ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি
নাইন-ইলেভেনের আগে ভারতও ছিল ওসামা বিন লাদেনের নিশানায়: সিআইএ প্রতিবেদন
সমুদ্রের গভীরে বিশাল স্বর্ণের খনির সন্ধান পেল চীন
২০ বছর একই লটারি নম্বরে ভাগ্য বদল, জিতলেন দেড় লাখ ডলার
হুথিদের হাতে মায়ুন দ্বীপের পতন: বাব আল-মান্দাব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে
মোদি-শি বৈঠক: গালওয়ান-পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারত-চীন সংলাপ
যুক্তরাষ্ট্রকে হুথিদের উপর হামলার অনুরোধ কোনঠাসা সৌদির: “তোমাদের যুদ্ধে পরামর্শ সহয়তা নিয়ে পাশে আছি” জবাব ট্রাম্পের
BRICS সম্মেলনের আগে নয়াদিল্লিতে পুতিন ও পেজেশকিয়ানের ডলার-বিরোধী বার্তা, মোদির নিরাপদ সমুদ্রপথের আহ্বান
নয়াদিল্লি, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ — ভারতের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন ডলার ও পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ বার্তা দিয়েছেন। একই সময়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও নাবিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছেন।
পুতিনের বক্তব্য: জি-৭ বনাম ব্রিকস
ব্রিকস বিজনেস ফোরামে দেওয়া ভাষণে পুতিন জি-৭ জোটের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এর সংকুচিত হয়ে আসা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের সঙ্গে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান শক্তির তুলনা করেন। তিনি জানান, জি-৭ দেশগুলোর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উৎপাদনে অংশ প্রায় ১৮ শতাংশ, যেখানে ব্রিকস সদস্যদের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ।
পুতিন আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমা
দেশগুলো ব্রিকসকে দুর্বল করে নিজেদের হারানো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, এবং সরকারি পর্যায়ে এই লড়াই একটি কুৎসিত রূপ নিচ্ছে। তিনি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য বলে আখ্যা দেন এবং জানান যে, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও মস্কো তার আর্থিক গতিবেগ ধরে রাখতে পেরেছে, পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মধ্যে ব্রিকস অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। ডলারের প্রশ্নে ক্রেমলিনের অবস্থান কিছুটা সতর্ক। সম্মেলনের আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, রাশিয়া আনুষ্ঠানিক ডি-ডলারাইজেশনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মস্কো যেকোনো গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট পদ্ধতির প্রতি উন্মুক্ত। তবে তিনি জানান, রাশিয়া ও ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ লেনদেন এখন জাতীয় মুদ্রায় সম্পন্ন হচ্ছে, যা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর
ক্ষেত্রে জোটের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন। পেসকভ এই প্রসঙ্গে নাম না নিয়ে অভিযোগ করেন যে, কিছু দেশ তাদের জাতীয় মুদ্রাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পেজেশকিয়ানের ডলার-বিরোধী প্রস্তাব ব্রিকস বিজনেস ফোরামের নেতৃবৃন্দের অধিবেশনে ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ডি-ডলারাইজেশনকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে জানা যায়, পেজেশকিয়ান বলেন, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) তৈরি করা হয়েছিল দেশগুলোকে ডলার-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। তিনি পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং মুদ্রার অস্থিরতা থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া তৈরি করা। পেজেশকিয়ান সতর্ক করে
দেন যে, গুটিকয়েক প্রধান মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পশ্চিমাবিরোধী অর্থনীতিগুলোকে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য বিধিনিষেধ ও ব্যাংকিং কড়াকড়ির ঝুঁকিতে ফেলে। তার ভাষায়, “সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার সম্প্রসারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। এই পদক্ষেপের সঙ্গে মুদ্রাঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার প্রতিষ্ঠাও থাকতে হবে।” উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ ইরান এখনো ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি ভারতে আসার আগেই বলেছিলেন, নতুন ব্রিকস ব্যাংক তৈরি করা হয়েছিল দেশগুলোকে ডলার-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে এবং আমেরিকার আধিপত্যের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। প্রসঙ্গত, এটি ছিল পেজেশকিয়ানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম
ভারত সফর, এবং তার আগমন এমন এক সময়ে হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরোপ করার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা হঠাৎ বেড়ে গেছে। মোদির আহ্বান: সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও নাবিকদের সুরক্ষা সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মোদি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষিত রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে মোদি বলেন, “আমরা মনে করি দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।” মোদি ও পুতিনের বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা এবং ব্রিকসে ভারত-রাশিয়া
অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বিশ্লেষকদের মতে পেজেশকিয়ানের এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশাল। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্তির ভাষ্যে, “যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতি ও তার জোরালো সমর্থনের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভারতে প্রথম সফর নীরব তাৎপর্য বহন করে।” তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা ভারতকে অঞ্চলে ইরানের গুরুত্ব বিবেচনা করতে এবং নিজের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, এবং এতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও
বেসামরিক নাগরিক-অবকাঠামো সুরক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাক্ষাতের সময় মোদি সংঘাত অবসানের সব প্রচেষ্টায় ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন, আর পেজেশকিয়ান মোদিকে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেছিলেন। ব্রিকস সম্মেলনের প্রেক্ষাপট এবারের সম্মেলন ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও পরে যুক্ত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার নাম থেকে ব্রিকস সংক্ষিপ্ত রূপটি এসেছে। বর্তমানে জোটটি সম্প্রসারিত হয়ে ১১টি সদস্য দেশে পরিণত হয়েছে, যারা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ছাড়াও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ অন্যান্য নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লির এই ব্রিকস সম্মেলন একদিকে যেমন পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প খোঁজার প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করে তুলছে, তেমনি পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের ভারসাম্যমূলক কূটনীতির একটি নতুন মাত্রাও তুলে ধরছে।
দেশগুলো ব্রিকসকে দুর্বল করে নিজেদের হারানো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, এবং সরকারি পর্যায়ে এই লড়াই একটি কুৎসিত রূপ নিচ্ছে। তিনি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য বলে আখ্যা দেন এবং জানান যে, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও মস্কো তার আর্থিক গতিবেগ ধরে রাখতে পেরেছে, পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের মধ্যে ব্রিকস অংশীদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান। ডলারের প্রশ্নে ক্রেমলিনের অবস্থান কিছুটা সতর্ক। সম্মেলনের আগে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, রাশিয়া আনুষ্ঠানিক ডি-ডলারাইজেশনের ধারণা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মস্কো যেকোনো গ্রহণযোগ্য পেমেন্ট পদ্ধতির প্রতি উন্মুক্ত। তবে তিনি জানান, রাশিয়া ও ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ লেনদেন এখন জাতীয় মুদ্রায় সম্পন্ন হচ্ছে, যা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর
ক্ষেত্রে জোটের ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন। পেসকভ এই প্রসঙ্গে নাম না নিয়ে অভিযোগ করেন যে, কিছু দেশ তাদের জাতীয় মুদ্রাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পেজেশকিয়ানের ডলার-বিরোধী প্রস্তাব ব্রিকস বিজনেস ফোরামের নেতৃবৃন্দের অধিবেশনে ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ডি-ডলারাইজেশনকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাত দিয়ে জানা যায়, পেজেশকিয়ান বলেন, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) তৈরি করা হয়েছিল দেশগুলোকে ডলার-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। তিনি পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানো এবং মুদ্রার অস্থিরতা থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া তৈরি করা। পেজেশকিয়ান সতর্ক করে
দেন যে, গুটিকয়েক প্রধান মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা পশ্চিমাবিরোধী অর্থনীতিগুলোকে নিষেধাজ্ঞা, বাণিজ্য বিধিনিষেধ ও ব্যাংকিং কড়াকড়ির ঝুঁকিতে ফেলে। তার ভাষায়, “সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার সম্প্রসারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি। এই পদক্ষেপের সঙ্গে মুদ্রাঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পারস্পরিক নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় হাতিয়ার প্রতিষ্ঠাও থাকতে হবে।” উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ ইরান এখনো ব্যাপক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি ভারতে আসার আগেই বলেছিলেন, নতুন ব্রিকস ব্যাংক তৈরি করা হয়েছিল দেশগুলোকে ডলার-নির্ভরতা থেকে মুক্ত করতে এবং আমেরিকার আধিপত্যের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। প্রসঙ্গত, এটি ছিল পেজেশকিয়ানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম
ভারত সফর, এবং তার আগমন এমন এক সময়ে হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আরোপ করার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা হঠাৎ বেড়ে গেছে। মোদির আহ্বান: সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও নাবিকদের সুরক্ষা সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি পুতিন ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মোদি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ সুরক্ষিত রাখা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার আহ্বান জানান। নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে মোদি বলেন, “আমরা মনে করি দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক লাভজনক কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত।” মোদি ও পুতিনের বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা এবং ব্রিকসে ভারত-রাশিয়া
অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। বিশ্লেষকদের মতে পেজেশকিয়ানের এই সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য বিশাল। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রবীণ দোন্তির ভাষ্যে, “যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী মোদির উপস্থিতি ও তার জোরালো সমর্থনের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভারতে প্রথম সফর নীরব তাৎপর্য বহন করে।” তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা ভারতকে অঞ্চলে ইরানের গুরুত্ব বিবেচনা করতে এবং নিজের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। জানা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কারণে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, এবং এতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও
বেসামরিক নাগরিক-অবকাঠামো সুরক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। এর আগে ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাক্ষাতের সময় মোদি সংঘাত অবসানের সব প্রচেষ্টায় ভারতের সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন, আর পেজেশকিয়ান মোদিকে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে ভারতের ব্যাপক যোগাযোগ ব্যবহার করে তাদের যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ করেছিলেন। ব্রিকস সম্মেলনের প্রেক্ষাপট এবারের সম্মেলন ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও পরে যুক্ত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার নাম থেকে ব্রিকস সংক্ষিপ্ত রূপটি এসেছে। বর্তমানে জোটটি সম্প্রসারিত হয়ে ১১টি সদস্য দেশে পরিণত হয়েছে, যারা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ছাড়াও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ অন্যান্য নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে, নয়াদিল্লির এই ব্রিকস সম্মেলন একদিকে যেমন পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প খোঁজার প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করে তুলছে, তেমনি পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের ভারসাম্যমূলক কূটনীতির একটি নতুন মাত্রাও তুলে ধরছে।



