মোদি-শি বৈঠক: গালওয়ান-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সংলাপ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ September, ২০২৬

মোদি-শি বৈঠক: গালওয়ান-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সংলাপ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ September, ২০২৬ |
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিনিময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বৈঠকে মোদি সরাসরি ও স্পষ্টভাবে শি-কে বলেন, “সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য সীমান্তে শান্তি অপরিহার্য।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত বিরোধের “ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য” সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন এবং একমত হয়েছেন যে উভয় দেশকেই তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী

দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করতে হবে, যাতে মতপার্থক্য বিরোধে রূপ না নেয়। চীনের পক্ষ থেকে শি জিনপিং ভিডিও বার্তায় বলেন, দুই দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও একে অপরের শক্তিকে পরিপূরক করে পারস্পরিক সাফল্য ও অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম। বৈঠকে শি এ-ও উল্লেখ করেন যে গত ১২ বছরে তাঁরা দুজনে ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন, যা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা তৈরি হয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের সাত বছরের মধ্যে প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে তীব্রভাবে খারাপ হওয়া সম্পর্ক গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, যার সূচনা হয়েছিল গত বছর তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের মাধ্যমে। প্রেক্ষাপট: দুই পরাশক্তির অমীমাংসিত বিরোধ বিশ্বের দুটি

সর্বাধিক জনবহুল ও পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ আজও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধান হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর উভয় দেশের সেনাবাহিনী এখনো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন-ভারত বিশেষজ্ঞ প্রদীপ তানেজা এএফপিকে বলেছেন, উভয় পক্ষ সীমান্ত প্রশ্নে “প্রাথমিক ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” খুঁজছে, তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বজায় রেখে একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বাণিজ্য সম্পর্কও আলোচনায় চীন বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার — ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তবে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা

আগের বছরের ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়েছে। বৈঠকের বিবরণী অনুযায়ী, মোদি ও শি কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যা ও অনুমানযোগ্য বাজার প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ সমাধানে সম্মত হয়েছেন। ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক ভূমিকা বৈঠকে শি জিনপিং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশ্নে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে শান্তিস্থাপনকারী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং জানান, আগামী বছর চীন ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। এই সম্মেলনেই ব্রিকস নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে “নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬” গ্রহণ করেছেন, যেখানে সংলাপ, সহযোগিতা, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং গ্লোবাল সাউথের বৃহত্তর কণ্ঠস্বরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিমালয় সীমান্ত নিয়ে গভীর অবিশ্বাস, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা

এখনো দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। নির্বাসিত তিব্বতিদের একাংশ, যাদের মধ্যে তাদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও রয়েছেন, এই সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের