বন্ধ হলো এস আলমের ১১টি কারখানা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি ১০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১ আগস্ট, ২০২৬

আরও খবর

চট্টগ্রামে বহির্নোঙরে জলদস্যুদের উপদ্রব: ১৮ দিনে ৩ জাহাজ থেকে লুট ১০ কোটি টাকার মালামাল-সরঞ্জাম

ক্ষমতায় টিকে থাকার ‘আমেরিকান গ্যারান্টি’? কাতারের স্বল্পমূল্যের এলএনজি ছেড়ে কেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি?

বাংলাদেশের গ্যাস সংকটের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: অনুসন্ধানভিত্তিক তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ

২৭তম বিসিএসের ৫৬ জন শিক্ষানবিশ এএসপিকে পূর্ণ প্রশিক্ষণ ছাড়াই পদায়ন

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নারী সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুতি: তদন্ত চলাকালে সম্পাদক মিন্টুর পদত্যাগ

পেট্রোবাংলার প্রতিবেদনে উদ্বেগ: দুই বছরে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ১ বিলিয়ন ঘনফুট

অর্থ সংকটে দরপ্রস্তাব প্রত্যাহার: হচ্ছে না মেট্রোরেল লাইন-পাঁচের উড়াল অংশের কাজ

বন্ধ হলো এস আলমের ১১টি কারখানা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি ১০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ আগস্ট, ২০২৬ |
চট্টগ্রামে একের পর এক শিল্প কারখানা বন্ধ করে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে এস আলম গ্রুপ। ইতিমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তাদের ১১টি কারখানা। এসব কারখানায় এক সময় ১০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক, কর্মকর্তা কাজ করতেন। তারা বর্তমানে বেকার। কারখানা চালুর দাবি জানিয়েছেন, কাজ হারানো এসব শ্রমিক-কর্মকর্তারা। সর্বশেষ গতকাল ৩১শে জুলাই, শুক্রবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এস আলম গ্রুপের কারখানাটি থেকে বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ অন্য ব্যবসায়ীদের মতো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হয় শিল্প গ্রুপটির বিভিন্ন কারখানা। ভুয়া

মামলা, শারীরিক হামলা, হত্যা-সন্ত্রাসের ভয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক সাইফুল আলম মাসুদসহ পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। তাদের বিরুদ্ধে ঝুলছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় দায়ের করা অসংখ্য মামলা। এর বাইরে ঋণ খেলাপিসহ বিভিন্ন অভিযোগে চলমান মামলা তো রয়েছেই। গ্রুপের কয়েকজন কর্মকর্তা জানালেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফলে তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে, এলসি খুলতে না দিয়ে, পণ্য আমদানি করতে না দিয়ে কারখানাগুলোকে কার্যত খাদের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আর্থিক ও কাঁচামাল সংকটে কারখানাগুলোতে উৎপাদন অব্যাহত রাখা আর সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ একমাস আগে থেকে কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করে। ধাপে ধাপে পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ছাঁটাই করা হয়

কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী বলেন, “প্রতিষ্ঠানের সকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকায় এবং নতুন করে এলসি খুলতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ। ফলে কারখানা পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। মালিকপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করা গেলে পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনা হবে।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত এমনটা করা হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে কর্মকর্তাদের কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। কর্ণফুলীতে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস

আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল, ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম অয়েল, একটি পশুখাদ্য কারখানা এবং আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সচল আছে। এছাড়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী ও বিদ্যুৎ রক্ষণাবেক্ষণ টিমের অল্প কিছু কর্মীকে আপাতত বহাল রাখা হয়েছে। এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে কর্মরত মো. মহসিন নামে এক শ্রমিক জানান, ৩০শে জুলাই, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই করা শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিম্নলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো,

যা ১লা আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এ প্রসঙ্গে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কর্তৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’ এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী বলেন, গত দুই বছর কারখানাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন না চললেও কর্মীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছিল। সুগার ফ্যাক্টরিতে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৫০০ জন, আর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় ২০০। অন্য কারখানাগুলোতে সবমিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে সকল কর্মীর বকেয়া বেতন ও পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে ১লা আগস্ট থেকে এই অব্যাহতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে কারখানা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী থানায় ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন

বলেন, এস আলম গ্রুপের যেসব কারখানা কর্ণফুলীতে রয়েছে সেগুলো বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানা একদিনে বন্ধ করেনি। পর্যায়ক্রমে বন্ধ করেছে। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আইসিএসআইডি-তে এস আলম গ্রুপের সালিশি আবেদন সরকারের বিরুদ্ধে আইসিএসআইডি-তে এস আলম গ্রুপের সালিশি আবেদন গত বছরের ২৯শে অক্টোবর দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ এস আলামের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) এবং তার পরিবারের পক্ষে আইনজীবীরা ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্বব্যাঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রে (আইসিএসআইডি) সালিশি আবেদন জমা দেন। এতে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পদ জব্দ, তদন্ত এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের অভিযোগ তুলে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। আইসিএসআইডি, বিশ্বব্যাঙ্কের অধীনে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি প্রতিষ্ঠান, যা বিনিয়োগকারী এবং রাষ্ট্রের মধ্যে

বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে আলোচনা বা সালিশির চেষ্টা করা হয়, ব্যর্থ হলে আনুষ্ঠানিক আরবিট্রেশন চলে। ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে “টার্গেট করে” সম্পদ জব্দ, দখল এবং তদন্তের অভিযান চালানো হয় এস আলমের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এতে গ্রুপটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ঋণ প্রদানে সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়। আইনজীবীরা জানান, এসব ব্যবস্থা “অযৌক্তিক এবং ন্যায়বিচার ছাড়াই” নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের ২০০৪ সালের দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তির লঙ্ঘন। এস আলাম পরিবার সিঙ্গাপুর নাগরিকত্বের দাবি করে এই চুক্তির আশ্রয় নিয়েছেন। এই আবেদন গত ডিসেম্বরে পাঠানো “নোটিশ অব ডিসপিউট” এর ফলাফল, যাতে ৬ মাসের মধ্যে বিরোধ মিটিয়ে না নেওয়ায় আইসিএসআইডি-তে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
দ্রুত সুস্থ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে লিটন ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: কি.মি. প্রতি ব্যয় বাড়ল ৪২৩ কোটি টাকা, এক লাফেই ছাড়াল ১০ হাজার কোটি বন্ধ হলো এস আলমের ১১টি কারখানা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি ১০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার চট্টগ্রামে বহির্নোঙরে জলদস্যুদের উপদ্রব: ১৮ দিনে ৩ জাহাজ থেকে লুট ১০ কোটি টাকার মালামাল-সরঞ্জাম রাজনৈতিক বাধা সরিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো সাফ সভাপতি সালাউদ্দিন প্রাইভেট পড়ানোর নামে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, জামায়াতের রোকন আটক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আলাদা গ্রুপে বাংলাদেশ ও ভারত ১০ম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত ২০৩০ বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ হতে পারেন আর্জেন্টিনার ৬ ফুটবলার বাজারের বেশিরভাগ সবজি শতক হাঁকালেও কাঁচা মরিচ একাই ৪০০ নট আউট ‘ফুটবলের জন্য ক্ষতিকর চুক্তি’: ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার পদত্যাগ মাত্র এক দশকেই এলএনজি রপ্তানিকারক সব দেশকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেওয়া যাবে না: জাবি আলোনসো মতিঝিলের ‘ছাতা বোমা’র পর এবার আশুলিয়ায় দোকানে রেখে গেল ‘প্রেশার কুকার বোমা’ ক্ষমতায় টিকে থাকার ‘আমেরিকান গ্যারান্টি’? কাতারের স্বল্পমূল্যের এলএনজি ছেড়ে কেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি? দলীয় কর্মীকে গুলি: ফেনীতে বিএনপি নেতা আলমগীর গ্রেপ্তার শেখ হাসিনার সরকারের পতন পরবর্তী দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালচাল বাংলাদেশের গ্যাস সংকটের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ: অনুসন্ধানভিত্তিক তথ্য-উপাত্তের বিশ্লেষণ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের পর কাশ্মীরেও বিদ্রোহ দানা বাধছে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে বাংলাদেশে ৫ বাক্স আম পাঠালো পাকিস্তান