ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রাইভেট পড়ানোর নামে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, জামায়াতের রোকন আটক
১০ম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত
মতিঝিলের ‘ছাতা বোমা’র পর এবার আশুলিয়ায় দোকানে রেখে গেল ‘প্রেশার কুকার বোমা’
দলীয় কর্মীকে গুলি: ফেনীতে বিএনপি নেতা আলমগীর গ্রেপ্তার
নোয়াখালীতে গভীর রাতে ব্যবসায়ীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত ৫
কক্সবাজার হোটেলের কাছেই খালি মাঠে কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার, শরীরে আঘাতের চিহ্ন
রোহিঙ্গা-ক্যাম্পে দিনদিন বাড়ছে সহিংসতা: মসজিদে যাওয়ার পথে উগ্রবাদী সংগঠন আরসা কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: কি.মি. প্রতি ব্যয় বাড়ল ৪২৩ কোটি টাকা, এক লাফেই ছাড়াল ১০ হাজার কোটি
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তুলতে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। শুরুতে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭০৪ কোটি টাকা। তবে নির্মাণকাজ শুরুর পর এই পর্যায়ে এসে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকায়।
অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ৪২৩ কোটি টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মাণকাজ শুরু হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু সময় প্রকল্পের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। এতে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ
নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও বর্তমানে আবারও কাজ এগোচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১০ই আগস্টের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এটি চালু হলে প্রকল্পের প্রথম ধাপের সুফল ভোগ করতে পারবেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা। ২০২২ সালের ১২ই নভেম্বর শুরু হওয়া ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি বিদেশি ঋণের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। নির্মাণকাজ করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি), আর অর্থায়ন করছে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশ এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে
তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এ কারণে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য উড়ালপথে দুই লেনের পৃথক দুটি সার্ভিস লেন সেতুর নকশা করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অংশের সার্ভিস লেনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে কালো পিচ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে সড়কে রোড মার্কিংয়ের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া ও বাইপাইল পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে স্প্যান বসানো, পিলার নির্মাণ, ডেক স্ল্যাব, সাইড ব্যারিয়ার এবং রিজিড
পেভমেন্টের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তবে কয়েকটি স্থানে ইউটিলিটি স্থানান্তর ও অন্যান্য অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দুই বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডে ঠিকাদার নিজ খরচে সম্ভাব্য ত্রুটি সংশোধন করবে। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর পর্যন্ত একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায়। সর্বশেষ একনেকের অনুমোদনের পর
প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্স সমন্বয়, নতুন কয়েকটি উপাদান সংযোজন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছে। তবে প্রকল্প পরিচালক দাবি করেছেন, বর্তমান অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। যদিও ভবিষ্যতে ডলারের মূল্য আরও বেড়ে গেলে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ায় এর আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। তার মতে,
শুরুতে যে ব্যয় বিবেচনায় প্রকল্পটিকে লাভজনক ধরা হয়েছিল, বর্তমান ব্যয় কাঠামোতে সেটি আগের মতো কার্যকর রয়েছে কি না, তা পোস্ট ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাড়তি ব্যয়ের চাপ এবং প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে এখনই নতুন করে মূল্যায়নের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।
নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও বর্তমানে আবারও কাজ এগোচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১০ই আগস্টের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এটি চালু হলে প্রকল্পের প্রথম ধাপের সুফল ভোগ করতে পারবেন আশপাশের এলাকার বাসিন্দা ও যাত্রীরা। ২০২২ সালের ১২ই নভেম্বর শুরু হওয়া ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি বিদেশি ঋণের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। নির্মাণকাজ করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি), আর অর্থায়ন করছে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশ এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে
তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। এ কারণে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহন চলাচলের জন্য উড়ালপথে দুই লেনের পৃথক দুটি সার্ভিস লেন সেতুর নকশা করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অংশের সার্ভিস লেনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে কালো পিচ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে সড়কে রোড মার্কিংয়ের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া ও বাইপাইল পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে স্প্যান বসানো, পিলার নির্মাণ, ডেক স্ল্যাব, সাইড ব্যারিয়ার এবং রিজিড
পেভমেন্টের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তবে কয়েকটি স্থানে ইউটিলিটি স্থানান্তর ও অন্যান্য অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে কিছু কাজ এখনও বাকি রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দুই বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডে ঠিকাদার নিজ খরচে সম্ভাব্য ত্রুটি সংশোধন করবে। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর পর্যন্ত একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ২০১৭ সালে প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। পরে প্রথম সংশোধনীতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকায়। সর্বশেষ একনেকের অনুমোদনের পর
প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বা প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, ভ্যাট-ট্যাক্স সমন্বয়, নতুন কয়েকটি উপাদান সংযোজন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছে। তবে প্রকল্প পরিচালক দাবি করেছেন, বর্তমান অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। যদিও ভবিষ্যতে ডলারের মূল্য আরও বেড়ে গেলে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ায় এর আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। তার মতে,
শুরুতে যে ব্যয় বিবেচনায় প্রকল্পটিকে লাভজনক ধরা হয়েছিল, বর্তমান ব্যয় কাঠামোতে সেটি আগের মতো কার্যকর রয়েছে কি না, তা পোস্ট ইভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবে। একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-জামালপুর, ঢাকা-মানিকগঞ্জ-তেঁতুলিয়া এবং ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল মহাসড়কের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে বাড়তি ব্যয়ের চাপ এবং প্রকল্পের আর্থিক কার্যকারিতা নিয়ে এখনই নতুন করে মূল্যায়নের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে।



