ার ১০ বছর পর জন্ম জামায়াত এমপির! সংসদে চাঞ্চল্যকর দাবি “কলকাতায় ‘লালবদর’ ডেকে লীগের মব” এনসিপি-শিবিরের দাবিকে ভিত্তিহীন বললেন মোশাররফ করিম জুলাই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের ঘোষণা ফেনীর পুলিশ সুপারের চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী-শ্বশুরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির বাহাদুরি: শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বেহাল দশা, প্রতিরক্ষা বাজেটে পিষ্ট নাগরিকরা তিলে তিলে তিলোত্তমা নগরী চট্টগ্রামের অবক্ষয়: প্রকাশ্যেই মাদক-ছিনতাই আর অনৈতিক কার্যক্রমের আখড়া দেশে শিশুদের শরীরে ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই অকার্যকর, সুপারবাগের থাবা বাংলাদেশের মতো ভারতেও জেন-জি নেতৃত্ব জনগণের ঘৃণার পাত্র: জয়পুরে চড়-থাপ্পড়ের শিকার জেন-জি নেতা অভিজিৎ স্পেনকে রুখে দিল প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে এসএএম ইঞ্জিন: ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসার নতুন পণ্য, যার নেই কোন বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি রাজনৈতিক উত্তাপে ভরা ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ইরানের ড্র নেইমার কি গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ মিস করবেন? বিশ্বকাপ অভিযানে নামছে দুই পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স জুলাইযোদ্ধা জুবায়ের ট্রাকচাপায় নিহত, ট্রাকচালকের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ স্বজনদের গভীর রাতে পরস্ত্রীর বিছানা থেকে হাতেনাতে আটক মসজিদের ইমাম, অতঃপর… ত্রাণের টাকা লোপাট করলেন জামায়াত এমপির এপিএস-স্বজন ও দলের নেতাকর্মীরা মিলে বিশ্বকাপে মাইলফলকের সামনে মেসি