ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মোদি-শি বৈঠক: গালওয়ান-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সংলাপ
যুক্তরাষ্ট্রকে হুথিদের উপর হামলার অনুরোধ কোনঠাসা সৌদির: “তোমাদের যুদ্ধে পরামর্শ সহয়তা নিয়ে পাশে আছি” জবাব ট্রাম্পের
BRICS সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে পুতিন ও পেজেশকিয়ানের ডলার-বিরোধী বার্তা, মোদির নিরাপদ সমুদ্রপথের আহ্বান
হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকার ৫৪০০ বর্গকিলোমিটার দখল
পুতিন: ইউরোপের সঙ্গে সংঘাতের কোনো কারণ নেই রাশিয়ার
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, নিন্দা ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’
হরমুজে সংকট, বাব আল-মান্দাবে হুতিদের চাপ—বিশ্ববাজারে তেল পৌঁছাবে কীভাবে?
হুথিদের হাতে মায়ুন দ্বীপের পতন: বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগকারী কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপ (যা পেরিম দ্বীপ নামেও পরিচিত) দখল করে নিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে সরে দাঁড়ালে হুথিরা দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, ফলে কার্যত পুরো বাব আল-মান্দাব প্রণালী অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যায়।
দ্বীপটির দখল শুক্রবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং হুথি পক্ষের একজন কর্মকর্তা উভয়েই নিশ্চিত করেছেন। এর আগের দিন হুথিরা তাইজ প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারিমূলক অবস্থানে থাকা দুবাব শহরও দখল করে নেয়। মোখা বন্দর নগরী দখলের পর ধারাবাহিকভাবে এই অগ্রগতি ঘটেছে।
দ্বীপটি কেন
গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আগ্নেয় দ্বীপ মায়ুন বাব আল-মান্দাব প্রণালীর একদম মাঝখানে অবস্থিত, যা লোহিত সাগরের প্রবেশপথের দক্ষিণের সংকীর্ণ করিডোর হিসেবে কাজ করে। দ্বীপটি জলপথকে ইয়েমেন ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের মধ্যে দুটি চ্যানেলে বিভক্ত করেছে। এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে থাকায় হুথিরা এখন কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি একটি ভৌত ঘাঁটি থেকেও জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি ও হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। বৈশ্বিক প্রভাব বাব আল-মান্দাব বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিদিন প্রায় ৮১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের সঙ্গে এই
ঘটনা যুক্ত হলে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জাহাজ চলাচল প্রভাবিত হতে পারে। সৌফান সেন্টারের বিশ্লেষক ক্যারোলিন রোজের মতে, পেরিম দ্বীপ ও ইয়েমেনের উপকূল হুথিদের দখলে যাওয়ায় একটি গলাচাপা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা জাহাজ পরিচালনাকারীদের ব্যয়বহুল বিকল্প পথ বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, পাশাপাশি সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও প্রভাবিত করবে। আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরবের ভেতরে হামলার কারণে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। তবে ট্রাম্প এখনো হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালাতে রাজি হননি, যদিও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ
ও তথ্য আদান-প্রদানে সৌদিদের সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন অপারেশন অ্যাসপিডিস, যা জিবুতিতে অবস্থান করে লোহিত সাগরে চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বে আছে, তার বর্তমান কাঠামোতে স্থলে বা দ্বীপে হুথি অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার নেই। ঘটনার ফলে এই মিশনের দায়িত্বসীমা সম্প্রসারণের আলোচনা ত্বরান্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ রয়েছে, কারণ সৌদি জাহাজ ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ শঙ্কা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দখল একটি বড় সামরিক অগ্রগতি, যা হুথিরা ধরে রাখতে পারলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাতের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে এবং একইসঙ্গে তাদের মিত্র
ইরানের ব্যাপক আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপটি ধরে রাখা হুথিদের জন্য কঠিন হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সংক্ষেপে বললে, ২০১৪ সাল থেকে চলা ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে, এবং মায়ুন দ্বীপ দখল সেই সংঘাতের একটি নতুন ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অধ্যায়। এই ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্য, তেল সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আগ্নেয় দ্বীপ মায়ুন বাব আল-মান্দাব প্রণালীর একদম মাঝখানে অবস্থিত, যা লোহিত সাগরের প্রবেশপথের দক্ষিণের সংকীর্ণ করিডোর হিসেবে কাজ করে। দ্বীপটি জলপথকে ইয়েমেন ও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের মধ্যে দুটি চ্যানেলে বিভক্ত করেছে। এই দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে থাকায় হুথিরা এখন কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি একটি ভৌত ঘাঁটি থেকেও জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারি ও হুমকি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। বৈশ্বিক প্রভাব বাব আল-মান্দাব বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিদিন প্রায় ৮১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের সঙ্গে এই
ঘটনা যুক্ত হলে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জাহাজ চলাচল প্রভাবিত হতে পারে। সৌফান সেন্টারের বিশ্লেষক ক্যারোলিন রোজের মতে, পেরিম দ্বীপ ও ইয়েমেনের উপকূল হুথিদের দখলে যাওয়ায় একটি গলাচাপা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা জাহাজ পরিচালনাকারীদের ব্যয়বহুল বিকল্প পথ বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে, পাশাপাশি সুয়েজ খালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকেও প্রভাবিত করবে। আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরবের ভেতরে হামলার কারণে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে জ্বালানি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। তবে ট্রাম্প এখনো হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালাতে রাজি হননি, যদিও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ
ও তথ্য আদান-প্রদানে সৌদিদের সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন অপারেশন অ্যাসপিডিস, যা জিবুতিতে অবস্থান করে লোহিত সাগরে চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বে আছে, তার বর্তমান কাঠামোতে স্থলে বা দ্বীপে হুথি অবস্থানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার নেই। ঘটনার ফলে এই মিশনের দায়িত্বসীমা সম্প্রসারণের আলোচনা ত্বরান্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথ নিরাপদ রয়েছে, কারণ সৌদি জাহাজ ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ শঙ্কা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দখল একটি বড় সামরিক অগ্রগতি, যা হুথিরা ধরে রাখতে পারলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘাতের গতিপথ পাল্টে দিতে পারে এবং একইসঙ্গে তাদের মিত্র
ইরানের ব্যাপক আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানকেও শক্তিশালী করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে দ্বীপটি ধরে রাখা হুথিদের জন্য কঠিন হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সংক্ষেপে বললে, ২০১৪ সাল থেকে চলা ইয়েমেন গৃহযুদ্ধ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে, এবং মায়ুন দ্বীপ দখল সেই সংঘাতের একটি নতুন ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অধ্যায়। এই ঘটনা বিশ্ব বাণিজ্য, তেল সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।



