উচ্চমূল্যে মার্কিন গম ক্রয়: সরকারের দাবি বৃহত্তর কৌশল, অথচ ভুক্তভোগী ভোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উচ্চমূল্যে মার্কিন গম ক্রয়: সরকারের দাবি বৃহত্তর কৌশল, অথচ ভুক্তভোগী ভোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) সমঝোতা স্মারকের আওতায় গম আমদানি করতে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে প্রতিযোগিতামূলক দামের কথা বলা হলেও, বাস্তবে প্রতি টন গমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে সিঙ্গাপুরের চেয়ে প্রায় ২৪ ডলার এবং রাশিয়ার তুলনায় ৭৫ থেকে ৮০ ডলার পর্যন্ত বেশি খরচ পড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রতি টন আমেরিকান গম কিনছে ৩০৮ ডলারে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ান গমের দাম টনপ্রতি ২২৬ থেকে ২৩০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। পাঁচ বছরের চুক্তি ও সম্ভাব্য বাড়তি ব্যয় ২০২৫ সালের

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারক সমিতির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিযোগিতামূলক দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭ লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দেয়। এই চুক্তির লক্ষ্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করা বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন পর্যন্ত একাধিক চালানে কয়েক লাখ টন গম দেশে এসেছে, এবং চলতি অর্থবছরেও একই পদ্ধতিতে আরও গম আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে টনপ্রতি প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ ডলার অতিরিক্ত মূল্য বিবেচনায় নিলে, চলতি অর্থবছরে প্রায় আট লাখ টন গম আমদানিতে বাড়তি ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ থেকে ৫ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা

প্রায় ৬২৪ থেকে ৬৭২ কোটি টাকার সমান। এই হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরের চুক্তি মেয়াদে সামগ্রিক বাড়তি ব্যয় গিয়ে দাঁড়াতে পারে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর একটি বড় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, খাদ্য মন্ত্রণালয় এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের মূল্য-তুলনামূলক প্রতিবেদনকে “বিভ্রান্তিকর” আখ্যা দিয়ে বলেছিল, জি-টু-জি পদ্ধতিতে আমদানি করা গমের মান আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় ভালো এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমঝোতার অংশ। ফলে প্রকৃত আর্থিক প্রভাব নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা ও ব্যবসায়ী-বিশ্লেষকদের হিসাবের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়ে গেছে। সরবরাহে বিলম্ব ও মূলধন আটকে থাকার শঙ্কা দামের পাশাপাশি সরবরাহকালীন সময়ও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে গম আমদানিতে সাধারণত প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম পরিবহনে সময় লাগছে প্রায় ৫৫ দিন পর্যন্ত। দীর্ঘ এই সমুদ্রপথের কারণে কেবল পরিবহন ব্যয়ই বাড়ছে না, বরং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগকৃত অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে গমের মধ্যে আটকে থাকতে হচ্ছে। ফলে বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত মুনাফা (ROI) ফিরে পেতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় প্রয়োজন হচ্ছে, যা ব্যবসায়ীদের তারল্য সংকট ও কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি তিনটি দিক থেকে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হওয়ায় বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ

পড়বে। দ্বিতীয়ত, বাড়তি আমদানি ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে গমজাত পণ্যের (আটা, ময়দা, রুটি ইত্যাদি) মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিফলিত হতে পারে। তৃতীয়ত, দীর্ঘ সরবরাহকাল ও ধীরগতির বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে। তবে সরকারপক্ষের যুক্তি হলো, এই চুক্তি নিছক বাণিজ্যিক লাভ-ক্ষতির হিসাবে বিচার্য নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধরে রাখার একটি অংশ, যা ভবিষ্যতে শুল্ক ছাড় ও অন্যান্য বাণিজ্য সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত। তা সত্ত্বেও, স্বল্পমেয়াদে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের ওপর এর আর্থিক চাপ কতটা সহনীয় হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ অব্যাহত

রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে- স্লোগানে লক্ষ্মীপুরে ছাত্রলীগের মিছিল লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট নিয়ে পোস্ট করায় এনসিপির মবের শিকার ও গ্রেপ্তার স্কুলশিক্ষক ‘পুলিশ খুব দুর্বল, শেখ হাসিনার এখনই আসা উচিৎ, চলে আসলি পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না’, ফোনালাপের জেরে ওসি প্রত্যাহার হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সমঝোতা: মার্কিন জাহাজকে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ চরমে: কেন মধ্যমশক্তির দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র-নির্ভরতা এড়াতে চাইছে উচ্চমূল্যে মার্কিন গম ক্রয়: সরকারের দাবি বৃহত্তর কৌশল, অথচ ভুক্তভোগী ভোক্তা এবং দেশের অর্থনীতি পাঁচ দেশে অর্থপাচারসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন: সস্ত্রীক আসিফের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি ৭ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদদের প্রতিবাদ, রায় বাতিল ও বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধের দাবি বিএনপি সরকারের উন্নয়ন: ১৪ কোটি টাকার সড়কে ঢালাইয়ের পরই ফাটল, মাটির দোষ দিলেন ঠিকাদার টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করলেন অভিষেক মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আমার গোল্ড মেডেল কোথায়? অপ্রতিরোধ্য রাফিনিয়া, উড়ছে বার্সেলোনা ঐতিহ্যবাহী আবাহনীর মাঠ দখল করছে বিএনপি সরকার ফাঁসির রায়ে দমে না লড়াই: রক্তচক্ষু আর প্রহসনের বিচারে সংগ্রাম ও নেতৃত্ব আজ আরও শাণিত সাত আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে অস্ট্রেলিয়ার বঙ্গবন্ধু পরিষদের নিন্দা চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি শৈলকূপায় পুকুরে বিষ ঢেলে মাছ নিধন! ৪ বেকার যুবকের সাড়ে চার লাখ টাকার ক্ষতি জিপিএ-৫ পেয়েও যে কারণে ভর্তির জন্য কলেজ পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী নবম পে স্কেল নিয়ে বড় সুখবর, অবশেষে আজ ভেটিংয়ে উঠল ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়