ঈদের আগে নতুন নোটের সংকট: বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকায় বাজারে ছাড়া হচ্ছে না ১৬ হাজার কোটি টাকা, উল্টো নতুন নোট ছাপার পেছনে অপব্যয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ May, ২০২৬

ঈদের আগে নতুন নোটের সংকট: বঙ্গবন্ধুর ছবি থাকায় বাজারে ছাড়া হচ্ছে না ১৬ হাজার কোটি টাকা, উল্টো নতুন নোট ছাপার পেছনে অপব্যয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ May, ২০২৬ |
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বাংলাদেশে প্রতিবছর নতুন নোটের চাহিদা তীব্রভাবে বেড়ে যায়। তবে এবার সেই চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে পড়েছে — আর এই সংকটের পেছনে রয়েছে কেবল কাগজ-কালির ঘাটতি নয়, বরং একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও। ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ বিভিন্ন মূল্যমানের অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দিয়েছে। এই চাহিদা পাঠানো হয়েছে দেশের একমাত্র নোট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন — যা সাধারণ্যে ‘টাঁকশাল’ নামে পরিচিত — সেখানে। কিন্তু টাঁকশাল জানিয়েছে, কাগজ ও কালির সংকটের কারণে ঈদের আগে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকার নোট সরবরাহ করা সম্ভব। অর্থাৎ চাহিদার মাত্র

অর্ধেক। টাঁকশালে পড়ে আছে ১৫,৮০০ কোটি টাকা — তবু বাজারে যাচ্ছে না পরিস্থিতির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনে বর্তমানে অর্ধপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার নোট। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই নোট বাজারে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র সরাসরি অভিযোগ করেছে — “শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু-বিদ্বেষের কারণে প্রতিহিংসাবশত” প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার এই ছাপানো নোট বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। “শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু-বিদ্বেষের কারণে প্রতিহিংসাবশত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বাজারে

ছাড়ছে না।” — বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ের সূত্র যেভাবে তৈরি হলো এই সংকট বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোটের বদলে একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্বাভাবিক সময়ে নোটের নকশা বদলের ক্ষেত্রে একটি-একটি করে বদল করা হতো। কিন্তু এবার একযোগে সব মূল্যমানের নতুন ডিজাইনের নোট আনার চেষ্টা করা হয়। নতুন নোট বাজারে আনতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া চলার সময়ে পুরোনো নকশার নোট ছাড়াও বন্ধ রাখা হয়। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত দুই ঈদে কোনো নতুন নোটই বাজারে

ছাড়া হয়নি। সমস্যা কেবল সংকটেই সীমাবদ্ধ নয়। যে নতুন নকশার নোট বাজারে এসেছে, সেগুলোর মানও প্রশ্নবিদ্ধ। হাটে-বাজারে, যানবাহনে সাধারণ মানুষ এই নোট ব্যবহারে অনাগ্রহী। বৃষ্টিতে ভিজলে বা পানি লাগলে নোটের রঙ উঠে যাচ্ছে, দ্রুত ছিঁড়ে যাচ্ছে — এ নিয়ে জনমনে রয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ। ব্যাংকগুলোর প্রায় ১২ হাজার শাখার ভল্টে থাকে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো বাজার থেকে পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা বা ময়লাযুক্ত নোট সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া এবং সমমূল্যের নতুন নোট নিয়ে আসা। কিন্তু চাহিদামতো নতুন নোট না পাওয়ায় এই চক্র

ভেঙে পড়েছে। ফলে বাজারে এখন প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা নোট দেখা যাচ্ছে। আরিফ হোসেন খান, মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক “২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী নতুন নকশার নোট আনতে গিয়ে কিছুটা সময় লেগেছে। যে কারণে বাজারে নোটের কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে। ফলে এ সংকট আর থাকবে না।” টাকা ছাপতে বিমানযোগে আনা হচ্ছে কাগজ-কালি নতুন নকশার নোট ছাপার জন্য কাগজ ও কালির সংকট মেটাতে এখন বেশি খরচ করে বিমানযোগে এই উপকরণ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই নোট ছাপা শেষ করে ঈদের আগে বাজারে দেওয়া সম্ভব হবে না বলেই জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, ছাপানো নোটের সংকট এবং তারল্য সংকট এক বিষয়

নয়। বর্তমানে দেশে মোট সঞ্চয় রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা। ছাপানো নোটের চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর ঈদের আগে নতুন নোটের চাহিদা বাড়ে এবং এ সময় সর্বোচ্চ সংখ্যক নতুন নোট বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু এবার সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে। নোট বদলানো নিয়ে ভোগান্তি নিয়ম অনুযায়ী, ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট ব্যাংক গ্রাহককে বদলে দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত নভেম্বরে ‘ক্লিন নোট পলিসি’ও প্রবর্তন করেছে। কিন্তু নতুন নোটের সরবরাহ না থাকায় অনেক ব্যাংক নানা অজুহাতে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের নোটের ক্ষেত্রে এই অনীহা আরও বেশি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নোট বদলে নেওয়ার সুযোগ পেতেন। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর থেকে সেই কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প lপিরোজপুরে ৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামায়াত আমিরের জামায়াত-শিবিরকে নিয়মিত ধুয়ে দেওয়া রাশেদ ছিলেন শিবিরের শপথবদ্ধ সাথী, গোমর ফাঁস শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আটক প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে টোকিওতে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতি তুমি কে, আমি কে? বাঙালি… বাঙালি… – শেকড়, সংগ্রাম ও প্রত্যয়: বাঙালি জাতীয়তাবাদের অপরাজেয় অভিযাত্রা জয় বাংলা—রণাঙ্গনের গর্জন থেকে চেতনার মহাকাব্য অভিষেকের ৩৫ বলের সেঞ্চুরি, পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে গোপনে দেশত্যাগ ওয়াশিংটনের প্রার্থী ফ্লাভিও’র; পরিবারের সদস্যদেরও ভিসা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন জাপান-বাংলাদেশ ইপিএঃ চার বছর পরিশ্রমের ফসল; রপ্তানিতে নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে কার্যকরের সম্ভাবনা বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ ২০২৩ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অঙ্গীকার, ২০২৬ সালে বিনিয়োগে আগ্রহ ও সহযোগিতাঃ জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ২৩’এর বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির অনুরোধ, ২৬’এ বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ জাপানের ইউনূসের জাপান সফরের ১৭ মাসঃ পাঁচ বছরে জাপানে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর চুক্তির অগ্রগতি কতোটা? ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগকে নিয়েই অবাধ নির্বাচন ও পুনর্মিলনের আহ্বান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় লঙ্কানদের রেকর্ড জয় মানুষের পেটে ভাত নেই, ৭০% ছাড় দিয়েও বিক্রি হচ্ছে না জামা-কাপড়: ব্যবসা নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা (স্ট্যাগফ্লেশন) এবং মহা অস্বীকৃতি কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগ নেত্রী ডালিয়াকে জবাই করে হত্যা