চলতি অর্থবছর রেকর্ড বিদ্যুৎ আমদানির পথে বাংলাদেশ, বাড়ছে ব্যয়ও
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানির পথে রয়েছে বাংলাদেশ। ভারত ও নেপাল থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৯০ কোটি ইউনিটে পৌঁছাতে যাচ্ছে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্রমবর্ধমান আমদানিনির্ভরতার নতুন রেকর্ড গড়বে।
একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের চুক্তির কারণে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয়ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত ও নেপাল থেকে মোট ১ হাজার ৭৮৯ কোটি ৬৯ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।
এ বাবদ সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ১১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ফলে ইউনিটপ্রতি গড় আমদানি ব্যয় দাঁড়াবে ১১ টাকা ৮০ পয়সা, যা এ
পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও নেপাল থেকে মোট ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল। সে সময় ব্যয় হয়েছিল ১৯ হাজার ২২৫ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং ইউনিটপ্রতি গড় ব্যয় ছিল ১১ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় ৯ শতাংশ এবং ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ছে। পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধিও ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ১১ পয়সা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ টাকা ৭৭ পয়সায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গড় ব্যয় হয় ১১ টাকা
৫৪ পয়সা। এরপর গত অর্থবছরে তা ১১ টাকা ৭০ পয়সা এবং চলতি অর্থবছরে ১১ টাকা ৮০ পয়সায় উন্নীত হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ব্যয়ের উত্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির আওতায় নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হওয়ার পর আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ভারত থেকেই সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। সে বছর আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৮১ কোটি ৪৮ লাখ ইউনিট এবং ব্যয় হয়েছিল ১৯
হাজার ৪১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি যুক্ত হওয়ার পরও গত অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ইউনিটপ্রতি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে। শুরুতে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এনভিভিএন, পিটিসি, সেম্বকর্প ইন্ডিয়া এবং ত্রিপুরা সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতের আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর, যা ২০৪৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে গত বছরের জুনে প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়।
ভারতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে নেপাল থেকে প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদা পূরণে আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে উচ্চমূল্যের আমদানিনির্ভরতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে আমদানি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পর্যন্ত সর্বোচ্চ। তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও নেপাল থেকে মোট ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছিল। সে সময় ব্যয় হয়েছিল ১৯ হাজার ২২৫ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং ইউনিটপ্রতি গড় ব্যয় ছিল ১১ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় ৯ শতাংশ এবং ব্যয় প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ছে। পিডিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের প্রবৃদ্ধিও ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় ব্যয় ছিল ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ১১ পয়সা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ টাকা ৭৭ পয়সায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে গড় ব্যয় হয় ১১ টাকা
৫৪ পয়সা। এরপর গত অর্থবছরে তা ১১ টাকা ৭০ পয়সা এবং চলতি অর্থবছরে ১১ টাকা ৮০ পয়সায় উন্নীত হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ব্যয়ের উত্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তির আওতায় নির্ধারিত মূল্য পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এ ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হওয়ার পর আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ভারত থেকেই সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ আমদানি হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। সে বছর আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৮১ কোটি ৪৮ লাখ ইউনিট এবং ব্যয় হয়েছিল ১৯
হাজার ৪১২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তবে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি যুক্ত হওয়ার পরও গত অর্থবছরে মোট আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও ইউনিটপ্রতি ব্যয় বেড়েছে। বাংলাদেশ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে। শুরুতে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এনভিভিএন, পিটিসি, সেম্বকর্প ইন্ডিয়া এবং ত্রিপুরা সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতের আদানি পাওয়ারের গড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর, যা ২০৪৮ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে। অন্যদিকে গত বছরের জুনে প্রথমবারের মতো নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়।
ভারতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে নেপাল থেকে প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদা পূরণে আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘমেয়াদে উচ্চমূল্যের আমদানিনির্ভরতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য উৎসের ব্যবহার বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতে আমদানি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



