‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’ স্লোগানদাতারা কেন চাকরিতে নারী কোটার পক্ষে ফিরতে চায় এখন? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ অক্টোবর, ২০২৫

‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’ স্লোগানদাতারা কেন চাকরিতে নারী কোটার পক্ষে ফিরতে চায় এখন?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ অক্টোবর, ২০২৫ |
২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনে নারী নেত্রী সামান্থা শারমিনের নেতৃত্বে হাজারো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সরকারি চাকরি সহ সকল ক্ষেত্রে “নারী কোটা”সহ সকল কোটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, নারীরা যেন মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পান। এই দাবীতে একত্মতা প্রকাশ করেছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিস্ট ছাত্রীরা, যাদের কেউ কেউ পড়াশোনা শেষে ইসলামিক ব্যক্তির সঙ্গে সংসার করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলেন, আবার কেউ জানতেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠানে তাদের চাকরি নিশ্চিত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের এই কোটা-বিরোধী আন্দোলনের ফলে আদালতের রায়ে সব কোটা কমিয়ে ৭%-এ নামানো হয়। এরপর সরকার বদল হয়, “নতুন বাংলাদেশ” ও “নতুন সংস্কার” এর কথা বলে ছাত্র নেতাদের পছন্দের ড. মুহাম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের

দায়িত্ব নেন। এর পরপরই সরকারি চাকরিতে নারী কোটা তুলে দেওয়া হয়। এমনকি শিক্ষকতার পেশায় নারীদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়ার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত পূর্বের আওয়ামী লীগ সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করা হয়। অথচ এখন কোটা-বিরোধী আন্দোলনের নারী সমন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র জ্যেষ্ঠ যুগ্ন আহ্বায়ক সামান্থা শারমিন বলছেন, “নারী কোটা তুলে দেওয়া হুমকির মতো। কোটা না থাকলে কর্মক্ষেত্রে নারীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। নারীদের জন্য কোটা থাকা অবশ্যই জরুরি, যাতে তারা চাকরিক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারেন।” এই দ্বিমুখী অবস্থান থেকে স্পষ্ট, তারা জুলাই-আগস্টে যে আন্দোলন করেছিলেন, তা এখন আর সঠিক মনে করছেন না। অথবা তারা নিজেরাই জানেন না কোনটি দেশ ও জনগণের জন্য ভালো বা ক্ষতিকর।

তাই তারা একেক সময় একেক অবস্থান নিচ্ছেন। কিন্তু এর মাঝে একটি দেশ, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, অর্থনীতি, সর্বভৌমত্ব এবং হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা এই ছাত্র নেতাদের খামখেয়ালিপনার শিকার হয়েছে। আন্দোলনের সময় এই ছাত্র নেতারা বারবার অবস্থান বদল করেছেন। একদিন কোটা বাতিলের দাবি, পরদিন ১২ দফা, তারপর ৮ দফা, আবার এক দফা। এই বারে বারে অবস্থান বদলের কারনে তৎকালীন সরকার তাদের দাবির সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খেয়েছে। আগস্টের পরও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে—কখনো “Now or Never”, কখনো ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি, কখনো জুলাই সনদে স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি। আজ ছাত্র অধিকার, কাল রাজনৈতিক দল গঠন, পরশু নাগরিক কমিটি। আজ জামায়াতের সন্মেলনে তো কাল জামাইয়াত বিরোধী বক্তব্য, যেন

মার্কেট পাওয়ার জন্য এক নীতিহীন ও সস্তা প্রতিযোগীতায় লিপ্ত ছাত্র সমন্বয়করা। এই খামখেয়ালিপনা ও নীতিহীনতার কারনে হাজারো ছাত্র ও অছাত্র নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন, যারা জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। ছাত্র সমন্বয়ক আর এনসিপি’র নেতাদের সার্বিক কর্মকান্ড দেখে তাদের কোনো আদর্শিক অবস্থানের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন যেহেতু তারা ভোটের রাজনীতিতে নেমেছেন, তারা বুঝতে পারছেন নারী ভোটের গুরুত্ব। তাই হাস্যকরভাবে তারা এখন নারী কোটার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু গত ১৪ মাসে চাকরী হারানো লক্ষাধিক নারী, শিক্ষকের বা সরকারি চাকুরীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হাজারো নারী কি এই সকল ছাত্রনেতাবেশী সমন্বয়ক আর জুলাই আন্দোলনকারীদের কোনদিনও ক্ষমা করতে পারবে? হাজারো নারী শীক্ষার্থি যাদের লক্ষ্য ছিল

পড়াশোনা শেষে সংসারের হাল ধরা, সরকারী চাকরিতে ঢুকে স্বাবলম্বী হওয়া, নিজের ভবিষ্যৎ কে নিশ্চিত করা, কারো মুখাপেক্ষি হয়ে না থাকা, সেই সকল উচ্চ শিক্ষিত নারীরা কি এই ধোঁকা কোনদিনও ভুলতে পারবে?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পর এবার বিএনপি সরকারের ৩ দিনের ‘ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট’! দেশের উন্নয়ন-আগ্রগতিতে মূখ্য ভূমিকা রাখা এনার্জি সেক্টরে ধস: ইউনূস সরকারের প্রতিহিংসা নাকি অদক্ষতা? আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের হুঁশিয়ারি :বিএনপি সংসদে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘোষণা করেছে যেভাবে ডিপ স্টেট-এর খপ্পরে বাংলাদেশ খালেদা জিয়াকে পূর্ণ মুক্তিযোদ্ধা, তারেক-কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির দাবি মহান সংসদে বিএনপির বড় সংকট ‘গুপ্ত জামায়াত’, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা আত্মঘাতী: আনিস আলমগীর প্রতিপক্ষ ছোট ঘটনাকেও ন্যাশনাল ইস্যু বানায়, আমরা কেন পারছি না’—প্রশ্ন গোলাম রব্বানীর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং না থাকা ‘গোড়ায় গলদ’: সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান সুষ্ঠু ভোট হলে ৫৩ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দিত: শেখ হাসিনা সংকট থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান: আওয়ামী লীগের পঁচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতিহাস সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেলের পাইপলাইনে হামলা ইরানের ক্রিকেটারদের সুখবর দিলেন তামিম যুদ্ধবিরতিতে সাময়িক স্বস্তি, তবে ট্রাম্পের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না বিশ্বনেতারা লেবাননে ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় ৮৯ জন নিহত ইরান নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল এফবিআই, পাত্তা দেয়নি ওয়াশিংটন চাঁদপুরে জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে কুকুরের ভ্যাকসিন পুশ! লেবাননে ১০ মিনিটের ব্যবধানে ১০০ বিমান হামলা ইসরাইলের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ করে তেল শোধনাগারে হামলা, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইরানের ব্র্যাকে কর্মকর্তা পদে চাকরি সুন্দরবনের দস্যু তৎপরতা দমনে যৌথ অভিযান শুরু