‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬

‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জুন, ২০২৬ |
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার বিস্ফোরক সব তথ্য উঠে এলো। ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, আবার জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম নয়।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর পর ইসলামী ব্যাংকে সংঘটিত একের পর এক অনিয়মের তালিকা সংসদের সামনে তুলে ধরেন। আরডিএস প্রকল্পের আড়ালে ২২ হাজার কোটি টাকার ভোট-বাণিজ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আরডিএস ইসলামী ব্যাংকের একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। এ

প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। আগে ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হলেও, ৫ই আগস্টের পর নির্বাচনের আগে বিতরণ করা হয়েছে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা।” মন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই টাকা জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। আরডিএস বা রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম হলো ইসলামী ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প, যার মাধ্যমে মূলত গ্রামীণ নারীদের ঋণ দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই প্রকল্পের গ্রাহকদের — যাদের বড় অংশই মহিলা — ধর্মীয় প্রলোভন দেখিয়ে বলা হয়েছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি নগদ অর্থ এবং ঋণের কিস্তি মাফের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। নাবিল গ্রুপকে বিতর্কিত ৭০০ কোটি

টাকার ঋণ একটি গ্রুপকে এলসির বিপরীতে ৭০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। পরে মালামাল না আনলেও ঋণ পরিশোধ হয়নি বলে সংসদে জানানো হয়। ব্যাংক লায়াবিলিটি ১৬ হাজার কোটি টাকা হওয়া সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে তদন্ত কেন হয়নি — এমন প্রশ্নও ওঠে সংসদে। এর আগে গণমাধ্যমের অনুসন্ধানেও উঠে এসেছিল ইসলামী ব্যাংক থেকে নিয়মবহির্ভূত ঋণ দেওয়ার চিত্র। শুধু কাগজে-কলমে থাকা একটি কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৯৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, তাও আবার মাত্র দুই দিনের মধ্যে। ৯ হাজার ছাঁটাই, ৬ হাজার জামায়াতকর্মী নিয়োগ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, ৫ই আগস্টের পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তথাকথিত ‘খরচ সাশ্রয়ের’ অজুহাতে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত নন এমন ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। কিন্তু এরপরই

তারা নতুনভাবে ৬ হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছে, যারা সবাই জামায়াত-শিবিরের কর্মী বলে অভিযোগ করেন মন্ত্রী। ‘খরচ বাঁচানো’র যুক্তি যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল তা এই ঘটনাতেই প্রমাণিত — ছাঁটাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্নমতের কর্মী সরিয়ে দলীয় লোক বসানো। ১৩ হাজার কর্মীকে অস্বাভাবিক পদোন্নতি এখানেই শেষ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্যাংকটিতে ১৩ হাজার কর্মীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে যাদের অনেককেই তাদের সাধারণ ক্যাটাগরি থেকে তিন ধাপ পর্যন্ত উপরে পদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ আমলে যাদের জামায়াতপন্থি হিসেবে চিহ্নিত করে পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছিল, মূলত তাদেরকেই একযোগে পুরস্কৃত করা হয়েছে। “দখল করা ব্যাংক বেদখল হবে, সে যাতনা আমরা বুঝি” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার না করার

আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংক ‘ইসলাম’ নয়, জামায়াতে ইসলামীও ‘ইসলাম’ নয়। সুতরাং সবকিছুতে ইসলামের ওপর হাত দেওয়া হচ্ছে — এই দোহাই দেওয়া কিন্তু ঠিক নয়। জামায়াত পক্ষ থেকে সংসদে প্রতিবাদ করা হলে তিনি কড়া ভাষায় বলেন, একবার যে ব্যাংক দখল করা হয়েছে সেটি এখন বেদখল হয়ে যাচ্ছে — সেই যাতনা তিনি বুঝতে পারছেন। পেছনের ইতিহাস: কাগুজে ঋণ থেকে খেলাপির পাহাড় এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের মাধ্যমে দেওয়া ঋণের বড় অংশ এখন খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। এতে করে ঋণ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে ব্যাংকটির গ্রাহকদের আমানত। গত ২৪শে মে এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই সংসদে এদিনের বিতর্কের সূত্রপাত। জামায়াত এই নিয়োগকে ব্যাংকটির “দখল নেওয়া”র চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা সুরে জামায়াতের ব্যাংক-ব্যবহারের পুরো চিত্র সংসদের সামনে তুলে ধরেন। জামায়াতের “সৎ লোকের শাসন”-এর দাবি মিথ্যা প্রমাণিত? নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের “সৎ লোকের শাসন” এবং দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতির দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু সংসদে উঠে আসা তথ্যগুলো সেই দাবিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে। একটি ব্যাংককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে — ধর্মের নামে ঋণ বিতরণ, ভোট কেনা, দলীয় লোক নিয়োগ ও অস্বাভাবিক পদোন্নতির মতো ঘটনাগুলো — একটি সুশাসনকামী দলের আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সমালোচকরা বলছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর

আমীর ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের দখল বা নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা জনগণ মেনে নেবে না। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংকটির সমস্ত অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এখন অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নেত্রকোণায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে জুলাই স্তম্ভে আগুন, ভিডিও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ বুকে পাঁচটা তারকা আর কারও নেই: ব্রুনো গিমারেস মেসির গোলে প্রস্তুতি সারল আর্জেন্টিনা নোয়াখালীতে শিশুসহ নির্বিচারে গ্রেপ্তার: জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি নোটিশ ‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস: ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল থানা পোড়ানো, পুলিশ হত্যাকারী সেই সমন্বয়ক মাহদী এখন মবের ভয়ে থানায় আশ্রয়ের সন্ধানে দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার সংসদে ইসলামী ব্যাংক দখল সংক্রান্ত আলোচনায় মনক্ষুণ্ন ইআবা নেতা গাজী আতাউর নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!