অবৈধ টাকা উপার্জনের মেশিনে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ মার্চ, ২০২৬
     ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ

অবৈধ টাকা উপার্জনের মেশিনে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ মার্চ, ২০২৬ | ৪:৪১ 12 ভিউ
জুলাই-আগস্টের দাঙ্গা-পরবর্তী সময়ে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এখন দুর্নীতি, অসাংবিধানিক নিয়োগ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের গুরুতর অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছে। প্রসিকিউশন প্যানেলের ভেতরে ঘুষ লেনদেন, আসামিকে রাজসাক্ষী করা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় ট্রাইব্যুনালটির নৈতিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ সামনে আসে। গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া একটি হোয়াটসঅ্যাপ অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে অগ্রিম ১০ লাখ টাকা নগদ চাইতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন। এই ঘটনা ট্রাইব্যুনালের

কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। সাবেক আইজিপিসহ একাধিক মামলার আসামিকে রাজসাক্ষী করার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সুলতান মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে প্রাণহানির ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী করার জন্য হাজার কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনা করা

হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে বসে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনিরের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। তার আরও অভিযোগ, সাবেক আইজিপিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধানমন্ডির তদন্ত কার্যালয়ে আইনজীবী শিশির মনির নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তিনি দাবি করেন, ‘দাগি খুনি পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না করে নিরাপদে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এবং চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে টাকা উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’ সুলতান মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে আশুলিয়ায় ভ্যানে লাশ পোড়ানোর মামলার এক আসামির স্ত্রী একটি ‘ভারী ব্যাগ’ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজি মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি চিফ

প্রসিকিউটরকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরে ওই মামলার আসামি আফজালকে রাজসাক্ষী করা হয় এবং চূড়ান্ত বিচারে তাকে খালাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় এসআই আশরাফুলের বিরুদ্ধে ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আসামি না করে সাক্ষী করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইভাবে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কয়েকজন সাক্ষী আদালতে এসে এসি ইমরানের নাম উল্লেখ করলেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এদিকে ট্রাইব্যুনালের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আইসিটি আইনে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, সেগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে অভিযোগ

রয়েছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া অবস্থায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন—তবে এখানে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে সমালোচকরা দাবি করছেন। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও দ্রুত কয়েকজন বিচারপতিকে স্থায়ী করা হয়েছে। প্রসিকিউশন প্যানেল গঠনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আগে যুদ্ধাপরাধীদের প্রধান আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছিলেন। এ নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ

হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যার তদন্ত মাত্র এক মাসে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় ঘটনার তদন্ত এত অল্প সময়ে শেষ করার নির্দেশ বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) না গিয়ে এই ঘরোয়া ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ট্রাইব্যুনাল দেশের ভাবমূর্তির জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রসিকিউশন প্যানেলের ভেতরে দ্বন্দ্ব, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখন বড় ধরনের

আস্থার সংকটে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
গুজবের অবসান ও শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ওয়েভার চাইল বাংলাদেশ বিনা বিচারে কারাবন্দি আর কতদিন? স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত এক কোটি টাকার রাস্তা, এক জীবনের ভিটা ১৯৭১ সালের ১২ মার্চ: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার চূড়ান্ত অভিযাত্রা শান্তি আলোচনার আড়ালে দেশে পরিকল্পিত গণহত্যা চালায় পাকিস্তানিরা অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তানিদের হানা, রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল বিদ্যার প্রাঙ্গণ শেখ হাসিনার ‘চক্ষু রাঙানি উপেক্ষা’ বনাম বর্তমানের ‘অনুমতি ভিক্ষা’: কোন পথে বাংলাদেশ? অবৈধ টাকা উপার্জনের মেশিনে পরিণত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সার্কাসে পরিণত হয়েছে ইউনূসের বানানো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এন্টিবায়োটিক ঔষধকে বাঁচান দেশের ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ কত জানাল ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে নৌবাহিনী: আইএসপিআর ভিন্ন উপায়ে যুদ্ধে ইরানকে সাহায্য করে যাচ্ছে রাশিয়া-চীন আইপিএলের প্রথম পর্বের সূচি ঘোষণা, কার কবে খেলা দেখে নিন আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে জরুরি বৈঠকের ডাক