ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটঃ আসন্ন বাজেটে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় অগ্রিম আয়করের প্রস্তাব
‘ব্যাগ ভরে টাকা নিলে মিলছে পকেট ভরা বাজার’, লাগামহীন দামে মেজাজ চড়া ক্রেতাদের
বিষমাখা আম-লিচুতে সয়লাব বাজার
বিষমাখা আম-লিচুতে সয়লাব বাজার
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অবহেলার মামলা
বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যে দড়ি বেঁধে চলছে প্রশাসনের মেলা, শুকানো হচ্ছে লুঙ্গিও
আরও ৪ জেলায় বন্যার আভাস
দিনে ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকছে ঢাকার শিশুরা
ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে (মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার) তাকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত এই স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা স্থূলতা ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে।
আইসিডিডিআর,বির নতুন এক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলোর মধ্যে তিনটি ছিল বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যম। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি জার্নাল অফ মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ হিউম্যান ফ্যাক্টরস্-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, শারীরিক পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন মূল্যায়ন
পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স (পিএসকিউআই), স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার (এসডিকিউ) এবং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট (ডিএডব্লিউবিএ) ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন বা প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার করে। গড়ে প্রতিটি শিশু দিনে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে সময় কাটায়, যা শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু ঘন ঘন মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। যারা দিনে দুই
ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের গড় ঘুমের সময় মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সী শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা কিংবা আচরণগত সমস্যাসহ এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা কমে গিয়ে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি চোখে চাপ, মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি এবং
সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে অস্বস্তি, খিটখিটে আচরণ, বাইরের খেলাধুলায় অনীহা কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে
অভিভাবকদের উচিত তাদের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিভাইস-মুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি বিতর্ক, দলীয় পড়াশোনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া এবং গাছের যত্ন নেওয়ার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিশুদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়; বরং শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে
তাকিয়ে থাকতে হবে।
পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স (পিএসকিউআই), স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার (এসডিকিউ) এবং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট (ডিএডব্লিউবিএ) ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন বা প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার করে। গড়ে প্রতিটি শিশু দিনে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে সময় কাটায়, যা শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু ঘন ঘন মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। যারা দিনে দুই
ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের গড় ঘুমের সময় মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সী শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা কিংবা আচরণগত সমস্যাসহ এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা কমে গিয়ে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি চোখে চাপ, মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি এবং
সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে অস্বস্তি, খিটখিটে আচরণ, বাইরের খেলাধুলায় অনীহা কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে
অভিভাবকদের উচিত তাদের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিভাইস-মুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি বিতর্ক, দলীয় পড়াশোনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া এবং গাছের যত্ন নেওয়ার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিশুদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়; বরং শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে
তাকিয়ে থাকতে হবে।



