ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হুথিদের হাতে মায়ুন দ্বীপের পতন: বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে
যুক্তরাষ্ট্রকে হুথিদের উপর হামলার অনুরোধ কোনঠাসা সৌদির: “তোমাদের যুদ্ধে পরামর্শ সহয়তা নিয়ে পাশে আছি” জবাব ট্রাম্পের
BRICS সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে পুতিন ও পেজেশকিয়ানের ডলার-বিরোধী বার্তা, মোদির নিরাপদ সমুদ্রপথের আহ্বান
হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকার ৫৪০০ বর্গকিলোমিটার দখল
পুতিন: ইউরোপের সঙ্গে সংঘাতের কোনো কারণ নেই রাশিয়ার
ব্রিকসের যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্য, নিন্দা ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’
হরমুজে সংকট, বাব আল-মান্দাবে হুতিদের চাপ—বিশ্ববাজারে তেল পৌঁছাবে কীভাবে?
মোদি-শি বৈঠক: গালওয়ান-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সংলাপ
নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকা সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিনিময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে মোদি সরাসরি ও স্পষ্টভাবে শি-কে বলেন, “সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য সীমান্তে শান্তি অপরিহার্য।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো উভয় পক্ষকেই মেনে চলতে হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত বিরোধের “ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য” সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন এবং একমত হয়েছেন যে উভয় দেশকেই তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি “কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী
দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করতে হবে, যাতে মতপার্থক্য বিরোধে রূপ না নেয়। চীনের পক্ষ থেকে শি জিনপিং ভিডিও বার্তায় বলেন, দুই দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও একে অপরের শক্তিকে পরিপূরক করে পারস্পরিক সাফল্য ও অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম। বৈঠকে শি এ-ও উল্লেখ করেন যে গত ১২ বছরে তাঁরা দুজনে ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন, যা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা তৈরি হয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের সাত বছরের মধ্যে প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে তীব্রভাবে খারাপ হওয়া সম্পর্ক গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, যার সূচনা হয়েছিল গত বছর তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের মাধ্যমে। প্রেক্ষাপট: দুই পরাশক্তির অমীমাংসিত বিরোধ বিশ্বের দুটি
সর্বাধিক জনবহুল ও পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ আজও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধান হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর উভয় দেশের সেনাবাহিনী এখনো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন-ভারত বিশেষজ্ঞ প্রদীপ তানেজা এএফপিকে বলেছেন, উভয় পক্ষ সীমান্ত প্রশ্নে “প্রাথমিক ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” খুঁজছে, তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বজায় রেখে একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বাণিজ্য সম্পর্কও আলোচনায় চীন বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার — ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তবে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা
আগের বছরের ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়েছে। বৈঠকের বিবরণী অনুযায়ী, মোদি ও শি কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যা ও অনুমানযোগ্য বাজার প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ সমাধানে সম্মত হয়েছেন। ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক ভূমিকা বৈঠকে শি জিনপিং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশ্নে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে শান্তিস্থাপনকারী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং জানান, আগামী বছর চীন ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। এই সম্মেলনেই ব্রিকস নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে “নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬” গ্রহণ করেছেন, যেখানে সংলাপ, সহযোগিতা, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং গ্লোবাল সাউথের বৃহত্তর কণ্ঠস্বরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিমালয় সীমান্ত নিয়ে গভীর অবিশ্বাস, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এখনো দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। নির্বাসিত তিব্বতিদের একাংশ, যাদের মধ্যে তাদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও রয়েছেন, এই সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করতে হবে, যাতে মতপার্থক্য বিরোধে রূপ না নেয়। চীনের পক্ষ থেকে শি জিনপিং ভিডিও বার্তায় বলেন, দুই দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন হলেও একে অপরের শক্তিকে পরিপূরক করে পারস্পরিক সাফল্য ও অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম। বৈঠকে শি এ-ও উল্লেখ করেন যে গত ১২ বছরে তাঁরা দুজনে ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন, যা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা তৈরি হয়েছে। এটি শি জিনপিংয়ের সাত বছরের মধ্যে প্রথম ভারত সফর। ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে তীব্রভাবে খারাপ হওয়া সম্পর্ক গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, যার সূচনা হয়েছিল গত বছর তিয়ানজিনে মোদি-শি বৈঠকের মাধ্যমে। প্রেক্ষাপট: দুই পরাশক্তির অমীমাংসিত বিরোধ বিশ্বের দুটি
সর্বাধিক জনবহুল ও পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ আজও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধান হয়নি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর উভয় দেশের সেনাবাহিনী এখনো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন-ভারত বিশেষজ্ঞ প্রদীপ তানেজা এএফপিকে বলেছেন, উভয় পক্ষ সীমান্ত প্রশ্নে “প্রাথমিক ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” খুঁজছে, তবে সীমান্তে সেনা মোতায়েন বজায় রেখে একইসঙ্গে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বাণিজ্য সম্পর্কও আলোচনায় চীন বর্তমানে ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার — ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে উভয় দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। তবে চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতিও রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা
আগের বছরের ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়েছে। বৈঠকের বিবরণী অনুযায়ী, মোদি ও শি কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যা ও অনুমানযোগ্য বাজার প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ সমাধানে সম্মত হয়েছেন। ব্রিকসের ভবিষ্যৎ ও আঞ্চলিক ভূমিকা বৈঠকে শি জিনপিং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত প্রশ্নে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে শান্তিস্থাপনকারী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং জানান, আগামী বছর চীন ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে ১৯তম শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে। এই সম্মেলনেই ব্রিকস নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে “নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র ২০২৬” গ্রহণ করেছেন, যেখানে সংলাপ, সহযোগিতা, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং গ্লোবাল সাউথের বৃহত্তর কণ্ঠস্বরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিমালয় সীমান্ত নিয়ে গভীর অবিশ্বাস, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এখনো দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। নির্বাসিত তিব্বতিদের একাংশ, যাদের মধ্যে তাদের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাও রয়েছেন, এই সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার দিকে সতর্ক নজর রাখছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।



