ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জানুয়ারি-আগস্টঃ বাংলাদেশে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র
প্রধানমন্ত্রীর লাইভ শুরুর সাথে সাথেই গেল বিদ্যুৎ, ফিরল বক্তব্য শেষ হওয়ার পর
‘কথা বললে সমস্যা হবে’: চট্টগ্রামে বৌদ্ধবিহারে সশস্ত্র হামলা ও লুটপাট
দুই বছরে ২৪ পুলিশ সদস্যের আত্মহনন: কেবলই মানসিক চাপ নাকি আরও অনেক কিছু?
সাংবাদিক তামিম হত্যা: মন্ত্রী রবিসহ ৯ জনকে পুলিশের অব্যাহতির সুপারিশের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি
“আমাকে টার্গেট করা হয়েছে” — WHO বিতর্কে নীরবতা ভাঙলেন সায়মা ওয়াজেদ
বাড়ছে পদ্মার পানি, বন্যার আভাস
৯/১১ থেকে কি সত্যিই শিক্ষা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র?
১১ সেপ্টেম্বর ২০০১। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা শুধু আমেরিকার নিরাপত্তা নীতিই বদলে দেয়নি, বদলে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির ভাষাও। সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি—সবকিছু নতুন করে দেখা শুরু করে ওয়াশিংটন।
কিন্তু প্রায় আড়াই দশক পর মার্কিন লেখক ও বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন প্রশ্ন তুলেছেন—যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ৯/১১ থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিয়েছে?
১৯ফর্টিফাইভে প্রকাশিত তাঁর সাম্প্রতিক নিবন্ধে রুবিনের মূল বক্তব্য হলো, সন্ত্রাসবাদকে মোকাবিলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বারবার একটি মৌলিক ভুল করছে। কোনো রাষ্ট্রকে কেবল কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখলেই তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আদর্শ, গোয়েন্দা তৎপরতা কিংবা উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ উপেক্ষা করা যায় না।
রুবিনের দৃষ্টিতে, ৯/১১-এর অন্যতম শিক্ষা ছিল—
সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কেবল কোনো নির্দিষ্ট
সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে থাকা মতাদর্শ, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং রাষ্ট্রীয় সম্পর্কগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হয়। এই বৃহত্তর যুক্তির মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে দেখতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ কেন গুরুত্বপূর্ণ রুবিনের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়। তিনি এটিকে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের পরিবর্তিত ভূরাজনীতির অংশ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা—এসব পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাব্য নতুন অভিমুখও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বিশ্লেষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ককে
কেবল একটি সাধারণ রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর ইসলামপন্থী ভূরাজনৈতিক নেটওয়ার্কের একটি সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়েছে। সেখান থেকেই রুবিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অভিমুখ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা প্রয়োজন। তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বা এরদোয়ানের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নেতার বৈঠক নিজেই ইসলামপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের প্রমাণ নয়। রাষ্ট্রীয় কূটনীতিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক—বিভিন্ন কারণেই তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। অতএব রুবিনের এই জায়গাটি মূলত একটি রাজনৈতিক inference বা সম্ভাব্যতার বিশ্লেষণ, সরাসরি প্রমাণিত সত্য নয়। পাকিস্তানের প্রভাবের প্রশ্ন রুবিন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাবের কথাও তুলেছেন। তাঁর দাবি,
পাকিস্তানের গোয়েন্দা তৎপরতা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের গতিপথে ভূমিকা রেখেছিল এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পতনে তা প্রভাব ফেলেছে। এটি তাঁর নিবন্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি, কিন্তু একই সঙ্গে অন্যতম বেশি যাচাইযোগ্য দাবি। কারণ কোনো দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিদেশি প্রভাবের সম্ভাবনা এবং সেই বিদেশি শক্তিই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে—এই দুই বক্তব্য এক নয়। প্রথমটি সম্ভব; দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রমাণ। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা সত্যিই একটি আন্দোলনকে পরিচালনা বা প্রভাবিত করেছে কি না, তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন যোগাযোগের তথ্য, অর্থায়নের প্রমাণ, সাংগঠনিক সম্পর্ক, অপারেশনাল নির্দেশনা এবং ঘটনাপ্রবাহের ওপর সরাসরি প্রভাবের প্রমাণ। রুবিনের নিবন্ধে এই causal chain-এর বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। ফলে এই দাবিকে আপাতত একটি গুরুতর অভিযোগ বা
hypothesis হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও রাজনৈতিক ইসলামের প্রশ্ন রুবিনের বিশ্লেষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের রাজনীতিকে তিনি একটি সম্ভাব্য secular–Islamist realignment হিসেবে দেখছেন। এখানে অবশ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও জটিল। বাংলাদেশের রাজনীতিকে কেবল ধর্মনিরপেক্ষ বনাম ইসলামপন্থী দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ করা হলে জাতীয়তাবাদ, ভারতবিরোধী ও ভারতপন্থী মনোভাব, অর্থনৈতিক স্বার্থ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, তরুণদের রাজনৈতিক ভূমিকা, দলীয় প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ে যায়। একইভাবে রাজনৈতিক ইসলাম এবং জিহাদি সন্ত্রাসবাদকে এক করে দেখা বিশ্লেষণগতভাবে সমস্যাজনক। একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে। অন্যদিকে জিহাদি সংগঠন রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রত্যাখ্যান করে সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। এই দুই প্রবণতা একই নয়। সুতরাং
বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বাড়লে তার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া নয়। তবে রুবিনের প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে: কোন পর্যায়ে রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে সহিংস উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সংযোগ তৈরি হলে সেটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে? এ প্রশ্নটি উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। “Axis of Ikhwan”—রুবিনের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ধারণা বাংলাদেশ সম্পর্কে রুবিনের উদ্বেগকে বুঝতে হলে তাঁর বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ধারণাটি বোঝা জরুরি। তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে একটি সম্ভাব্য ইসলামপন্থী ভূরাজনৈতিক অক্ষ হিসেবে দেখছেন এবং বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এই বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। এই ধারণার মূল কথা হলো—আজকের নিরাপত্তা হুমকি শুধু একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে
থাকে না। বরং রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় আদর্শ, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক তৈরি হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া যায়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর, ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন শুধু ঢাকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি ভারত, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক, উপসাগরীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত। কিন্তু রুবিনের যুক্তির দুর্বলতা কোথায়? রুবিনের সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া গেলেও তাঁর বিশ্লেষণে কয়েকটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমত, তিনি বিভিন্ন ঘটনাকে একটি নির্দিষ্ট narrative-এর মধ্যে সাজিয়েছেন। এতে confirmation bias-এর ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ, আগে থেকে তৈরি করা একটি ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক যোগাযোগকে কখনো কখনো তিনি আদর্শিক alignment-এর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যোগাযোগের অর্থ সবসময় আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা নয়। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ইসলাম এবং সন্ত্রাসবাদের মধ্যে একটি সরল causal chain ধরে নেওয়া যায় না। চতুর্থত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে দেশীয় কারণগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে বিশ্লেষণটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তারপরও সতর্কবার্তাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? রুবিনের যুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হয়তো বাংলাদেশকে “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। বরং তিনি একটি early-warning framework সামনে আনছেন। তাঁর প্রশ্ন হলো—কোনো রাষ্ট্র যখন রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তিত হয়, তখন তার পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও কি পরিবর্তিত হতে পারে? উত্তর হলো—অবশ্যই পারে। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও নজর রাখা প্রয়োজন কয়েকটি বিষয়ের ওপর: নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব পরিবর্তন; পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা; মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক; দেশে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম; জঙ্গিবাদ দমনে রাষ্ট্রের অবস্থান; ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক; যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে counterterrorism cooperation; ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ। এসব সূচক একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে বাংলাদেশ সত্যিই কোনো নতুন ভূরাজনৈতিক বলয়ের দিকে এগোচ্ছে কি না। ৯/১১-এর আসল শিক্ষা কী? রুবিনের নিবন্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। কোনো দেশকে শুধু তার সরকারের ঘোষিত নীতি দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রের ভেতরের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং অরাষ্ট্রীয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু একসঙ্গে দেখতে হয়। তবে একই সঙ্গে আরেকটি শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ: আশঙ্কাকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে কোনো ইসলামপন্থী বা নতুন আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে, সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসবাদের দিকে যাত্রা বলা যেমন ভুল হবে, তেমনি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করাও ভুল হবে। প্রয়োজন হবে evidence-based assessment। শেষ কথা মাইকেল রুবিনের নিবন্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু “কে আমাদের মিত্র” এই প্রশ্নে আটকে থাকলে চলবে না; বরং “আমাদের মিত্র রাষ্ট্রটি কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, কোন রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করছে এবং কোন মতাদর্শ তার রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে”—সেটিও দেখতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি তাই “বাংলাদেশ কি ইসলামপন্থী হয়ে যাচ্ছে?”—এত সরল নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন কি তার ভূরাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করছে? এই পরিবর্তন কি তুরস্ক, পাকিস্তান, উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় নিয়ে যাচ্ছে? আর সেই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনই চূড়ান্তভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু রুবিনের সতর্কবার্তা অন্তত একটি বিষয় সামনে এনেছে—রাজনৈতিক পরিবর্তনকে শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে না দেখে তার দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিণতিও বিশ্লেষণ করতে হবে। ৯/১১-এর শিক্ষা যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে, তবে সেটি হলো— বড় নিরাপত্তা সংকট সাধারণত হঠাৎ তৈরি হয় না; তার আগে ছোট ছোট রাজনৈতিক, আদর্শিক ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। সেই পরিবর্তনগুলো সময়মতো শনাক্ত করাই নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সন্ত্রাসী সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে থাকা মতাদর্শ, রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং রাষ্ট্রীয় সম্পর্কগুলোকেও বিবেচনায় নিতে হয়। এই বৃহত্তর যুক্তির মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে দেখতে চেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রসঙ্গ কেন গুরুত্বপূর্ণ রুবিনের বিশ্লেষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন কোনো বিচ্ছিন্ন অভ্যন্তরীণ ঘটনা নয়। তিনি এটিকে দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের পরিবর্তিত ভূরাজনীতির অংশ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা—এসব পরিবর্তনের সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সম্ভাব্য নতুন অভিমুখও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক যোগাযোগকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বিশ্লেষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ককে
কেবল একটি সাধারণ রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং বৃহত্তর ইসলামপন্থী ভূরাজনৈতিক নেটওয়ার্কের একটি সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়েছে। সেখান থেকেই রুবিন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অভিমুখ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য করা প্রয়োজন। তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বা এরদোয়ানের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নেতার বৈঠক নিজেই ইসলামপন্থী রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের প্রমাণ নয়। রাষ্ট্রীয় কূটনীতিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক—বিভিন্ন কারণেই তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। অতএব রুবিনের এই জায়গাটি মূলত একটি রাজনৈতিক inference বা সম্ভাব্যতার বিশ্লেষণ, সরাসরি প্রমাণিত সত্য নয়। পাকিস্তানের প্রভাবের প্রশ্ন রুবিন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার প্রভাবের কথাও তুলেছেন। তাঁর দাবি,
পাকিস্তানের গোয়েন্দা তৎপরতা বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের গতিপথে ভূমিকা রেখেছিল এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার পতনে তা প্রভাব ফেলেছে। এটি তাঁর নিবন্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি, কিন্তু একই সঙ্গে অন্যতম বেশি যাচাইযোগ্য দাবি। কারণ কোনো দেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিদেশি প্রভাবের সম্ভাবনা এবং সেই বিদেশি শক্তিই আন্দোলনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে—এই দুই বক্তব্য এক নয়। প্রথমটি সম্ভব; দ্বিতীয়টির জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী প্রমাণ। কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা সত্যিই একটি আন্দোলনকে পরিচালনা বা প্রভাবিত করেছে কি না, তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজন যোগাযোগের তথ্য, অর্থায়নের প্রমাণ, সাংগঠনিক সম্পর্ক, অপারেশনাল নির্দেশনা এবং ঘটনাপ্রবাহের ওপর সরাসরি প্রভাবের প্রমাণ। রুবিনের নিবন্ধে এই causal chain-এর বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। ফলে এই দাবিকে আপাতত একটি গুরুতর অভিযোগ বা
hypothesis হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও রাজনৈতিক ইসলামের প্রশ্ন রুবিনের বিশ্লেষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশের রাজনীতিকে তিনি একটি সম্ভাব্য secular–Islamist realignment হিসেবে দেখছেন। এখানে অবশ্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা আরও জটিল। বাংলাদেশের রাজনীতিকে কেবল ধর্মনিরপেক্ষ বনাম ইসলামপন্থী দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ করা হলে জাতীয়তাবাদ, ভারতবিরোধী ও ভারতপন্থী মনোভাব, অর্থনৈতিক স্বার্থ, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, তরুণদের রাজনৈতিক ভূমিকা, দলীয় প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ পড়ে যায়। একইভাবে রাজনৈতিক ইসলাম এবং জিহাদি সন্ত্রাসবাদকে এক করে দেখা বিশ্লেষণগতভাবে সমস্যাজনক। একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে। অন্যদিকে জিহাদি সংগঠন রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে প্রত্যাখ্যান করে সহিংসতার মাধ্যমে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। এই দুই প্রবণতা একই নয়। সুতরাং
বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বাড়লে তার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া নয়। তবে রুবিনের প্রশ্নটি এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে: কোন পর্যায়ে রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে সহিংস উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের সংযোগ তৈরি হলে সেটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে? এ প্রশ্নটি উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। “Axis of Ikhwan”—রুবিনের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ধারণা বাংলাদেশ সম্পর্কে রুবিনের উদ্বেগকে বুঝতে হলে তাঁর বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ধারণাটি বোঝা জরুরি। তিনি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে একটি সম্ভাব্য ইসলামপন্থী ভূরাজনৈতিক অক্ষ হিসেবে দেখছেন এবং বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ ভবিষ্যতে এই বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। এই ধারণার মূল কথা হলো—আজকের নিরাপত্তা হুমকি শুধু একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের হাতে
থাকে না। বরং রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় আদর্শ, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক তৈরি হতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়া যায়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর, ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন শুধু ঢাকার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এটি ভারত, পাকিস্তান, চীন, তুরস্ক, উপসাগরীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গেও যুক্ত। কিন্তু রুবিনের যুক্তির দুর্বলতা কোথায়? রুবিনের সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া গেলেও তাঁর বিশ্লেষণে কয়েকটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমত, তিনি বিভিন্ন ঘটনাকে একটি নির্দিষ্ট narrative-এর মধ্যে সাজিয়েছেন। এতে confirmation bias-এর ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ, আগে থেকে তৈরি করা একটি ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক যোগাযোগকে কখনো কখনো তিনি আদর্শিক alignment-এর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যোগাযোগের অর্থ সবসময় আদর্শিক ঘনিষ্ঠতা নয়। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক ইসলাম এবং সন্ত্রাসবাদের মধ্যে একটি সরল causal chain ধরে নেওয়া যায় না। চতুর্থত, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে দেশীয় কারণগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে বিশ্লেষণটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তারপরও সতর্কবার্তাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ? রুবিনের যুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হয়তো বাংলাদেশকে “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করা নয়। বরং তিনি একটি early-warning framework সামনে আনছেন। তাঁর প্রশ্ন হলো—কোনো রাষ্ট্র যখন রাজনৈতিকভাবে পরিবর্তিত হয়, তখন তার পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কও কি পরিবর্তিত হতে পারে? উত্তর হলো—অবশ্যই পারে। তাই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও নজর রাখা প্রয়োজন কয়েকটি বিষয়ের ওপর: নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তব পরিবর্তন; পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা; মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক; দেশে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম; জঙ্গিবাদ দমনে রাষ্ট্রের অবস্থান; ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক; যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে counterterrorism cooperation; ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ। এসব সূচক একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে বাংলাদেশ সত্যিই কোনো নতুন ভূরাজনৈতিক বলয়ের দিকে এগোচ্ছে কি না। ৯/১১-এর আসল শিক্ষা কী? রুবিনের নিবন্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক। কোনো দেশকে শুধু তার সরকারের ঘোষিত নীতি দিয়ে বিচার করা যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রের ভেতরের রাজনৈতিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং অরাষ্ট্রীয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু একসঙ্গে দেখতে হয়। তবে একই সঙ্গে আরেকটি শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ: আশঙ্কাকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে কোনো ইসলামপন্থী বা নতুন আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে, সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সন্ত্রাসবাদের দিকে যাত্রা বলা যেমন ভুল হবে, তেমনি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করাও ভুল হবে। প্রয়োজন হবে evidence-based assessment। শেষ কথা মাইকেল রুবিনের নিবন্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু “কে আমাদের মিত্র” এই প্রশ্নে আটকে থাকলে চলবে না; বরং “আমাদের মিত্র রাষ্ট্রটি কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, কোন রাজনৈতিক শক্তিকে সমর্থন করছে এবং কোন মতাদর্শ তার রাজনীতিকে প্রভাবিত করছে”—সেটিও দেখতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি তাই “বাংলাদেশ কি ইসলামপন্থী হয়ে যাচ্ছে?”—এত সরল নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত: বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন কি তার ভূরাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করছে? এই পরিবর্তন কি তুরস্ক, পাকিস্তান, উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় নিয়ে যাচ্ছে? আর সেই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনই চূড়ান্তভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু রুবিনের সতর্কবার্তা অন্তত একটি বিষয় সামনে এনেছে—রাজনৈতিক পরিবর্তনকে শুধু অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে না দেখে তার দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিণতিও বিশ্লেষণ করতে হবে। ৯/১১-এর শিক্ষা যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে, তবে সেটি হলো— বড় নিরাপত্তা সংকট সাধারণত হঠাৎ তৈরি হয় না; তার আগে ছোট ছোট রাজনৈতিক, আদর্শিক ও ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। সেই পরিবর্তনগুলো সময়মতো শনাক্ত করাই নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।



